বাংলা চলচ্চিত্র কিংবা টিভি নাটক দেখা হয়না বহুকাল ধরে। অনেকের কাছে কথাটি যেমন স্বাভাবিক মনে হবে অনেকের কাছে তেমনি অবাক করাও মনে হবে। আজকাল অনেকে শুধু নাটক-চলচ্চিত্রের তারকাদের খবরই রাখেন না, মডেল তারকাদের প্রতিদিনের খবরও রাখেন। অভিনয়ের বাইরে সংবাদমাধ্যমে তাদের উপস্থিতি সেটা প্রমান করে।
একসময় বাংলা ছবি দেখতাম সিনেমা হলে গিয়ে (তখন অবশ্য অন্য পদ্ধতি ছিল না)। সম্ভবত সিনেমা হলের পরিস্থিতি মানিয়ে নেয়া যেত। দেখা ছবিগুলির মধ্যে কয়েকটির কথা মনে করাও সম্ভব। যেমন প্রেমের ছবি যাদুর বাশি। রীতিমত সাড়া জাগানো পুরস্কার পাওয়া ছবি।
যদি ছবিদ্রুটি দেখে থাকেন তাহলে হয়ত এরই মধ্যে বুঝে গেছেন বক্তব্য কি। একজন শক্তিমান অভিনেতার মুখে ছিল এই সংলাপ। তার নামের প্রথম তিন অক্ষর এ টি এম এর অর্থ কি এখনো জানা নেই, তার অসাধারন অভিনয়ের কথা মনে আছে। যতদুর মনে পড়ে সংবাদমাধ্যমে দেখেছি সাম্প্রতিককালে তিনি নাটক বা সিনেমা তৈরীর সাথে জড়িত। আগেই যেমন উল্লেখ করেছি সাধারনত এধরনের খবরের দিকে দৃষ্টি দেয়া হয়না। তারপরও একটি খবরের দিকে দৃষ্টি দিতে হল।
তার এক সন্তানের হাতে আরেক সন্তান খুন হয়েছেন।
কি ভয়াবহ। ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন। পিতার চোখের সামনে।
সংবাদমাধ্যমগুলি এধরনের খবর যতটা সম্ভব বিস্তারিত প্রকাশ করতে চেষ্টা করে। বর্ননা অনুযায়ী তার এক সন্তান মাদকাসক্ত। তিনি নিজের কাজের পক্ষে কথা বলবেন এটাই স্বাভাবিক। তারপরও এটুকু নিশ্চিত, খুনের ঘটনার আগে তিনি (পিতা) আক্রান্ত হয়েছিলেন সন্তানের দ্বারা। তিনি রক্ত দেখে প্রথমে বোঝেননি তার নিজের মাথা থেকে বেরিয়েছে নাকি সন্তানের শরীর থেকে।
খুন প্রতিদিনই হয়। সব সমাজেই হয়। হয়ত হতেও থাকবে। তারপরও, একটু স্বাভাবিকভাবে দেখলে এই বিশেষ খুন থেকে আতংকিত না হয়ে থাকা কি সম্ভব।
তিনি অভিনয় শিল্পী। অভিনয় ছাড়িয়ে নির্মানের সাথে জড়িত হয়েছেন। নিজের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নাটক-চলচ্চিত্র তৈরী করবেন, সমাজের চিত্র সেখানে তুলে ধরবেন, সমাজকে দিক নির্দেশনা দেবেন এটাই তো স্বাভাবিক। আর একারনে তার মাথায় সবসময় এই চিন্তা কাজ করবে এটাই তো কাম্য। বাস্তবে কি তা ছিল ?
তিনি দেখেছেন বিপথগামি সন্তানকে। তাকে পথে আনতে নিশ্চয়ই যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। কারো পক্ষে কি তার জীবনযাপন কল্পনা করা সম্ভব। একজন ব্যক্তি টিভি-চলচ্চিত্রে পর্দায় উপস্থিত হচ্ছেন নানা ধরনের চরিত্রে। কখনো ভালমানুষ, কখনও খল চরিত্রে। দর্শকদের সামনে সমাজকে তুলে ধরছেন। অভিনয়ের জন্য প্রশংসা পাচ্ছেন। যখন বাড়ি ফিরছেন তখন দেখছেন আরেক সমাজ। যেখানে চোখের সামনে ক্রমশ সমাজ তলিয়ে যাচ্ছে। পরিবার তলিয়ে যাচ্ছে। তার একার কিছু করার নেই। সমাজ থেকে সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এটা এক ভয়ংকর যুদ্ধ। যুদ্ধক্ষেত্রে একজন যোদ্ধার সমস্ত মনোযোগ থাকে শত্রুর দিকে। এখানে সেটা করার উপায় নেই। এমনকি তিনি যে যুদ্ধ করছেন সেকথা প্রকাশ করারও উপায় নেই। করলেও লাভ নেই।
তিনি অভিনেতা। ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে হচ্ছে একভাবে, সমাজে অভিনয় করতে হচ্ছে আরেকভাবে। এক অভিনয় দেখ দর্শক খুশি, আরেক অভিনয়ের ফল তিনি জানেন না। অথবা ফল জানা। অন্তত তিনি নিশ্চয়ই জানতেন কি ঘটতে যাচ্ছে।
এই জীবন নাটকের ঘটনা ঘটছে। অভিনয় করছে সবাই। যারা সমাজ চালান তারা অভিনয় করছেন একভাবে, যারা চালিত তাদের অভিনয়ের ধরন আরেকরকম।
খুনের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। নিজের ঘরে খুন হচ্ছেন সাংবাদিক। খুন হচ্ছেন বিদেশী রাষ্ট্রদুত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন আইন-শৃঙখলা পরিস্থিতি আগের যে কোন সময়ের চেয়ে ভাল।
দার্শনিক বলেন জীবন একটা নাটক। আসলেই তো, সবাই দক্ষ অভিনেতা।
0 comments:
Post a Comment