যে ঘটনা ঘটে

Jan 10, 2012
কিছুদিন আগে এক ব্যক্তি ফেসবুকে জরিপের চেষ্টা করেছিল, আপনি প্রেসিডেন্ট ওবামার মৃত্যুর পক্ষে নাকি বিপক্ষে। পেজটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অবশ্য খবরটি পাওয়া গেছে একদিনই, পরদিন সেটা উধাও। ঠিক সেখান থেকে কিনা নিশ্চিত করা কঠিন, বাংলাদেশে একজন মত প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর পক্ষে। ওই ফেসবুকেই। তিনি জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আদালত স্বতপ্রনোদিত হয়ে বলেছে তারনামে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করতে।
জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয় খবর হয় অনেক কারনে। একে বলা হয় আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। অবস্থান একেবারে রাজধানী ঘেসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা ছাড়ালেই সবুজ গ্রাম। ভেতরের লেকে শীতকালে হাজার হাজার পাখি ভীড় জমায়। বিষয়টি এতটাই পরিচিতি পেয়েছে যে অনেকে সেখানে যান সেই পাখি দেখতেই।
তবে খবরে আসার কারন এসব না। যেমন একেবারে দুদিন আগের খবরের  কথাই ধরুন। একজন ছাত্র তার ছাত্রজীবনের শেষ পরীক্ষা দিয়ে বের হয়েছেন, তাকে ক্যাম্পাসের মধ্যেই সকলের সামণে কুপিয়ে যখম করা হয়েছে। শেষপর্যন্ত হাসপাতালে মৃত্যু। কাজটি করেছে সবসময় খবর তৈরী করা ছাত্রলীগ। কর্তৃপক্ষ অবশ্য বসে নেই। তিনজনকে এক বছরের জন্য বহিস্কার করেছেন।
কয়েকদিন আগে একই ঘটনা ঘটেছে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে অবশ্য জীবন যায়নি, ঠ্যাং ভেঙে দেয়া হয়েছে। সেখানেও একবছরের বহিস্কারের শাস্তি দেয়া হয়েছিল। সাধারন ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের মুখে ছাত্রত্ব থেকেই বিদায় করা হয়েছে। একই সময়ে এক শিল্পীকে ঘর্ষনের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে আরেক ছাত্রলীগ নেতা। কিন্তু অন্য যায়গার খবর থাক। বরং জাহাঙ্গিরনগরেই থাকা যাক।
একজন ছাত্রলীগ নেতা তার শততম ধর্ষন উতযাপন করেছিল মিছিল করে। এই ক্যাম্পাসেই ছাত্রলীগের কারনে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের প্রধান পদ থেকে সরে গেছেন (অন্তত সংবাদপত্র অনুযায়ী)। কাজেই খবরের অভাব নেই।
একজন ব্যক্তি সেখানে শিক্ষকতা করছেন। চোখের সামনে এসব ঘটনা দেখছেন বছরের পর বছর। এর প্রতিক্রিয়া কি সেটাও দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিনই উতসাহ দিচ্ছে ছাত্রলীগের সোনার ছেলেদের, তাদের আরো সজাগ হতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে দেশ রক্ষা করতে হবে। তারা সাফল্যের সাথে সেটা করে চলেছে। সেই শিক্ষকে হয়ত এসব দেশরক্ষা, দেশের উন্নতি পছন্দ হয়নি। তার ওপর প্রধানমন্ত্রী যেভাবে ক্ষমতায় জেকে বসেছেন তাকে তার সরে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই, নির্বাচনে ব্যবহার হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন। অনেকে রীতিমত সুত্র উল্লেখ করে জানাচ্ছেন এজন্য কত টাকায় কতজন ভারতীয় হ্যাকার ঠিক করা হয়েছে। পুলিশ-র‌্যাব থেকে আদালত পর্যন্ত সকলেই ধরে নিয়েছেন তারা সরকারের পোষ্য। সেকারনেই তিনি সম্ভবত উপায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন এর বাইরে যাওয়ার এক উপায় হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু। ঠিক কি লিখেছিলেন সেটা জানা নেই। সংবাদমাধ্যমে সেকথা আসেনি। যারা বইয়ের নীতি বিশ্বাস করেন তারা পাগলা ধরনের হন একথা তো জানাই। প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা করেছেন একথাই প্রকাশ পেয়েছে।
কাজেই এজন্য তার শাস্তি হতেই পারে। মহামান্য বিচারক নিজে থেকে বলেছেন আমরা শাস্তি দেয়ার জন্যই তো বসে আছি। মামলা করে এখানে তো আনবেন। তারপর যা করার আমরা করছি।
দিনেদুপুরে খুন করুন, ধর্ষন করুন, টেন্ডার ডাকাতি করুন, লুটপাট করুন, যায়গা-নদী-বন দখল করুন তাতে কি যায় আসে। ওসব তুচ্ছ ঘটনা। তাইবলে প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর কথা বলা। সে-তো মহাপাপ। তাহলে দেশ টিকবে কিভাবে ?
জাহাঙ্গিরনগরের ছাত্রছাত্রীরাও আন্দোলন করছে বুয়েটের মত ফল পেতে। ওদের ছাত্রত্ব পুরোপুরি বাতিল করতে হবে। প্রক্টরকে বিদায় নিতে হবে। সে সম্ভাবনা কতখানি হিসেব করা কঠিন। অন্তত ইতিহাস সায় দেয় না। বরং প্রক্টর প্রমোশন পাবেন, বিদেশ ভ্রমনের সুযোগ পাবেন সেটাই যুক্তিসংগত। সবসময় এমনটাই ঘটে।
অমন দুচারটা ঘুন-ধর্ষনের বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর কি আছে ? ধরে নিন অমন ঘটেই।

0 comments:

 

Browse