হিসেবের বাইরে

Jan 25, 2010
তাহলে! আমরা আর উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক থাকছি না। পরিনত হচ্ছি মধ্যম আয়ের দেশের নাগরিকে। বাংলাদেশ ব্যাংক হিসেব কশে বলেছে বড়জোর চার বছর। এরমধ্যেই-
চার বছর শব্দটি হঠা করেই খুব তাপর্যপুর্ন হয়ে দাড়িয়েছে। দেশে শিক্ষিতের হার শতভাগ হয়ে যাচ্ছে এই সময়ে। মাত্র ১০ ভাগ স্কুলে যায় না। টিফিনের সময় খাবারের ব্যবস্থা করলেই ওরা এসে যাবে। সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে। কৃষকের বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তারা শুধু ট্রান্সফরমার কিনলেই হবে। তার প্রয়োজন হলে সেটাও নয় কিনে দেবে। তারপর বিদ্যুত-পানির অভাব নেই। তরতর করে মাঠের ফসল বাড়তে থাকবে। নিজেরা সব খেয়ে প্রয়োজনে রপ্তানি। আর আমাদের ধরে কে ?
চার মহাত্ম আরো আছে। চার বছরে দেশের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৫০ শতাংশ। বাকি চার বছরে আরো ৫০ শতাংশ। তাহলেই শত শতাংশ। চারে-চারে ...
স্কুলে অংকটা ঠিকমত শেখা হয়নি। তখন উন্নত স্কুল ছিল না কিনা। তখন ছিল দরিদ্র দেশ। কোনমতে সরকারী স্কুলে হাজিরা দিতে হত। এখন নাহয় এখানে ওখানে আমেরিকান-ইউরোপিয়ান সব ধরনের স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি হয়েছে। লাখ টাকা ফি দিতে মানুষ লাইন দিচ্ছে। স্কুলের সামনে শতশত গাড়ির বহর। এই না হলে উন্নতি। মানুষের সামর্থ্য বেড়েছে বলেই না খরচ করছে। আয় না থাকলে একবেলা খাবার জন্য হাজার টাকা খরচ করছে কিভাবে ? একসময় কোকাকোলা খেতে হত কাচের এত্তটুকু বোতলে। খেয়ে আবার বোতল ফেরত দিতে হত। রীতিমত ছোটলোকি কারবার। ওইটুকু খেয়ে কি প্রান ঠান্ডা হয়। এখন খাবেন লিটার কে লিটার। বোতল ফেরত দিতে হবে না। আগের মত চিকন একটা পাইপ লাগিয়ে টানতে হবে না, সোজা গলায় ঢেলে দেবেন। কোকাকোলায় যদি এনার্জি না পান তাহলে এনার্জি ড্রিংক। এসব না হলে কি পাল্লা দেয়া যায় ইউরোপ-আমেরিকার সাথে ? ওরাও টাইগার খায় কৌটায়। সমানে সমান।
একসময় অসুখ হলেও মানুষ যেত কবিরাজের কাছে। নয়ত ওই ডাক্তারের মিকচার নিতে। একটা বোতলে কি-কি দিয়ে ওষুধ বানিয়ে মাপ বোঝার জন্য একটা কাগজ লাগিয়ে দিত। একবারে এক দাগ। আর ধারেকাছে হাসপাতাল থাকলে সেখানে গেলেও চলত। উন্নত দেশে ওসব চলে না। হাসপাতাল আবার কি জিনিষ ? ওইসব জংলি চিকিসা নিয়ে মানুষ বাচে ? ওসব নিয়ে বিদেশের সাথে টেক্কা দেযা যায় ? নাকি মুখ দেখানো যায় ? ওটা হবে হসপিটাল নয়ত ক্লিনিক। দেশেই যদি বিদেশের ব্যবস্থা না থাকে তাহলে দেশটা বিদেশ হবে কিভাবে ?
মাত্র চার বছর। তারপরই দেশই বিদেশ।
সমস্যা বোধহয় একটুখানিই। একেবারে সামান্য। বহু লক্ষ মানুষ সত্যিকারের বিদেশে গিয়ে দেশে টাকা পাঠায়। সরকারও প্রতিনিয়তই বলে বছরে লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান করা হবে। নতুন নতুন দেশ খুজে সেখানে লোক পাঠানো হবে। কেউ কেউ বলে ওদের পাঠানো টাকায়ই নাকি দেশ চলে।
ওরা যদি কোনমতে জেনে যায় দেশটাই বিদেশ হয়ে যাচ্ছে, টাকার জন্য অন্য দেশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, শিক্ষা-চিকিসা কোনকিছুর জন্যই বিদেশ দরকার নেই, এমনকি খাওয়া-দাওয়া, পোষাক-চুল সবই এখানেই বিদেশী তখন কি হবে ?
তারা যদি বাইরে না যায় ? যদি টাকা না পাঠায় ?
এই হিসেব বোধহয় করা হয়নি।

0 comments:

 

Browse