মানুষ সৃষ্টির
সেরা জীব। কথাটা অবশ্য মানুষই বলে। নিজেকে সেরা দেখতে কে-না পছন্দ করে। মানুষ করবে এটাই স্বাভাবিক। কমলাকান্তের মত দৃষ্টি থাকলে হয়ত জানা যেত বাঘ
কিভাবে নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করে। কিংবা মানুষ আসলে একেকজন একেক ধরনের কাঠাল।
সেটা হয়না। বরং নিজেদের শ্রেষ্ঠ হিসেবে প্রচার করতে নানারকম
কৃতিত্বের কথা তুলে ধরা হয়। মানুষ যন্ত্র ব্যবহার করে, উন্নত ভাষা ব্যবহার করে ইত্যাদি ইত্যাদি
ইত্যাদি।
অনেকে অবশ্য এসব
বিষয়েও দ্বিমত প্রকাশ করতে পারেন। অন্য প্রানীর ভাষাকে ভাষা মনে করা হয় না কারন আমরা সেটা বুঝি না। কোন কোন প্রানীর শব্দ শুনতেও পাই না। যার সম্পর্কে জানি না সেটা ভাল না মন্দ বিচার
করি কিভাবে ?
ভাল-মন্দের
বিতর্কে না গিয়েও একটা দৃশ্যমান পার্থক্য সম্ভবত মানুষকে অন্যদের থেকে পৃথক করে
ধরে নেয়া যায়। মানুষ পোষাক পড়ে, অন্য প্রানী পড়ে না।
অবশ্য বাঙালী
এখানেও যুক্তি দেখাতে পারেন, অনেকের কাছে পোষাক খোলাই বাহাদুরী। তাহলে পোষাক বিষয়টা গুরুত্ব পাবে কেন ? ওটা ভাল
করে না মন্দ করে তাও তো নিশ্চিত না।
আপাতত সে তর্ক
থাক। সাধারনভাবে অধিকাংশ মানুষ পোষাক পড়ে,
অন্য প্রানী পড়ে না। একে ঘুরিয়ে বলা
যেতে পারে মানুষের লজ্জাবোধ আছে অন্য প্রানীর নেই।
পোষাকের ব্যবহার
সকলের এক না আগেই বলা হয়েছে। কাজেই সকলের লজ্জাবোধ এক হবে না এটাই তো স্বাভাবিক। সেই কানকাটার প্রবাদের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। এককান কাটা চলে পথের ধার দিয়ে, দুকান কাটা চলে
পথের মাঝ দিয়ে।
প্রায় বছরখানেক
ধরে নানারকম মুখরোচক বিতর্ক তৈরী করে অবশেষে বিশ্বব্যাংক জানিয়ে দিল, পদ্মা সেতুর
জন্য টাকা দেয়া হবে না। কারন বাঙালীর
দুকান কাটা।
কোন জাতি
সম্পর্কে যখন এধরনের বক্তব্য দেয়া হয় তখন পক্ষে-বিপক্ষে নানামত দেখা যাবে এটাই
স্বাভাবিক। কোন জাতিরই সকলের দুকান কাটা হতে পারে
না। কারো এককান হলেও অবশিষ্ট আছে। কারো পুরো দুকানই বিদ্যমান। তাদেরকেও বলা হচ্ছে কানকাটা। অসহ্য
সে যাকগে।
বিশ্বব্যাংক টাকা দেবে না এটা সাফ জানিয়ে দিয়েছে। সরকারের অবশ্য আপত্তি নেই তাতে।
প্রধানমন্ত্রী আগেই জানিয়ে দিয়েছেন দুর্নীতি প্রমান করতে পারলে বিশ্বব্যাংকের টাকা
নেবেন না। বরং মালয়েশিয়া থেকে টাকা নেবেন। সমস্যা কোথায়। সেতু বানানো দিয়ে কথা।
নিজের লাভ, দেশের লাভ।
কথা হচ্ছে দুদক
নামে প্রতিস্ঠানের। যে আবুলের কারনে টাকা বন্ধ হয়েছে তাকে নির্দোষ সার্টিফিকেট
দিয়েছিল তারা। তাতে কাজ হয়নি, এখনো তাকে দুর্নীতিবাজ বলা হচ্ছে। এতেই গোস্বা হয়েছে
দুদকের। কদিন আগে সাংবাদিকদের দুদকে ঢোকা বন্ধ করেছিলেন। এবার তাদের সামনে বললেন
বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো হবে।
বাপরে। এই না হলে
দুদক। বিশ্বব্যাংক নিশ্চয়ই দুর্নীতি করে ঘুস নিয়ে এধরনের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। দুদকের
দায়িত্ব দুর্নীতি দমন করা। প্রয়োজনে বিম্বব্যাংক দমন করা হবে। বিশ্বকে
দুর্নীতিমুক্ত করা হবে এ তাদের অঙ্গিকার।
একটা মানহানির
মামলাও করা যেতে পারে। আদালত অবমামনা বলে একটা বিষয় চালু আছে, ইদানিং সংসদ
অবমাননাও চালু হয়েছে। এবার দুদক অবমাননা চালু করলে মন্দ কি। দেশ উন্নতির দিকে
যাচ্ছে। এদিকে উন্নতি হবে না কেন।
নতুন নতুন আইন
যখন হচ্ছেই তখন এধরনের একটা আইন করা যেতেই পারে।
পুনশ্চ : খবরে
বেরিয়েছে নির্বাচন কমিশন বাজার দামের কয়েক গুন দামে কয়েকটা বাড়ি কিনছে ঢাকা শহরে।
এ নিয়েও কথা উঠতে পারে, নির্বাচন কমিশন অবমাননার ঘটনা ঘটতে পারে। তাদের কথাও ভুলে
যাওয়া ঠিক না।
0 comments:
Post a Comment