কোন পরীক্ষায় সম্ভবত এপ্রশ্ন করা হবে না। এমনকি কোনধরনের ইন্টারভিউতেও না, যদি না সেখানে অতি রসিক বাঙালী থাকেন। অবশ্য বাঙালীর রশিকতা নিয়ে প্রশ্ন না করাই ভাল। একেবারে তুলনাহীন। একজন শীর্ষস্থানী নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে প্রশ্ন করেছেন তার স্বামী কোথায় যুদ্ধ করেছেন তিনি জানেন কিনা। ইতিহাস বইতে যতদুর লেখা ছিল (বর্তমানের কথা জানা নেই, ইতিহাস প্রতিদিনই পাল্টায়) তিনি কোন সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন, কোথায় যুদ্ধ করেছেন, বীরত্বের কারনে কি খেতাব পেয়েছেন, কখন অতিরিক্ত প্রমোশন পেয়ে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসার হয়েছে, এই খেতাব এবং প্রমোশন কে দিয়েছে। বরং ইতিহাসে লেখা নেই জনাব তোফায়েল আহমেদ কোথায় যুদ্ধ করেছেন। সেটা আগেভাগে লিখে ফেলাই ভাল।
বাংলাদেশের মানুষ বাস্তবে জানে না জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন নাকি রাজাকার ছিলেন। তিনি যুদ্ধ করেছেন নাকি পাকিস্তানের কাছে যুদ্ধের গোপন তথ্য পাচার করেছেন। সেকারনেই রাজাকার কাহাকে বলে বিষয়টি সামনে এসে দাড়ায়।
ইতিহাস বলে, ১৯৭১ সালে রাজাকার তৈরী করা হয়েছিল পুলিশের সহযোগি হিসেবে। অনেকটা কমিউনিটি পুলিশ কিংবা গ্রাম্য পুলিশের মত। এখানে-ওখানে পাহাড়া দেয়ার মত যথেষ্ট পুলিশ বা সেনাসদস্য নিয়োগ দেয়া সম্ভব ছিল না সেকারনেই প্রয়োজন হয়েছিল রাজাকার। এরসাথে আরো ছিল আলবদর, আলসামস এরাও। মুল কাজ একটাই, সরকারের বাহিনীকে সাহায্য করা। বাস্তবে যা ঘটেছিল তা হচ্ছে তারা যেহেতু এদেশের মানুষ, এদেশের মানুষজন, রাস্তাঘাট সবই তাদের চেনা তারা অনায়াসে তথ্য দিয়ে কিংবা সরাসরি অস্ত্রহাতেও সাহায্য করত। তথ্য দিয়ে সাহায্য করাই ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর। কোন ব্যক্তিকে খুজে বের করা পাকসেনাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তারা সেকাজ করত। সবচেয়ে বড় উদাহরন বিজয়ের ঠিক আগের মুহুর্তের ঘটনা। দেশের সবচেয়ে মেধাবীদের খুবে বের করে, ধরে এনে মেরে ফেলা হয়েছে। অনেকে অনেকভাবে যুদ্ধের ক্ষতি হিসেব করেন। বাস্তবতা হয়ত এটাই, তখন যাদের মেরে ফেলা হয়েছে সেই ক্ষতি জাতি ৪০ বছরেও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। কতদিনে তাদের মত মেরুদন্ড সোজা করে বুদ্ধিজীবীরা দাড়াবেন সেটাও জানা নেই।
এটা রাজাকারের এক ধরনের সংজ্ঞা। যদি আরো সরলভাবে দেখেন, কাজের হিসেবে, তাহলে রাজাকারের সংজ্ঞা দাড়ায় যে ব্যক্তি দেশের সম্পদের এবং মানুষের ক্ষতি করেন।
আরেকটা বিষয় আগেই দেখে নেয়া ভাল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্ন এসেছিল কারন এদেশের মানুষ ছিল শোষনের শিকার। কয়েক ডজন ব্যক্তি সমস্ত সম্পদের মালিক আর অন্যরা বঞ্চিত। দেশ স্বাধীন হল, বিদেশী শোষক বিদায় হল। ফল হিসেবে দেশেই তৈরী হল শোষক। কয়েক ডজনের যায়গায় কয়েক হাজার। সেইসাথে প্রশাসন, শিক্ষাব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা ইত্যাদিতে যে নিয়ম চালূ ছিল সেটাও উধাও হল। এই নব্য কোটিপতিরা স্বাধীন। তাদের স্বাধীনতায় বাধা দেয়ার কেউ নেই কারন তারাই স্বাধীনতা এনেছেন। দেশের স্বাধীনতা, জনগনের স্বাধীনতা নাকি তাদের স্বাধীনতা সে প্রশ্ন করতে পারেন। উত্তর পাবেন না। বরং আলোচনা রাজাকারেই সীমাবদ্ধ থাকা যাক।
১৯৭১ সালে রাজাকাররা বাংলাদেশের এবং মানুষের যে ক্ষতি করেছেন সেটা থামেনি। হয়ত যুদ্ধাবস্থার মত ইচ্ছে করলেই মেরে ফেলা যায় না। কিছুটা চক্ষুলজ্জা তো আছে। আবার বিদেশীরাও আছে। ওরা যখন-তখন টাকা দেয়া বন্ধ করে দেয়ার কথা বলে। এখন কাজ করতে হয় অনেক মাথা খাটিয়ে। মাথায় হাত বুলিয়ে। বাবা-সোনা, তোমরা আমার কথা শোন। টাকাপয়সা আয় কর, ট্যাক্স দাও। আমরা কোটিপতি হই, আমাদের শিষ্যরা কোটিপতি হোক, বংশধররা কোটিপতি হোক। স্বাধীন দেশে বাস করছ, স্বাধীনভাবে কথা বলছ, আর কি চাও। আর সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে কত ধরনের লীগ আছে।
স্বাধীনতার পর দেশের জনসংখ্যা বেড়ে দ্বিগুনের বেশি হয়েছে। দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ বাস করে দারীদ্রসীমার নিচে (জাতিসংঘের হিসেবে, সরকারের হিসেবে অ-নে-ক কম)। এই অবস্থায় কয়েক হাজার কোটিপতি শোষককে কি নব্য রাজাকার বলা যায় ?
তাদের কাছে দেশ এবং জনগন তো সেই আচরনই পাচ্ছে।
0 comments:
Post a Comment