ভি ফর ভ্যানডেটা

Feb 11, 2012
এডলফ হিটলার আর এডাম সাটলার, নামের উচ্চারনে খুব পার্থক্য নেই। ভি ফর ভ্যানডেটা নামের হলিউডি ছবি দেখলে মনে হবে আচরনেরও পার্থক্য নেই। সাটলার বৃটেনের হাই চ্যান্সেলর। সরকার প্রধান যখন প্রধানমন্ত্রী না হয়ে হাই চ্যান্সেলর হন তখন তারপক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ। কারো মতের তোয়াক্কা করতে হয় না। একেবারে হিটলারের মত।
ভি ফর ভ্যানডেটা ছবির পেছনে কিছু ইতিহাস আছে। ১৬০৫ সালে গাই ফকস নামে এক ব্যক্তি প্রশ্ন তুলেছিল বৃটেনের পার্লামেন্ট সাধারনের পক্ষে কাজ করে কি-না। তারমতে করে না। কাজেই পার্লামেন্ট ভবন নামের ওই ভবন থাকার প্রয়োজন নেই। নভেম্বরের ৫ তারিখকে প্রতিবাদ দিবস হিসেবে তুলে ধরার জন্য বারুদ দিয়ে উড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেছিল সেই ভবন। তারপক্ষে সম্ভব হয়নি। তাকে ধরে ফাসি দেয়া হয়। ৪০০ বছর পার হলেও গাই ফক্সের কথা মানুষ একেবারে ভুলে যায়নি। সম্প্রতি পুজিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমেরিকা সহ অনেক দেশে তার মুখোশ ব্যবহার করেছে। এই বিশেষ দিনকে আরেকবার মনে করিয়ে দেয়ার জন্য এই ছবি।
ভি ফর ভ্যানডেটার নায়ক বর্তমান সময়ের (কিংবা ভবিষ্যতের) গাই ফক্স। তার সৃষ্টির পেছনে হলিউডি কিছু কাহিনি আছে। ছবির শুরুতে নায়িকা ইভি রাতের বেলা অসুস্থ চাচাকে (অফিস সুত্রে) দেখতে বের হয়েছে। তখন কারফিউ জারি করা হয়েছে পথে। সরকারের অনুসারি কয়েকজন তাকে ধরে এবং অল্পবয়সি তরুনী এভাবে ধরা পড়লে যা হয় তারই চেষ্টা চলে। সেখানে উপস্থিত হয় গাই ফকসের মুখোস পড়া এক ব্যক্তি। নায়িকাকে রক্ষা করে তাদের হাত থেকে। তারপর তাকে দেখায় তার নিজের আয়োজন। রাজপথের বসানো স্পিকারে তার প্রিয় মিউজিক বাজতে শুরু করে, তারপর সুশাসনের প্রতিক ওল্ড বেইলি নামের ভবন এক বিষ্ফোরনে রাতের আকাশ আলোকিত করে। সেটা ৫ই নভেম্বরের শুরু। মুখোসধারী এই ব্যক্তির নাম সংক্ষেপে ভি।
অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন এখানে হলিউডি ছবির বর্ননা দেয়ার অর্থ কি ? ছবি প্রচার বাড়ানো!
ছবিটি তৈরী হয়েছে ২০০৫ সালে। যদি না দেখে থাকেন কিংবা নামও না শুনে থাকেন তাহলে বলতেই হয় ছবিটি হিট ছবির তালিকায় নেই। আশ্চর্যজনক ভাবে এটাও সত্যি যে দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় যারা পুজিবাদ বিরোধী আন্দোলন করছে তাদের খবরও বিশ্বসেরা মিডিয়াতে নেই। সে কারনেই এভাবে পরিচিতি তুলে ধরা।
ছবির কাহিনি আরেকটু তুলে ধরা যাক। ওল্ড বেইলি এভাবে ধ্বংশ হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হল ওটা সরকার নিজের ইচ্ছেয় করেছে। ওখানে আরো উন্নত কিছু করা হবে। কিন্তু সেকথা বেশিক্ষন চালু রাখা গেল না কারন কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ভি তাদের টিভি ষ্টেশন বিটিএন কে বাধ্য করল তার নিজের ভিডিও প্রচার করতে। এমার্জেন্সি চ্যানেল নামে পরিচিত ব্যবস্থায়, প্রতিটি চ্যানেলে, রাস্তার পাশের বিশাল ডিসপ্লেতে।
তার বক্তব্য, সরকার প্রতি মুহুর্তে বলছে জনগনকে শান্তি, সমৃদ্ধি দেবে। বিনিময়ে সরকারকে দিতে হবে বশ্যতা। কোন কাজের সমালোচনা করবেন না, বিরোধিতা করবেন না। করলে সন্ত্রাসিরা শক্তিশালি হবে, দেশ-সমাজ ধ্বংশ করে দেবে। একমাত্র বর্তমান সরকারই পারে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে।
এর কারন যদি জানতে চান, দোষি কে জানতে চান তাহলে আয়নায় তাকানোই যথেষ্ট। জনগন ভীত। সবাই নিরব। আমি সেই নিরবতা ভাঙতে ওল্ড বেইলি ধ্বংশ করেছি। আপনারা যদি নিরব থাকতে চান থাকতে পারেন। আর যদি আমার মত অনুভুতি আপনার হয়, আমি যা দেখি সেটা যদি দেখেন তাহলে আজ থেকে একবছর পর পার্লামেন্ট ভবনের সামনে উপস্থিত থাকবেন। সবাই মিলে গাই ফকসের মত আরেকটা ৫ই নভেম্বর উপহার দেব।
ছবিটি এক ৫ নভেম্বর থেকে আরেক ৫ নভেম্বর পর্যন্ত। এই এক বছরে একদিতে তার প্রস্তুতি, নানা ধরনের ঘটনা, অন্যদিকে তাকে ধরার জন্য সরকারের চেষ্টা। সেইসাথে বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যে দিয়ে তার মতবাদ, তার ভি হয়ে ওঠা। ছবির শুরুর ঘটনার সিকিউরিটি ক্যামেরায় ধরা পরে নায়িকাও জড়িয়ে যায় এসবের সাথে।
ভ্যানডেটা শব্দে সরাসরি বাংলা করলে অর্থ দাড়ায় রক্তের বদলে রক্ত। কাজেই নাম শুনে মনে হতেই পারে হলিউডি অন্য দশটা মারামরির ছবির মতই একটা ছবি। কিন্তু আগেই যেমন বলা হয়েছে, এখানে হলিউডি ছবির রিভিউ লেখা হয়না।
একশন ছবি বলতে যা বুঝায় তার সবকিছু থাকার পরও একেবারে ভিন্ন ধরনের ছবি ভি ফর ভ্যানডেটা। এখানে রাজনীতি-সমাজ ইত্যাদি নিয়ে লেখা হয়। কাজেই ভিজিটররা এধরনের বিষয়ে আগ্রহি ধরে নিলে ভুল হওয়ার কথা না। অনেক চিন্তার খোরাক যোগাতে পারে এই ছবি।

0 comments:

 

Browse