গোফ থাকলে গোফে তা

May 14, 2012

জাকালো গোফ থাকলে ভাতা পাওয়া যায়। আর যাবে নাই বা কেন ? জাকালো গোফের ভাগ্য কি সবার হয়! বিগালের লেজের মত গোফ, পাকিয়ে ঘুরিয়ে এনে গালের ওপর রাখা। কিংবা দাড়ির সাথে জুড়ে দেয়া। একেবারে নিখুত রাখতে তেল-মসলা প্রয়োজন হয় বৈকি। সেজন্য ওই ভাতা। সেইসাথে ফঅউ হিসেবে তা দেয়া। মাঝে মাঝে আঙুল দিয়ে ঠিক করে নেয়া।
যাদের বাহাদুরী গোফ নেই তারাও কখনো কখনো গোফের আমেজ পান। আর পেলেই তা দিতে শুরু করেন। এমনকি গোফ না থাকলেও আঙুল বুলিয়ে নেন। তা দেয়া বলে কথা।
গন্যমান্য ব্যক্তির সান্নিধ্যও গোফে তা দেয়ার একটা সুযোগ। এই ধরুন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি যদি প্রশংসা করেন।

জহির রায়হান যদি থাকতেন

May 12, 2012

জহির রায়হানকে প্রতিবছর ডিসেম্বরে স্মরন করা হয় তিনি বিজয়ের শেষ মুহুর্তে খুন হয়েছেন বলে। ব্যক্তি হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন সেকথা অনেকেই ভুলে গেছেন। তার লেখা একটি ছোট গল্প থেকে হয়ত কিছুটা ধারনা পাওয়া যেতে পারে।
দুর্মুল্যের বাজারে ভদ্রলোক বাড়ি রং করেছেন। কাজে যাওয়ার সময় ছেলেকে ডেকে ধমকে-ধামকে বললেন, এইখানে দাড়িয়ে থাকবি। কোনমতে কেউ যেন পোষ্টার লাগানো, চিকামারার কাজ করতে না পারে।
অফিসে গিয়ে দেখলেন তার চাকরী নট। তিরিক্কি মেজাজ নিয়ে বাড়ি রওনা হলেন। বাড়ির সামনে এসে মেজাজ আরো তুঙ্গে উঠল। তার ছেলের খবর নেই আর এক ব্যাটা মই নিয়ে উঠে দেয়ালে পোষ্টার লাগাচ্ছে। আজ তোর একদিন কি আমার একদিন। আস্তিন গুটিয়ে তিনি দাড়ালেন মইয়ের কাছে।
রোগা-পটকা মলিন পোষাকের একজন লোক মই থেকে নেমে এল একসময়। তিনি তার কলার চেপে ধরলেন। রাগে তার মুখ দিয়ে কথা বেরচ্ছে না। আঙুল তুলে দেখালেন তার সদ্য রং করা দেয়ালে লাগানো পোষ্টারের দিকে। এতক্ষনে তার চোখে পড়ল পোষ্টারের বক্তব্য। সেখানে লেখা আছে, ছাটাই বন্ধ কর।

ব্যাঙের চামড়া

May 10, 2012

একটা গল্প আছে, ব্যাঙকে যদি পানির মধ্যে রেখে সেই পানির তাপ বাড়ানো হয় তাহলে সে টের পায়না একসময় সেই পানি যদি ফুটতে শুরু তাহলেও না একসময় সে মারা যায়
গল্পের উতস এক ইংরেজি ডকুমেন্টারী কিছু মানুষ বহু সময় ব্যয় করে, বহু টাকা খরচ করে, মেধা খাটিয়ে, গবেষনা করে এসব তৈরী বলতে চেষ্টা করছেন এই বিশ্ব সেই পানির পাত্রের মত তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে মৃত্যু ডেকে আনার পর্যায়ে যাচ্ছে আর মানুষ নামের ব্যাঙ সেটা টের পাচ্ছে না
বিশ্ব এক বিশাল যায়গা মহাবিশ্বের তুলনায় ছোট বলতে পারেন বলতে পারেন হাজার কোটি গ্রহ-নক্ষত্রের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, বসবাসযোগ্য যায়গা তারপরও মানুষের কাছে বাস্তবতা হচ্ছে এটা বিশাল মানচিত্রে এক বিন্দুর মত বাংলাদেশ, সেখানে চেনার জন্য ঢাকা লেখা কষ্টকর তারপরও এক যায়গা থেকে আরেক যায়গায় যেতে কয়েক ঘন্টা সময় ব্যয় করতে হয় ভাড়ার পরিমান শত ছাড়িয়ে হাজার ছুই ছুই
কাজেই এখানে পরিবর্তণ হলে সেটা টের পাওয়া কষ্টসাধ্য তাতে সন্দেহ কি ?
ঢাকা শহরে রিক্সার সংখ্যা কেউ জানে না জানার প্রয়োজন বোধ করে না বেশি রিক্সা মানেই বেশি মানুষের কর্মসংস্থান ক্ষতিকর গ্যাস নেই, এমনকি গাড়ি আমদানী করার মত বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করার বিষয়ও নেই স্বদেশী পন্য, ব্যবহার করে ধন্য

জয় বাবা সেলুকাস

May 1, 2012

সেলুকাস অথবা সেলিউকস যাই হোক না কেন, কার বলা বলা হচ্ছে সবাই জানেন। আলেকজান্ডারের একজন সেনাপতির নাম। প্রবাদের মত কথাটি প্রচলিত। আলেকজান্ডার এই দেশ দেশে অবাক হয়ে বললেন, হায় সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ।
প্রবাদ এই অর্থে যে কথাটি কমবেশি সবাই বলেন। নিজের নিজের প্লাটফর্ম থেকে। কবি-সাহিত্যিক-ভবঘুরেরা বলেন দেশের সৌন্দর্য বর্ননা করতে। তা তারা করতেই পারেন। পদ্মার চড়ে যখন ধানচাষ হয় তখন সেখানেও তারা সোনার তরী আবৃত্তি করতে পারেন। বুড়িগঙ্গার পানির দুর্গন্ধে যখন দমবন্ধ হয় তখনও নাক চেপে গাকগাক করে বলতে পারে, এমন দেশটি কোথাও খুজে পাবে না-কো তুমি। আসলেই তো! খুজে পাবেন কি ? বিশ্বে কোন বড় শহরের পাশে চারটি বড় নদী থাকার পরও সেই পানি ব্যবহার করা যায় না এমন উদাহরন নেই।
কেউ কেউ ভিন্ন অর্থেও একই উপমা ব্যবহার করেন। দুজন সাংবাদিক খুন হলেন নিজ বাড়িতে। সরকার-প্রশাসন-সরকার সমর্থক এর প্রতিবাদের মধ্যে দেখলেন যুদ্ধবিরোধীদের বিচার বন্ধের ষড়যন্ত্র। আদালত দেখল ভাবমুর্তি নষ্টের চেষ্টা। রুল জারী করা হল, এই বিষয় নিয়ে কেউ কথা বললে আদালত অবমাননা হবে। যা করা হল না তা হচ্ছে সেই খুন কে করেছে, কেন করেছে তার উত্তর জানা। এখানে সেলুকাস নামের সেই ব্যক্তির নাম উচ্চারন করা হয়ত বেমানান না।

ওই নামে কাউকে চিনি না

Apr 23, 2012

সৈয়ত মুজতবা আলী দির্ঘদিন জার্মানীতে ছিলেন ছাত্র হিসেবে পড়েছেন শিক্ষক হিসেবে পড়িয়েছেন একবার পরিচিত একজনকে খুজতে গিয়ে তার বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছিল যে ঠিকানায় তার বন্ধুকে পাওয়ার কথা সেখানে গিয়ে একে-ওকে জিজ্ঞেস করে একই উত্তর পান, কেউ তাকে চেনেন না শেষমেস তাকে যে বাড়িতে পেলেন সে বাড়িতে অন্তত ডজনখানেক বার ঘুরে গেছেন বাধ্য হয়ে তাকেই জিজ্ঞেস করতে হল, এর মানে কি ? আপনাকে কি কেউই চেনে না ?
তার উত্তর, চিনবে না কেন ? সবাই চেনে
তাহলে কেউ ঠিকানা বলল না কেন ?
এটা হিটলারের নাজি বাহিনীর কর্মফল তারা কারো ঠিকানা খোজ করলে সবাই মনে করত সে নিখোজ হয়ে যাবে প্রিয়জনদের হারানোর সেই পদ্ধতি তারা এখানো ভোলেনি
কিন্তু আমি যে বললাম বন্ধু!
তাদের বক্তব্য, বন্ধুই যদি হবেন তাহলে ঠিকানা জিজ্ঞেস করতে হবে কেন
এটা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বহুবছর পরের ঘটনা কোন ব্যক্তি নিখোজ হয়ে যাওয়ার অর্থ তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আর কখনো তাকে দেখা যাবে না
বাংলাদেশে হিটলার নেই তার বাহিনীও নেই পুলিশ-র‌্যাব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্বপালন করে ইদানিং প্রতিদিনই টিভি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন আইনে গুম বলে কোন শব্দ নেই কাজেই কেউ হুম হচ্ছে না

কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন

Apr 22, 2012

একসময় ঢাকাকে নাকি বলা হত গ্রীন সিটি। কানা ছেলের নাম পদ্মলোচনের সাথে তুলনা করার মত এরচেয়ে ভাল উদাহরন আর কি হতে পারে ?
জিম্বাবের একটা শহর কেবলমাত্র ঢাকাকে টেক্কা দিয়ে আছে বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের প্রতিযোগিতায়। সত্যি বলতে কি, ঢেকেঢুকে না রাখলে হয়ত তাকেও ছাড়িয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নই হবে। তাকে যদি বলা হয় গাছপালার শহর তাহলে অন্ধকে পদ্মলোচন বললে সমস্যা কোথায়!
বর্তমান সরকারের ৩ বছরের সাফল্য প্রচার করতে টিভি ক্যামেরার সামনে নানাজনকে প্রশ্ন করে সেটা দেখানো হয়েছে টিভিতে। অন্তত দুটি বিষয়ে কথা বলার সময় ঝকঝকে দাত দেখা গেছে। বিদ্যুত আর শিক্ষাব্যবস্থার ব-হু-ত উন্নতি হয়েছে। যারা দাত দেখিয়েছে তাদের বেশি প্রশ্ন করার সময় অবশ্য ছিল না। থাকলে হয়ত শোনা যেত মোমবাদি কিনতে বেরিয়েছি, কিংবা আমার পোলাডা কারখানায় কামে লাগছে। ওই বিদ্যুত আর শিক্ষাপ্রতিস্ঠান কি আছে আমার ভাগ্যে।  সবাই বলছে দেশের উন্নতি হচ্ছে তাতেই আমি খুশি। হাজার হোক রক্ত দিয়ে কেনা স্বাধিনতা।
 

Browse