পাগলেও টাকা চেনে

Jan 9, 2012
পাগলেও টাকা চেনে, এটা কথার কথা। আসলে কে পাগল কে পাগল না চেনা কষ্টকর। যদি টাকা দিয়ে যাচাই করতে চেষ্টা করেন তাহলে টাকা চিনলে হয়ত বলবেন সে পাগল না। যেহেতু সে টাকা চেনে।
বরং অন্যভাবে টাকা মহাত্ব যাচাই করা যেতে পারে। একেবাড়ে গন্ডমুর্খ, অক্ষরজ্ঞান তো দুরের কথা এক-দুই গুনতে জানে না। সেও কোন অবলিলায় টাকার হিসেব করতে পারে। এই রহস্যের সত্যিই সমাধান নেই। অর্থ অনর্থের মুল যতই বলা হোক তারপরও সবাই সেই অনর্থের দিকেই ছোটে।
এসব তত্ত্বকথায় আসলে জীবন চলে না। বাস্তবতা হচ্ছে মানুষকে বাচার জন্য খেতে হয় এবং টাকা খাওয়া যায় না।  জিম্বাবের সেই বিখ্যাত ছবির কথা কি মনে আছে ? এক ব্যক্তি সকালে রুটি কিনতে যাচ্ছেন ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে। সহজে টাকা বহন করার জন্য ছাপা হয়েছে কোটি ডলারের নোট।
টাকা ছাপার কথাটা আসছে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক রিপোর্টের কারনে। বাংলাদেশের অর্থনীতি পর্যালোচনা করে তারা ১৫টি কারন বের করেছেন। বৈদেশিক সাহায্য কমে গেছে, রেমিট্যান্স কমে গেছে এসব কথা মুখে বললে বিরোধীদল-যুদ্ধাপরাধীরা আস্কারা পেতে পারে। কাজেই মুখে বলা হচ্ছে সব ঠিকই আছে। অথচ খরচ চালাতে ব্যাংক থেকে প্রতিদিন শতকোটি টাকা ঋন নেয়া হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে বাড়ানো হচ্ছে তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম। একেবারে শেষ সমাধান ওই টাকা ছাপানো। এরই মধ্যে দেশ ভরে গেছে চকচকে টাকায়। কাজেই আপনাকেও যদি ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে বাজারে যেতে হয় অবাক হবেন না।
এরই মধ্যে বনিক সমিতি বেফাস কথা বলে ফেলেছে গতকাল। সরকার ব্যাংক থেকে এত পরিমান টাকা নিয়েছে এবং নিচ্ছে যে বেসরকারী বিনিয়োগ বন্ধ তো বটেই, ৪-৫ মাস পর সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেয়ার মত টাকা সরকারের হাতে থাকবে না।
একটা বিষয় বনিক সমিতির সভাপতি ভুলে গেছেন। সেটা ওই ছাপাখানা। কাগজ যতদিন আছে টাকার অভাব ততদিন হবে না। দেদারছে ছাপা হবে, মানুষের হাতে যাবে। শুধুমাত্র জ্বালানী তেলেন দাম ১ বছরে বেড়েছে ২১ ভাগ, ৫ বছরে  দ্বিগুন। কাজেই আপনার হাতে দ্বিগুন টাকাও থাকা চাই।
অর্থনীতিবিদরা অনেক ধরনের সমস্যার কথা বলেন। ইনফ্লেশন একটা বড় সমস্যা যা মোকাবেলা করা খুবই কঠিন। আর জিম্বাবে কিংবা আইভরি কোষ্টের মত হাইপার-ইনফ্লেশন হলে টাকা পরিনত হয় ছাপানো কাগজে। দুটি দেশেই বাইরের সাহায্য দিয়ে মানুষকে বাচিয়ে রাখতে হয়েছিল। সেটাও একটা সমাধান বটে। কিন্তু ১৫ কোটি মানুষের দেশে সাহায্য দেয়ার ক্ষমতা কার আছে ?
অর্থনীতি নিয়ে শংকার কথা বলা হচ্ছে বহুদিন ধরে। অর্থমন্ত্রী শেয়ার বাজারে যেমন সমস্যা দেখেননি তেমনি অর্থনীতিতেও সমস্যা দেখেননি। একদিকে দেশের সর্বস্তরের মানুষ হাহাকার করছে অন্যদিকে সরকারের সাফল্যের খই ফুটছে। কেউ কেউ বলছেন দেশ যাচ্ছে ৭৪ এর দিকে। ৭৪ এর দিকে না যাক অন্তত ১৪ এর দিকে যাচ্ছে এটা তো ঠিক।
বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার জোট সরকারের দুর্নীতি। প্রধানমন্ত্রীর সন্তানের দুর্নীতি, টাকা পাচার। কিন্ত্র তার প্রভাব তো সাধারন মানুষের ওপর এভাবে পড়েনি। জোট সরকারের দুর্নীতির কথা মানুষ ভোলেনি। বর্তমানের সরকারের দুনীতির কথা উঠলে এখনও অনেকে বলেন সেতো তারাও করেছে। এখন বোধহয় সেকথা ঠিকছে না। জনমত যাচাইয়ের সমস্ত ফল বলছে মানুষ বর্তমান সরকারের ওপর অনস্তুষ্ট। জোট সরকার খারাপ ছিল, বর্তমানের অবস্থার তারচেয়েও খারাপ। বিরোধী দলের রোডমার্চে ১০ কোটি টাকা খরচ এটা মুখরোচক খবর। কেউ কেউ প্রশ্ন করছেন তারা হরতাল করবে না, রোডমার্চ করবে না, তাহলে করবে কি ?
আর খরচের টাকা! ছাত্রলীগের প্রতিস্ঠাবার্ষিকী পালনের খরচ কত ? এয়ারপোর্ট এর মত যায়গা থেকে জিয়ার নাম বদল করার খরচ কত ছিল ?
সরকার এবং বিরোধীদল  কথার মারপ্যাচে লিপ্ত। সাধারন মানুষ এখনও পরিস্থিতি টের পায়নি। তাদের সামনে সম্ভাবনা দুটি, সরকার সব ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে টাকা আদায় করবে। সিরিঞ্জ ব্যবহার করে রক্ত বের করার মত। অন্যদিকে টাকা ছাপানো।
পাগল কেন শিংঅলা ছাগলেও চিনতে শুরু করবে টাকা কি জিনিষ।

0 comments:

 

Browse