সুভংকরের ফাকি
কথাটি কমবেশি সবাই শুনেছেন। সুভংকর নামের ব্যক্তির কথা কি কেউ জানাতে পারেন। সত্যি
বলতে কি গুগল সার্চ করেও কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি অবাক করার
মত। একজন ব্যক্তির নাম সবাই জানে অথচ তার স্থান-কাল-পাত্র কিছু জানা নেই। নাম দেখে
ভারতীয় ধারনা করতে পারেন। কাজের ধরন থেকে ধরে নিতে পারেন তিনি অংকে পারদর্শী
ছিলেন। অংকের হিসেবে ফাকি দিতে পারতেন। এটুকুই।
অনেকে বলেন অংকে
ফাকি দেয়া যায় না। দুই আর দুই যোগ করলে সবসময়ই চার হয়। কেউ কেউ আবার বলেন অংকের মত
ফাকিবাজি আর কিছু নেই। যা দেখাতে চান তাই দেখানো যায়। অংক আর পরিসংখ্যান, এই দুইকে
কখনো বিশ্বাস করবেন না।
বিশ্বাস হচ্ছে
না। চট করে বলুন তো জনসংখ্যার বিচারে বাংলাদেশ বিশ্বে কত নম্বর ?
সরকারী হিসেব
বিশ্বাস করলে পাকিস্তান আর রাশিয়ার পেছনে, আর জনমত বিশ্বাস করলে তাদের ওপরে। আর এই
তথ্যকে ব্যবহার করলে বাকি হিসেবে যা দেখাতে চান তাই দেখাতে পারেন। যে যেদিকে যেতে
চান।
এটাই কি সুভংকরের
পদ্ধতি ?
বাংলাদেশের মানুষ
বিদেশী কথায় খুব গুরুত্ব দেয়। ইকনমিষ্ট কি বলেছে, গার্ডিয়ান কি বলেছে এসব কথার
গুরুত্বই আলাদা। একেক বক্তব্য একেক জনের হাতিয়ার।
কাজেই গার্ডিয়ান
যদি বলে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধির হিসেবে বাংলাদেশ উন্নত দেশগুলির হিংসের কারন
হবে তাহলে কেউ কেউ খুশি হবেন বৈকি। অন্তত অর্থমন্ত্রী তো বটেই। অনেকে বলেন তার
ভীমরতির বয়স হয়ে গেছে (ওসব বাজে কথায় কান দেবেন না)। তিনি ঘোষনা দিয়েছেন
পত্রপত্রিকায় বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে যেসব বাজেকথা লেখা হয় ওসব দুর করার জন্য
অবসরে গেলে সাংবাদিকতার স্কুল খুলবেন। সবাই তখন গার্ডিয়ানের মত কথা বলবে।
তারা বলেছে
প্রবৃদ্ধির হিসেবে। তা প্রবৃদ্ধির হিসেবটা কি ?
মাও সে তুঙ যখন
চীনের দায়িত্ব পান তখন তিনি ঘোষনা করেছিলেন ৫ বছরে দেশের অর্থনীতি দ্বিগুন করবেন।
তিনি সেটা করে দেখিয়েছিলেন। এটাই বোধহয় প্রবৃদ্ধি। তার ক্ষেত্রে শতকরা ২০ ভাগ।
বাংলাদেশের
অর্থনীতি দ্বিগুন করার জন্য কত বছর প্রয়োজন হতে পারে? ৫ বছর যদি নাও হয় ১০ বছরে
খুবই সম্ভব। নাহয় আরো কিছু বেশিই হল। আরো ৫ বছর।
এবারে বলুন তো
আমেরিকার অর্থনীতি দ্বিগুন হতে কত বছর লাগবে ?
নিতান্ত পাগল না
হলে সবাই বলবেন সেটা কখনো হবে না। মাথাপিছু আয় ৩৫ হাজার থেকে বেড়ে ৭০ হাজার ডলার
হওয়ার কোন সম্ভাবনা অন্তত শতবছরেও নেই। সত্যি বলতে কি, তাদের অর্থনীতি যেখানে গেছে
সেখান থেকে নিচের দিকে নামাই সম্ভব। তাদের লক্ষ্য সেটা টিকিয়ে রাখা। তার অর্থ,
প্রবৃদ্ধি ঋনাত্মক না হয়ে শুন্য হলেও তাদের আপত্তি নেই।
কাজেই তারা ৫
কিংবা ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধিকে হিংসে করবে এটাই তো স্বাভাবিক। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়
দ্বিগুন, তিনগুন, চারগুন, পাচগুন হলেও তাদের ধারেকাছে যাচ্ছে না।
গার্ডিয়ানের
হিসেবটা কি সুভংকরে হিসেব না!
বিশ্বের ধনী
দেশগুলির নাম কি পরপর বলে যেতে পারেন ?
অবশ্যই। আমেরিকা,
জাপান, জার্মানী, বৃটেন ...
তাহলে তাদের চেয়ে
বড় অর্থনীতি নিয়ে চীনের নাম নেই কেন ? তাদেরকে এখনো গরীব দেশ বলা হয় কেন ?
কারন তাদের
জনসংখ্যা। আমেরিকার প্রায় ৫ গুন জনসংখ্যা নিয়ে তাদের সমান হতে হলে মোট আয় ৫ গুন
হতে হয়।
এই-তো সুভংকরের
হিসেব ধরে ফেলেছেন। বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২ কোটি কমালে মাথাপিছু আয় ৮০০ ডলার হয়ে
যায়। আরো দুকোটি কমালে হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অর্থমন্ত্রী
অনায়াসে সুভংকরের স্কুলও খুলতে পারেন।
0 comments:
Post a Comment