পৃথিবীর চেয়ে বাড়ি বড়
Sep 12, 2011ফর্মুলা আবিস্কার
May 8, 2011২০১২ মহাপ্রলয় কতদুর
Mar 18, 2011আবাহনী-মোহামেডান With Us or Against Us
Mar 29, 2010বিনে পয়সার ব্যবসা
Dec 13, 2009বিশ্ব নাকি বেচাকেনার যায়গা। রীতিমত হাটবাজার। এক হাটে কিনবেন আরেক হাটে বিক্রি করবেন। মাঝখানে যা পাবেন সেটা লাভ। অথবা ক্ষতি। সবাই নিশ্চয়ই লাভ করে না। কিংবা করলেও সমান করে না। আপনি কৃষকের কাছে ১০ টাকায় কিনে বিক্রি করবেন ২০ টাকায়। আপনার কাছে কিনে আরেকজন বিক্রি করবে ৪০ টাকায়। আপনার লাভ ১০, আরেকজনের লাভ ২০। আর কুষকের লাভ-
হিসেব করতে হবে। প্রথমে জমির খরচ, বীজের দাম, সার-পানির দাম, পরিশ্রম-
জটিল হিসেব। বোঝা যাচ্ছে তার লাভ বেশি না। এরচেয়ে বরং কম পরিশ্রমে, সহজে বিক্রি করা যায় এমন জিনিষের ব্যবসা করাই ভাল। যেমন ধরুন, কার্বন।
বীজ, সার, তেল, গ্যাস, বিদ্যুত কিছুই দরকার নেই। বরং যত কম ব্যবহার করবেন তত বেশি টাকা। একেবারে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবেন, শীতের দিনে লেপমুড়ি দিয়ে ঘুমাবেন, তাতেই আয় সবচেয়ে বেশি। মাঝে মাঝে শুধু মুখটা বের করে জেনে নেবেন কত আয় হল।
বিষয়টা আর মশকরা নেই। সত্যিসত্যি আল-গোর সাহেব এই সুযোগ এনে দিয়েছেন। কার্বন ডাই অক্সাইড বের হয় এমন কিছু করবেন না, তবেই টাকা পাবেন। বিষয়টি এখনও ব্যক্তি পর্যায়ে যায়নি। তাহলেও ধারনা করে আগাম প্রস্তুতি নিতে পারেন। বিজ্ঞান বলে প্রতিমুহুর্তে নিশ্বাস ত্যাগের সময় আপনি কার্বন ডাই অক্সাইড বাতাসে ছড়াচ্ছেন। এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। এটা বন্ধ করুন। যত বেশিজন এই পন্থা অবলম্বন করবেন আয় তত বেশি। এভাবে ১৫ কোটি মানুষের দেশে যথেষ্ঠ পরিমান কার্বন নির্গমন বন্ধ করা সম্ভব।
গোর সাহেব বুদ্ধিমান তাতে কোন সন্দেহ নেই। নির্বাচনে জিতে প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি তাতে কি, ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন ক্লিনটনের। তার সময়ে কিয়োটো না কি নিয়ে যেন ভোট হয়েছিল। কিয়োটো সই করলে কারখানার ক্ষতি হবে, মানুষ বেকার হবে, মানুষের দুঃখকষ্ট বাড়বে একারনে তাদের সিনেট কিয়োটোর বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল। ৯৫-০ ভোট। ভাইস প্রেসিডেন্ট গোর সাহেবের ভোট কোন পক্ষে ছিল জানা যায়নি।
কিন্তু গোর সাহেব বুদ্ধিমান। তার নিজের প্রতিষ্ঠানে যথেষ্ট কার্বন বের হয়। সেগুলি বিক্রি করা প্রয়োজন। আর সেজন্য ক্রেতা প্রয়োজন। নাহলে নিজের কারখানা বন্ধ করে দিতে হয়। তারমানে সেই বেকারত্ব। জনগনের নেতা হিসেবে কি সেটা করা যায়।
কাজেই, তোমরা যে যেখানে আছো কার্বন নির্গমন বন্ধ কর আর আমার কাছে টাকা নাও। হে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, তোমরা তোমাদের জনগনকে বোঝাও। বৃথা কলকারখানা চালিয়ে লাভ নেই। এতে পরিবেশের ক্ষতি। এই বিশ্ব রক্ষা করতে হবে। এ দায়িত্ব তোমাদের। নিজেকে ভিক্ষুক মনে কোর না। হাত পাতায় লজ্জার কিছু নেই। এটা তোমাদের দাবী। কাজ না করার পুরস্কার। তোমাদের অধিকার। তোমরা হাত বাড়াও।
জেনে রাখ, বিশ্ব এখন রাজা-প্রেসিডেন্ট চালায় না। ওবামা চলে ওয়াল ষ্ট্রিটের নির্দেশে। তাকে উঠতে বললে উঠতে হয়, বসতে বললে বসতে হয়। এখন দেশ বলে কিছু নেই। যা আছে তা হল রাজত্ব। মনসান্টো-মাইক্রোসফট-আইবিএম-ওয়ালমার্ট-সেল এইসব। বৃথাই নিজের দেশ, স্বাধিনতা এসব কথা আওড়াচ্ছো। এসব বাতিল হয়ে গেছে অনেক আগে। এখন সরকারের নাম বদল হয়, ভেতরের সবকিছু ঠিক থাকে। আমাদের বারাক ওবামা সবচেয়ে বড় উদাহরন। বুশের নীতির পরিবর্তন করতে হবে, তবে করবে হবে যারা সেই নীতি তৈরী করেছিল তারাই। ওদের সরানো যাবে না। ওরাই খুটি।
কাজেই ভাইসব। কার্বনের জোরে তোমাদের কোন কাজ করতে হবে না। বিনে পয়সার ব্যবসা। জোরে হাততালি।
তাতে আমার কি
Dec 4, 2009২০৫০ সালে, যদি এই বিশ্ব টিকে থাকে, পৃথিবীর জনসংখ্যা হবে ৯০০ কোটি। বাংলাদেশের জনসংখ্যার সঠিক তথ্য নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেন কাজেই সর্বজনস্বিকৃত বিশ্বের বিষয়টি আলোচনায় রাখাই ভাল। এর পেছনে যারা রয়েছেন তাদের তথ্যকে চ্যালেঞ্জ করা কঠিন।
তাহলে, বিশ্বের জনসংখ্যা হচ্ছে ৯০০ কোটি। বাসস্থান, শিল্পকারখানা ইত্যাদি ইত্যাদির জন্য আবাদী যায়গা কমতেই থাকবে প্রতিবছর। এমনকি প্রতিদিন। যার অর্থ মাঠের ফসল কমে আসবে। বর্তমান ব্যবস্থায় খাদ্যসংকটে রয়েছে একশকোটির বেশি মানুষ। সেটা বেড়ে কয়েকশ কোটি হবে। বর্তমানে সারা বিশ্বে যা খাবার তৈরী হয় তখন নাকি দ্বিগুন খাবার তৈরী করতে হবে। এখনই প্রতি সেকেন্ডে নাকি ৬ জন মারা যায় খাবার স্বল্পতায়।
খবরের কাগজের একটা টাটকা খবর এখানে উল্লেখ করা যায়। বাংলাদেশে শতকরা ৪০ জন বাস করে দারিদ্রসীমার নিচে। দারিদ্রসীমার নিচে বাস করার অর্থ তারা প্রয়োজনীয় খাবার পায় না। শতকরা ৪০ জন অর্থ ১৫ কোটি জনসংখ্যার হিসেবে ৬ কোটি। জনসংখ্যা বেড়ে আরো ৫ কোটি যোগ হলে সেটা হবে ১১ কোটি।
তাতে আমার কি ?
আসলেই তো। তাতে আমার কি ? টাকা থাকলে চাল পাওয়া যাবে, মাংশ পাওয়া যাবে। সেগুলি কোথায় তৈরী হবে সে চিন্তা যাদের তারা করবে। তারা তো ব্যবসা বন্ধ করছে না। আমার চেয়ে তার গরজ বেশি। ব্যবসা না থাকলে তারা খাবে কি ?
যার সামর্থ্য আছে সে দোকান থেকে কিনবে। যার নেই তার চিন্তা তার। আমাদের নেতারা-বিশেষজ্ঞরা তো সবসময়ই বলেন খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্নতা অর্জন করা হবে। যে সামান্য ঘাটতি এখনো আছে সেটা পুরন করা হবে। ধনী দেশগুলি আমাদের ভাল চায় না, সবসময় আমাদের পিছনে লেগে থাকে, সেকারনে এতদিন সম্ভব হয়নি। ইনশাল্লাহ হয়ে যাবে।
আমাদের ইনশাল্লাহ আছে, অনেকেরই নেই। অন্তত ইউরোপের লোকজনের নেই। সেজন্যই তাদের ভিন্নপথ খুজতে হয়। তারা নাকি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জমি লিজ নিচ্ছে আগে থেকেই। সেখানে ফসল ফলাচ্ছে, মাছ ধরছে। তারপর নিজের দেশে নিয়ে যাচ্ছে। শুধু ইউরোপই বা কেন, কাতার নাকি কেনিয়ার বড় একটা অংশ লিজ নিচ্ছে। সেখানে চাষ করে নিয়ে যাবে নিজের দেশে। লোকজন পথে নেমেছে সেটা ঠেকাতে।
এই পথে নামাটাই একটা ভয়ের ব্যাপার। গতবছর চালের দাম বাড়ায় লোকজন পথে নেমেছিল। সরকার-পুলিশ-আইন কিছু মানেনি। রাস্তা জুড়ে ভাংচুর-আগুন। কোন কোন দেশে নাকি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে।
বিশেষজ্ঞ নামের উটকো লোকগুলি আবার সবসময় আগাম খারাপ খবর দেয়। তেলের দাম নাকি বাড়তেই থাকবে। এবার দুশো ডলার ছাড়িয়ে যাবে। চাষের খরচ বেড়ে যাবে। সেইসাথে আবাদ কম হওয়ায় খাবারের দামও নাকি বাড়বে। আবারও নাকি লোকজন পথে নামবে। এখন পর্যন্ত নাকি ঠেকা দিয়ে চালানো সম্ভব হয়েছে। যেখানে আছে সেখান থেকে যেখানে নেই সেখানে সাপ্লাই দেয়া হয়েছে। সবদেশেই যখন নেই অবস্থা হবে তখন নাকি এই সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাবে। শুরু হবে খাদেত্যর জন্য হাহাকার, গন্ডগোল, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকার পতন। ঠেকা দিয়েও সামলানো যাবে না।
তাতে আমার কি ?
নিজে বাচলে বাপের নাম। কিভাবে বাপের নাম টিকিয়ে রাখা যায় সেটা নিয়ে ভাবাই ভাল। নিজের জীবন বাচানো ফরজ। সময় থাকতে কিছু কামিয়ে নেই, এসব তত্ত্বকথা শুনে কাজ নেই।
লিলিপুট তত্ত্ব
Jul 14, 2009একসময় সারা বিশ্ব কেপে উঠেছিল ক্লোনিং এর কথা শুনে। একজন মানুষের একেবারে ডুপ্লিকেট বানিয়ে দেবে বিজ্ঞানীরা এমনই সে প্রযুক্তি। এর নাম জিন। কোনমতেই জ্বিন থেকে কম যায় না। এরই মধ্যে থাকে কোন প্রাণীর বৈশিষ্ট। তার রং কি হবে, হাইট কি হবে, স্বভাব কি হবে সবকিছু। কোনমতে যদি সেটা বের করে অন্যকে দেয়া যায় তাহলে সেও হবে তারই মত। এমনকি কোটি বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে যে ডাইনোসর তার জিন যদি ব্যবহার করা যায় তাহলে তৈরী করা যাবে হেটে চলে বেড়ানো ডাইনোসর। ব্যাপারটা এতটাই পরিচিত পেল যে স্পিলবার্গ সাহেব এই তত্ত্বের ওপর তিন-তিনটে হলিউডি সিনেমা বানিয়ে ফেললেন। সবগুলো সুপারহিট।
তবে বিজ্ঞানীরা এখন কিছুটা হলেও ধাতস্থ হয়েছেন। এখন একটু রয়েসয়ে কথা বলেন। একটা কারন অবশ্যই অনেক মানুষের পিছে টেনে ধরার প্রবণতা। তারা নতুন কিছু মেনে নিতে চায় না। মানুষ জিন পাল্টে যাকিছু করবে সেটা তারা মেনে নিতে চায় না। ডারউইনের কথাও মেনে নেয়নি। পৃথিবী সুর্যের চারিদিকে ঘোরে একথা বলায় গ্যালিলিওকে রিমান্ডে যেতে হয়েছে। ব্রুনোকে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। তারপরও পৃথিবী ঘুরেছে। মানুষের পুর্বপুরুষ বানর ছিল এমন তত্ত্ব দেয়ায় ডারউইনকে এখন আর তত গালাগালি করে না কেউ।
কথা হচ্ছে জিন তত্ত্ব নিয়ে। এই জিন নাকি বলে দেয় কোথায় কি পরিবর্তন করতে হবে। কোন প্রোটিন বাড়াতে হবে, কোথায় কমাতে হবে। আর এরই ফলে একেকজন একেক রকম। এক প্রানী থেকে আরেক প্রাণী ভিন্ন। এক মানুষ থেকে আরেক মানুষ ভিন্ন। একজনের স্বভাব থেকে আরেকজনের স্বভাব ভিন্ন।
স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে জন্মের পর যদি একটা ইদুরের লেজ কেটে দেয়া হয়, তার থেকে যে ইদুরের জন্ম নেবে তার লেজও যদি জন্ম থেকে কেটে দেয়া হয়, এভাবে যদি চলতেই থাকে তাহলে একসময় লেজছাড়া ইদুর জন্ম নেবে কি-না। তারা বলছেন, না। সেটা হবে না। লেজ কাটার বিষয়টা বাহ্যিক। আর লেজছাড়া ইদুরের বিষয়টা আভ্যন্তরীন। ইদুর যদি মনেমনে কামনা করে তার লেজ প্রয়োজন নেই একমাত্র তার সেই ইচ্ছাই একসময় প্রতিফলিত হতে পারে তার জিনে। সেই ডাইনোসরঅলারাও এতদিনে বুঝেছেন এভাবে ডাইনোসর তৈরী হয় না। পরিবর্তন করতে হয় একেবারে শুরুতে। ভ্রুন পর্যায়ে। যদি এমন ভ্রুন তৈরী করা যায় যার মধ্যে ডাইনোসরের জিন থাকবে তাহলে অবশ্যই সম্ভব জলজ্যান্ত ডাইনোসর তৈরী।
তবে পরিবর্তন হয়। মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেচে থাকলে বদলায়। কারনে অকারনে বদলায়। এই বিখ্যাত উক্তি সেটাই বলে। পরিবর্তন ভালোর দিকে যায়, নয়ত মন্দর দিকে যায়। পরিবর্তনের পর মানুষ ভাল কাজ করে, নয়ত মন্দ কাজ করে। এই পরিবর্তন বাহ্যিক এবং আভ্যন্তরীন।
আবারও সেই বাহ্যিক পরিবর্তন আর আভ্যন্তরীন পরিবর্তন। কেউ যদি খারাপ কাজ দেখে শেখে সেটা বাহ্যিক পরিবর্তন। পরিস্থিতির কারনে সে খারাপ। যে মুহুর্তে সে ভাল দেখবে, ভাল হওয়ার সুযোগ পাবে, সে ভাল হবে। প্রয়োজন শুধু ভালর মধ্যে রাখা। লেজ কেটে যেমন ইদুরকে লেজছাড়া করা যায়না তেমনি শুধুমাত্র পরিবেশের কারনে কেউ শতভাগ খারাপে পরিনত হয় না। তারমধ্যে ভাল-মন্দ দুইই থাকে। যখন যেটা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায় তখন সেটা বিকশিত হয়।
তবে। বিষয়টি যদি ভ্রুনপর্যায়ে ঘটে ?
একজন শিশু জন্মের আগেই যদি এর অস্তিত্ব টের পায়। তার পিতামাতার জন্য বিষয়টি বাহ্যিক বিষয় হতে পারে, তারজন্য সেটা আভ্যন্তরীন। যদি এই জিন নিয়েই সে বেড়ে ওঠে। কখনো অন্য পরিবর্তনের সুযোগ না পায়। তখন কি ঘটবে। বানর যেমন প্রয়োজনের তাগিদে গাছে ওঠা, হামাগুড়ি দিয়ে চলা ছেড়ে একসময় সোজা হয়ে দাড়াতে শুরু করেছিল, সেও কি সেপথেই পরিবর্তিত হবে। তার পুর্বপুরুষের মত অর্থের পেছনে, ক্ষমতার পেছনে, খল রাজনীতির পেছনে, ভন্ডার্মি-মুর্খতার পেছনে ছুটবে ? তার জিনে যে সেটাই ঢুকানো হচ্ছে। তখন কি হবে সেই প্রজন্মের সমাজের চেহারা। কিংবা তার উত্তরপুরুষ, তার উত্তরপুরুষ। এই পথচলা কতদুর যাবে ? একসময় কি কারো কারো মাথায় শিং গজাবে ? যা দিয়ে সমাজে কর্তৃত্ব করা যায়। কিংবা কারো শরীর তৈরী হবে গন্ডারের মত পুরু চামড়া যা দিয়ে যেন সবকিছু সহ্য করে চলা যায়।
না-কি কোনভাবে সেখানে পরিবর্তন আনা সম্ভব ? একজন পিতা কিংবা মাতা যখন মনে করবেন তিনি যেভাবে কাল কাটিয়েছেন সেটা গত, তার সন্তানের জন্য প্রয়োজন অন্য এক সমাজ। অন্যকে গুতো মারার জন্য তার শিং প্রয়োজন নেই, লাথি জোরালো করার জন্য পায়ে খুর প্রয়োজন নেই, থাবা মারার জন্য হাতে বাঘের নখ প্রয়োজন নেই, অন্যকে দমানোর জন্য বাঘের গর্জন প্রয়োজন নেই।
আজ কাল পরশু
Jul 11, 2009আজকাল খবরের কাগজে খবর থাকে না। শুধুই বিজ্ঞাপন। এটা কিনলে ওটা ফ্রি, বুকিং দিলেই টিভি ফ্রি, ভাড়ার টাকায় ফ্লাটের মালিক, বিনা টাকায় বিদেশ গমন এইসব। আর খবরের পাতায় কোথায় কে খুন হল, কোথায় ভাঙচুর হল, কোন বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হল, গ্যাসের মজুদ আর কতদিন চলবে এইসব। সেই পুরনো কেচ্ছা আর কাহিনী।
গ্যাসের মজুদে চলবে আরো আড়াই বছর এটা কোন খবর হল ? যদি হত আড়াই দিন তাহলেও কথা ছিল। কিছু তেল-কুকার কিনে ষ্টক করা যেত। আড়াই বছর ষ্টক করে লাভে পোষায় না। আর খবর ঠিক না বেঠিক সে নিশ্চয়তা দিচ্ছে কে ? একবার তো শুনলাম দেশ তেল-গ্যাসের ওপর ভাসছে। মন্ত্রি-মিনিষ্টারদের হাসিমুখ দেখা গেল টিভিতে। এতবড় তেলের খনি পৃথিবীর কোথাও নেই। সৌদি তেলমন্ত্রী না কে যেন মুচকি হেসে বলেছিল আমাদের তেলের খনির আয়তন তো তোমাদের দেশের আয়তনের চেয়েও বড়।
ধুর। ওদের কথা শুনতে হয় নাকি। খনির কথা শূনে চোখ টাটাচ্ছে। এটা আমাদের উন্নতির সময়। আমাদের যতটুকু প্রয়োজন সেটুকু রেখে বাকিটা বিক্রি করে দেব। ভারত কেনার জন্য তৈরী। বিক্রির টাকায় দেশের উন্নতি। আমরা আর পিছিয়ে নেই। আল্লা যারে দ্যায় তারে-
সাথেসাথে কিছু উটকো লোক এসে জুটল। গ্যাস বিক্রি চলবে না, তেল বিক্রি চলবে না। বাপরে, বিক্রি করতেই দিল না। টাটা এসে হাজার কোটি টাকার কারখানা করতে চাইল সেটাও করতে দিল না। কত হাজার লোকের চাকরি হত। বেকার সমস্যা মিটে যেত। অতগুলান নিশ্চিত ভোট। আবারও ওই উটকো লোকগুলো হাজির। এদের খেয়েদেয়ে আর কোন কাজ নেই। পথে পথে ঘোরা আর সরকারের কাজে বাগড়া দেয়া। জেলে পুরে রাখলে ঠিক হয়। নয়ত ক্রশফায়ার।
গ্যাসের মজুদ আড়াই বছর, মানে কি ? তারপর কি হবে ? গ্যাস থাকবে না ? চুলা বন্ধ ? বার্গার-পিজ্জা কি গ্যাসের চুলায় বানায় ? খোজ নিতে হয় আগে থেকেই। ইতালি থেকে পিজ্জা আসতে কদিন লাগে। ফেডেক্স। ওরা তো ঘরে এনে দিয়ে যায়।
কারেন্ট না থাকলে কারেন্টঅলারা তো ওই কথাই বলে। গ্যাস নেই বলে জেনারেশন কম। দিনে ছয়ঘন্টা-আটঘন্টা তেল পোড়াতে হয়। তখন কি চব্বিশ ঘন্টাই পোড়াতে হবে ? সে তো ঝামেলা।
আচ্ছা, গ্যাস না থাকলে কি পানিও থাকবে না ? ওয়াসাও তো এসব কথা বলে। তাদের কোন দোষ নেই। তারা বিদ্যুত পায়না বলে পানি দিতে পারে না।
তাহলে বিষয়টা কি দাড়াল। গ্যাস নেই বলে বিদ্যুত নেই। বিদ্যুত নেই বলে পানি নেই। বোতলের পানিতে কি সব কাজ চলবে ?
বুড়িগঙ্গার পানি নাকি শোধন করা যায় না। তারও অর্ধেক ঘরবাড়ি হয়ে গেছে। আর কদিন পর পুরোটাই হবে। কোর্ট নাকি বলেছে দখলদারী মুক্ত করতে হবে। কিন্তু করবে কে ? বণের খেয়ে কি বাড়ির মোষ তাড়ানো যায় ? নাকি মানায় ? এক মাঘে তো শীত যায় না। ওরা হাতছাড়া হলে হাত নাড়লে সামনে এসে দাড়াবে কে ? সব বেদখল হয়ে যাবে যে। আবার নতুন করে দখলদারী মুক্ত করা, সে বেশ ঝামেলা।
‘শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন নদীতে মিশছে ৬০ হাজার কিউবিক মিটার বিষাক্ত বর্জ্য। নগবীর প্রতিদিনের ৩ হাজার ২শ মেট্রিক টন বর্জ্যের ৫৬ শতাংশ যাচ্ছে নদীতে।’ পত্রিকার রিপোর্ট।
‘পরিবেশ দুষন করলে কারখানা বন্ধ করে দেয়া হবে।’ – প্রধানমন্ত্রী।
‘অনেক ছোট ছোট কারখানা গড়ে উঠেছে নদীর ধারে। এদের সরে যাবার উপায় নেই। জমির অনেক দাম। আর যা করার থাকে তা হল ওগুলো বন্ধ করে দেয়া। বন্ধ করলে বহু মানুষ বেকার হবে।’ – এফবিসিসিআই সভাপতি।
এসব নাকি খবর! মানুষ টাকা দিয়ে কাগজ কেনে কি এসব পড়ার জন্য ? কাগজআলাদের কোন কাজ নেই। যা পায় তাই ছাপে। কারখানা সরানো, ট্যানারী ঢাকার বাইরে নেয়া, যানজট কমানো এতো কয়েক যুগের কথা। গ্রাফ করে দেখুন তো এসব কথা বলে কাজ কি হয়েছে। এখন তো মানুষেই জট লাগে। রীতিমত লাঠিপেটা করে সেই জট ছাড়াতে হয়। যদি দিবাস্বপ্ন দেখতে পছন্দ করেন তাহলে দিবাস্বপ্ন দেখতে পারেন। বর্তমানের স্বপ্ন, আগামীর স্বপ্ন। যা পছন্দ তাই দেখতে পারেন।
আর যদি বেরসিক হন তাহলে অন্য কথা। তাহলে পরশুর স্বপ্ন হতে পারে এমন;
সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ ডলতে ডলতে বারান্দায় এসে দাড়ালেন।
আরে, শহরটা তো খুব সুন্দর লাগছে। রাস্তায় লোকজন নেই। গাড়ি নেই। হরতাল নাকি ? নাকি কারফিউ ? যাক, এতদিনে শহরটা পরিচ্ছন্ন হয়েছে। কি যে সব উটকো লোক ভীড় করে থাকে। সারাবছর কারফিউ থাকলে বেশ হয়। সিংগাপুর সিংগাপুর মনে হয়।
ওই বাড়িটা এমন নক্সা করল কবে ? কোন দেশের টাইলস ওটা। ওই রহিম, ওই বাড়ির দেয়ালটা অমন করল কখন রে।
রহিম সব খবর রাখে। সে বলল, ঘুটা দিছে।
ঘুটা মানে ?
ঘুটা মানে গোবর। দেয়ালে শুকাইতে দিছে। ওইডা দিয়া রান্না করব। গ্যাস নাই, ত্যাল নাই, লাকড়ি নাই। ঘুটা সম্বল।
অ। এইডা বুঝি নতুন টেকনিক। এইকাম দেখাইতে পারলে ডলার দিব। আমিও নাহয় লাগামুনে। আগে জাইনা লই কত দিব। পানি আন তো, খাই। বোতলডা ঠিক ছিল না।
পানি নাই।
আরে ফ্রিজের বোতলের পানি। ঠান্ডা দেইখা একগ্লাশ পানি আন।
পানি নাই। একটু আছে আমার লাগব।
কি কইলি। তোর এতবড় সাহস! আন কইতাছি।
একটু পর বাড়ি যামু। একটাই বোতল আছে বোতলডা নিয়া যামু। রাস্তায় লাগব।
রহিম- চাকরি নট-
আ মরো জ্বালা। চাকরি করতাছে কেডা। নিজে বাচলে বাপের নাম। পানি দেওয়ার খেমতা আছে ? থাকলে তারপর কথা কন -
আশ্বাসে বিশ্বাস
Jun 5, 2009লোকে বলে নিঃশ্বাসে বিশ্বাস নেই। নিশ্চয়ই কবিত্ব করে বলে। কেউ কেউ কবি নয় সকলেই কবি। বিশ্বাসের সাথে নিঃশ্বাস ছাড়া আর কার এত মিল থাকতে পারে। অন্তত আশ্বাসের তো কখনোই নয়। নিশ্বাস আমরা শুনতে পাইনা, আশ্বাস শুনতে পাই। নানারকম ভাবে শুনি এবং বিশ্বাসও করি। না করে উপায় থাকে না।
বরাক নদীর ওপর বাধ দিয়ে জলবিদ্যুত তৈরী করা হবে। ভারত আশ্বাস দিয়েছে এতে বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হবে না। আশ্বাস দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন সরকারের সদস্যরাও। মন্ত্রী বলছেন কোন ভয়ের কারন নেই। এতে বাংলাদেশের উপকার হবে। বাংলাদেশ সেখান থেকে বিদ্যুত আমদানী করবে।
এই আশ্বাসে বিশ্বাস করে আমরা বুক বেধে অপেক্ষা করছি। কবে হবে সেই দিন। যেদিন এই টিপাইমুখে বাধ দিয়ে জলবিদ্যুত তৈরী হবে। একেবারে পরিবেশসম্মত পদ্ধতি। তেল-গ্যাস-কয়লার-পরমানুর ব্যবহার নেই। পরিবেশের কোন ক্ষতি হবে না।
তারপর, এই বিদ্যুত ব্যবহার করে ভারতের বিদ্যুত সমস্যার সমাধান হবে। তারপর বাকিটা আমদানী করবে বাংলাদেশ সরকার। তাতে বাংলাদেশের বিদ্যুত সমস্যার সমাধান হবে। তারপর যা থাকে রপ্তানি করা হবে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নাকি বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। অনেককে রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভর করতে হয়। সেখানে রপ্তানি করতে পারলে ডলার-ইউরো পাওয়া যাবে নিশ্চয়ই। ছোটবেলায় পড়েননি, দুই পয়সার তৈল, কিসে খরচ হইল। তেল খরচ করার পর যা থাকে তা মেয়ে স্বশুর বাড়ি নিয়ে যায়।
এত সমাধানের সুযোগ কিনা সেইসব নচ্চার লোকেরা বাধা দিয়ে বন্ধ করতে চায়। এতই যদি বোঝে তাহলে এই লোকগুলো সমাধান দেয়না কেন ? খালি বড় বড় বুলি। আমরা তো বলেইছি আমরা খোজ নিচ্ছি। কদিনের মধ্যেই কমিটি হবে। সেই কমিটি পরিদর্শনে যাবে। তারা পরিদর্শন করে রিপোর্ট দেবে। সেই রিপোর্ট পর্যারোচনা করা হবে। পর্যরোচনা করে বৈঠক করা হবে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে তো জানাবো কি হতে যাচ্ছে। সবকিছু এত সহজ মনে করেন কেন ? আমরা কি ভারতের সাথে যুদ্ধ করতে যাব ? জানেন না ওদের পরমানু বোমা আছে। শোনেননি তারা কি বলেছে ? তারা বাংলাদেশের জন্যই বাধ বানাচ্ছে। বন্যার সময় পানি আটকে রেখে বাংলাদেশকে বণ্যা থেকে রক্ষা করবে, শুকনোর সময় পানি দেয়ার জন্য পানি জমিয়ে রাখবে। আর মাঝখান থেকে যা বিদ্যুত তৈরী হবে সেটা বাংলাদেশে দেয়া হবে। দেশে লোড সেডিং কমবে। আপনার একবার লোডসেডিং নিয়ে কথা বলবেন আবার বিদ্যুতের ব্যবস্থা করলে তাতেও বাধা দেবেন। এটা কোন নীতি ?
আসলে এরা একেবারে গর্ধভ। মনিপুর আর মিজোরামের ওরাও। শুধু বাধা দিতেই জানে। সব ভাল কাজে বাধা। এজন্য এরা এত পিছিয়ে।