শিশুদের ছড়া মুখস্ত করানোর পদ্ধতি কেন প্রচলন করা হয়েছিল সেটা হয়ত বিশেষজ্ঞরা ভাল বলতে পারবেন। হয়ত এতে স্মরনশক্তি বৃদ্ধি পায়। ছন্দে ছন্দে কোন বিষয়কে গেথে রাখা হয় মস্তিস্কে। এমনভাবে যা বাকি জীবনে মুছে যায় না। সেইসাথে মস্তিস্ককে ব্যস্ত রাখা হয় নির্দিষ্ট কাজে। মস্তিস্ক সতেজ হয়। মস্তিস্ক বিষয়টি অন্যান্য যন্ত্র থেকে আলাদা। সব যন্ত্রই ব্যবহার করলে ধার কমে, মস্তিস্ক ব্যবহার করলে আরো ধারালো হয়। যদি মস্তিস্ক অন্য যন্ত্রের নিয়মে চলত, ব্যবহার না করলে টাটকা থাকত তাহলে বলা যেত বাঙালীর মস্তিস্কের মত টাটকা আরকিছু নেই। সেটা কখনো ব্যবহার হয় না।
বাস্তবে এভাবে হিসেব করা হয় না। বরং ছড়া মুখস্ত করানোর পদ্ধতিই বেশি প্রচলিত। হিটলারের যুগে গোয়েবলস এই পদ্ধতি ব্যবহার করে রীতিমত খ্যাতিলাভ করেছেন। যদি প্রশ্ন করা হয় মানবসভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে কুখ্যাত ব্যাক্তি কে, সবচেয়ে বেশি ঘৃনা কে পেয়েছে তাহলে হিটলারের সাথে তুলনা চলে না কারো। যদি কোনভাবে প্রশ্ন করার সুযোগ পান সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় কে ছিল, কার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন দিতে প্রস্তত ছিল, তার উত্তরটা যদি না জানা থাকে তাহলে জেনে নিন, সেটাও হিটলার। তার কথাতে ঈশ্বরের কথার মতই মনে করত তার সমর্থকেরা।
কাজেই ছড়ার শক্তি কম এধরনের সন্দেহ করার কোন কারন নেই। ছড়ায় ছড়ায় যদি উন্নয়ন করা যায় তাহলে সেই উন্নয়নের সাথে তুলনা চলতে পারে না অন্যকিছুর। বিশ্বাস না হয় চারিদিকে একবার দৃষ্টি দিন (যদি ছড়ার ছন্দ এড়িয়ে সেটা সম্ভব হয়)।
বিদ্যুত মন্ত্রী বলেছেন আমরা উদ্বৃত্ত বিদ্যুত তৈরী করব (ইদানিং বাংলা ভাষার বহু শব্দ আভিধানিক হয়ে গেছে। উদ্বৃত্ত শব্দের অর্থ যদি ভুলে গিয়ে থাকেন তাহলে আরেকবার স্মরন করিয়ে দেই, যতটুকু প্রয়োজন হয় তারথেকে বেশি), কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, দুবছরের মধ্যে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হবে (আবারো স্বয়ংসম্পন্ন অর্থ মনে করিয়ে দেই, দেশের প্রয়োজনীয় সব খাদ্য দেশেই উতপাদন হবে), শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন দুবছরের মধ্যে দেশের সবাইকে শিক্ষাব্যবস্খার মধ্যে আনা হবে, যোগাযোগ মন্ত্রী বলেছেন যোগাযোগের যা উন্নতি করা হয়েছে তা ইতিহাসে আগে কখনো হয়নি, তার ভাবমুর্তি জ্বলজ্বল করছে, রেলের যা উন্নতি হয়েছে তা গত ১০০ বছরে হয়নি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন আইনশৃঙ্খলার এত ভাল পরিস্থিতি আগে কখনো ছিল না, .....
প্রতিটি মন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরলে সেটা বিশাল কাব্যে পরিনত হবে। বরং ছোট কবিতা কিংবা ছড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা যাক। প্রধানমন্ত্রী বলছেন দেশ ডিজিটাল করা হবে। ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌছে দেয়া হবে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে খাবার-শিক্ষা-চিকিতসা পৌছে যাবে সবার কাছে। এইতো কদিনের মধ্যেই থ্রিজি চালু করছে সরকার। কথা বলার সাথে সাথে ছবিও দেখা যাবে। আলাপ করার জন্য পার্কের কোনা খোজার প্রয়োজন হবে না, নিজের ঘরে বসেই ওকাজ সারবেন।
টেলিটকের ইতিহাস যদি না জানা থাকে তাহলে সেটাও একটু স্মরন করিয়ে দেই। যখন মোবাইল সীম বিক্রি করে তখন এত মানুষ ভীড় জমিয়েছিল যে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। বর্তমানে পথের ধারে মো-২ লেখা যে দোকানগুলো আছে সেখানে অন্য সকলের রিচার্জ কার্ড, ফ্লেক্সিলোড ইত্যাদি কাজ করা গেলেও অধিকাংশ যায়গা টেলিটক নামটি নেই। একযুগ আগে যখন বিটিটিবি নামে ডায়াল-আপ ইন্টারনেট চালূ করা হয় তখন অন্যান্য আইএসপিগুলো খেপে গিয়েছিল তাদের ব্যবসার পেটে লাথি মারা হচ্ছে মনে করে। তারা সরকারি খরচে কমদামে ইন্টারনেট বিক্রি করলে মিনিটে ৩ টাকা আর নেয়া যাবে না। দ্রুতই তাদের ক্ষোভ কমে গেছে কারন বিটিটিবি দেখিয়েছে মানুষ কেন মনে করে সরকারী সেবা থেকে যত দুরে থাকা যায় ততই ভাল।
নিজের ঘরের ব্যবসার সুবিধে অনেক। ওয়াইম্যাক্স, থ্রিজি সব লাইসেন্স ইচ্ছে করলেই রেখে দেয়া যায়, ব্যবসায় লাভ না ক্ষতি তাতে কিছু যায় আসে না। রাজস্ব থেকে সেটা পুরন করা যায়। অনেকটা নিজের খাবারের দোকানের মত, যত ইচ্ছে নিজের জিনিষ খাবেন, ক্রেতা আছে কিনা, বিক্রি হল কিনা তাতে কিছু যায় আসে না। ষ্টক অফুরন্ত।
সরকারী হওয়া ভাল নাকি বেসরকারী হওয়া ভাল এনিয়ে বাংলাদেশের মানুষ বিভ্রান্ত। একজনের কাছে নাক হারিয়ে আরেকজনের কাছে গেলেন, দেখলেন সেখানে কানদুটোও যায়।
পুরো চিত্রটা একবার দেখে নেয়া যাক। টেলিটক সরকারী প্রতিস্ঠান হিসেবে সবধরনের লাইসেন্সের মালিক। আগামী বছর ২৬ মার্চ থ্রিজি চালু করবে পরীক্ষামুলকভাবে। পরীক্ষা সফল হলে নিলামের মাধ্যমে অন্যদের লাইসেন্স দেয়া হবে। আপনি কি করতে পারেন ? আবারো টেলিটকের সেবার জন্য পুলিশের লাঠিপেটা খাবেন এবং তারপর সীম ড্রেনে ফেলে দেবেন। অথবা অন্যরা টাকা নিলে সেবা তো দেবেই বলে টাকা দেবেন তারপর একজন থেকে আরেকজন তারপর আরেকজন এভাবে ঘুরতে থাকবেন। সবগুলো মোবাইল অপারেটর এবং দুজন ওয়াইম্যাক্স সকলেই ফেয়ার ব্যবসা করে। ক্রমেই সেই ফেয়ার আরো ফেয়ার হয়। একসময় অন্তত জানতেন গতি যত কিলোবিট কিংবা শুধু বিট হোক অন্তত ইন্টারনেট চালু থাকবে। বর্তমানে মেগাবিট ফোরজি ব্যবহার করেও আপনি নিশ্চিত নন আপনি কানেক্ট হওয়ার সুযোগ পাবেন কিনা। বকারামকে অপেক্ষা করতে হয় যদি ভাগ্যক্রমে ইন্টারনেটে কানেক্ট হয়, যদি সাইট আপডেট করার সুযোগ পাওয়া যায় ...
ওয়াইম্যাক্স এর জন্য মাসে মাসে টাকা দিন। কাজের জন্য ব্রডব্যান্ডের কেবল লাগান। সেখানে যেহেতু লাইনের নিশ্চয়তা নেই সেহেতু ব্যাকআপ হিসেবে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করুন। একজনের সমস্যা দেখলে দুজনের, নয়ত তিনজনের। সিম পাওয়া যায় ফুটপাতেই, সমস্যা তো নেই।
টাকা দিন আর ছড়া মুখস্ত করুন। ছন্দে ছন্দে চলুন।
0 comments:
Post a Comment