ব্যাঙের চামড়া

May 10, 2012

একটা গল্প আছে, ব্যাঙকে যদি পানির মধ্যে রেখে সেই পানির তাপ বাড়ানো হয় তাহলে সে টের পায়না একসময় সেই পানি যদি ফুটতে শুরু তাহলেও না একসময় সে মারা যায়
গল্পের উতস এক ইংরেজি ডকুমেন্টারী কিছু মানুষ বহু সময় ব্যয় করে, বহু টাকা খরচ করে, মেধা খাটিয়ে, গবেষনা করে এসব তৈরী বলতে চেষ্টা করছেন এই বিশ্ব সেই পানির পাত্রের মত তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে মৃত্যু ডেকে আনার পর্যায়ে যাচ্ছে আর মানুষ নামের ব্যাঙ সেটা টের পাচ্ছে না
বিশ্ব এক বিশাল যায়গা মহাবিশ্বের তুলনায় ছোট বলতে পারেন বলতে পারেন হাজার কোটি গ্রহ-নক্ষত্রের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, বসবাসযোগ্য যায়গা তারপরও মানুষের কাছে বাস্তবতা হচ্ছে এটা বিশাল মানচিত্রে এক বিন্দুর মত বাংলাদেশ, সেখানে চেনার জন্য ঢাকা লেখা কষ্টকর তারপরও এক যায়গা থেকে আরেক যায়গায় যেতে কয়েক ঘন্টা সময় ব্যয় করতে হয় ভাড়ার পরিমান শত ছাড়িয়ে হাজার ছুই ছুই
কাজেই এখানে পরিবর্তণ হলে সেটা টের পাওয়া কষ্টসাধ্য তাতে সন্দেহ কি ?
ঢাকা শহরে রিক্সার সংখ্যা কেউ জানে না জানার প্রয়োজন বোধ করে না বেশি রিক্সা মানেই বেশি মানুষের কর্মসংস্থান ক্ষতিকর গ্যাস নেই, এমনকি গাড়ি আমদানী করার মত বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করার বিষয়ও নেই স্বদেশী পন্য, ব্যবহার করে ধন্য
বছর দশেক আগের এক হিসেবে বলা হয়েছিল ৬ থেকে ১০ লক্ষ একেবারে নির্ভুল হিসেব, মাত্র ৪ লক্ষ কমবেশি হতে পারে এরপর ১০ বছরে সেটা কতগুন বেড়েছে আর হিসেব করা হয়নি ৩ গুন, ৪ গুন এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায় এই পেশার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তির সংখ্যা তৈরী পোষাক বা অন্য যে কোন শিল্পকে ছাড়িয়ে গেছে আর এই পরিবর্তন হয়েছে সেই ব্যাঙের পানির পাত্রের মতই কোনধরনের অনুভুতি না জাগিয়ে
রিক্সাচালকের শ্রমের তুলনা হয়না ধর্মে বলেছে তোমরা পরিশ্রম করে উপার্জন কর তোমরা ধার্মিক হও না বলে যদি বলেন তোমরা রিক্সাচালক হও তাহলে ভুল হওয়ার কোন কারন নেই রিক্সাচালানো মানেই ধর্মপালন খামোখা ওসব বাস-ট্যাক্সি-অটোরিক্সার দরকার কি ? যন্ত্র ব্যবহার মানেই শ্রমিকের কর্মসংস্থানে সংকট
যাতায়াত নিয়ে সরকার মাথা ঘামান আর জনগন তাতে বাধা দেয় এটাই উদাহরন সরকার এয়ারপোর্ট তৈরী করতে গেল, টাকা দিয়ে জমি কিনতে চেষ্টা করল আর নির্বোধ জনগন সোজা না বলে দিল সরকার কোথায় উড়ুক্কু রেল, উড়াল সেতু এসব বানাবে সেখানেও দুর্নীতির গন্ধ খুজছে এখনও টেন্ডার ডাকা হয়নি অথচ দুর্নীতি দুর্নীতি বলে রব তুলেছে বিশ্বব্যাংক নাকি প্রমানও দিয়েছে। কয়েকমাস আগে একবার দিয়েছিল। সেকথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়নি বলে এবার সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়েছে সবাইকে। এদেশে ভাল কিছু করা কিভাবে সম্ভব!
সে যাকগে। বরং ঢাকা শহরের কথাই বলা যাক। এখনও হারারেকে হারাতে পারেনি। হারানোর খুব দেরিও হয়ত নেই। কখনো কখনো কেউ বলেন ঢাকার বাতাস কতটা সীসাযুক্ত। সাথেসাথে মুখোস লাগানোর ধুম পড়ে যায়। ফুটপাতে দোকান সাজানো হয় মুখোসের। যদি বলা হয় ওয়াসার পানিতে ময়লা-দুর্গন্ধ তখন বোতলে পানি ছাড়া চলে না। আবার যখন বলেন ওই বোতলের পানি আসে সরাসরি ওয়াসার ট্যাপ থেকে তখন অন্য যা পাওয়া যায়।  সরকার অবশ্য ভদ্রলোকের এক কথার মত করচ বৃদ্ধির ব্যাখ্যা দিচ্ছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। যে রিক্সা চালায় সেও ফুটপাতের দোকান থেকে দুটাকায় ১ গ্লাশ পানি কিনে খায়।
যদি কোন কারনে ঘড়বাড়ি একটু নড়াচড়া করে তাহলে হৈচৈ হয় আরো বেশি। হিসেব কশা শুরু হয় ভুমিকম্প হলে কি হবে তার। একদিন-দুদিন, তারপর আবার আগের মতই।
ঢাকা শহরের কয়েকটি যায়গা নাকি হটস্পটে পরিনত হয়েছে। হিসেবটা হচ্ছে, দিনে সুর্যের আলোয় যেমন সবকিছু গরম হয় রাতের বেলায় সেগুলি তাপ ছড়িয়ে ঠান্ডা হয়। এই যায়গাগুলিতে তাপ পুরো ছড়ায় না। সারারাত ছড়ানোর পরও কিছু জমা থাকে। তারওপর জমতে থাকে পরদিনের তাপ। ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার নমুনা দেখিয়ে এসি লাগাতে পারেন। ঘরের ভেতরে ঠান্ডা হবে, সেই তাপ ছড়িয়ে দেবেন যার ক্রয়ক্ষতা বাড়েনি তার দিকে। ওই ব্যাটা মরলে আপনার কি ? ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়ে নিক না। পত্রিকায়-টিভিতে প্রতিদিন কতরকম পদ্ধতির কথা জানা যায়, কে কিভাবে কোটিপতি হয়েছে। দেখেশুনে বেছে নিলেই হয়।
সবার পক্ষে বেছে নেয়া হয়থ সম্ভব হবে না। সবাই যদি সরকারী দলের নেতা হতে চায় তাহলে বড় ধরনের গুতোগুতি হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। লীগের সাথে লীগের গুতোগুতির খবরওতো প্রতিদিন পাওয়া যায়।
তাদের জন্য সমাধান ওই ব্যাঙের চামড়া। তাপমাত্রা বাড়ুক, যানজট বাড়ুক, গালাগালি বাড়ুক, বাতাসে বিষ বাড়ুক, পানিতে বিষ বাড়ুক, কোনকিছু টের পাবেন না।
সমস্যা একটাই হতে পারে, ব্যাঙ টের না পেলেও একসময় সেই তাপে মারা যায়। সেটা ঘটতে পারে। সেটাও একধরনের সমাধান। না-কি! ব্যাঙের বাচা দরকার কি ?

0 comments:

 

Browse