থামলে ভাল লাগে

Jan 6, 2012
এক পাগল ক্রমাগত দেয়ালে মাথা ঠুকছিল। একজন জিজ্ঞেস করল, ওভাবে মাথা ঠুকছ কেন ? কষ্ট লাগে না ?
তার উত্তর, থামলে কি আরাম!
আপনার মাথায় যদি কেউ আঘাত করতে থাকে সেটা বন্ধ করলে আরাম লাগারই কথা। ব্যথা কি জিনিষ কিভাবে বুঝবেন যদি ব্যথা না পান। একইভাবে দিনে পাচবার যদি বিদ্যুত না যায় তাহলে বিদ্যুতের মর্যাদা বুঝবেন কিভাবে।
এখন শীতকাল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেশ জোরেশোরে শোনা গিয়েছিল কি পরিমান বিদ্যুত তৈরী হবে। মন্ত্রী ঘোষনা দিয়েছিলেন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বিদ্যুত উতপাদন করা হবে (কেন কে জানে ?) শীতকালে যখন বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে তখন ভারতে রপ্তানী করা হবে আর গরমকালে ভারত থেকে আমদানী করা হবে (হয়ত গরমকালে তাদের চাহিদা কম থাকে)।
এখন শীতকাল। গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন গড়ে পাচবার করে বিদ্যুত যাচ্ছে। একে লোডসেডিং বলার উপায় নেই কারন বিদ্যুত যায় বড়জোর দশ থেকে বিশ মিনিটের জন্য। ১০ মিনিট করে পাচবার গেলে ৫০ মিনিট, একঘন্টা থেকে ১০ মিনিট কম। তাকে লোডসেডিং বলবেন কেন ? লোডসেডিং মানে তো একঘন্টা। জোট সরকারের সৃষ্টি।
 গতকাল প্রধানমন্ত্রী তার ৩ বছরের সাফল্যের হিসেব দিয়েছেন। সেখানেও এক নম্বরে ছিল বিদ্যুত। আর দ্রব্যমুল্যের কথা না বললেও চলে। তিনি ক্ষমতা নেয়ার সময় চালের দাম ছিল ৪০-৪৫ টাকা তাকে তিনি ২৫-৩০ টাকায় এনেছেন। আপনার কাছে যে এককেজির দাম ৫২ টাকা নিয়েছে সেকথা বলবেন না।
শুধু দাম কমানোই হয়নি সাথে মানুষের আয় বাড়ানো হয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিক এখন ৩ গুন বেশি বেতন পায়। দিনমজুর পায় ৫০০ টাকা। আগে মজুরীর টাকায় দুকেজি চাল কিনতে পারত না এখন ১০-১২ কেজি কিনতে পারে।
বলছেন হিসেবে মেলে না ? ৫০০ টাকা আয় করলে ২৫ টাকা কেজি হিসেবে ২০ কেজি হওয়ার কথা ?
ওটা টাইপের ভুল। বক্তৃতা টাইপ করার সময় হয়ে গেছে।
বর্তমানে বিদ্যুত ছাড়াও আরেকটা সাফল্য নিয়ে সবাই তৃপ্ত। শিক্ষাব্যবস্থার বিপুল উন্নতি হয়েছে। সাড়ে ৯৯ শতাংশ শিশুকে শিক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। বিভিন্ন দোকানে, কারখানায়, ফুটপাতে যে লক্ষ লক্ষ আছে ওদের হিসেবে আনবেন না। ওরা এদেশের মানুষ না।
কথা হচ্ছে, বছরের শুরুতে শিক্ষা নিয়েও কিছু কথা ওঠে। স্কুলে ভর্তি হতে লক্ষ নজরানা টাকা দিতে হয়। কোথাও সেটা ৫ কোথাও ১০। ভর্তি না হলেও রেহাই নেই, উন্নয়নের জন্য ছাত্রপ্রতি দেবেন ২০ হাজার, ৪০ হাজার। যার যা সামর্থ্য। এমনই এক ঘটনার রিপোর্ট তৈরী করতে গিয়ে হাত ভেঙেছেন এক টিভি চ্যানেলের মহিলা সাংবাদিক। সরকারী দলীয় সাংসদ অবশ্য তাকে মারেননি, ছবি যেন না ওঠে সেজন্য হাত দিয়ে সরিয়ে দিয়েছেন। যদিও ভিডিওতে দিব্বি শোনা গেছে তার সাঙ্গপাঙ্গকে বলছেন, গুলি কর, গুলি কর।
হাত ভেঙেছে তাতে কি গুলি তো করা হয়নি। শোকরানা করুন।
বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী অন্যদের থেকে আলাদা। একবার বলেছিলেন তিনি ছাত্র থাকা অবস্থায়ই স্বপ্ন দেখতেন একদিন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করবেন। সেটা ভালভাবেই করছেন। আরো বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী হবে, বিদেশী স্কুল-কলেজের সার্টিফিকেট দেশেই দেয়া হবে। আর কষ্ট করে টাকা খরচ করে বিদেশ যেতে হবে না। চাই কি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বন্ধ করে দেয়াও যেতে পারে। একবার ভেবে দেখেছেন তাতে কত লাভ। কতশত কোটি টাকা অপচয় বন্ধ হবে। আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মত অতবড় যায়গা যদি খালি করা যায় তাহলে অনায়াসে কয়েকশ বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে যাবে। সাথে হাউজিং।
কথায় কথ বাড়ে। তারচেয়ে বরং আগের কথায় ফেরা যাক। ওই মাথা ঠোকা পাগল।
যারা জীবিকার জন্য সারাদিন কম্পিউটারের সামনে কাটান তারা ভাল করেই জানেন বিদ্যুত না থাকলে মাথায় কেমন চক্কর দেয়। এখন শীতকালে ততটা টের পাওয়া যায় না বটে কিন্তু মাসদেড়েক পর বসন্তবরনের সাথেসাথে লোডসেডিং যে বরন করতে হবে এটা তো নিশ্চিত। সেকারনেই এই মাথাঠোকা।
মাথায় ঠক্কর খেতে খেতে একসময় বাধ্য হয়ে বলবেন, রেহাই দাও বাবা, যত টাকা ইচ্ছে নাও অন্তত বিদ্যুত দাও। ভারত থেকে হোক আর যেখান থেকেই হোক।
যদি কোনভাবে প্রতিক্রিয়া শুনতে পান তাহলে সেটা হবে, এইবার ঠিক পথে এসেছ। এইমাসে দাম বেড়েছে, সামনের মাসে বাড়বে, এরপর বাড়তেই থাকবে। দেখিয়ে দিচ্ছি বিদ্যুতের সমাধান কিভাবে করতে হয়। রেন্টাল-কুইক রেন্টাল যদি না কুলায় ভারত থেকে আনব। এদেশের মানুষকে বিদ্যুতের কষ্ট দেব না। ফেল কড়ি মাখ তেল।
এই গতি কখন থামবে, কে থামাবে কে জানে ? প্রধানমন্ত্রী যখন উন্নয়নের বর্ননা দিচ্ছিলেন তখন কুমিল্লার মানুষ উত্তর দিচ্ছিল মেয়র নির্বাচনে। উত্তর দিয়েছে চট্টগ্রামে, নারায়নগঞ্জে।
তাতে কি যায় আসে ? সংসদ নির্বাচন হবে তত্বাবধায়ক ছাড়াই। সেখানে দেখা যাবে। মেয়র তো যেকোন সময় বিদায় করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া যায়। সংসদ নির্বাচনটাই আসল। দেখলেন না সাংসদের ক্ষমতা। হাত ভেঙেছে তাতে কি, গুলি তো করেনি এখনও।

0 comments:

 

Browse