Showing posts with label History. Show all posts
Showing posts with label History. Show all posts

রাজনীতি নেই রাজনীতিতে

Mar 14, 2011
সাদা চামড়া কথাটা আপত্তিকর। একসময় সাদাদের কাছে কালো চামড়া যতটা আপত্তিকর ছিল ঠিক ততটাই। কিন্তু দির্ঘ্যদিনের যা অভ্যেস তা-কি বদল হয়। কাজেই,
যদি চামড়া সাদা হয় এবং সেই সাদা চামড়ার মুখ থেকে যদি নিজের পক্ষে মত পাওয়া যায় তাহলে ঢাক পেটাতেই হয়।
একজন মার্কিন সাংবাদিক ঢাকায় এসেছেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে। তার মত শোনার বিষয়ে দুপক্ষের আগ্রহ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তিনি কার পক্ষ নেন, কার বিপক্ষে যান। এরচেয়ে বড় সার্টিফিকেট আর কি হতে পারে।
বিষয়, কর্নেল তাহেরের ফাসি। সেজন্য জিয়া কতটা দায়ী সেটা প্রমান করা।
এতে জিয়ার সম্পৃক্ততা ছিল না একথা সম্ভবত জিয়ার নিজের দলও বিশ্বাস করে না। মুখরক্ষার জন্য তারা বিচারের কথা তুলতে পারে কিন্তু অন্যদের মত তারাও জানে ওই ট্রাইবুনাল নামের নাটকে কি হয়। সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা যার তার সিদ্ধান্ত নেয়াই যথেষ্ট। কাজেই, তখনকার ক্ষমতাশীন জিয়ার ভুমিকা সেখানে ছিল এটাই সত্য। কথা হচ্ছে, সেটা প্রমান করা। কারন এই না যে জিয়াকে ফাসিতে ঝুলানো হবে। তিন দশক আগে তিনি মরে সেপথ বন্ধ করেছেন। তার কবরস্থানে তার লাশ আছে এটাও অস্বিকার করে বিপক্ষ দল। তাহলে এটা নতুনভাবে প্রমান করলে কি হবে ? কি ব্যবস্থা নেয়া হবে ? কার বিরুদ্ধে ?

যুদ্ধ শেষ হয়নি War For Peace

Mar 25, 2010
চেঙ্গিস খান যখন চীন জয় করেন তখন এত মানুষ মেরেছিলেন যে পিকিং শহরের পাশে নরকংকালের পাহাড় জমেছিল। এক বছর পর পর্যটকেরা যখন সেখানে যান তখনও রাস্তা ঢেকে ছিল মানুষের রক্তের আবরনে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন বর্বরতার তুলনা নেই। আর আধুনিককালে হিটলার যা করেছিলেন তা ইতিহাসের কলংক। ১ কোটি ২০ লক্ষ ইহুদি মারতে হবে, একজনের জন্য একটা করে গুলি খরচ করলেও ১ কোটির বেশি গুলি খরচ করতে হয়। আর যে হারে মারতে হয় তাতে বহু বছর লেগে যাবে। এটা ছিল আইখম্যানের হিসাব। তিনি পদ্ধতি আবিস্কার করলেন দ্রুত মারার। গ্যাস চেম্বার। প্রতি ঘন্টায় ২৪ হাজার মারা যাবে এই পদ্ধতিতে। কাজ হবে দ্রুত, খরচ কম।
এই ঘটনাগুলি যখন ঘটে তখন একধরনের প্রস্তুতি ছিল। যাদের মারা হচ্ছে কিংবা হবে তারা জানত এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে। প্রবাদ আছে, বড় মাছ ছোট মাছকে খায় কারন এই না যে সে জানতে পায় না। সে জানে সেটা ঘটতে যাচ্ছে, তার কিছু করার নেই।
১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকায় যা ঘটেছে তার কোন প্রস্তুতি ছিল না। মানুষ জানত না ঘুমের মধ্যে গুলি খেতে হবে, ট্যাংক এসে গুড়িয়ে দিয়ে যাবে সবকিছু। বঙ্গবন্ধু আচ করেছিলেন। বারবার বলেছিলেন এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে। তিনি নিজে পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে দিয়েছিলেন দুরে। কিন্তু তিনি যখন ২৫ মার্চ পর্যন্ত বৈঠক করছেন ইয়াহিয়া-ভুট্টোর সাথে তখন কে জানত কখন তাদের জীবন দিতে হবে ?
মানবইতিহাসের এই কলংকজনক ঘটনাটি ঘটেছে। হঠা করেই বন্য পশুর মত ঘুমন্ত মানুষ হত্যা শুরু হয়েছে।
সংখ্যায় কত ?
তাতে কিছু যায় আসে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক থেকে শুরু করে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা শিশু কেউ রক্ষা পায়নি।
তারপর ৯ মাসের যুদ্ধ। কয়েক লক্ষ মানুষের জীবনদান। অবশেষে স্বাধীনতা। এবং সেই স্বাধীনতা উযাপন। এতবড় একটা উপলক্ষ পালন করবে না কেন মানুষ! লাল-সবুজ পোষাক, গালে জাতীয় পতাকার চিহ্ন, হাতে লাল-সবুজ চুড়ি এসব তো এজন্যই। কয়েক লক্ষ মানুষের জীবনের বিনিময়ে এটাই তো আমাদের অর্জন।
আজকের পত্রিকার প্রধান খবর, বিয়েতে রাজী না হওয়ায় বাড়িতে ঢুকে বাবা-মাকে গুলি করে মেরেছে এলাকার মাস্তান। দর্প করে বলে গেছে, তোর বাবা-মাকে মারলাম। এখন একা থাক।
এটাও এক ধরনের স্বাধীনতা। পত্রিকার প্রতিদিনের খবর অমুক যায়গা দখল, তমুক বিল দখল, সমুক নদী দখল। এগুলোও স্বাধীনতা। অন্তত কেউ যখন বাধা দিচ্ছে না, টু শব্দ করছে না তখন স্বাধীনতা ছাড়া আর কি বলা যায়।
দেশের ৫১ ভাগ মানুষ দারীদ্রসীমার নিচে বাস করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কুশিক্ষার সুযোগও জোটে না। সেখানো , ক্ষমতার দাপট, দখলদারী, খুনোখুনি। পথে বেরলে গুতাগুতি-ধাক্কাধাক্কি, দশ মিনিটের পথ পেরতে দুঘন্টা, অফিস পৌছতে পৌছতে বাড়ি রওনা দেবার সময় উপস্থিত। এরই মধ্যে স্বাধীনতা পালন।
জাতি নিশ্চয়ই স্বাধীনতা পেয়েছে। কিন্তু মুক্তির জন্য যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ। সেই মুক্তি পায়নি। ক্ষুধা থেকে, দারিদ্র থেকে, সন্ত্রাস থেকে, দখলদারীর হাত থেকে। বরং ক্রমেই বেড়ে চলেছে দখলদারীত্ব। ক্রমেই নির্লজ্জ হয়ে উঠেছে এইসব হামলাকারী। ২৫ মার্চ যারা হামলা শুরু করেছিল তাদের সাথে দুরত্ব এখন সামান্যই। ৭১ এর রাজাকারের মত তাদেরও দোসরের অভাব নেই। দলে দলে, ঝাকে ঝাকে বাড়ছে।
মুক্তি মেলেনি। মুক্তির জন্য যুদ্ধ শেষ হয়নি। কিংবা শুরুও হয়নি। কারন, অভাব মুক্তিযোদ্ধার। নেতৃত্বের।

লালবাগ ব্যাটারী

Dec 9, 2009

বুশ-ব্লেয়ারের কল্যানে বাগদাদের কথা সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পৌছে গেছে। শুধু বর্তমান কেন, অতীতে সেখানে কি ছিল সেকথাও। ৮ হাজার বছর আগে সভ্যতার শুরু হয়েছে সেখানেই। ব্যাবিলনের শুন্যোদ্যান নামের বাগানে নাকি পানি দেয়া হত এক ধরনের যন্ত্র দিয়ে যাকে আমরা চিনি আর্কিমিডিসের স্ক্রু নামে। অথচ আর্কিমিডিসের জন্ম তারো হাজার বছর পর। যে চাকার জোরে সারা পৃথিবী চলছে সেটাও নাকি তারা তৈরী করেছে। কিন্তু এসব পুরনো কথা। নতুন কথা হচ্ছে মাটি খুড়ে সেখানে পাওয়া একটা মাটির পাত্র এবং একটা তামার পাত। গবেষকরা গবেষনা করে বলছেন ওই পাতটা আসলে ইলেকট্রড। এত সুন্দরভাবে তামা-দস্তা দিয়ে অন্যকিছু হতেই পারে না। পাত্রটার মধ্যে ভিনিগার রেখে পাতটা ডুবিয়ে বিদ্যুত তৈরী করা হত। কাজটি আরো কয়েক হাজার বছর পর ভোল্টা নতুনভাবে আবিস্কার করতে পারেন, কিন্তু বিষয়টি তাদের জানা ছিল। তার নামও দেয়া হল, বাগদাদ ব্যাটারী।

আমাদের দেশে এমন কিছু আবিস্কারের সম্ভাবনা নেই। কাজেই আবিস্কর্তা হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। সত্যি বলতে কি, আগের ইতিহাস খোজার জন্য মাটি খুড়তে গেলে কেচো খুড়তে সাপ পাওয়ার বিষয় ঘটার সম্ভাবনা। আর কার যায়গা খুড়বেন ?

তারচেয়ে বরং মাটি না খুড়ে বাগদাদ ব্যাটারীর মত কিছুর সন্ধান করা যেতে পারে। আর ঢাকা শহরে প্রাচীন বলতে টিকে আছে একটামাত্র যায়গাই। শায়েস্তা খার লালবাগ কেল্লা। এরও নামের সাথে যখন বাগ আছে তখন কিছু না কিছু পাওয়া যাবেই। সেই আশায় গমন।

সত্যিই মুগ্ধ হওয়ার মতমানুষজনের হুড়োহুড়ি নেই, বাড়ি-গাড়ী ঘাড়ের ওপর উপচে পরছে নাচারিদিকে মনোরম মনোহর পরিবেশসবুজ ঘাস, গাছপালা, পরিস্কার রাস্তা, তারমাঝে এখানে ওখানে কেল্লার ভবনভবন মানে পুরো যায়গার মাঝখানে তাজমহলের মত স্মৃতিসৌধ, একদিকে সোনালী রঙের মসজিদ, আরেকদিকে একটি দালানএর নাম হামাম খানা নাকি হাম্মামখানা কি যেনএখানে শায়েস্তা খা বসবাস করতেন নয়ত সুবাদারি করতেনতার কথা ভেবে একটু কষ্টই হলএত ছোট্ট বাড়িতে তিনি থাকতেন কিভাবে ? শুনেছি রিক্সা-স্কুটার কিনে সেগুলি ভাড়াদেয়ার ব্যবসা করেও অনেকে ছতলার মালিককেউ বারো তলারওসেতুলনায় তিনি নিতান্তই নগন্য ব্যক্তি ছিলেনদেয়ালের বাইরে থেকে যে উচু উচু বাড়িগুলি উঁকি মারছে সেগুলি বোধহয় ব্যঙ্গ করছে তাকে

কি বলবেন তিনি তাদের ?

তার সময় ছতলা-বারোতলা বাড়ি তৈরীর প্রযুক্তি ছিল নাএটাই একমাত্র যুক্তি হতে পারে

দেখলাম অন্য অনেকের সাথে কয়েকজন বিদেশীও ঘুরে বেরাচ্ছেনআমিও ঘুরে বেরাতে শুরু করলামএদিক ওদিক হাঁটলাম, ঘাস-গাছপালা দেখলাম, মরচেধরা টিনের নোটিশ দেখলাম, নিয়মকানুন পড়লাম, দেয়ালের কাছে দাঁড়িয়ে সেটা কতটা পুরু বোঝার চেষ্টা করলাম, কি দিয়ে তৈরী বোঝার কসরত করলামখুব সুবিধে হল না তাতেকাউকে জিজ্ঞেস করা প্রয়োজন। ঘুরতে ঘুরতে একজন ব্যক্তি দেখে কর্তাব্যক্তি মনে হওয়ায় তার কাছেই ধর্না দিতে চেষ্টা করলাম

বললাম, ‘স্লামালেকুম, আপনি এই কেল্লার দায়িত্বে আছেন মনে হচ্ছে

তিনি দাঁত বের করলেন

বললাম, ‘খুব সুন্দর করে সাজিয়েছেনদেখে একেবারে নতুন মনে হয়

তিনি বললেন, ‘হে হে হে

আমি বললাম, ‘আপনাদের কর্মতপরতার প্রশংসা না করে পারা যায় নাওই বিদেশীনি মনেহয় প্যারিস কিংবা হনুলুলু থেকে এসেছেন দেখতে

তিনি বললেন, ‘হে হে হে

আমি বললাম, ‘যারা এত কষ্ট করে এসব দেখাশোনা করছেন তাদের সবার নাম টাঙিয়ে রাখা উচিত

তিনি বললেন, ‘হে হে হে

আমি বললাম, ‘কেউ কেউ অবশ্য পুরনো দিনের কথাও জানতে চায়সেগুলো একটা কাগজে ছাপিয়ে রাখলে হয়যাদের দরকার তারা টাকা দিয়ে কিনে নেবে

তিনি বললেন, ‘হে হে হে

আমি বললাম, ‘আছে নাকি তেমন কিছু ?’

তিনি বললেন, ‘হে হে হে

এরই মাঝে আরেকজন এসে সঙ্গী হলহে হে হে ভদ্রলোক আরেকবার হে হে হে বলে চলে গেলেননবাগতকেই আগের প্রশ্ন করলাম, এই যায়গার ইতিহাস, এই জিনিষগুলোর বর্ননা লেখা কাগজপত্র কিছু আছে নাকি আপনাদের কাছে ? বিক্রির মত ?’

তিনি বললেন, ‘সে যারা গবেষনা করেন তাদের জন্য

বললাম, ‘সেই গবেষনার ফলগুলো ? সেগুলো দিয়েও তো কাজ চলতে পারে ?’

তিনি বললেন, ‘আপনি কোথাকার কে ? গবেষনা মানে বোঝেন ? এটা করতে মাথা লাগেযাকে-তাকে দিয়ে হয় না

বললাম, ‘আমি গবেষনা করতে যাচ্ছি নাসেটা যাদের করার তারাই করুন না কেনগবেষনা করে তারা কিছু একটা সিদ্ধান্ত তো নিয়েছেনআমি সেটার কথা বলছি

তিনি বললেন, ‘আপনি আচ্ছা ত্যাদোর লোক দেখছিআপনি কি ভাবেন গবেষনা কবিরাজী ওষুধের লিফলেট যে মোড়ে দাঁড়িয়ে হাতেহাতে বিলি করবেনাকি জনসভার বিজ্ঞাপন যে রাস্তায় রাস্তায় সেঁটে রাখবেএক গবেষকের লেখা আরেক গবেষকই বোঝে

লালবাগ ব্যাটারী খোজার চেষ্টা বাদ দিয়ে আমাকে কেটে পরতে হল।

অমার্জনীয় একটি বই

Jul 4, 2009

বইয়ের নাম বাঙলা নামে দেশ, লেখক আলী ইমাম, প্রকাশক অনন্যা, প্রথম প্রকাশ বইমেলা ১৯৯৭ এক যুগ আগের বই কাজেই সেদিক থেকে বই অনুরাগীর কাছে এই তথ্যে নতুনত্ব নেই হয়ত অনেকের সেলফে বইটি সোভা পাচ্ছে হয়ত পড়ে দেখার সময় হয়নি সেকারনেই বিশেষ বৈশিষ্ট লাভ করেছে বইটি

পড়তে শুরু করুন একেবারে ভুমিকা থেকে ভুমিকার শুরু দেখা যাক;

বাংলাদেশ টেলিভিশনের দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া প্রামান্য অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেঠি এক নাগাড়ে চার বছর এই জন্যে ঘুরে বেরিয়েছি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি

লেখক সত্যিই দেখেছেন শুধু বাংলার মুখ নয় আরো অনেককিছু ৭৫ মিলিয়ন বছর আগের গৌরবময় প্রাচীন ইতিহাস তিনি দেখেছেন এবং তুলে ধরেছেন সেই দেখারই কিছু নমুনা দেখানো হচ্ছে

আলেকজান্ডারের সাথে আগমন করেছিলেন কয়েকজন গ্রীক পন্ডিত তাদের লেখায় ভুগোল এবং ইতিহাসের প্রসংগ এসেছে খ্রিষ্টপুর্ব ৩২৬ অব্দে পাঞ্জাবের বিপাশা নদীর তীর পর্যন্ত এসেছিলেন আলেকজান্ডার এরপর তার পক্ষে আর এগিয়ে যাওয়া সম্ভবপর হল না তার শিবিরে খবর এলো পুর্বে প্রাসীঙ্গ বলে একটি দেশ রয়েছে সেই দেশের পুর্বে গঙ্গারিডই বলে আরো একটি দেশ আছে গঙ্গারিডই রাজ্যের অধিপতি মহাপরাক্রমশালী তার ক্ষমতা আর রণহস্তীর কথা শুনে আলেকজান্ডারের সেনাবাহিনী আর এগিয়ে যেতে সাহস পেলো না (পৃ: ২৪)

আলেকজান্ডার বঙ্গদেশের কথা শুনে ভীত হয়ে আর এগোলেন না বঙ্গবাসির গৌরবের কথা সন্দেহ নেই পড়তে থাকুন-

আলেকজান্ডারের সাথে প্রাচ্যভুমির অভিযানে এসেছিলেন টলেমী তিনি ছিলেন ভূগোলবিদ ১৫০ খ্রিষ্টাব্দে টলেমী নিম্ন গঙ্গার একটি বিবরন লিখেছিলেন

না থেমে পারা গেল না খ্রীষ্টপুর্ব ৩২৬ অব্দে আলেকজান্ডারের সাথে এলেন টলেমী, তারপর ১৫০ খ্রিষ্টাব্দে গঙ্গার বিবরন লিখলেন এই টলেমীর আয়ু কি হাজার বছর ?

পড়তে থাকুন আরো কয়েক পাতা

প্রাচ্যরাষ্ট্রের সম্রাট নন্দের সন্মিলিত শক্তির ভয়ে ভীত হয়ে আলেকজান্ডার পুর্বভারত অধিকারের স্বপ্ন ত্যাগ করেন তিনি ফিরে যান (পৃ: ৪৫)

আলেকজান্ডারের ভারত অভিযানের বহুরকম ব্যাখ্যা ইতিহাসের বহু যায়গায় পাওয়া যাবে এনিয়ে ভিন্নমত থাকতেই পারে একটা বিষয়ে সম্ভবত সকলে একমত, আলেকজান্ডার ভারতবর্ষ থেকে ফিরে যাননি, ফিরে গেছে তার লাশ

বঙ্গ দেশের ঐতিহ্যময় ইতিহাসের কখন শুরু সেনিয়েও আমার কোন আপত্তি নেই লেখক ৭৫ মিলিয়ন বছর উল্লেখ করেছেন, তার সত্যমিথ্যা যাচাই করার জন্য কোন টলেমি তখন ছিলেন কিনা সেটা তিনি বলতে পারবেন সম্ভবত এই গভীর তত্ত্ব জানার জন্য কেউ এই বই হাতে নেবে না যাদের এবই পড়ার সম্ভাবনা তাদের বোধগম্য বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকি

গৌতম বুদ্ধ জীবিত থাকার সময়েই বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার শুরু হয় নির্বানের দিন তিনি নিজে বলে গেছেন, বাংলার রাজকুমার বিজয় আজ সিংহলে গিয়ে উপস্থিত হয়েছে সিংহলে আমার ধর্ম চিরস্থায়ী হবে (পৃ: ৫৪)

বুদ্ধের সাথে বাংলার কতটা আত্মিয়তা তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে কিন্তু তিনি নিজের মুখে যখন বলে গেছেন তখন তার কথার অন্যথা হতে পারে না তবে লেখক থামলেন না তিনি বাংলার গৌরব প্রচার করবেনই করবেন আবারও এল বাংলার সিংহল জয়ের কথা

বাংলার সন্তান বিজয় সিংহল জয় করেছিল সেটা বুদ্ধের জন্মেরও আগের ঘটনা

বাপরে বুদ্ধের নির্বানের দিন তাহলে বুদ্ধের জন্মের আগের ঘটনা

আমার পক্ষে আর এগোনো সম্ভব হল না

নিজের ছোটবেলার কথা আমার স্পষ্ট মনে পরে কিশোর বাংলা নামে একটা সাপ্তাহিক পত্রিকা বের হত দুপুরে আড়াইটা-তিনটার দিকে পৌছুত লাইব্রেরীতে আরো ঘন্টাখানেক আগে গিয়ে অপেক্ষা করতাম সেখানে যে সামান্য কয়েকটা কপি আসত তা বিক্রি হয়ে যেত সাথেসাথেই কোনভাবেই যেন আমার কপি হাতছাড়া না হয় সেই পত্রিকা ছিল একটা অদ্ভুত জগত অনেক আকর্ষনের মধ্যে একটি ছিল এই লেখকের ধারাবাহিক রচনা, রূপালী ফিতে চলচ্চিত্র নিয়ে চমৎকার লেখা চলচ্চিত্রের আবির্ভাব, ইতিহাস থেকে শুরু করে কতকিছুই না শিখেছি সেখানে

বই হিসেবে দেখে হাতে না নিয়ে পারা গেল না পড়তে শুরু করলাম কয়েক পাতা, তারপরই হোচট। আরিস্তোতঁল এর গুনকীর্তন করছেন তিনি। কিভাবে ম্যাজিক লন্ঠন দিয়ে চলচ্চিত্রে সুচনা করলেন তার বর্ননা;

বিশ্ব বিজয়ী সম্রাট আলেকজান্ডারের গুহ শিক্ষক ছিলেন আরিস্তোতঁল। আরবীতে তাকে আফলাতুন নামে ডাকা হত। অনেক ব্যাপারে ছিল তার কৌতুহল। তার আমলে ম্যাজিক লন্ঠন গ্রীসে খুব জনপ্রিয় হয়। সন্ধ্যে হলেই সেই আমলে লোকেরা ম্যাজিক লন্ঠন জালিয়ে ছবি দেখতে বসত। (পৃ ৩)

ছোটবেলা যখন পড়েছি তখন বিষ্মিত হয়ে ভেবেছি লেখক কত জ্ঞানী কতরকম তথ্য, কতরঙের উপমা এখন চোখে সেই রঙ নেই আমি যতদুর জানি পবিত্র কোরানে আফলাতুন নামে যে জ্ঞানী ব্যক্তির কথা লেখা রয়েছে তিনি এরিষ্টটল নন, প্লেটো আরবী ভাষায় প এর উচ্চারন হয় ফ এর মত, এবং সন্মানিত ব্যক্তিকে সন্মান দেখানোর জন্য অনেক সময় শুরুতে আলিফ যোগ করা হয় সেকারনেই প্লেটো হয়ে গেছেন আফলাতুন

আবারও পড়া ছাড়তে হল ভাবনা পেয়ে বসল লেখক আসলে কি করতে চেয়েছেন সারা বিশ্বের সব তথ্য হাজির করতে চেয়েছেন সবাইকে জ্ঞানী বানাতে চেয়েছেন। নাকি দেখাতে চেয়েছেন তিনি নিজে কত জ্ঞানী, কতরকম খবর রাখেন, দেশকে-জ্ঞানকে কত ভালবাসেন বাংলার রূপ বর্ননার জন্য ডজন ডজন বিশেষন ব্যবহার করতে হয় এভাবেই নতুনত্ব আনতে হয়

তিনি সফলও হয়েছেন তার নাম শুনে প্রশংসায় পঞ্চদশমুখ গুনীসমাজ এমন বিশেষন আর কেউ ব্যবহার করেনি এসব তথ্য আর কেউ হাজির করেনি। এমন গুনিজন আর হয় না প্রকাশক জেনে যায় লেখকের নামেই বইয়ের কাটতি একজন অভিভাবক উল্টেপাল্টে দেখেই বই তুলে দেবে সন্তানের হাতে ভেতরে কি আছে দেখবে না

কিন্তু আমার ভাবনা অন্যখানে যেসব মহাজ্ঞানী ব্যক্তিরা এই বই হাতে পেয়েছেন তারা কি একবার লক্ষ্য করেননি কি লেখা রয়েছে এতে নাকি দেশের প্রশংসা এবং জ্ঞানের নমুনা দেখে না পড়েই সেলফে সাজিয়ে রেখেছেন তারা তা করতে পারেন তাতেও আমার আপত্তি নেই কারো ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে চাই না আমার সত্যিকারের আপত্তি যাদের উদ্দেশ্য করে এই বই লেখা সেখানে যে কিশোর বয়সীরা এটা পড়বে তাদের চোখে অনেককিছু ধরা পড়বে না একসময় আমারও পড়েনি তার ফল কি হবে কি হচ্ছে

একটা জাতি ক্রমেই মুর্খতার শিখরে উঠছে, কাল্পনিক, আজগুবি, উদ্ভট বিষয় নিয়ে অহংকারে গর্ব করছে এমন দেশ হয় না, এমন মানুষ হয় না এই কথা বলেই সন্তুষ্ট কুয়োটাকেই পৃথিবী জ্ঞান করছে এককালে আমাদের এই ছিল, আমার আর কিছু দরকার নেই এই বিষয় নিয়ে ইতিহাসের বই নেই এমন তো নয় নিহাররঞ্জনের উল্লেখ করা হয়েছে এই বইতেই, তার কিশোর সংস্করন করে গেছেন সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাকে উদ্ভট তথ্যের আশ্রয় নিতে হয়নি

দেশের প্রসংশা সব দেশের মানুষই করে। সেটা সবার অধিকার। দেশপ্রেমের কারনেই মানুষ নিজের জীবন দিতে কুন্ঠাবোধ করে না, ব্যক্তিগত সুখ বিসর্জন দিয়ে রাতদিন কাজ করে। অনেক সময় সেটা সমাজের দৈনন্দিন প্রয়োজনকেও ছাপিয়ে যায়। দুঃখ করে ভার্জিনিয়া উলফ দেশপ্রেমের বই সম্পর্কে বলেছেন তাদের লেখা গুরুত্বপুর্ন কারন তারা দেশের কথা বলে, যুদ্ধের কথা বলে, বীরত্বের কথা বলে। আমার লেখা গুরুত্বপুর্ন না কারন আমি ড্রইংরুমে বসা মহিলার কথা বলি। তারপরও তার দেশ উন্নত দেশ হিসেবে পরিচিত। শীর্ষস্থানে থেকেও তারা আত্মসমালোচনা করে, প্রতিমুহুর্তে নিজেদের সংশোধন করে। একথা প্রচার করে না কোটি বছর আগে আমাদের অমুক ছিল সেকারনে আমরা গর্বিত জাতি।

একটা প্রজন্মকে মুর্খ বানানোর এই অপরাধের ক্ষমা হয় না

 

Browse