তামাসা সবাই পছন্দ করে। বাঙালী সম্ভবত একটু বেশিই। আর যদি নেতাগোছের কেউ হন, অন্যের ওপর তামাসা করা তখন অধিকারে পরিনত হয়।
এনআইডর কথাই ধরুন না কেন। শুরু হয়েছিল ছবিসহ ভোটার আইডি হিসেবে। আপনি যদি ভোটার হন, অন্যকথায় বয়স যদি ১৮ বছর হয় তাহলে নাম লেখানোর সুযোগ পাবেন। নিজের ছবিসহ একটা কার্ড পাবেন। তারসাথে যোগ করা হল, এই কার্ড দেখালে সাথেসাথে ব্যাংকএকাউন্ট, পাশপোর্ট ইত্যাদি সব কাজ হবে। বিবর্তনের ফলে সেটাই হয়ে দাড়াল এনআইডি। আপনার পরিচয় ওটাই। ১৮ বছর বয়স যখন হবে, নিজের ণাম বাপের নাম মায়ের নাম হাতের ছাপ পায়ের চাপ সবকিছু দিয়ে একটা কার্ড হাতে পাবেন তখন আপনি বাংলাদেশের নাগরিক। যদি সেটা হাতে না থাকে ব্যাংকে যাবেন না, মোবাইল ফোনে হাত দেবেন না, ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন না। এতদিন বলা হয়েছে এটা বাধ্যতামুলক না। এখন বলা হচ্ছে সেটা বাধ্যতামুলক। এর পেছনের ব্যক্তিরা নিশ্চিত হয়েছেন বস্তুটা সকলের হাতে আছে। পুরনো কথার জের টেনে বলতে হয়, বাংলাদেশে সকলের বয়স এখন ১৮ এর ওপর।
বাধ্যতামুলক না বলার পরও যার যতদুর সম্ভব তামাসা দেখিয়েছে। এবারে কি হবে বলা কঠিন। নিজের নাম-পরিচয় বদল করা অপরাধ না যতক্ষন অপরাধ না করে, এটাই মানা হয় সব সমাজে। বাংলাদেশে সবাই অপরাধী। কেউ কি বলে দেবেন কোন ব্যক্তি যদি অন্য পরিচয়ে ব্যাংক একাউন্ট করে তাতে সমস্যা কোথায় ? তিনি কি অন্যের টাকা উঠিয়ে নিচ্ছেন ?
সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অর্থ ব্যবহার! সন্ত্রাসীরা কয়েক হাজার টাকা ব্যাংকে লেনদেন করে না। দুর্নীতিবাজরাও কয়েক হাজার টাকা লেনদেন করে না। আর ব্যাংক ভাল করেই জানে কোন লেনদেন অবৈধ। বাংলাদেশ ব্যাংক মুখে খবরদারী দেখায় তারাও এককানে শুনে আরেক কান দিয়ে বের করে দেয়। ওরা না থাকলে কি ব্যাংক চলে ? মুল লাভের হিসেব তো ওখানেই।
প্রশ্ন করতে পারেন, একটা নিয়ম মানলে ক্ষতি কি ? কার্ড রাখা তো খারাপ কিছু না।
কোন ক্ষতি নেই। মার্ক টোয়েন যদি ব্যাংকে গিয়ে বলেন তার নাম মার্ক টোয়েন তাকে ধরে হাজতে নিয়ে যাবেন।
একসময় মানুষ যোগাযোগ করত চিঠি লিখে, এখন করে মোবাইল ফোনে বা ইমেইলে। সেই যোগাযোগের জন্য বংশপরিচয় কেন প্রয়োজন সেকথা নিশ্চয়ই মহাজনেরা জানেন। এটুকু নিশ্চিত করতে পারি, কেউ যদি অপব্যবহার করে তাহলে তাকে খোজার জন্য প্রযুক্তি যথেষ্ট এবং শতভাগ নির্ভুল। আগেই হরেদরে সবাইকে অপরাধী ধরে নিচ্ছেন কেন ? ব্যাংকের প্রচলন হয়েছে মানুষের কাজ সহজ করার জন্য। ঘরে টাকা না রেখে ব্যাংকে রাখলে অর্থনীতি উপকৃত হয়। সেখানে শর্ত যোগ করে তামাসা ছাড়া অন্যকিছু কি হচ্ছে, যেখানে যে কোন মুহুর্তে সমস্ত লেনদেনের তথ্য জানা যায়। সিন্দুকের চাবি তো ব্যাংকের হাতে। যে জাতি শতভাগ নিষ্কন্টক থাতে চায় সেই জাতি প্রতিমুহুর্তে শতকোটি-হাজারকোটি টাকার দুর্নীতি নিয়ে প্যাচাল পাড়ছে কেন ? সেগুলো কিভাবে হয়েছে ?
বাংলাদেশের মানুষের কৃতিত্ব নিয়ে কখনো কারো সন্দেহ নেই, কখনো ছিল না। মাঝেমধ্যে দুএকটা বিদেশী পত্রিকা দুচারকথা লেখে বটে, সেটা নিতান্তই বাঙালীর সাফল্য সহ্য করতে পারে না বলে। বাঙালীর মত কর্মঠ, নিষ্ঠাবান, সত, দেশপ্রেমিক বিশ্বে নেই। প্রমান চান নেতাদের বক্তব্য শুনুন।
মুল কথায় ফিরি। আপনি ফুটপাত থেকে সিম কিনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন তাতে কেউ বাধা দিচ্ছে না। বাংলাদেশের জন্য সেটাই বাস্তবসম্মত পদ্ধতি। সাথে এটাও মনে রাখুন, কাজটা অপরাধ এবং আপনি জাতিগত অপরাধী। যে কোন মুহুর্তে আপনাকে গ্রেপ্তার করা হবে, জরিমানা করা হবে, রিমান্ডে ঢুকানো হবে। ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করলে কোটি টাকার নিচে করবেন না। কোটিপতি একাউন্ট হোল্ডার হলে ব্যাংক আপনাকে আড়াল করে রাখবে। যদি কম টাকার বিষয় হয়, হাজার পাচেক টাকার বেতন বা বিল উঠাতে যান ব্যাংকে যাবেন না। অন্তত বয়স ১৮ না হলে এবং এনআইডি নামের বস্তু না থাকলে।
এই এনআইডি নামের বস্তুটি নিয়ে কিছু বলা প্রয়োজন। এটা কিভাবে দেয়া হয় ?
অন্য দেশের পদ্ধতি বলতে পারি। অফিসে গিয়ে ৩ মিনিটের মধ্যে কার্ড নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারেন। কোন ব্যক্তির পক্ষেই দুবার দুনামে কার্ড নেয়া সম্ভব না কারন ছবি উঠানোর সাথেসাথে সেটা যাচাই করা হয় ডাটাবেজ থেকে। আমেরিকায় হাজার দুয়েক ডাটাসেন্টার নামের অফিস আছে যা দেখলে হলিউডি সাইন্স ফিকশন মুভির কথাই মনে হয়। বাংলাদেশের কাজের পদ্ধতি যদি না জানা থাকে তাহলে না জানাই ভাল। এটা নিধিরাম সর্দারের দেশ।
বস্তুত বিষয়টি দাড়াচ্ছে, একসময় নিয়ম ছিল ব্যাংক একাউন্ট করার জন্য আরেকজন একাউন্টধারীর সাক্ষ্য প্রয়োজন। এনআইডি চালু করা হয়েছে, সাথে সেই নিয়মও চালু আছে। বাস্তবে একজন একাউন্টধারীর সাক্ষই কি যথেষ্ট না ? খুনিকেও জামিন দেয়া হয় সাক্ষী রেখে, ব্যাংক একাউন্ট করা যাবে না এটা কোন যুক্তি।
বাংলাদেশের ব্যাংকগুলি চলছে এই নিয়মেই। মোবাইল অপারেটররা মুখে বললেও তাদের মুল বিক্রি ফুটপাতে, সেটা বন্ধ হওয়ার কোন কারন নেই। যখন বলা হচ্ছে সরকারী-বেসরকারী প্রতিস্ঠানে বাধ্যতামুলক করা হবে তখন নিশ্চিত থাকুন আরো বহুজন তামাসায় যোগ দেবেন।
অবাক হবে না যদি ফুটপাতে চায়ের দোকানে গেলে দোকানদার বলেন, আগে এনআইডি দেখি। কিংবা রিক্সাচালক যদি বলেন, আগে কার্ড দেখান তারপর ওঠেন।
একসময় ক্রিতদাসদের নানারকম চিহ্ন দিয়ে রাখা হত। তারা যেখানেই যাক জানা যাবে তার পরিচয়। নিশ্চিত জেনে রাখূন ভবিষ্যতে কোনএকসময় আপনাকেও চিহ্ন নিয়ে ঘুরতে হবে। সেই চিহ্ন এমনই যে মনিব ঘরে বসেই জানবেন আপনি কখন কোথায় কি করছেন। বর্তমান প্রযুক্তিতে সেটা সম্ভব।
আপনি যদি কারো হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে চান সে পছন্দ করবে এতে সন্দেহ নেই। সেইসাথে বাংলার প্রবাদও ভুলে যাবেন না, বানরের হাতে লাঠি দিতে নেই। বানরের পরিচয় জানার জন্য উইকিলিকস দেখুন।
0 comments:
Post a Comment