তাতে আমার কি

Dec 4, 2009

২০৫০ সালে, যদি এই বিশ্ব টিকে থাকে, পৃথিবীর জনসংখ্যা হবে ৯০০ কোটি। বাংলাদেশের জনসংখ্যার সঠিক তথ্য নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেন কাজেই সর্বজনস্বিকৃত বিশ্বের বিষয়টি আলোচনায় রাখাই ভাল। এর পেছনে যারা রয়েছেন তাদের তথ্যকে চ্যালেঞ্জ করা কঠিন।

তাহলে, বিশ্বের জনসংখ্যা হচ্ছে ৯০০ কোটি। বাসস্থান, শিল্পকারখানা ইত্যাদি ইত্যাদির জন্য আবাদী যায়গা কমতেই থাকবে প্রতিবছর। এমনকি প্রতিদিন। যার অর্থ মাঠের ফসল কমে আসবে। বর্তমান ব্যবস্থায় খাদ্যসংকটে রয়েছে একশকোটির বেশি মানুষ। সেটা বেড়ে কয়েকশ কোটি হবে। বর্তমানে সারা বিশ্বে যা খাবার তৈরী হয় তখন নাকি দ্বিগুন খাবার তৈরী করতে হবে। এখনই প্রতি সেকেন্ডে নাকি ৬ জন মারা যায় খাবার স্বল্পতায়।

খবরের কাগজের একটা টাটকা খবর এখানে উল্লেখ করা যায়। বাংলাদেশে শতকরা ৪০ জন বাস করে দারিদ্রসীমার নিচে। দারিদ্রসীমার নিচে বাস করার অর্থ তারা প্রয়োজনীয় খাবার পায় না। শতকরা ৪০ জন অর্থ ১৫ কোটি জনসংখ্যার হিসেবে ৬ কোটি। জনসংখ্যা বেড়ে আরো ৫ কোটি যোগ হলে সেটা হবে ১১ কোটি।

তাতে আমার কি ?

আসলেই তো। তাতে আমার কি ? টাকা থাকলে চাল পাওয়া যাবে, মাংশ পাওয়া যাবে। সেগুলি কোথায় তৈরী হবে সে চিন্তা যাদের তারা করবে। তারা তো ব্যবসা বন্ধ করছে না। আমার চেয়ে তার গরজ বেশি। ব্যবসা না থাকলে তারা খাবে কি ?

যার সামর্থ্য আছে সে দোকান থেকে কিনবে। যার নেই তার চিন্তা তার। আমাদের নেতারা-বিশেষজ্ঞরা তো সবসময়ই বলেন খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্নতা অর্জন করা হবে। যে সামান্য ঘাটতি এখনো আছে সেটা পুরন করা হবে। ধনী দেশগুলি আমাদের ভাল চায় না, সবসময় আমাদের পিছনে লেগে থাকে, সেকারনে এতদিন সম্ভব হয়নি। ইনশাল্লাহ হয়ে যাবে।

আমাদের ইনশাল্লাহ আছে, অনেকেরই নেই। অন্তত ইউরোপের লোকজনের নেই। সেজন্যই তাদের ভিন্নপথ খুজতে হয়। তারা নাকি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জমি লিজ নিচ্ছে আগে থেকেই। সেখানে ফসল ফলাচ্ছে, মাছ ধরছে। তারপর নিজের দেশে নিয়ে যাচ্ছে। শুধু ইউরোপই বা কেন, কাতার নাকি কেনিয়ার বড় একটা অংশ লিজ নিচ্ছে। সেখানে চাষ করে নিয়ে যাবে নিজের দেশে। লোকজন পথে নেমেছে সেটা ঠেকাতে।

এই পথে নামাটাই একটা ভয়ের ব্যাপার। গতবছর চালের দাম বাড়ায় লোকজন পথে নেমেছিল। সরকার-পুলিশ-আইন কিছু মানেনি। রাস্তা জুড়ে ভাংচুর-আগুন। কোন কোন দেশে নাকি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে।

বিশেষজ্ঞ নামের উটকো লোকগুলি আবার সবসময় আগাম খারাপ খবর দেয়। তেলের দাম নাকি বাড়তেই থাকবে। এবার দুশো ডলার ছাড়িয়ে যাবে। চাষের খরচ বেড়ে যাবে। সেইসাথে আবাদ কম হওয়ায় খাবারের দামও নাকি বাড়বে। আবারও নাকি লোকজন পথে নামবে। এখন পর্যন্ত নাকি ঠেকা দিয়ে চালানো সম্ভব হয়েছে। যেখানে আছে সেখান থেকে যেখানে নেই সেখানে সাপ্লাই দেয়া হয়েছে। সবদেশেই যখন নেই অবস্থা হবে তখন নাকি এই সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাবে। শুরু হবে খাদেত্যর জন্য হাহাকার, গন্ডগোল, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকার পতন। ঠেকা দিয়েও সামলানো যাবে না।

তাতে আমার কি ?

নিজে বাচলে বাপের নাম। কিভাবে বাপের নাম টিকিয়ে রাখা যায় সেটা নিয়ে ভাবাই ভাল। নিজের জীবন বাচানো ফরজ। সময় থাকতে কিছু কামিয়ে নেই, এসব তত্ত্বকথা শুনে কাজ নেই।

নিজেকে জানো

Dec 2, 2009

কথাটা আমরা সবাই জানি। এমনকি অন্যভাষাও উগড়ে দিতে পারি। সাথে দার্শনিক ব্যাখ্যাও দিতে পারি। তবে কথা হচ্ছে, মোল্লা সবই জানেন, তারপরও যা করেন তা করা উচিত না। আমরা সবাই সেই মোল্লা। জানি নিজেকে জানতে হবে। সব রহস্য সেখানে। তারপরও পরের গন্ধ শুকে বেড়াই। কতরকমভাবে পরকে চেনা যায় সে চেষ্টায় নিজের সময়-শ্রম-অর্থ অকাতরে ব্যয় করি। যতটুকু দেখি তাতেই খুশিতে আন্দোলিত হয়ে বলি, এইতো- পেয়েছি।

আপনি বা আমি কেউই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কথা মানতে যাচ্ছি না। কর্মফল ছাড়া কর্ম করতে আমরা রাজী নই। একেবারে পাই পয়সা হিসেব করে তবেই কর্ম করতে চাই। তারপরও, কথা থেকে যায়। কতটুকু করতে পারি!

দেশে বেকারের সংখ্যা কত কেউ জানে না। ধরে নিতে পারি বেকার বলে কিছু এদেশে নেই। থাকলে সে নিয়ে কথাবার্তা শোনা যেত। সরকার যখন বলেন পাচ বছরে পাচ লক্ষ মানুষকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে তাতেই আমরা হাততালি দেই। পাচ লক্ষের মধ্যে আমার নামটা নিশ্চয়ই থাকবে। খালি সুযোগের অপেক্ষা। কত টাকা লাগবে আর কাকে ধরলে কাজ হবে তাকে পাওয়াটাই ব্যাপার। অন্যকিছু ভেবে লাভ কি।

সমাজ আমাদের শেখায়, প্রতিযোগি হতে হবে। অমুকের পাচ হাজার টাকার মোবাইল থাকলে আমার পনের হাজার টাকার থাকতে হবে। অমুকে আরমানি কিনলে আমাকে র‌্যাংগলার কিনতে হবে। অমুকে পিজাহাটে খেলে আমাকে কেফসিতে খেতে হবে।

আর শিক্ষাব্যবস্থা শেখায় কিভাবে সার্টিফিকেট পেতে হয়। কোচিং সেন্টারে যান, সাজেশন দেখে মুখস্ত করুন, পরীক্ষার খাতায় উগড়ে দিন। ইউরোপীয়ান-আমেরিকান সার্টিফিকেট পাওয়া আরো সহজ। শুধু টাকা ঢাললেই চলে। একেবারে আন্তর্জাতিক মানের ডিগ্রী।

সমস্যাটা শুরু হয় তখনই। আন্তর্জাতিক মানের যোগ্যতা নিয়ে দেশি চাকরী করা যায় না। যারা করে তারা নিতান্ত মুর্খ, বিদেশী শিক্ষা পায়নি। সেকারনে এসব ছোট কাজ করে। আমি করলে কি মান থাকে ? জানেন আমেরিকায় একজন এই যোগ্যতায় কত ডলার পায় ?

চলতে থাকে এই প্রক্রিয়া। আগেই বলেছি এদেশে বেকার বলে কিছু নেই। পচিশ ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত বাবা-মা কোন প্রশ্ন না করেই বেতন-খাতাপত্র থেকে শুরু করে চা-সিগারেট, এমনকি প্রেম করার টাকা পর্যন্ত জুটিয়ে যায়। তারপর বিদেশী চাকরী দেশে না থাকায় চাকরীর অপেক্ষায় যায় আরো বছর দশেক। তারপর-

ঠ্যালায় পড়লে বাঘেও নাকি ঘাস খায়। ঠ্যালায় পরে তারাও দার্শনিক বনে যান। তখন একটাই বক্তব্য, সব কাজেরই দাম আছে। কোন কাজকে অবহেলা করতে নেই।

খিদে পেলে বাঘকে ঘাস খেতে হয় বৈকি। না খেয়ে তো জীবনধারন করা যায় না। জীবনের মায়া বড় মায়া। এটা ত্যাগ করতে নাকি সাহস লাগে। সেটা কোথায় ?

আগের কথায় ফিরি। বাঘকে যদি ঘাস খেতেই হয় তাহলে বাঘের জানা উচিত সে আর বাঘ নেই, ছাগল হয়ে গেছে। বাঘ নিজের শক্তিতে তার খাদ্য জুটিয়ে নেয়। আর ছাগলকে ঘাস খেতে হয়।

বাধ্য হয়ে ছাগল হওয়ার আগে জেনে নিন আপনি আসলে ছাগল না বাঘ।

পরের চোখে দেখা

Dec 1, 2009

পরের চোখে দেখার সুবিধে অনেক কষ্ট করে আয়নার সামনে দাড়াতে হয় না যার অর্থ, লাইফ সাইজ আয়না কিনতে হবে না আর আয়নার ওপরই বা ভরসা কি বিজ্ঞাপনে দেখায় অমুক কোম্পানীর আয়না ব্যবহার না করলে ঠোটের লিপষ্টিক গিয়ে গালে লাগে আয়নার ওপর নির্ভর করবেন কিভাবে?

কাজেই, নির্ভরতা পরের ওপর কথায় আছে নিজের রুচি খাবেন, পরের রুচি পড়বেন গরমকালে কোটটাই পড়ে থাকতে কিছুটা কষ্ট হতেই পারে কিংবা শীতকালে শরীরের অর্ধেক বের করে রাখলেও তবে যেহেতু পোষাক অন্যকে দেখানোর জন্য, অন্যের রুচি পুরন করার জন্য, সেহেতু এটুকু কষ্ট মেনে নেয়া কর্তব্য সহজ কথায় পরের চোখে যা মানায় সেটাই পরিধান করুন

পড়া বিষয়টি আবার জামাকাপড়, সার্টপ্যান্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না বইপড়া বলেও একটা বিষয় থেকে যায়। সেখানেও পরের রুচিই ভরসা স্কুলে পাঠ্যবইতে ইরেজি প্রবন্ধ পড়িয়েছে লেখবের বক্তব্য ছিল, কাউকে কোন বই পড়তে দিলে বইটা ভাল না মন্দ এধরনের কিছু বলবেন না ভাল বললে কথাটা তার মনে গেথে যাবে বইয়ের মান যাই হোক না কেন তার মনে হবে সেটা ভাল বই ভালনা বললে তাকে বোকা মনে করা হবে। আর খারাপ বললে যত ভালই হোক তারকাছে খারাপ মনে হবে তারমানে, কাউকে বইতে দিন বইয়ের মলাট ছিড়ে যেন লেখকের নাম পাঠক না জানতে পারে

বাপরে! একশ পাতার বইয়ের দাম দেড়শ টাকা মলাট ছিড়লে সেটা শোকেসে থাকবে কিভাবে ? আর মানুষ জানবেই বা কিভাবে অমুক বিখ্যাত বই চোখের সামনে রাখা জানেন এক সপ্তাহে বইটার কয়টা এডিশন ছাপতে হয়েছে ? দুনিয়াসুদ্ধ মানুষ কিনেছে আর আপনি এখনো কেনেননি সমাজে মুখ দেখান কিভাবে ?

কাজেই, আপনার সমাজে মুখ দেখানোর ব্যবস্থা করা উচিত ড্রইংরুমে সাজিয়ে রাখা উচিত গাড়ির ড্যাসবোর্ডে সাজিয়ে রাখা উচিত যদি একেবারেই সামর্থে না কুলোয় তাহলে একজনের পরামর্শ তার অগোচরে জানিয়ে দিতে পারি কারো কাছ থেকে বইটা ধার করে এনে নীলক্ষেত থেকে প্রচ্ছদের রঙিন ফটোকপি করবেন, আর কিনবেন একই সাইজের একটা পুরনো বই ব্যস, কয়েক মিনিট সময় ব্যয় করলেই সাজিয়ে রাখার জন্য তৈরী

এসব হচ্ছে পাঠকের কথা। লেখক যদি লেখে তবেই না পড়ার বিষয়টা ভাবা যায়। কাজেই লেখককে অবহেলা করা যায় না। পরের রুচি পড়া কথাটা যেমন সত্য তেমনি পরের রুচি লেখা কথাটাকেও অবহেলা করা যায় না তাদের জন্যও কিছু পরামর্শ থাকা উচিত

পাঠক যা পড়েন লেখককে তাই লিখতে হয় উপন্যাসের যুগে কবিতা লিখে ফায়দা কোথায় ? নাটকের যুগে ডকুমেন্টারীর যা অবস্থা হয় তাই তাছাড়া আজকাল কষ্ট করে কবিতার বই কিনতে হয় না কবিতা শুনে প্রেমিকা খুশি হয় না কবিতা উপহার দেয়ার নতুন পদ্ধতি বেরিয়েছে। কষ্ট করে পড়তেও হয়না সার্টে-গেঞ্জিতে কবির ছবি আর কবিতা ছাপা আছে। গায়ে দিয়ে চলুন, যার যতবার খুশি পড়ে নিক জীবনানন্দ হোক আর রবীন্দ্রনাথ হোক, এভাবে পুরো একটা কাবতা অনায়াসে পড়ানো যায় পদ্ধতি একেবারে মন্দ না নতুন কবি অনায়াসে এই পদ্ধতিতে জনপ্রিয়তা পেতে পারেন কষ্ট করে বই না ছেপে কয়েকশ গেঞ্জি-পাঞ্জাবী ছাপলে বিক্রি এবং পরিচিতি দুইই সুনিশ্চিত দেশে যখন সাহিত্যপত্রিকা বলে কিছু নেই যেসব ছাত্র-ছাত্রীর পড়াশোনায় মনোযোগ নেই তাদের জন্যও বিষয়ভিত্তিক পোষাক বানানো যেতে পারে।

বই পড়ার অন্য পদ্ধতি নিয়েও চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে দুনিয়াসুদ্ধ মানুষ নাকি এখন আর কষ্ট করে বই পড়ে না মোবাইল ফোন, এমপিথ্রি প্লেয়ারে গল্প-কবিতা-উপন্যাস শোনে সেক্সপিয়ার, টেনিসন থেকে ওবামা সকলের বই ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। যতদুর মনে পড়ে এক বাংলা উপন্যাসের সিডিও দেখেছি প্রথমের পর দ্বিতীয়টা হয়নি দেখে ধরে নেয়া যায় ওই পদ্ধতি কাজে আসেনি তবে বিকল্প পদ্ধতিতে এটা প্রয়োগ করা যেতে পারে ইংরেজি কিংবা হিন্দী গানের মিউজিকের ওপর যেভাবে বাংলা কথা জুড়ে দেয়া হয় সেই পদ্ধতিতে সমস্যা হতে পারে একটাই, কবির নাম প্রকাশ করা দোকানে গিয়ে যেমন ক্রেতা বলে, শাহরুখ খানের এমপিথ্রি তেমনি কবিতা কিনতে গিয়ে বলতে পারে শাহরুখ খানের কবিতা

যাই বলুক না কেন প্রচার করা দিয়ে কথা। অন্তত নিজের চোখের চেয়ে পরের চোখ যখন বেশি কাজে দেয় তখন সেটা ব্যবহার করতে আপত্তি কেন ?

মোটাতাজা

Nov 29, 2009

মোটাতাজা বিষয়টি সকলের পছন্দ। যত মোটাতাজা তত দাম বেশি। সে ফলমুল-শাকসব্জি হোক, হাসমুরগি-গরুছাগল হোক আর মানুষই হোক। এমনকি নির্জীব পকেটই হোক আর ব্যাংকের খাতাই হোক। যত বেশি ঢুকাবেন তত ফুলবে। কাজেই মোটাতাজাকরন প্রযুক্তি সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি এতে সন্দেহ নেই। সবচেয়ে বড় আবিস্কার। সবচেয়ে বেশি মেধা প্রয়োজন এখানেই। সমস্যা একটাই, অন্য সব প্রযুক্তির মত এখানেও পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাতে হয়। সরাসরি ব্যবহার করা যায় না। গরু মোটাতাজাকরনের পদ্ধতি নিজের ওপর প্রয়োগ করে একজন নাকি প্রাণ হারিয়েছে। খবরের কাগজে ছাপা হয়েছে। কাজেই এখানেও গবেষনা প্রয়োজন। আশা করা যায় অচিরেই নিরাপদ মোটাতাজাকরন পদ্ধতির সন্ধান পাওয়া যাবে।
এজন্য যথেষ্ট পরিমান গবেষক নিশ্চয়ই আছেন। সারা দেশের মানুষ হাহাকার করছে ফরমালিন দেয়া খাবার নিয়ে, ওষুধ দিয়ে পাকানো ফল নিয়ে। একজন ফল বিক্রেতা রসায়ন পড়ে বলে মনে হয় না, একজন গোয়ালা কিংবা মেছুয়া কেমিষ্ট্রির মিষ্ট্রি বোঝে না। তারপরও তারা জানে কি পরিমান ফরমালিন কোথায় ব্যবহার করলে কি হবে। এর পেছনে রীতিমত মেধাবী ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন তাতে সন্দেহ নেই। ফরমালিন জিনিষটা পাওয়াও যায় পানির মতই। ওয়াসার পানির স্বল্পতা হলেও হতে পারে, ফরমালিনের স্বল্পতা নেই। যারা তৈরী করেন তাদের ব্যবসা রমরমা।
খোদ আমেরিকায় নাকি লোকজন বলাবলি করছে খাদ্যের মান নিয়ে। একটা মুরগি জীবনে কখনো আলোর মুখ দেখে না এটা নাকি অমানবিক। এত দ্রুত বড় হয় যে নিজের ওজন নিয়ে নিজের পায়ে দাড়াতে পারে না। দরীদ্র দেশের হিসেব অবশ্য আলাদা। মানুষকে নিজের পায়ে দাড় করানোর স্বার্থে যদি মুরগি নিজের পায়ে না দাড়ায় ক্ষতি নেই। আমেরিকানদের হিসেব অন্যরকম। বড়লোকের খেয়ালখুশি আরকি। তারা নাকি গবেষনা করে বের করেছে এইসব নিজের পায়ে না দাড়ানো মুরগি খেয়ে মানুষও এখন নিজের পায়ে দাড়ানোর ক্ষমতা হারাচ্ছে। বিবর্তনের শুরু থেকে মানুষের ওজন নাকি ক্রমেই বেড়ে চলেছে। আর বর্তমানে সেটা সবচেয়ে গতিপ্রাপ্ত হয়েছে। আমেরিকা হাচি দিলে নাকি সারা বিশ্বের সর্দি লাগে। এই বিষয়টাই বা সেখানে থেমে থাকবে কেন ? ছোয়াচে রোগের মত, সোয়াইন ফ্লু-বার্ড ফ্লুর চেয়েও দ্রুত ছড়িয়েছে বাকি দুনিয়ায়। এখন সকলেরই প্রয়োজন মোটাতাজা খাবার। বিশ্বে নাকি পুষ্টিহীন মানুষের চেয়ে স্থুলরোগির সংখ্যা বেশি। সমাজ যত উন্নত হচ্ছে মানুষ নাকি তত বেশি করে হাসপাতালে যাচ্ছে।
মোটাতাজা গরু খেলে নাকি লিভার-কিডনি পচবে। দেশে অর্ধেক মানুস ক্যান্সারের ঝুকিতে। কতদিনে ?

দশ বছর বিশ বছর পর।

দশ বছর বিশ বছর পর কি হবে সে ভেবে এখন ফায়দা কোথায় ? মোটাতাজা না হলে কেউ পাত্তা দেয় না সেটা জানেন না ? একনজর দেখেই সবাই জেনে যায় কারসাথে লাগা যাবে, কারসাথে যাবে না। আর ওসব খাবারের টেষ্ট কি অন্যতে পাওয়া যায় ? একেবারে ঘরে বসে আমেরিকান খাবার।

নিজের সামান্য অভিজ্ঞতার কথাই বলি। এক বৃদ্ধাকে দেখলাম দুপাশ থেকে দুজন ধরাধরি করে কেফসিতে নিয়ে যাচ্ছে।

হজের সময়। মৃত্যুর আগে এই সামান্য হজটুকু পালন করা উচিত।

পুনশ্চ : আরেকটা উদাহরন দিতে হচ্ছে। টেম্পো নামের বাহনে একটামাত্র সিট খালি। মোটাতাজা এক ভদ্রলোক এগিয়ে এলেন উঠবেন বলে। টেম্পোর হেলপার বলল, উইঠেন না। আপনার সাইজ ঠিক নাই।

পুনশ্চ ২ : একে বিপরীত উদাহরন কিংবা উপদেশ বলতে পারেন। ধাক্কাধাক্কির কারনে যদি ভিড়ের মধ্যে ঢুকতে ব্যর্থ হন তাহলে কাজে লাগাবেন। একপাশে দাড়িয়ে অপেক্ষা করবেন। যখন দেখবেন মোটাতাজা একজন ঢুকছে সাথেসাথে তার ঠিক পেছনে গিয়ে দাড়াবেন। ব্যস, পথ ক্লিয়ার।

অভাব এবং স্বভাব

Nov 25, 2009

অভাবে নাকি স্বভাব নষ্ট হয়। প্রচলিত কথা। এধরনের প্রচলিত কথার ওপর অগাধ বিশ্বাস থাকার পরও বলতে হচ্ছে, অন্তত এই কথার সাথে একমত নই। বিপরীত যুক্তিতে যদি বিচার করেন, অভাবে স্বভাব নষ্ট হলে ধনসম্পদ লাভের সাথে স্বভাব ভাল হওয়া উচিত ছিল। সেটা হয়না তার সবচেয়ে বড় প্রমান বাংলাদেশ। শতকোটি-হাজারকোটি টাকার মালিক হওয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে স্বভাব খারাপ হতে থাকে। চুরি-বাটপারির যোগ্যতা লাভ হয়েছিল অভাবের সময়, অর্থপ্রাপ্তির সাথে প্রাত্তি ঘটেছে দিনেডাকাতি-খুন করার অধিকারের। খুন শব্দটা আপত্তিকর মনে হতে পারে, কিন্তু সত্য এটাই। শতকোটির টাকার মালিক হবেন অথচ দুচারটা খুনের সাথে জড়াবেন না তা হয়না। অন্তত বাংলাদেশে। তারপরও এর প্রচারের পেছনে কারন অনেক।

প্রধান কারন, ওরা অভাবী। ওদের জন্য কিছু করা প্রয়োজন। আমি সেটাই করছি। ছাত্রজীবনে এক কম্যুনিষ্ট ভাবাদর্শী বলেছিল নিজে ভাল না থাকলে অন্যের ভাল করব কিভাবে ? ভাল থাকার জন্য দুটাকার (তখনকার দিনে) সিগারেট খেতে হয়। অন্যভাবে বললে, পরের ভাল করার জন্য সবচেয়ে দামী সিগারেট থেকে হয়। কোটিপতি হওয়ার বিষয়টিও তেমনই। কোটিপতি যদি না হবেন তাহলে অভাবীকে সাহায্য করবেন কি দিয়ে ? আগে আমাকে কোটিপতি বানান, তারপর দেখুন আমি গরীবের জন্য কতকিছু করি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যারা শতশত কোটি টাকা দিয়ে হাসপাতাল বানিয়েছেন তাদেরও দায়িত্ব গরীবদের সেবা দেয়া। শুধু টাকা কামালেই চলবে না, সপ্তাহে অন্তত একদিন বিনামুল্যে সেবা দিন। দরীদ্র দেশের জনস্বাস্থ্যের দায়িত্ব সরকারী হাসপাতালের না বেসরকারী হাসপাতালের সেপ্রশ্ন তুলবেন না, দেশের প্রসাসনিক প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কর্তব্য কি সেকথা বলবেন না। দায়িত্বপালনের চেয়ে উপদেশে এদেশে বেশি বিক্রি হয়। প্রতিদিনই বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন বিষয়ের আদেশ, নির্দেশ, গুরুত্বআরোপ, প্রয়োজনীয়তা সকলের সামনে তুলে ধরা এসব করা হচ্ছে। আপনারা কাজ করে যান।

গ্রামের একজন শিক্ষক হবেন গ্রামের তথ্যভান্ডার, সকলে পরামর্শের জন্য তারকাছে যাবে। অথচ দেখুন, মুদি দোকানী তার কাছে টাকা পাবে। সে মাথা নিচু করে চলে। একথা বলেছিলেন চেখভ, বিপ্লবের আগের রাশিয়া সম্পর্কে। একশ বছরে রাশিয়ায় কি হয়েছে সবারই জানা। বাংলাদেশ শুধু যে সেই পথে গেছে একথা বলাও যথেষ্ট না। প্রতিদিনই দ্রুতগতিতে যাচ্ছে। প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকের বেতন কয়েকবছর ধরে বকেয়া এটা পুরনো খবর। ঘুষ না দিয়ে সেটা পাওয়ার আশা নেই। আর যে শিক্ষক ঘুষ নিয়ে নিজের বেতন উঠান তিনি মাথা সোজা করবেন কিসের জোরে ? নৈতিকতা শেখাবেন কাকে ?

কাজেই অভাবে স্বভাব নষ্ট হয়। শিক্ষা দেয়ার মানসিকতা নিয়ে যার জন্ম তাকে নিরাপদ পেশা খুজতে হয়। যার সেটা জোটেনা সে নেতা ধরে স্কুলে-কলেজে চাকরী জুটিয়ে নেয়। তারপরও অন্য আয়ের পথ খুজতে হয়। জীবন ধারনের জন্য স্বভাব নষ্ট করতে হয়। কারো কারো জন্য সেটা ছাত্রধরা দালালী ব্যবসার মত।

জীবনধারনের মত কারন ছাড়াও স্বভাব নষ্ট হয়। একেবারে টাটকা উদাহরন দেয়াই উত্তম। হকার খবরের কাগজ দিয়ে গেছে দরজার তলা দিয়ে। ৯০ ভাগ ভেতরে, ১০ ভাগ বাইরে। সেটা ধরে টান দিয়ে কেউ নিয়ে গেছে। কে নিয়েছে সেটাও জানা। নিশ্চিতভাবেই ওপরতলার বাসিন্দা।

এখানে জীবনধারনের বিষয় নেই। অভাবের বিষয়ও নেই। পুরোটাই স্বভাব। একজন দুঃখ করে বলেছিলেন, কোন বাঙালী সুযোগ পেলে চুরি করবে একথা বিশ্বাস করি না। কথাটা বাতিল না করে ভেবে দেখা প্রয়োজন কতদুর দেখার পর কেউ এমন মন্তব্য করতে পারেন, নিজে সেই দলে থেকে।

আসলে অভাবের ব্যাখ্যাটাই করা হয় ভুলভাবে। যার অর্থ নেই সে অভাবী এটা ভুল ব্যাখ্যা। ভাবের অভাব হলে তাকেই অভাব বলা উচিত। অর্থপ্রাপ্তির সাথে ভাবের উন্নতি হয় না, বরং অবনতি হয়। সেকারনে বিত্তশালী হওয়ার পর নষ্ট স্বভাব আরো নষ্ট হয়। আর অর্থের অপ্রাপ্যতা থাকলে ভাবের অনুশীলণ করা সহজ। কবি বলেছেন, হে দারীদ্র তুমি মোরে করেছ মহান।

কাজেই আগের কথা ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে। অভাবে স্বভাব নষ্ট কথাটাই ঠিক। ব্যাখ্যাটা ভুল।

ভবিষ্যতবানী

Nov 23, 2009

ভবিষ্যত জানার আগ্রহ সবারই কমবেশি থাকে। রীতিমত পয়সা খরচ করে জিজ্ঞেস করতে হয়, বলুন তো বিদেশ যেতে পারব কিনা, বিয়ে কতদিনে হবে, মামলায় কি জিতব, অসুখ কি সারবে না খরচ বন্ধ করে দেব এইসব। অন্যের এধরনের ব্যক্তিগত ভবিষ্যতবানী নিয়ে মাথা না ঘামানোই ভাল। কখনো পরনিন্দা-পরচর্চ্চা করতে নেই, এটাই উপদেশ। বরং আরো বড় ভবিষ্যতবানী নিয়ে কথা বলা যায়। পকেটের টাকা যখন খরচ করতে হচ্ছে না তখন ছোট বিষয় নিয়ে মাথা ঘামিয়ে নিজেকে ছোট করে লাভ কি।

জিন ডিকসন বলেছিলেন ১৯৮০ সালে বিপর্যয় হবে। বিশ্বযুদ্ধ লাগবে কিংবা ওইজাতিয় কিছু হবে। সেসময় পার হয়ে গেছে। কাজেই তার কথা ভুল ছিল। বরং নষ্ট্রাডামুসের কথা বিবেচনায় আনা যায়। ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বর নাকি বিশ্ব ধ্বংশ হবে। তার কথা একেবারে ফেলে দেয়া যায় না কারন আগের অনেক বিষয়ের সাথেই তার কথা মিলে গেছে। অন্তত তার কথায় যারা বিশ্বাসী তারা সেটাই দাবী করেন। ফরাসী বিপ্লব থেকে ইরাক যুদ্ধ সবই নাকি তিনি বলে গেছেন। তার কথা অনুযায়ী দখলদারদের ইরাক থেকে পরাজয় মেনে ফেরত যাবার কথা। এটাও পরখ করে দেখা যেতে পারে।

সত্যিকারের চিন্তার বিষয় আসলে বিশ্ব ধ্বংশ হবার খবর। বিজ্ঞানীরাও বলছেন এর ব্যাখ্যা আছে। ওই নির্দিষ্ট তারিখে পৃথিবী এই গ্যালাক্সির ঠিক মাঝখানে পৌছুবে। তার কোন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ঘটলে ঘটতেও পারে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং, সুনামী, আমেরিকায় হ্যারিকেন এসবের বর্ননাও নাকি মিলে যায় তার কথার সাথে। আবার প্রাচীন সভ্যতাগুলিও একই সময়ের উল্লেখ করে গেছে। ভারতীয়, চীনা, মিশরীয়, মায়া, এজটেক, ইনকা সকলেই। মায়া ক্যালেন্ডার শেষ হয়ে গেছে ওই ২১ তারিখেই। তারপর আরকিছু নেই।

সবাই অবশ্য এসব ভয়ংকর ভবিষ্যতবানী করেন না। আশার বানীও শোনান। যেমন ধরুন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে ২০২০ সালে বাংলাদেশ দারিদ্র এবং ক্ষুধামুক্ত হবে। সময় ১০ বছর এগিয়ে আনা হয়েছে কারন বিশ্বখ্যাতিসম্পন্ন এই বক্তা মিলেনিয়াম গোলের সময় বলেছিলেন ২০৩০ এর কথা। কিভাবে সম্ভব ? বিবিসি প্রশ্ন করায় চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। ২০১৫ সালে যদি অর্ধেক দারিদ্র কমানো যায় তাহলে বাকী ১৫ বছরে বাকি অর্ধেক। এমন সহজ হিসেব বুঝলেন না। অর্থনীতি পড়েছেন ?

এবারের ভবিষ্যতবানী আরো চিন্তিত। প্রশ্ন করার সুযোগ নেই। ২০২০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারপর যদি দেখেন দেশে কোন দরীদ্র নেই, কারো খিদে পায় না তাহলে জানবেন ভবিষ্যতবানীর জোরেই সেটা হয়েছে। হে-হে-হে। সময়মত ওকথা না বললে কি হত!

আর যদি না হয় ?

সে-তো বক্তব্য দেয়ার সময়ই বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা ভুলে গেলেন ? সেটা নেয়া হয়নি।

 

Browse