রহিমুদ্দির ভাইয়ের পো Because of me

Oct 10, 2009

চাচা এবং ভাতিজা বসে আলাপ করছে। ভাতিজা বলল, চাচা আইজ হাটে গেছিলাম।

চাচা বলল, যাবি না। বাড়ি বইসা থাকবি!

ভাতিজা বলল, একটা কুমড়া লইয়া গেছিলাম।

চাচা বলল, যাবি না। খালি হাতে যাবি ? এতবড় দামড়া পোলা।

ভাতিজা বলল, একজন আইসা কুমড়ার দাম জিজ্ঞাস করল।

চাচা বলল, করব না! এমনিই লইব ?

ভাতিজা বলল, আমি কইলাম ২০ টাকা।

চাচা বলল, কবি না! এমনি দিবি কুমড়াডা ?

ভাতিজা বলল, সে কইল ৫ টাকা।

চাচা বলল, কইব না! সে কি কুমড়ার দাম জানে না ?

ভাতিজা বলল, আমি কইলাম বাপের পুষ্যি কুমড়া খাইছ কোন দিন ?

চাচা বলল, ঠিক করছিস। অতবড় কুমড়াটা ব্যাটা ৫ টাকায় নিতে চায়।

ভাতিজা বলল, তহন একজন পুলিশ আইল।

চাচা বলল, আইব না। ভদ্রলোকের পোলারে তুই কস বাপের পুষ্যি কুমড়া খাইছ কোনদিন। দেখ না কি হয়।

ভাতিজা বলল, পুলিশ আইসা কুমড়ার দাম জিজ্ঞাস করল।

চাচা বলল, করব না! পুলিশ বইলা কি অমনেই নিব।

ভাতিজা বলল, আমি কইলাম ২০ টাকা।

চাচা বলল, ঠিক করসছ। পুলিশ দেইখা ডরাইবি না।

ভাতিজা বলল, পুলিশ কইল ৫ টাকা।

চাচা বলল, কইব না। পুলিশ বইলা কি দাম জানে না।

ভাতিজা বলল, আমি কইলাম বাপের পুষ্যি কুমড়া খাইছ কোন দিন।

চাচা বলল, সাবাস। পুলিশ দেইখা ডরাইবি না।

ভাতিজা বলল, তখন পুলিশ আমারে থানায় নিয়া গেল।

চাচা বলল, নিব না! তুই পুলিশরে কস বাপের পুষ্যি কুমড়া খাইছ কোন দিন।

ভাতিজা বলল, থানায় নেওয়ার পর বড় সাব আইল।

চাচা বলল, আইব না! দেখ না আরো কত কি হয়।

ভাতিজা বলল, বড় সাব আইসা আমারে ছাইড়া দিল।

চাচা বলল, দিব না! তুই যে রহিমুদ্দির ভাইয়ের পোলা।

পুনশ্চ : অনেক বছর আগে জসিমউদ্দীনের বাঙালির হাসির গল্পে পড়া। বর্ননায় তারতম্য ঘটতে পারে।

দুধের পুকুর হয় না Only you can save your skin

Oct 8, 2009

এক রাজার শখ হল তিনি দুধের পুকুর বানাবেন। বিশাল করে পুকুর কাটা হল। রাজ্য জুড়ে ঘোষনা দেয়া হয়, অমুক দিনে সবাই একহাড়ি দুধ এনে পুকুরে ঢালবে। বিশাল এক কীর্তি হবে সেটা। সকলের অংশগ্রহন প্রয়োজন।

রাজার আদেশ না মানলে চলে না। তবে গোপনে না মানলে রাজার কি করার আছে। একজন ঠিক করল সবাই যখন দুধ ঢালবেই সেখানে আমি নয় এক হাড়ি পানিই ঢাললাম। কে ধরবে ?

পরদিন দুধ ঢালা উসব শুরু হল। এবং, অনুষ্ঠান শেষে দেখা গেল সেটা পুরোপুরি পানির পুকুর।

এখানে রাজা দুধের পুকুর বানাতে যাননি তবুও গল্পটা বলতে হল।

পেয়াজের দাম এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৪ টাকা। এর আগে বেড়েছিল চালের দাম, কোন ব্যাখ্যা ছাড়াই। তার আগে বেড়েছিল চিনির দাম। সরকার নিজেই ঘোষনা দিয়ে দাম বাড়িয়ে সেটা স্থায়ি করেছেন। তারও কোন ব্যাখ্যা নেই। আজ অমুক, কাল তমুক, পরশু সমুক, ধারাবাহিক পদ্ধতি চলছে ধারাবাহিক নাটকের মত। আর সবকিছুর পেছনে যারা দায়ী তাদের গালাগালিও চলছে। সিন্ডিকেট, সিন্ডিকেট আর সিন্ডিকেট। আজ একদল লাভ করে তো কাল আরেকদল। শতশত, হাজার হাজার পর্বের নাটক তৈরী করে যাচ্ছে তারা। আর টিভি দর্শকের মত দেখে চলেছে নাগরিক।

এই একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল পৃথিবীর আরেক প্রান্ত আর্জেন্টিনায়। তাদের পছন্দের খাবার টমেটোর দাম হঠা করে বেড়ে গেল। তবে তারা সিন্ডিকেট খোজার জন্য গোয়েন্দা লাগায়নি। সরকার-মন্ত্রী-পুলিশ-র‌্যাব-এফবিসিসিআই কারো কাছে ধর্না দেয়নি। তারা জানে যেখানে শতশত কোটি টাকার লাভের বিষয় জড়িত সেখানে কেউই হাত গুটিয়ে বসে থাকে না। লাভের অংশ সকলের ঘরেই যায়।

তাদের পদ্ধতি ছিল একেবারে সহজ। ঘোষনা দেয়া হল কেউ টমেটো কিনবে না। একেবারে হাতেনাতে ফল। টমেটো বিক্রেতারা সাথেসাথেই বুঝে গেল কি করতে হবে। কোনমতে বিক্রি করতে পারলে চালান রক্ষা পায়।

বাংলাদেশের মানুষ যদি একমাস পেয়াজ না কেনে তাহলে কি হতে পারে ? পেয়াজ না খেয়ে কেউ মারা গেছে, এমনকি অসুস্থ হয়েছে এমন উদাহরন অন্তত আমার কাছে নেই।

কথা হচ্ছে, দুধের পুকুর তৈরীর গল্প এদেশের। আর্জেন্টিনা কিংবা অন্য দেশের না। এদেশেই মানুষ আশা করে সরকার-মন্ত্রী-র‌্যাব-পুলিশ-ব্যবসায়ীরা পুকুরে দুধ ঢালবে আর তারা মনের সুখে সেই পুকুর ভোগ করবে। যা জানা নেই তা হচ্ছে দুধের কখনো পুকুর হয় না। যদি বানাতেই হয় তাহলে কাজটা নিজেকেই করতে হয়।

যদি মনে চায় As you like it

Oct 7, 2009

আমেরিকা একদিনে আমেরিকা হয়নি সেখানেও একসময় বহুবিবাহ বন্ধের জন্য আন্দোলন করতে হয়েছে তাদেরই একজন ছিলেন মার্ক টোয়েন একদিন একজন তারকাছে বহুবিবাহের বিরুদ্ধে যুক্তি কি শুনতে আগ্রহ প্রকাশ করল তিনি বললেন, কোন ব্যক্তির পক্ষে দুজনের কর্তৃত্ব মানা সম্ভব না

এক ব্যক্তি যদি একাধিক ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রন করেন সেটা বাস্তবসম্মত কিন্তু বিপত্তি তখনই যখন দুজন ব্যক্তি একজনকে নিয়ন্ত্রন করতে চায় প্রমান করতে চাইলে এক টিভির সামনে দুজনের হাতে দুই রিমোট দিয়ে বসিয়ে দিন আর যদি দুইয়ের অধিক হয় তাহলে তো কথাই নেই। নাটকটা সেখানেই শুরু হবে।

দেশ চালানো টিভি চালানোর চেয়ে কঠিন নিশ্চয়ই (নাকি সহজ ? আমি নিশ্চিত নই।)। বিষয় হচ্ছে, দেশের চালক একজন থাকাই ভাল। অন্তত বাস্তবসম্মত। যদি কোন কারনে চালক একাধিক হয় তবেই বিপদ। বোঝা যায় না কখন কার নির্দেশে কি ঘটছে। ঘটাচ্ছেন সবাই। একই সাথে। কিন্তু ঘটছে কোনটা সেটাই কথা। আদালত রায় দিচ্ছে, সরকার ঘোষনা দিচ্ছে, ব্যবসায়িরা ব্যবসা করছে আর জনগন জীবনযাপন করছে। সবই ঘটছে একসাথে।

বিষয়টি আরেকটু খোলাসা করা প্রয়োজন। আদালত বলেছে নদীর দখলদারিত্ব মুক্ত করতে হবে। তাদের দায়িত্ব সেটুকুই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কঠোরভাবে সেটা করা হবে। শর্ত পুরন না করলে কোন বেসরকারী আবাসন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হবে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেছেন তারা অনেক শক্তিশালি, তাদের অনেক দাপট। পুলিশ এবং প্রশাসন এখানে ওখানে ভাঙচুর করে যায়গা খালি করেছে। দখলবাজরা পরদিনই আবার দখল নিয়েছে। আর আবাসনের দায়িত্ব যারা নিয়েছেন তারা এখন দেশে থেমে নেই, নিউইয়র্কেও মেলা করছেন। কেউই কাজে ফাকি দেননি। দায়িত্বে অবহেলা করেননি একজনও।

কিংবা অন্যদৃষ্টিতে দেখুন। পথ হবে পথিকের এই স্লোগান নিয়ে রাজপথ মুক্ত করা হবে, একেবারে স্পষ্ট ঘোষনা। দিন-তারিখের হিসেবে সেটা শুরু হয়ে গেছে (কারো চোখে পরেছে কিনা জানা নেই), ফুটপাত দখলকারিদের একজনও নড়েনি, তারা কর্মসংস্থানের অধিকার বজায় রেখেছে, আর পথিক পথ বের করে নিজের পথে চলেছেন। নিজের পথ খুজে নেয়ার দায়িত্ব তারই।

চাদাবাজি-টেন্ডারবাজি বন্ধ করার জন্য কঠোর বার্তা পৌছে দেয়া হয়েছে গ্রামে-গঞ্জে, যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে। দলের পরিচয়ে গ্রেপ্তার এড়ানো যাবে না। যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ঢাকার দীর্ঘদীনের বাসিন্দারা হয়ত একজন হকারকে দেখে থাকবেন। হাটতে হাটতে তিনি সরলভাবে হাক দেন, মনে চাইলে নেন, না চাইলে না নেন।

তিনি এর বাইরে আর কিছু বলেন না। যার মনে চায় সে কেনে। এমন সরল বক্তব্য হয় না। আদালত রায় দিয়েছে, সরকার ঘোষনা দিয়েছে, প্রশাসন কর্মসুচি ঘোষনা করেছে, পুলিশ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে।

আপনি বলতে পারেন আসলে চালক একাধিক সেকারনে এটা ঘটছে। অথবা এই হকারের উদাহরন যথার্থ মনে করতে পারেন।

আমার নির্দেশ আমি দিয়েছি। আপনার মনে চাইলে মানেন, না চাইলে না মানেন।

একদিনের চিড়িয়া

Oct 3, 2009

বাঘ-সিংহ-জিরাফ- চিতাবাঘ সব একেএকে বিদায় নিচ্ছে কবে শুনব সেখানে মডেল টাউন গড়ে উঠেছে আগেই অন্তত একবার ঘুরে আসা উচিত চিড়িয়াখানায় একবারও চিড়িয়াখানায় যাব না তাও কি হয়! একদিন মিনিবাসের চিড়িয়াখানা’ ‘চিড়িয়াখানাডাক শুনতে শুনতে তাতে উঠেই পরলামক্ষতি কি, খাঁচার মধ্যে ঢুকিয়ে তো দেবে নাসেখানে রাখলে খাওয়ানোর দায়িত্বও নিতে হবেআগের আপদরাই যখন মরছে তখন আর নতুন করে আপদের দায়িত্ব নেবে কে কাজেই ঘোড়ায় চড়িয়ে মর্দ হাটিয়া চলিল, আমিও মিনিবাসে চড়ে হাটিয়া চলিলাম এবং একসময় পৌছেও গেলাম

যেখানে নামলাম সে যায়গাটা দেখে চোখ জুড়িয়ে গেলচমকারএটা কি ঢাকা শহর! এমন যায়গা দেখতে আমি প্রতিদিন আসতে পারিচারিদিকে শুধু সবুজ আর সবুজশুধু গাছপালাশুনলাম পাশেরটির নাম বোটানিক্যাল গার্ডেনওখানে ঢুকতে পয়সা লাগে নাঢুকে ইচ্ছেমত ঘুরে বেড়ানো যায়, বসে থাকা যায়, হাওয়া খাওয়া যায়, এমনকি দুর থেকেই দুএকজনকে দেখলাম বসে থেকে একটা করে ঘাস তুলে মুখে দিচ্ছেসত্যিই চমকারচিড়িয়াখানা থেকে বের হয়েই ওখানে ঢুকতে হবে

ঢাকা চিড়িয়াখানা, মীরপুরএইই লেখা আছে এক যায়গায়বেশ কিছুটা উঁচুতেঅনেক দুর থেকে দেখা যায়সাদাটে পিলার দিয়ে যতটা সম্ভব উচু করা হয়েছেআমার মনে হল রঙটি বোধ হয় অন্যরকম হলে ভাল হতচারিদিকে সবুজের মধ্যে সাদা, কেমন যেন চোখে লাগেছবিতে অন্য দেশের চিড়িয়াখানা দেখেছিসেগুলি কেমন যেনচিড়িয়াখানা বলেই মনে হয়এটা মনে হচ্ছে সার্কাসতারাওতো বাঘ, হাতি নিয়ে এক যায়গায় আসন গাড়ে, নানারকম খেলা দেখায়এখানেও কি খেলা দেখা যাবে ?

চারিদিকে তাকালামবেশ কয়েকটি রিক্সা দাঁড়িয়েযার যেভাবে খুশীতবে বেশীরভাগই দাঁড়িয়ে থাকা মানুষছোট ছেলেমেয়ে খুব একটা দেখলাম না, বাদামবিক্রেতা এবং হাতপাতাগুলি ছাড়াহয়ত সবারই দেখা হয়ে গেছে, আমার মত যারা বয়স্ক, অথবা তরুনতরুনী তাদেরই হয়ত দেখা হয়ে ওঠেনিআর আছে ঢাকায় নবাগতরাতা পোষাক আষাক দেখেই তাদের চেনা যায়আমি ওদের দলে নইওদের গায়ে এখনো ঢাকার গন্ধ লাগেনিঢাকায় আসলে প্রথমেই ঢাকার গন্ধ মাখতে হয়একজন ভিক্ষুককেও রেগে আরেকজনকে বলতে শুনেছি, ‘কদিন হল এসেছিস? আমি দশ বছর ধরে ঢাকায় ভিক্ষে করি

একযায়গায় দেখলাম লম্বা লাইনবুঝলাম ভেতরে ঢুকতে হলে ওই লাইনে আগে দাঁড়াতে হবে, টিকিট কিনতে হবেদাঁড়ালাম এবং একসময় ছোট্ট কাগজের টিকিটও হাতে পেলামআশেপাশে বাদাম-লজেন্স-মোয়া বিক্রেতাদের দিকে ভ্রুক্ষেপও করলাম নাএকটি রোগা পটকা ছেলে যেন বলল ভেতরে যাওয়ার টিকিটএটা আবার কোন ধরনের আবদারভেতরে ঢুকে কাজ নেইবাইরেই থাকলোকজন কত দুরদুরান- থেকে এসেছে একটু বিনোদনের জন্য, সেখানে যেয়ে তাদের বিরক্ত করার দরকারটা কি ? বাইরেই ভাল আছিসঅন্তত আছিস তো এক যায়গায়আর পারিশ তো কোন ফুটোফাটা দিয়ে ঢুকে পর ভেতরে, আমাকে জ্বালাতন করিশ কেন বাবা

আমি ঢুকে পরলামএদিক ওদিক তাকিয়ে দেখি কয়েকটা পেয়ারা গাছসোজা এগিয়ে গেলামবেশ ভীড় দেখতে পাচ্ছি এক যায়গায়আমিও ভিড়ে মিশে গেলামমোটা মোটা লোহা দিয়ে ঘেরা যায়গাবেশ দুরে একটা বাঘ বসে রয়েছেহ্যাঁ, বাঘই তোবসে না, শুয়ে রয়েছেমনে হল ওঠার শক্তি নেইএভাবে শুয়ে থাকা বাঘ কেউ টাকা দিয়ে টিকিট করে দেখে? দুএকজন খোঁচাখুচি করে তাকে জাগানোর চেষ্টা করল, কাজ হল নাআশা নেই দেখে সময় নষ্ট না করে সামনে এগোলাম

দেখি আরেকটি খাঁচাসেখানেও বাঘএর অবস্থাও তথৈবচবোটকা গন্ধ ছড়াচ্ছেবাঁদিকে তাকিয়ে দেখি কয়েকটা হরিন হেঁটে বেড়াচ্ছেযাহোক, নড়াচড়া তো করছেকিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে তাদেরই হাঁটাচলা দেখলাম

বাঁদরের খাঁচা কোথায় ? ওটাই তো আসল দেখার যায়গাআমাদের পুর্বপুরুষ কেমন ছিলেন না দেখলে, তাদেরকে একটু না খোঁচালে কেমন হয়আমাদের এত দুঃখকষ্টের জন্য তারাই দায়ীকে বলেছিল তাদেরকে লেজ খসিয়ে জামাকাপড় ধারন করতেগাছের ডালে থাকলে দিব্বি ফলমুল খেয়ে কাটানো যেত, আর বাঘ হরিন দেখার জন্য টাকা খরচ করে টিকিট কিনতে হত নাদিব্যি দেখা যেত, যখন তখন

কিন্তু বাঁনরের খাঁচা আমি খুঁজে পেলাম নাএকজনকে জিজ্ঞেস করায় এমনভাবে তাকালেন যেন আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজে কোথায় জিজ্ঞেস করছিকি আর করারাগ করে বেরিয়ে গেলেও যেতে পারি, কিন্তু টাকা খরচ করে ঢুকেছি, কিছুটা সময় না কাটালে টাকা উসুল হয় কিভাবেতখনই দেখলাম ভিড়, তারপর বানরের খাচা আমিও যোগ দিলাম ভিড়ে

সত্যিকারের ভিড়টা এখানেই যে যেভাবে পারে মুখ ভ্যাঙচাচ্ছে, অঙ্গভঙ্গি করছে একটা বাচ্চা বানর সেটা দেখার জন্য খাচা ধরে ঝুলে আছে পেছন থেকে সম্ভবত তার মা তাকে নামানোর চেষ্টা করছে কিন্তু কাজ হচ্ছে না আমি যেন শুনতে পেলাম তার বক্তব্য, মা দ্যাহ, দ্যাহ কেমুন চিড়িয়া আইছে

তাড়াতাড়ি সরে গেলাম সেখান থেকে এবারে যেদিকটায় ভীড় কম সেদিকে হাঁটতে শুরু করলামলেক না পুকুর কি বলব জানি না, তার ধার দিয়ে হেঁটে সবুজ ঘাঁসে ঢাকা একটা যায়গায় পৌছে গেলামবাহ্‌, বেশ যায়গাসামনের সব দৃশ্য দেখা যায়খাঁচার ভেতরের এবং বাইরের, সবইসেখানেই বসে পরলাম

আমার কপালে আসলে সুখ নেইএকটু পরই একজন যুবক এসে চটপটি খাওয়ার নিমন্ত্রন জানালঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম সেখানে রঙচঙে টিন দিয়ে বানানো একটি ঘরবুঝলাম তার মতলবচটপটি নামের বস্তুটি খেয়ে পকেটের টাকা তার পকেটে পাঠানো প্রয়োজনআমি হাসিমুখে জানালাম যে আমার ও বস্তু খাওয়ার কোন আগ্রহ নেইযুবকটি দেখলাম ভদ্রতার ধার ধারে নারাগতভাবে বলল, ‘তাইলে এইহানে বসছেন ক্যান ?’

আমি চারিদিকে একবার ভাল করে তাকিয়ে দেখলামএ যায়গাটির মালিকানা তাদের বলে মনে হল নাআর আমি তো ভেতরে ঢোকার জন্য রীতিমত টিকিট কেটেছি, কাজেই এখানে বসার অধিকার আমার আছেআলব আছেআমি তাকে সেটা বলার জন্য মুখ খুললামসাথে সাথেই থামতে হল আমাকেআরেকজন, আমার পাশেই বসেছিলেন, বললেন, ‘খান না, অসুবিধে কি? না খেলেও টাকা দিতে হবেওরা অনেক টাকা দিয়ে এ যায়গায় দোকান দিয়েছে

বুঝলাম তিনি ভুক্তভোগীতার পাশেই রয়েছে একটি ছোট প্লেটএখানে বসার মাশুল হিসেবে তাকেও গলাধরন করতে হয়েছে স্বে বস্তুতিনি নিষয়টি আরো স্পষ্ট করে দিলেন, ‌একজোড়া ছেলেমেয়ে তেহাড়ি খেয়ে আটশ টাকা বিল দিয়েছে

এরপর যা ঘটল তার বিররন দেয়া কষ্টকরতিনদিনের নাকি তিন সপ্তাহের, নাকি তিনমাসের পুরনো কিছু দ্রব্য এনে হাজির করা হল আমার সামনেএকবার ভাবলাম সামনের পানিতে সেগুলি ফেলে দেইআবার মনে হল এখানে অনেক বিরল প্রানী রয়েছেবহু টাকায় আমদানী করাকুমির, নাকি জলহস্তিজলহস্তি হলে তো সুদুর আফ্রিকা থেকে আনাএগুলি জাতিয় সম্পদআমার দোষে তাদের যদি ক্ষতি হয়, যদি অক্কা পায়, নিদেন পক্ষে ডায়রিয়া হয়আমি প্লেটটি সেখানেই রেখে দাম দিয়ে উঠে পরলাম এবং টিকিটের টাকা উসুল না করেই বাইরে এসে পরলামবোটানিক্যাল গার্ডেনের দিকে একবার তাকানোর ইচ্ছেও হল না

বাজিমাত - Way to success

Oct 2, 2009

বাজি চমকার জিনিষ সে আতসবাজিই হোক, তারাবাজিই হোক, খেলাধুলার বাজিই হোক আর টেন্ডারবাজি-চাদাবাজিই হোক বাজিমাত করতে পারলে একেবারে প্রানভরে উপভোগ করার জিনিষ প্রয়োজন শুধু বাজিমাত নিশ্চিত করা কোনভাবেই মিস করা চলবে না যে পথে হোক, যাকে ধরে হোক, যে পদ্ধতেই হোক, বাজিমাত করা চাই

টেন্ডারবাজির কথাই ধরুন না কেন এটা এমন এক পদ্ধতি যার ফলে কম দামে কিনে বেশি টাকার বিল দেখানো বন্ধ শ্বশুরের দোকান থেকে সবসময় কিনবেন সেপথও বন্ধ বিভিন্ন জন বিভিন্ন সুবিধা বর্ননা করে টেন্ডারে অংশ নেবে তাদের মধ্যে থেকে সবচেয়ে ভালকে সুযোগ দেয়া হবে একেবারে স্বচ্ছ পদ্ধতি এরমধ্যে অস্বচ্ছতা ঢুকে পড়ে যখন ইচ্ছে করে কাউকে বাদ দেয়া হয় ইচ্ছে করে কাউকে কাজ দেয়া হয় টেন্ডারদাতারা কিছুটা এদিক ওদিক করতেই পারেন তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র, ‌যে কোন টেন্ডার গ্রহন বা বাতিল করা যাইতে পারে

আর যখনই গ্রহন কিংবা বাতিল এর ঝুকি এসে যায় তখনই বাজিমাত করার সম্ভাবনা কমে যায় টাকাতে কাজ হয় না কারন আরেকজন তারচেয়ে বেশি দিতে পারে নেতায় কাজ হয়না কারন বাঘের চেয়েও বড় বাঘ থাকে তখন বাজিমাত করার পথ খোলা থাকে যখন তিনি একাই টেন্ডার জমাদানকারী প্রতিষ্ঠান বাস্তবে সেই প্রতিষ্ঠান আছে কি নেই তাতে কিছু যায় আসে না, কাগজে-কলমে থাকলেই চলে

এ পদ্ধতিও শতভাগ সাফল্য আনে না পত্রিকায় খবর ছাপা হয়, ছবি ছাপা হয় নানা জনে নানারকম কথা বলে

শতভাগ সাফল্যের পথ একটাই টেন্ডার প্রয়োজন নেই কাজ আমাকে দিতে হবে এককথা আপনার ভাগ আপনি পাবেন সে নিয়ে চিন্তার কারন নেই আপনি আমাকে দেখলে আমিও আপনাকে দেখব সরকার জানিয়েছেন ডিজিটাল দেশে ডিজিটাল পদ্ধতিতে টেন্ডারের ব্যবস্থা করা হবে। ইন্টারনেটের টেন্ডার ডাকা হবে, ইন্টারনেটেই অংশগ্রহন করা যাবে। আজকাল জনমত জরিপ হচ্ছে ইন্টারনেটেই। চিকিসার ব্যবস্থাও হচ্ছে। কাজেই টেন্ডার হতে আপত্তি কি! ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির ডিজিটাল পদ্ধতি উদ্বোধন করেছেন সরকার। যে কেউ এসএমএস করে যোগাযোগ করতে পারবে। শুধু এটা জানা যায়নি, যেখানে ভর্তির সাথে বানিজ্য এবং লড়াই দুটি শব্দ জড়িত, লড়াইয়ে জয়ীর চেয়ে পরাজিতের সংখ্যা কয়েকগুন সেখানে একজন যদি এসএমএস করে জানায়, আমার জন্য একইটা সিট রাইখেন, আইতাছি।' তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কি করার থাকবে? একটা পাল্টা মেসেজ পাঠানো ছাড়া!

সেটা নিশ্চয়ই হবে সরকারী টাকায়। এসএমএস কোম্পানীগুলি যখন এত টাকা দেয়।

এই দৃষ্টান্ত অনুসরন করলে ধরে নেয়া যায় আগামীতে এসএমএস পদ্ধতিতে টেন্ডার পরিচালনা হতে যাচ্ছে। সামনাসামনি হাত-পা ভাঙার হাত থেকে অন্তত কিছু মানুষ রক্ষা পারে।

যায়গা বরাদ্দের লটারীর বাজিমাত সে তুলনায় সহজ ফেরানো যায় না এমন প্রার্থীর সংখ্যা যায়গার চেয়ে বেশি তাহলে আর লটারীর প্রয়োজন কি ? দ্রুত কাজ শেষ করাই উত্তম সহজ ঘোষনা, লটারী হবে না। যাকিছু খরচাপাতি করেছেন, লাইন-ঘাট করেছেন, করেছেন। আর খরচ বাড়াবেন না।।

বাজিমাতের সুত্র একটাই। নেতার পিছনে দাড়ান, যদি বাজিমাত করতে চান।

ইতিবাচক - Think Positive

Oct 1, 2009

যদি ইতিবাচক চিন্তা করতে চান, ইতিবাচক কথা বলতে চান, তাহলে ক্রিকেট খেলা দেখুন ক্রিকেটের ধারাভাষ্য শুনুন ব্যাটসম্যান যদি খেলতে না পারে তাহলে গুড বল, যদি খেলতে পারে তাহলে গুড ব্যাটিং ফিল্ডার যদি ধরে ফেলে তাহলে গুড ফিল্ডিং, ধরতে না পারলে গুড শট কিংবা গুড প্লেসমেন্ট এমন ইতিবাচকের উদাহরন মেলা ভার মাঝেমাঝে ফুটবলের ভাষ্যকাররা চেষ্টা করে এর কাছাকাছি যেতে হেরে যাওয়া দলকে বলে সেকেন্ড বেষ্ট টিম তবে ক্রিকেটের তুলনা ক্রিকেটই একেবারে উদাহরনযোগ্য

আমরা আশাবাদি। আশাই একমাত্র ভরসা। টিভির সামনে বসলে বহু আশাবাদি মানুষের আশার বানি শোনা যায়। এটাই ইতিবাচক। ডাক্তার বলেন শুধু ওষুধ খেলেই হবে না মাথে বিশ্বাস করতে হবে সেই ওষুধে অসুখ সারবে। দুইয়ে মিলে অসুখ সাড়াবে। আর মনোবিজ্ঞানীরা তো বলেই বসেন, নিরাস ব্যক্তি নিজের মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনে। সমাধান একটাই, আশার বানি শোনা, অন্যকে শোনানো। ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা।

কয়েকমাস ধরে রীতিমত সোরগোল পড়ে গেছে ইন্টারনেটে টাকা আয়ের। পত্রিকায় খবর, বিজ্ঞাপন, মাল্টিমিডিয়া ভিডিও টিউটোরিয়াল, সভা, সেমিনার অনবরত হয়েই চলেছে। যেসব সফটওয়্যারের কথা শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে জুমলা। বাংলাদেশের অনেক ওয়েব পেজ এরই মধ্যে সাড়া ফেলেছে এটা ব্যবহার করে, অনেক প্রতিষ্ঠানও বিশেষজ্ঞ ট্রেণিং দিচ্ছে। পুরোপুরি বাংলায় ওয়েব সাইট তৈরী করুন। একেবারে সহজে।

ইচ্ছে করলে তাদের ওয়েব সাইটে একবার ঘুরে আসতে পারেন। বিনামুল্যের সফটওয়্যার, পরিস্কারভাবে লেখা আছে। ডাউনলোড করুন, যাকিছু তথ্য আছে পড়ে দেখুন, ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে নিন ---

এখানেই সামান্য সমস্যা। একবার ক্লিক করেই দেখুন। যেমন স্পষ্টভাবে লেখা ফ্রি তারচেয়েও স্পষ্টভাবে লেখা, বাংলাদেশ থেকে ব্যবহার করা যাবে না।

তাতেও আপত্তি নেই। মোড়ে মোড়ে যখন সিডির দোকান তখন কোথাও না কোথাও পাওয়া যাবে। জানলেন এজন্য wamp/mamp নামে একটা সফটওয়্যার ইনষ্টল করতে হবে। সেটাও ফ্রি। শুধূ ডাউনলোড করার অপেক্ষা। ডাউনলোড লেখা দেখে ক্লিক করলেন।

বাংলাদেশের জন্য না একথা লেখাও তারা প্রয়োজন বোধ করেনি।

আপনি আশাবাদি এবং ইতিবাচক। কাজেই এতে আপনার মনঃকষ্ট হওয়ার কোনই কারন নেই।

আর যদি কোন কারনে বিষয়টি উল্টো হয়, যদি ক্রিকেটে শোনেন ব্যাড বোলিং, ব্যাড শট, ব্যাড ফিল্ডিং কিংবা ব্যাড ডিসিশন তাহলে আপনার মনোভাব ইতিবাচক না হয়ে নেতিবাচক হতেই পারে। আপনি মনে করতে পারেন সারা বিশ্বের জন্য ফ্রি হলেও তা ডিজিটাল বাংলাদেশের আওতার বাইরে। কারন তারা জেনে গেছে মেরুদন্ডহীন এই জাতি কখনো সামনে এসে প্রশ্ন করবে না, কেন ?

 

Browse