ওই নামে কাউকে চিনি না

Apr 23, 2012

সৈয়ত মুজতবা আলী দির্ঘদিন জার্মানীতে ছিলেন ছাত্র হিসেবে পড়েছেন শিক্ষক হিসেবে পড়িয়েছেন একবার পরিচিত একজনকে খুজতে গিয়ে তার বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছিল যে ঠিকানায় তার বন্ধুকে পাওয়ার কথা সেখানে গিয়ে একে-ওকে জিজ্ঞেস করে একই উত্তর পান, কেউ তাকে চেনেন না শেষমেস তাকে যে বাড়িতে পেলেন সে বাড়িতে অন্তত ডজনখানেক বার ঘুরে গেছেন বাধ্য হয়ে তাকেই জিজ্ঞেস করতে হল, এর মানে কি ? আপনাকে কি কেউই চেনে না ?
তার উত্তর, চিনবে না কেন ? সবাই চেনে
তাহলে কেউ ঠিকানা বলল না কেন ?
এটা হিটলারের নাজি বাহিনীর কর্মফল তারা কারো ঠিকানা খোজ করলে সবাই মনে করত সে নিখোজ হয়ে যাবে প্রিয়জনদের হারানোর সেই পদ্ধতি তারা এখানো ভোলেনি
কিন্তু আমি যে বললাম বন্ধু!
তাদের বক্তব্য, বন্ধুই যদি হবেন তাহলে ঠিকানা জিজ্ঞেস করতে হবে কেন
এটা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বহুবছর পরের ঘটনা কোন ব্যক্তি নিখোজ হয়ে যাওয়ার অর্থ তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আর কখনো তাকে দেখা যাবে না
বাংলাদেশে হিটলার নেই তার বাহিনীও নেই পুলিশ-র‌্যাব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্বপালন করে ইদানিং প্রতিদিনই টিভি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন আইনে গুম বলে কোন শব্দ নেই কাজেই কেউ হুম হচ্ছে না

কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন

Apr 22, 2012

একসময় ঢাকাকে নাকি বলা হত গ্রীন সিটি। কানা ছেলের নাম পদ্মলোচনের সাথে তুলনা করার মত এরচেয়ে ভাল উদাহরন আর কি হতে পারে ?
জিম্বাবের একটা শহর কেবলমাত্র ঢাকাকে টেক্কা দিয়ে আছে বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের প্রতিযোগিতায়। সত্যি বলতে কি, ঢেকেঢুকে না রাখলে হয়ত তাকেও ছাড়িয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নই হবে। তাকে যদি বলা হয় গাছপালার শহর তাহলে অন্ধকে পদ্মলোচন বললে সমস্যা কোথায়!
বর্তমান সরকারের ৩ বছরের সাফল্য প্রচার করতে টিভি ক্যামেরার সামনে নানাজনকে প্রশ্ন করে সেটা দেখানো হয়েছে টিভিতে। অন্তত দুটি বিষয়ে কথা বলার সময় ঝকঝকে দাত দেখা গেছে। বিদ্যুত আর শিক্ষাব্যবস্থার ব-হু-ত উন্নতি হয়েছে। যারা দাত দেখিয়েছে তাদের বেশি প্রশ্ন করার সময় অবশ্য ছিল না। থাকলে হয়ত শোনা যেত মোমবাদি কিনতে বেরিয়েছি, কিংবা আমার পোলাডা কারখানায় কামে লাগছে। ওই বিদ্যুত আর শিক্ষাপ্রতিস্ঠান কি আছে আমার ভাগ্যে।  সবাই বলছে দেশের উন্নতি হচ্ছে তাতেই আমি খুশি। হাজার হোক রক্ত দিয়ে কেনা স্বাধিনতা।

লাভে ক্ষতি ক্ষতিতে লাভ

Mar 21, 2012
পত্রিকার খবর, আমেরিকার জন্মহার অস্বাভাবিক হারে কমে গেছে একেবারে যুক্তিসংগত কারনে কয়েক বছর ধরে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে সেদেশের মানুষ আয়ের নিশ্চয়তা নেই কাজেই সন্তান নিতে আগ্রহি হচ্ছে না তারা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ হলেও সেখানে সবাইকে কাজ করে আয় করতে হয় কারোই জমানো টাকা নেই একজনের আয়ে পরিবার চলবে সে ব্যবস্থাও নেই এটাই তার ফল জনসংখ্যা যদি কমতে শুরু করে আর কমতেই থাকে তাহলে একসময় হয়ত আমেরিকান বলে কিছু থাকবে না স্বনিভরতা ছেড়ে পুরোটাই নির্ভর করতে হবে আমদানীর ওপর
অনেক দেশেই নাকি জনসংখ্যার একই সমস্যা ফ্রান্সে, ইতালীতে, রাশিয়ায়, জাপানে
ওগুলো আসলে পাগলের দেশ লাভক্ষতি বোঝে না বাংলাদেশের কথা একবার ভেবে দেখুন তো একেবারে উদাহরনযোগ্য

সকলেই অভিনেতা

Mar 16, 2012
বাংলা চলচ্চিত্র কিংবা টিভি নাটক দেখা হয়না বহুকাল ধরে। অনেকের কাছে কথাটি যেমন স্বাভাবিক মনে হবে অনেকের কাছে তেমনি অবাক করাও মনে হবে। আজকাল অনেকে শুধু নাটক-চলচ্চিত্রের তারকাদের খবরই রাখেন না, মডেল তারকাদের প্রতিদিনের খবরও রাখেন। অভিনয়ের বাইরে সংবাদমাধ্যমে তাদের উপস্থিতি সেটা প্রমান করে।
একসময় বাংলা ছবি দেখতাম সিনেমা হলে গিয়ে (তখন অবশ্য অন্য পদ্ধতি ছিল না)। সম্ভবত সিনেমা হলের পরিস্থিতি মানিয়ে নেয়া যেত। দেখা ছবিগুলির মধ্যে কয়েকটির কথা মনে করাও সম্ভব। যেমন প্রেমের ছবি যাদুর বাশি। রীতিমত সাড়া জাগানো পুরস্কার পাওয়া ছবি।
কোন কোন ছবির ডায়ালগও মনে আছে। যেমন, যাত্রা দেখে ফাতরা লোকে।

শয়তানের কারখানা

Mar 6, 2012
শয়তানের কারখানা কথার দুরকম অর্থ হয়। একটা হচ্ছে কারখানার মালিক জনাব শয়তান। আরেকটা হচ্ছে কারখানার কারবার শয়তান নিয়ে। হয়ত শয়তান তৈরী করা হয়। কিংবা মেরামত করা হয়।
শয়তান শব্দটা আপত্তিকর। যদিও শয়তান আছে সৃষ্টির শুরু থেকে। শয়তানের কারনেই নাকি এই বিশ্ব সৃষ্টি। তার দাপট কখনও কমেনি বরং অনেকে বলেন ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এতখানি যার দাপট তারসাথে সাধারন ব্যক্তির তুলনা করলে সে নিশ্চয়ই নিজেকে হেয় মনে করে। সম্ভব হলে হয়ত আদালতে মানহানির মামলাও ঠুকে দিত। ভাগ্যিস সেটা ঘটেনা। কিংবা সেকারনেই কাউকে সরাসরি শয়তান বলা হয়না, একমাত্র রেগে গিয়ে গালাগালি না করা পর্যন্ত।
বরং পরোক্ষভাবে বলা যুক্তযুক্ত। এতে কারো গায়ে লাগে না, এদিক-ওদিক দিয়ে পিছলে যায়। যেমন ধরুন, অলস মস্তিস্ক শয়তানের কারখানা।

ক্ষমতা কার

Mar 4, 2012
ক্ষমতা কার প্রশ্নটা শুনতে সরল, উত্তর জটিল দুচারজনকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন নিশ্চিতভাবেই ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পাবেন কারো মতে টাকাই ক্ষমতা, কারো মতে পদবি, কারো মতে অস্ত্র, কারো মতে সরকার, কারো মতে জনগন সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ পাবেন না চোরের ক্ষমতা বেশি নাকি পুলিশের ক্ষমতা বেশি এমন সরাসরি প্রশ্ন করলেও নিশ্চিত উত্তর পাবেন না অন্তত পুলিশের ক্ষমতা বেশি হলে চুরি থাকত না একথা যদি বিশ্বাস করেন
ক্ষমতার পরীক্ষা যখন নাটকে হয় তখন সেটা নাটকিয় হবে এটা আরো স্বাভাবিক
অধিকাংশ বাঙালী বিশ্বাস করেন একজন বাংলাদেশী যখন নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তখন সেটা নিয়ে গর্ব করা দেশপ্রেমের লক্ষন দেশকে নোবেল পুরস্কার এনে দিয়েছেন যদিও পুরস্কার পাওয়ার পরই গদগদচিত্তে বলেছিলেন পুরস্কারের টাকায় হাসপাতাল বানাবেন, সেকথা ভুলে গেছেন সকলেই
 

Browse