নিজের পরান বাচা

Feb 24, 2012
একজন মন্ত্রী বলেছেন সিমান্তের বিষয় নিয়ে সরকার চিন্তিত না। কাজেই সিমান্তে মরুন তাতে সরকারের কিছূ যায় আসেনা। পথঘাটে মৃত্যুর কথা নতুন করে না বলাই ভাল। ওটা সবদেশেই ঘটে। বাংলাদেশে বরং কমই ঘটে। আর নিজের বাড়িতে যদি খুন হন তাহলে প্রধানমন্ত্রী সেখানে পাহাড়ার ব্যবস্থা করতে পারেন না। ওটা সরকারের দায়িত্ব না।
আসলে এসব না বলে পুরনো গল্প বলাই ভাল। আপনাকে মরতে হবে। সমুদ্রে জাহাজ ডুবে মরতে পারেন বিছানায় শুয়েও মরতে পারেন। সমস্যা হয়েছে দিন যখন পুরনো দিনে থেমে নেই। সব দেশেই সরকার বলে একটি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। প্রতিপদে জনগনকে তাদের টাকা দিতে হয়। তারা সেই টাকায় সেরা খাবার খান, সেরা যায়গায় বাস করেন, সেরা বস্তু উপভোগ করেন এবং সেরা কথা বলেন।
কিংবা অন্যভাবেও দেখতে পারেন। বানর যদি মাথায় চড়ার সুযোগ পায় তাহলে নামবে কেন ? যে মাথায় উঠিয়েছে তাকেই কি দায়ী করা উচিত না!
আমি নিশ্চিত কোন বাঙালী এজন্য দায়ী নন। বাঙালী কখনো কোন ধরনের দোষ কিংবা ভুল করতেই পারে না। নির্বাচনের আগে রীতিমত জিকিরের মতই শোনা যায় দেখে, শুনে, ভেবে, দেশপ্রেমিক, যোগ্য, সত ব্যক্তিকে ভোট দেব। তারা সেটা করেনও। কোন কারনে বিজয়ের পর তাদের প্রকাশভঙ্গিটা ভিন্ন পাওয়া যায়। তখন আর তাদের সত, যোগ্য, দেশপ্রেমিক মনে হয় না।
আর সেটাই বা নিশ্চিত করে বলি কি করে ? তারা ডাকলে যদি লক্ষ মানুষ লাঠিহাতে পথে নামে তাহলে তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন কেন ? তারা যোগ্য বলেই তো এই বিপুল সংখক মানুষ প্রতিমুহুর্তে তাদের নাম জিকির করছে।
রাজনীতির জটিলতা ছেড়ে বরং মৃত্যু নিয়েই থাকা যাক। ওটা এড়ানো কারো পক্ষে যখন সম্ভব না।
সাংবাদিক দম্পতি খুন হয়েছেন নিজ বাড়িতে, তাদের শিশুপুত্রের সামনে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অপরাধীদের ধরা হবে। ঘন্টার হিসেব যখন দিন পেরিয়ে, সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে তখন কথা বলার সুযোগ ছেড়ে দিলেন যোগ্যতর ব্যক্তির কাছে। কথা বলায় তার তুলনা নেই।
ঘটনা ঘটার পর থেকেই সাংবাদিকগন নানারকম কথা বলে আসছেন। মৌনমিছিল, মানববন্ধন এমনকি প্রতিকি কঠোর কর্মসুচির ঘোষনা পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই শান্তিপ্রিয় বাঙালী ওটা নিয়ে রাজনীতি করবেন না জাতিয় মন্তব্য করবেন এটা স্বাভাবিক।
মুল কথা হচ্ছে, দিনের পর দিন যাচ্ছে। মানুষ ক্রমেই ভুলতে শুরু করেছে ঘটনার কথা। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই ভুলে যাবে। যদি ভুলে নাও যায় আরো বড় ঘটনা ঘটিয়ে সেটা ভুলিয়ে দেয়া হবে।
মুল বক্তব্যটা অন্যখানে। যুগযুগ ধরে সংবাদমাধ্যমগুলি সাধারন মানুষের পাশে দাড়িয়েছে। শাসকের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সেই দিন কি একেবারেই হারিয়ে গেছে। ? বর্তমানের শাসক কি আগের রাজাদের থেকেও বেশি শক্তিশালি ? আমরা প্রতিকি কর্মবিরতি পালন করব, এটাই কি সংবাদমাধ্যমের একমাত্র অস্ত্র ? ইউকিলিকস যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালি দেশের রক্তচক্ষুকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে সংবাদ পরিবেশন করে গেছে, এখনও যাচ্ছে। সেখানে ১৫ কোটি মানুষের একটা দেশের সবগুলি সংবাদপত্র, সবগুলি টিভি চ্যানেলের হাজার হাজার কর্মী কিভাবে অর্থলোভীতে পরিনত হলেন। ব্যবসা চালু থাকলে লাভ, কাজেই সেটা হাতছাড়া করা যাবে না এই মনোভাবে চললেন। এদেশে সংবাদমাধ্যমের ধর্মঘট নতুন বিষয় না, আগেও ঘটেছে। তারা অন্যদের থেকে ভাল জানেন তার শক্তি কতখানি। সেটা না করে নিজের গলায় দড়ি পড়িয়ে প্রশাসনের হাতে তুলে দিলেন কেন ?  অসির চেয়ে মসি বড় একথা তারা হজম করে ফেলেছেন ?
কথাটা বলার সময় আরেকটু বক্তব্য যোগ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে বহু সাংবাদিক শুধুমাত্র টাকার জন্য কাজ করেন না। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের লাঠিপেটা, মাস্তানের মাস্তানি সহ্য করা, ক্ষেত্র বিশেষে জীবন দেয়া, এসব শুধুমাত্র টাকার কারনে ঘটে না। তাদের মধ্যে একধরনের দায়িত্ববোধ কাজ করে। তারা এমন কিছু চান যা সমাজকে উন্নত করতে ভুমিকা রাখবে।
যদি সেটাই হয় তাহলে তারা অর্থলোভী সংবাদপত্র মালিক কিংবা টিভি চ্যানেল মালিকের অধিনে মাথা নিচু করে রয়েছেন কেন ? তারা নিজেরা একত্রিত হতে পারছেন না কেন ? উইকিলিকস তো দেখিয়েছে কি করা সম্ভব।
এসব শক্তি নিয়ে সাংবাদিক যদি অসহায় হন তাহলে জনগনের অস্ত্র কি ? একজন চাকুরীজীবী, একজন ব্যবসায়ী, একজন কৃষক, একজন শ্রমিক, তাদের কোন অস্ত্র নেই। তারা বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি মাত্র। শতচেষ্টা করেও তাদের পক্ষে একডজন মানুষ জোগাড় করা সম্ভব না। চিতকার করে গালি দিলে কথা যতদুর যায় তাদের বক্তব্য প্রকাশের সামর্থ্যও ততটুকুই।
মানবজাতির ইতিহাস উত্থান-পতনের ইতিহাস। আমরা এখন পতনমুখি। আরো কতদুর পতন হলে তল মিলবে জানা নেই।
সবাই যখন নিজের চামড়া বাচাচ্ছে তখন একটামাত্র উপদেশই কার্যকর, নিজের পরান বাচা।

0 comments:

 

Browse