Showing posts with label Language. Show all posts
Showing posts with label Language. Show all posts

নিজের পোষাক ঠিক রাখা জরুরী

Feb 18, 2012
ফেব্রুয়ারী ভাষার মাস। ভাষার মাসে ভাষার জন্য কিছু করা হবে না তাও কি হয়। বাঙালী জাতি কি এতটাই নেমকহারাম!
আজকাল সরকার, প্রশাসন কিংবা জনগন কেউই দায়িত্ব পালন করে না। অনেক সময়ই আদালতকে নাক গলাতে হয়। রুল জারি করতে হয়। কাজেই ভাষার সন্মান রাখতে সেখানে কিছু করা হবে সেটাও হয় না। কাজেই, সংবাদপত্রের খবর;
হাইকোর্টের বেঞ্চ বেতার-দুরদর্শনে বাংলা ভাষার বিকৃতি রোধে ব্যবস্থা নিতে রুল জারি করেছে।
খবরটি প্রথম আলোর। তারা মুহুর্তেই বুঝে গেছে রেডিও বলা যাবে না, বলতে হবে বেতার। টেলিভিশন বলা যাবে না, বলতে হবে দুরদর্শন। কে জানে যদি আদালত অবমাননার মামলায় পড়তে হয়। কথার একটু এদিক-সেদিক করলে যদি আম-ছালা দুইই বাচানো যায় তাতে দোষ কি ? সরকারও খুশি পাঠকও খুশি। লোকে বলে টাইম পত্রিকা এই নিয়মে ব্যবসা করে।
বাংলা ভাষার হাল কি, কোনদিকে যাচ্ছে এনিয়ে আগেও লেখা হয়েছে। অযাচিতভাবেই নিজের মত প্রকাশ করা হয়েছে। বরং সে বিষয় থাক। বিষয়টা অন্যভাবে দেখা যাক।

রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের নাম পাল্টান

Jul 14, 2011
ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার কে এনিয়ে কোন সন্দেহ থাকা অনুচিত। ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রধান হিসেবে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেই তিনি জনগনের ভোটে সর্বশক্তিমান হয়েছেন। কাজেই দাবীটা তার একারই। তারপরও সামান্য একটু বিষয় থেকে যায়। ইদানিং নোবেল পুরস্কার কথাটা বেশ ঘনঘন শোনা যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের কল্যানে বাঙালী জাতি আরেকবার ওই সৌভাগ্যের সুযোগ পায় তাহলে সেটা নিয়ে টানাটানি ভাল দেখায় না। একবারই যথেস্ট টানাটানি হয়েছে।
কথাটা বলতে হচ্ছে কারন এখানে একজন প্রতিদ্বন্দি রয়েছে। তিনি অনেক বছর ধরেই ডিজিটাল ডিজিটাল বলে হাহাকার করছেন। মাল্টিমিডিয়া বিশেষজ্ঞ হিসেবে একবার দেশের সবাইকে মাল্টিমিডিয়া শেখানোর জন্য এখানে-ওখানে-সেখানে স্কুল খুলেছিলেন। সেটা ফ্লপ করেছে বটে, তিনি মাল্টিমিয়া বিশেষজ্ঞ খেতাবটিও ব্যবহার করেন না। পরিবর্তে যা ব্যবহার করেন সেকারনেই সন্দেহ। টিভিতে নিয়মিত অনুষ্ঠান করেন, নিয়মিত পত্রিকায় কলাম লেখেন, স্কুলের টেক্সট বইতেও তার লেখা পড়ানো হয়। আর নামের সাথে ব্যবহার করা হয় ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার ইত্যাদি। শংকাটা সেকারনেই।

বই পড়লে বুদ্ধি কমে

Feb 16, 2011
সাক্ষাতকারের সুবিধে অনেক। এখানে নাট্যকারের লেখা সংলাপ মুখস্ত করতে হয় না, পরিচালকের কথামত অভিনয় করতে হয় না। একেবারে নিজের পছন্দমত অভিনয় করা যায়, নিজের পছন্দমত শব্দ ব্যবহার করা যায়। কাজেই এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হবে এতে অবাক হবার কি আছে!
টিভিতে পুরো ১ ঘন্টার অনুষ্ঠানই হোক আর খবরের এখানে সেখানেই হোক, কিংবা অমুক ব্যাংকের বিজ্ঞাপন বিরতিতেই হোক, সাক্ষাতকার চলতেই পারে। নানা বিষয়ে, নানা কারনে।
এটা ভাষার মাস। কাজেই আলোচনা সেখানেই সিমাবদ্ধ থাকুক।
বছরের অন্তত একমাস ভাষা চর্চ্চা হতেই পারে।
পুরো মাসজুড়ে বইমেলা। বিশ্বে আর কোথাও একমাস বইমেলা চলে কিনা জানা নেই। আমাদের সেটাই প্রয়োজন। অন্তত বাকি মাসগুলিতে যখন ভাষা কিংবা বই প্রয়োজন নেই তখন একমাস চললে আপত্তি কেন ? যতদিন পর্যন্ত মানুষ ক্লান্ত হয়ে ঝিমুতে শুরু না করে, যতদিনে না বিরক্ত হয়ে বলে ওঠে, ধুত্তোর ...
বলছিলাম সাক্ষাতকারের কথা। লেখক, পাঠক, প্রকাশক, দোকানদার, ভবঘুরে সকলের। সকলেই পঞ্চমুখ ভাষা নিয়ে কথা বলা বিষয়ে, তা দোআশলা ভাষায়ই হোক আর অন্যকিছুই হোক। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হয়েছে আমাদের কারনে, একি যেমন তেমন কথা। নিতান্ত দেশদ্রোহি হলে তবেই প্রশ্ন করতে পারেন কয়েক লক্ষ মানুষের ভাষায় উইন্ডোজ তৈরী হলেও বিশ্বের ৭ নম্বরে থেকেও বাংলায় হয়নি কেন। বাংলায় লেখার জন্য আলাদা টাকা খরচ করতে হয় কেন ? কিংবা শত্রুতা করে বলতে পারেন কিবোর্ডে কোন কি চাপলে কোন অক্ষর তৈরী হবে সেটা একজনের পৈত্রিক সম্পত্তি হল কিভাবে ?
ওসব ফালতু কথা।
কথা হচ্ছে, ভাষা নিয়ে, বই নিয়ে এবং বইমেলা নিয়ে। আর বই মানেই লেখক।
অতীতের যেসব গুনিজন লেখক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন তাদের কাছ থেকে শোনা, তারা স্বপ্ন দেখতেন লেখক হবেন। লিখতেন আর প্রকাশকের পেছনে ঘুরতেন। কোন একসময় লেখা ছাপা হয়ে পাঠকের হাতে পৌছলেই হয়ে গেল, সাথেসাথে খোজ পড়ে গেল লেখকের। রাতারাতি খ্যাতি।
আজকাল কেউ ওকথা ভাবেন না। লেখক ভালভাবেই জানেন লেখা ছাপতে চাইলে খরচটা নিজেকেই দিতে হবে। পত্রিকার কথা ভুলে যান। সাহিত্য পত্রিকা বলে কিছু নেই। সাহিত্যপাতা নামে যা আছে সেখানে যায়গা পাবেন না। আপনে কেডা ? লেখক ? পথ ছাড়েন। বিজ্ঞাপনদাতা হইলে কথা কন।
কাজেই নিজের টাকায় রংচঙে বই ছাপা। এবং মুরগা লেখক হিসেবে পরিচিতি। বইয়ের শেষ ঠিকানা ফুটপাত, হরেদরে একদামে বিক্রি।
কাজেই, লেখক যদি কমতে থাকে, পাঠক যদি কমতে থাকে, এবং যদি সেটা স্বীকার করা হয়, তাহলে একটামাত্র পরিনতিই সম্ভব।
আগেভাগে একটা কথা বলে নেয়া ভাল। পাঠক কমছে, বইয়ের বিক্রি কমছে, বইমেলায় ভীড় কমছে একথা না বলাই ভাল। দেশের ভাবমুর্তি নষ্ট হতে পারে।
এবারে সত্য বলা যাক। এবারের বইমেলায় বইয়ের সংখ্যা কমেছে। আজকাল তথ্য জানা খুব সহজ। সেই তথ্য বলছে আগের বছর যে পরিমান বই ছাপা হয়েছে এবার তারথেকে অনেক কম। মুরগা লেখকগন আগ্রহ হারিয়েছেন। খ্যাতিমানরা তাদের সব রস বেচে ফেলেছেন। পানি মিশিয়ে যতদিন চালানো যায় সে সময়টাও পার হয়ে গেছে। কাজেই, বই কম। বিক্রি কম।
এটা যদি বর্তমান বছরের ঘটনা হয় তাহলে নিশ্চিত থাকুন, আগামী বছর বইয়ের সংখ্যা আরো কমবে।  
সময় থাকতে একটা বুদ্ধি দিয়ে রাখি। ভাষার মাসে যদি একমাস মেলা চালাতে হয় তাহলে পরিবর্তন প্রয়োজন। পদ্ধতিও খুব সহজ। বইয়ের দোকানের ভীড় কোথায় গেছে খোজ নেয়া।
সিডি-ডিভিডির দোকানে দেখুন সেখানে ভীড়ের কমতি নেই। আর কে-না জানে কম্পিউটারে গেম খেললে বুদ্ধি বাড়ে। বিজ্ঞানীরা গবেষনা করে বলেছেন। ডিজিটাল দেশে ডিজিটাল সরকারও সেকাজ সহজ করে দিয়েছেন। ৪০ টাকায় এক ডিভিডি। ২৫ টাকায় সিডি। সন্তানকে গেম কিনে দেবেন আর তাদের বুদ্ধি তরতর করে বাড়তে থাকবে। খামোখা বইয়ের পেছনে টাকা খরচ করে কে ?
কাজেই, আয়োজকগন, এখন থেকেই প্রস্তুতি নিন। মেলায় ভীড় বাড়াতে চাইলে বইয়ের দোকান কমান, সিডি-ডিভিডির যায়গা বাড়ান। মেলা উপলক্ষে ২০ টাকায় ডিভিডি এবং ১৫ টাকায় সিডি বিক্রির ব্যবস্থা করুন (সেটা সম্ভব)। ওসব সাক্ষাতকারে কান দেবেন না।
আর নতুন যুগের নতুন স্লোগান দিন, গেম খেললে বুদ্ধি বাড়ে, বই পড়লে বুদ্ধি কমে।

হেলায় করিল জয়

May 26, 2010
বাঙালীর ছেলে হেলায় লংকা জয় করতে পারে। অন্তত করেছিল হাজার বছর আগে। তারপর সেই জয় আরেকবার দেখতে কেটে গেছে দুহাজার বছরের বেশি।
কিংবা আরো সচেতন হলে এভাবেও বলতে পারেন, বাঙালীর ছেলে হেলায় করিল জয় এভারেষ্ট।
এটাই ঠিক। মুসা ইব্রাহিম বাঙালীর ছেলে। সে এভারেষ্ট জয় করেছে। হিলারীর নামের সাথে বলা হবে তার নামও। আর ওই বিজয় সিংহের লংকা জয়ের বিষয়টা অনায়াসে বাদ দিতে পারেন। অন্তত ঐতিহাসিকরা যখন বলেন বাঙালী জাতির বয়স হাজারখানেক বছর।
ইতিহাস নিয়ে টানাটানি করার কোন ইচ্ছে নেই। আমরা এখনো জানিনা কার ঘোষনায় বাংলাদেশ হয়েছে। জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের চর ছিলেন না মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তারচেয়ে বরং নির্জীব বিষয় নিয়ে কথা বলা যাক। অন্তত জয় করার বিষয় যেখানে রয়েছে।
বাংলা ভাষাকেও আমরা জয় করেছি বায়ান্ন সালে। আমরাই একমাত্র জাতি যারা ভাষার জন্য জীবন দিতে পারে (আমাদের দাবী, যদিও ভারতের মানুষ জীবন দিয়েছে একই কারনে)। আমাদের কারনে একুশে ফেব্রয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আমরা না থাকলে কি হত!
কাজেই ভাষা নিয়ে আমাদের কৃতিত্বের অভাব নেই। পত্রিকায় একবার খবর চোখে পড়েছিল ডজন তিনেক গবেষক গবেষনাপত্র জমা দিয়েছেন কম্পিউটারে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে। আছে অন্য দেশে ?
মোটেই নেই। কম্পিউটার যখন মানুষের কাছে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর এক যন্ত্র তখনই মানুষ শুনেছিল বাসকি নামে এক শব্দ। ওদের আসকি আর আমাদের বাসকি। আমরা পিছিয়ে থাকব কেন ?
না আমরা পিছিয়ে নেই। একসময় বাংলাকে জয় করা হয়েছে। এই বিজয়ের নাম বিজয়। কয়েক হাজার টাকায় কিনতে হত একসময়। কমাস পর নষ্ট হলে আবার কয়েক হাজার টাকা। তবে এটা বিজয়। লংকা জয়ের নায়কের মতই আরেক বিজয় সিংহ। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপা হত, এই বিজ্ঞাপনে কাচি ব্যবহার করা হয়নি। পুরোটাই কম্পিউটারে করা।
আমাদের দুঃখ এটাই, অন্যরা আমাদের দিকে চেয়ে দেখে না। সেই উইন্ডোঝে থামলে কি হত ? উইন্ডোজ থেকে নাইন্টিফাইভ, তারপর টু থাউজেন্ড, তারপর এক্সপি, তারপর ভিসতা, তারপর সেভেন। এতকিছুর দরকার কি বাবা। প্রতিবার যে আমাদের বাংলায় পরিবর্তন আনতে হয়। একসময় রীতিমত গিট্টু খেয়ে বসে থাকতে হয়। বসে বসে কি আঙুল চুসব!
না-না, কে যেন বিজয় কিবোর্ড নকল করেছে। ব্যাটার সাহস কত। এইযে একটা কাজ পাওয়া গেছে। দেখি কতটা নাকানি-চুবানি খাওয়ানো যায়। ব্যাটার মাতব্বরী করার শখ। ভিসতায় বাংলা চালাবে। আবার বিনে পয়সায়। একেই তো ভাত মারা গেছে আগামীতে কিছু করার পথটাও বন্ধ করছে।
আর যারা কম্পিউটার ব্যবহার করেন ?
সরকার নির্দেশ দিয়েছে দুসপ্তাহের মধ্যে ওপেনটাইপ বাংলা চালু করতে হবে মন্ত্রনালয়ে। নইলে-
কার বাংলা ?
এখন ওসব কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। কারো নামে যদি স্বত্ব দেয়া হয় তাহলে তার। উনি দেখিয়েছেন কিবোর্ডে জে চাপলে ক লেখা হবে, সেটা ওনার আবিস্কার। দেখতে পাননা বিজয় চালু করলে ওনার ছবি দেখা যায়। আপনার ওই অক্ষর ব্যবহার করবেন না। পারলে অন্য অক্ষর ব্যবহার করুন। মেধার দাম না দিলে মেধার বিকাস ঘটে না শোনেননি।
আর, ওপেন টাইপ। চিঠিপত্র লিখবেন, ইমেল করবেন, বাংলায় চ্যাট করবেন। আরকি চাই ? বলছেন অনেক সফটঅয়্যারে ব্যবহার করা যায় না। এডবির কোন সফটঅয়্যারেই না।
ওসবে আমার দরকার কি ? নিতান্তই দরকার হলে এক্সপি ব্যবহার করবেন। ওখানে ঠিকমত কাজ করে। কসম। কম্পিউটারের দাম কমিয়েছি, সফটঅয়্যার কিনতে হয় না। এরবেশি আর কি করতে বলেন।
যে ভাষায় বড়জোর ১০ লাখ মানুষ কথা বলে সেই ভাষায়ও উইন্ডোজ আছে বলছেন। জনসংখ্যায় ৭ম হয়েও বাংলায় নেই কেন প্রশ্ন করছেন ? ওই প্রশ্ন বিল গেটসকে করুন। সে জানে।
আমাদের এই-ই ভাল। আমরা পারি না এমন কাজ নেই। এভারেষ্ট জয় পর্যন্ত করতে পারি। ওসব ছোট বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই।
১৬ কোটি মানুষের দেশে, একটা জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে একজন মুসা ইব্রাহিম। সংখ্যাটা কমই। অন্তত কম্পিউটারে বাংলা ভাষার সমাধানের জন্য তারমত একজন জেদি মানুষ প্রয়োজন ছিল।

হায়- মরি বাংলা ভাষা

Feb 21, 2010
কিসের কথা কইতাছেন। একুশে ফেব্রুয়ারী। পার্টি। আইচ্ছা-আইচ্ছা, আমুনে। আইজতো ছুটির দিন। সমস্যা নাই। কি ব্যবস্থা করছেন কন। দ্যাশের লগে বিট্রে করতে পারমু না কইলাম। বাংলা মদের ব্যবস্থা রাইখেন। আর কি পোষাক পড়তে হইব ? কালা পাঞ্জাবী-কালা শাড়ি
লোকে নাকি অল্প শোকে কাতর হয়, বেশি শোকে পাথর হয়। বাঙালী কাতর না পাথর বোঝা কঠিন। আমাদের বিশেষজ্ঞরা বলেন বাংলার প্রচলন হওয়া উচিত সবখানে, তবে ইংরেজি ছাড়া চলবে না। সবখানে বাংলা, পেশার জন্য ইংরেজি। ডলার-পাউন্ড-ইউরো তো আসে ওই ইরেজীর দেশ থেকেই। কথা না বললে ওরা জানবে কিভাবে আমরা কত অসহায়। কত প্রয়োজন। প্রয়োজনে সব করতে হয়। ঢাকাবাসি হয়ত গ্রীন সুপার মার্কেটের সামনে একজন পঙ্গু ভিক্ষুক দেখে থাকবেন। একদিন তার মুখে শোনা গেল, মাদার, মাদার, গিভ মি ফাইভ টাকা।
লক্ষ্য এক বিদেশী ভদ্রমহিলা। এমন নিখুত ইংরেজি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরুনো কীর্তিমানরাও বলতে পারেন কিনা সন্দেহ। একেই বলে প্রয়োজন। এজন্যই বিদেশী ভাষা।
আরেক উদাহরন না দিলে চলে না। পরিচিত একজন হঠাত করে জাপানী ভাষা শিখতে শুরু করল। কারন জানা গেছে জাপানী ভাষা শিখলে, জাপানের কোন প্রফেসরের রিকমেন্ডেশন বাগাতে পারলে জাপান যাওয়া যায়। চলল দু প্রক্রিয়াই। এক ভদ্রলোকের সাথে চিঠি আদান প্রদান। একবার সাহস করে লিখেই ফেলল জাপানী ভাষা শেখার কথা। পরের চিঠি এল খাস জাপানী ভাষায়। তারপর সেই চিঠি নিয়ে দৌড়াদৌড়ি। কে পাঠোদ্ধার করে দিতে পারে।
জ্ঞানলাভে জন্য প্রয়োজনে চীন দেশে যাও, কোরানের কথা। বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজনে হিব্রু ভাষা শেখ, বর্তমান বাংলাদেশের কথা। এখনও হিব্রুর প্রচলন হয়নি সেখানে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে। তবে ভালমতই চালু রয়েছে কোরিয়ান-ইতালিয়ান-মালয়েশিয়ান ভাষা পর্ব। মুখে ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে।
ভাষার মাস। ভাষার দিন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এতো আমাদেরই অবদান। সবাই- অবাক তাকিয়ে রয়। ক্রিকেটে সেঞ্চুরী না হতে পারে বইমেলায় প্রতিদিন নতুন বইয়ের সেঞ্চুরী পুর্ন হয়। বেষ্টসেলারের নতুন সংস্করন প্রতিদিন। লেখক নিজেই ষ্টলে উপস্থিত থাকবেন। আপনারা দলেদলে যোগ দিন। মাতৃভাষা প্রয়োগ করুন।
একবার এক বিদেশীর সাথে থাকা অবস্থায় রাস্তায় দুজনের মাতৃভাষার সংলাপ শুনে কান গরম হয়ে উঠল। একজনের সাথে আরেকজনের কি সম্পর্ক, কার জন্মদাত্রী কে এসব যদি জিজ্ঞেস করে বসে ? আড়চোখে তাকালাম তার মুখের দিকে কথার অর্থ বোঝে কিনা জানার চেষ্টায়। তিনি আস্বস্ত করে বললেন, সকলের আগে ওই শব্দগুলোর অর্থ শিখে নিয়েছি। একজন বলেছে ওগুলোই বেশি ব্যবহার হয়। ওথেকেই বুঝে নিতে হয় আন্তরিকতার পরিমান।
কাজেই, ভাষার গর্ব করুন। বাংলাভাষা দেশেই থেমে নেই। ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বাইরে। হয়ত হলিউডের **** *** শব্দের সাথে বাংলা শব্দও শোনা যাবে একদিন। আমরা এই ভাষাকে ছড়িয়ে দেব সবখানে।
আর ইংরেজি। ওটা ছাড়া জাপানীরা বিশ্বে দ্বিতীয়  ধনী দেশ হতে পারে। ওরা নিজের দেশে থাকে, দেশে কাজ করে। আমাদের শিখতেই হবে। যত ভাল ভাল চাকরী সব যে বিদেশে।

মোদের গরব মোদের আশা

Jun 11, 2009

এই খালি যাইব ?

একথা পথেঘাটে সবসময় শুনতে পাওয়া যায়। উত্তরে দুরকমের প্রতিক্রিয়া হতে পারে। যাকে উদ্দেশ্য করে বলা সে একনজর চেয়ে দেখতে পারে। দেইখ্যা কি মনে হয় ভাড়া দিতে পারব। মনে তো হয় না। খালি দামাদামি করব।

ফল হচ্ছে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে চেয়ে অন্যদিকে মুখ করে চলে যাওয়া।

তবে উত্তর শোনাও যায়। যদি মনে হয় সত্যিসত্যি পকেটে টাকা আছে, দিতে কার্পণ্য করবে না তখন শোনা যায় উত্তর, কই ?

বিপরীত অবস্থা উল্লেখ না করলে অবিচার হয়। আপনি রিক্সা থেকে নামলেন বাড়ির সামনে। ভাড়া মিটিয়ে দিলেন। আপনার কাজ শেষ হওয়ার আগেই আরেকজন এসে থামল, কই যাইব ?

এবারে আপনার তাচ্ছিল্য দেখানোর পালা। ব্যাটা দেখলি না তর সামনে নামলাম। আবার জিগাস।

আমার বক্তব্য এই ঘটনা সম্পর্কে না। কথোপথন সম্পর্কে। রিক্সাচালকরা কঠোর পরিশ্রম করে। ধর্মে বলেছে, তোমরা কঠোর পরিশ্রম কর। এরা ধর্মের কথা মেনে সমসময় ধর্মপালন করে। এর প্রভাব তাদের কথাবার্তায়, আচরনে পড়তেই পারে। আর মাননীয় যাত্রীসকল, তাদের প্রতিপদে গাটের টাকা গুনতে হয়, তোষামোদ করতে হয়, ভাই-চাচা-মামা-দুলাভাই ডাকতে হয়, তাদের ওপরও প্রভাব পড়তেই পারে। কারো কোন দোষ নেই। দোষ পরিবেশের। দায়ী করতে হলে করবেন-

কাকে জানি না। প্রবাদ আছে ছেলে ভাল মাটির দোষ। তাকে দোষ দিলে অন্তত প্রতিবাদে গালাগালি শুনতে হবে না।

বলছিলাম ভাষার কথা। পরিচিত একজনের এক ছেলে এক মেয়ে। বয়স ৩ আর ৬। একেবারে আদর্শ পরিবার। সেদিন চমকে উঠলাম ওদের কথা শুনে, আমাগো বাড়িত মেহমান আইছে। কইছে এইহানে থাকব। বসেন, মায়ে জিগাইছে আপনে চা খাইবেন ? না কোক খাইবেন ?

আমার চমকে ওঠার কারন তার বক্তব্য না। কারন এরা যার পুত্র-পুত্রী সেই ব্যক্তিকে কখনো এই ভাষা ব্যবহার করতে শুনিনি। গলা নামিয়ে পাশের আরেকজনকে জিজ্ঞেস করতে হল, এরা এভাষায় কথা বলে কেন ? ওর বাবা তো এভাবে কথা বলে না।

উত্তর হল, শিখাইতাছে।

আমার মাথায় ঢুকল না বিষয়টা। শুনেছি সারা পৃথিবীতে শেখানো হয় মানুষ যেন ভাল করে সুন্দর করে কথা বলে। স্কুলে শেখায়, বাড়িতে শেখায়, মিডিয়ায় শেখায়। এমনকি সিনেমা-নাটক-গল্পেও খারাপ ভাষা ব্যবহার করলে সমালোচনা হয়। আর এই ব্যক্তি ইচ্ছে করে শেখাচ্ছেন এইসব-

মনে পড়ল টিভির কথা। নেতা-মন্ত্রী-বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য সবসময় সেখানে শুনতে হয়। খবরের কাগজের সাংবাদিকরা ভাষা সংশোধন করে নেন, টিভি সাংবাদিকরা সেটা করেন না। ফলে একেবারে টাটকা ভাষা শোনা যায়। তারাও গর্ববোধ করেন এই ভাষায় কথা বলে। এক অর্থমন্ত্রী গর্ববোধ করতেন তার এলাকার ভাষা দেশের মানুষকে জানাতে। তার যায়গা যিনি দখল করেছিলেন তিনিও শুনিয়ে গেছেন, এটা করতে লাগবে। চ্যাষ্টা করতেছি, দ্যাখতাছেন না, এই কথাগুলো অহরহ শোনা যায়। আজকাল টিভি নাটকেও প্রতিযোগীতা চলছে কে কত নিখুত ভাবে এই ভাষা প্রয়োগ করতে পারে। কোন কোন নির্মাতা নাকি আগে থেকে ডায়ালগ লেখেন না। যারা কথা বলবেন তাদের ওপরই ছেড়ে দেন এসবের।

প্রশ্ন জাগল, এরা শিখছে কার কাছ থেকে। পিতার কাছ থেকে নাকি যারা সমাজের নেতৃত্বে রয়েছেন সেই অভিভাবকের কাছ থেকে। এর কারনটা আসলে কি ?

উত্তর পেতে খুব দেরী হল না। পুরো এলাকা লোডসেডিংএ। বাড়ি ফিরে অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে সিড়ি দিয়ে উঠতে শুরু করেছি। না দেখেই বোঝা গেল আরেক ব্যক্তি নামছেন। অবয়ব দেখে ধারনা করতে অসুবিধে হল না ব্যক্তিটি কে। আমার ওপরতলায় থাকেন। দুখানা গাড়ির মালিক। প্রায়ই দারোয়ানের সাথে সিগারেট ভাগাভাগি করতে দেখি। কখনো আলাপ হয়নি।

হঠাৎ করেই, ভদ্রলোকের কি মনে হল কে জানে, দাড়িয়ে গেলেন। প্রশ্ন করলেন, কে ?

কে প্রশ্নের একটাই উত্তর হতে পারে, আমি। সে উত্তরে কি কিছু যায় আসে ? প্রশ্ন প্রশ্নই থেকে যায়। ফল কথা চালাচালি। আমি দুরত্ব রেখে চলতে পছন্দ করি।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুখ থেকে বেরিয়ে গেল, আপনে ক্যাডা ?

সাথেসাথে ফল ফলল। ভদ্রলোক অন্ধকারে কোথাও বিন্দুমাত্র হোচট না খেয়ে তরতর করে নেমে গেলেন নিচের দিকে।

এই তবে ভাষার কৃতিত্ব। আমরি বাংলা ভাষা।

 

Browse