জাকালো গোফ থাকলে
ভাতা পাওয়া যায়। আর যাবে নাই বা কেন ? জাকালো গোফের ভাগ্য কি সবার হয়! বিগালের লেজের
মত গোফ, পাকিয়ে ঘুরিয়ে এনে গালের ওপর রাখা। কিংবা দাড়ির সাথে জুড়ে দেয়া। একেবারে
নিখুত রাখতে তেল-মসলা প্রয়োজন হয় বৈকি। সেজন্য ওই ভাতা। সেইসাথে ফঅউ হিসেবে তা
দেয়া। মাঝে মাঝে আঙুল দিয়ে ঠিক করে নেয়া।
যাদের বাহাদুরী
গোফ নেই তারাও কখনো কখনো গোফের আমেজ পান। আর পেলেই তা দিতে শুরু করেন। এমনকি গোফ
না থাকলেও আঙুল বুলিয়ে নেন। তা দেয়া বলে কথা।
গন্যমান্য
ব্যক্তির সান্নিধ্যও গোফে তা দেয়ার একটা সুযোগ। এই ধরুন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী
দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি যদি প্রশংসা করেন।
সত্যি সত্যিই
করেছেন। একেবারে বাংলাদেশে এসে বলেছেন বাংলাদেশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভাল
করেছে।
সন্ত্রাসের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ! বাংলাদেশে !! এখানে সন্ত্রাস মানে তো মিছিল, মিটিং, হরতাল, গাড়ি
ভাঙা, আগুন দেয়া, এইসব। তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ!
তা করা হয়েছে
বৈকি। একেবারে সফলভাবে। একজন রীতিমত গোফে তা দিয়ে বাহাদুরি নিয়ে বলেছেন, এক মামলায়
হরতাল ঠান্ডা।
মিটিং, মিছিল,
সমাবেস, হরতাল কিভাবে ঠান্ডা করতে হয় সেটা তারা অন্য দেশকেও শেখাতে পারেন। এটা
গোফে তা দেয়ার মত কৃতিত্ব বৈ-কি।
কিংবা বাংলাদেশ
ছেড়ে পশ্চিমরঙ্গের কথাই ধরুন না কেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে যখন সেখানে গেলেন তখন
সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী বললেন, পাকিস্তান সন্ত্রাস মদদ দিচ্ছে।
এটাও গোফে তা
দেয়ার মত বীরত্ব বৈ-কি। ভারতে সন্ত্রান বলে কিছু নেই। সেটা একেবারে নির্মুল করা
হয়েছে। টুকরো-টাকরা যা হচ্ছে সব পাকিস্তানের কারনে। হয় সরাসরি নয়ত বাংলাদেশ হয়ে।
ওদের পেছনে যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিচ্ছেন সেগুলো পানিতে যাচ্ছে। বরং ভারতকে দিলে
সন্ত্রাস বন্ধ হতে পারে।
কিংবা অন্যভাবেও
কথা প্রকাশ করা যায়। পরিচিত এক সামরিক কর্মকর্তা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে
যোগ দিতে গিয়েছিলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী তাদের বিমানকে ভারত বাদ দিয়ে ভিন্নপথে
ঘুরে যেতে হয়েছিল কারন ভারতের সংবিধানে নাকি আছে সেদেশের ওপর দিয়ে বিদেশী সৈন্য যাতায়াত করা যাবে না। আবার আফগানিস্তানে হামলার
সময় যখন পাকিস্তানের যায়গা ব্যবহারের কথা উঠল তখন গলা বাড়িয়ে ভারত বলেছিল,
কেন-কেন, ভারতের যায়গা তো আছে। আমরা সব সুবিধে দিতে প্রস্তুত। নিশ্চয়ই তখন সংবিধান
বন্ধ ছিল।
সেই কথা জের ধরে
এখনও বলা সম্ভব, পাকিস্তান নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে এনিয়ে ভাবার কি আছে ? ভারত তো আছে।
যদিও কেউ কেউ
ভিন্ন কথা বলেন। পাকিস্তানী সেনারা একদিকে তালেবানদের সাথে যুদ্ধ করে জীবন দিচ্ছে
আরেকদিকে ড্রোন হামলায় জীবন দিচ্ছে। রীতিমত টিভির সচিত্র খবর।
সে যাকগে। বরং
গোফ নিয়েই থাকা যাক।
পশ্চিমবঙ্গের
মুখ্যমন্ত্রী যদি একথা বলে নিজের কৃতিত্ব গোফে তা দেন তাহলে মার্কিন
পররাষ্ট্রমন্ত্রীই বা বাদ থাকবেন কেন। তাদেরও সমস্যা-কৃতিত্ব সবই আছে। রীতিমত
বিশ্ব কাপিয়ে প্রেসিডেন্ট হলেন ওবামা। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও কিছুদিন কথা চালু
ছিল। তারপরই সব মিইয়ে গেল। দেখতে দেখতে আরেক নির্বাচন এসে হাজির। নতুন কিছু একটা
বিষয় তো চাই। এদিকে পাকিস্তান যেভাবে কথাবার্তা বলছে তাতে মান থাকে না। দক্ষিন
এশিয়ার কোথাও একটা ঘাটি বসাতে পারলে মুখরক্ষা হয়। কিছুদিন আগে একবার লিটমাস টেষ্ট
তো করাই হয়েছে বাংলাদেশে আমেরিকানরা কাজ করছে একতা বলে। এবারে সরেজমিনে পরিস্থিতি
দেখে যাওয়া। আর তার যা প্রতিক্রিয়া তাতে গোফে তা দেয়া যেতেই পারে।
দুর্ভাগ্য এটাই,
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলুন আর ভারতের মুখ্যমন্ত্রী বলুন কিংবা মার্কিন
পররাষ্ট্রমন্ত্রীই বলুন, এমনকি বাংলাদেশে স্বরাষ্ট্র-পররাষ্ট্রমন্ত্রী যার কথাই
বলুন, সৃষ্টিকর্তা কাউকেই গোফে তা দেয়ার সুযোগ দেননি।
এটা কি সহ্য হয়!
0 comments:
Post a Comment