সুকান্ত অল্পকথা বলেই কাজ সেরেছেন। বর্তমানের সংকট তারচেয়ে অনেক বেশি। অনেককিছুই চেনা কঠিন। যেমন ধরুন বুদ্ধিজীবী। যে শ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে সে শ্রমজীবী, যে কৃষিতে জীবিকা নির্বাহ করে সে কৃষিজীবী, যে চাকুরীর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে সে চাকুরিজীবী। সেই একই নিয়মে যে বুদ্ধিবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে সে বুদ্ধিজীবী। এতে সন্দেহ প্রকাশ করার কোন কারন নেই। সমস্যা হচ্ছে সেই বুদ্ধি পরিমাপের মাপকাঠি নিয়ে। কে বড় বুদ্ধিজীবী কে ছোট বুদ্ধিজীবী সেটা নির্ধারন করা। গজ-ফিতে-বাটখারা দিয়ে মাপার ব্যবস্থা যখন নেই।
নিতান্ত তুচ্ছ উদাহরনই দেখা যাক। একজন ভিক্ষুক দিয়ে শুরু করুন। তাকে কি জীবিকা নির্বাহের জন্য বুদ্ধি ব্যবহার করতে হয় ?
নিশ্চয়ই হয়। সে সকলের সামনে হাত পাতে না। কাউকে দেখে যাচাই করে হাত পাতলে সাফল্যে সম্ভাবনা কতটুকু। ঠিক কি বলতে হবে, কোন শব্দ প্রয়োগ করতে হবে, কতটুকু আবেগ প্রকাশ করতে হবে। এমনি কোন পোষাক পড়তে হবে, কোন ভঙ্গিতে হাটতে হবে এসব নিয়েও রীতিমত মাথা ঘামাতে হয়। বুদ্ধি খরচ করতে হয়। এরই জোরে তার জীবিকা। তাকে বুদ্ধিজীবী বলতে আপত্তি কেন ?
কিংবা ধরুন রিক্সাচালক। কেউ যখন জিজ্ঞেস করে অমুক যায়গায় যাবে কি-না, সাথেসাথে তার খুলির মধ্যে থাকা তার মস্তিস্ক কম্পিউটারের চেয়ে দ্রুত কাজ করতে শুরু করে। একে দেখে কি মনে হচ্ছে। দামাদামি করবে না যা চাওয়া যায় তাই কি দেবে? পোষাক-স্বাস্থ্য-চেহারা-আচরন কি বলে। যাওয়া কতটা জরুরী। জরুরী খরচ কি দেবে ? নাকি পরীক্ষা নিতে হবে ? আচ্ছা দেখা যাক চল্লিশ টাকা চাইলে কি কয়-
কিংবা ধরুন রাজপথের ছিনতাইকারী। তাকেও বুদ্ধি খরচ করতে হয়। লোক বাছাই করতে হয়। অত্যন্ত কঠিন কাজ। কারো দামী পোষাক-আষাক পকেট সদরঘাট, কারো মলিন পোষাক পকেটে লাখ টাকা। কারো রেসলারের মত স্বাস্থ্য কিন্তু থামালে প্যান্ট-সার্ট পর্যন্ত খুলে দেয়, কারো শরীরের হাড় দেখা যায় কিন্তু থামালে দৌড় দিয়ে প্রান বাচাতে হয়। এতসব বিবেচনা করেই তো ক্লায়েন্ট ধরতে হয়।
কিংবা মলম পার্টি। রীতিমত গবেষনা করে মলমের ব্যবস্থা করতে হয়। তারপর রীতিমত মনস্তাত্তিক পরীক্ষা দিয়ে মক্কেল ভাও করা। তবেইনা ইনকাম। মক্কেল প্রতি চারশ টাকা কি এমনি দেয়। যার বুদ্ধি বেশি সে আরো বেশি পায়।
মুল কথাটা আসলে সেখানেই। যার বুদ্ধি যত বেশি তার কামাই তত বেশি। যে যেত বুদ্ধি খাটাতে পারে সে তত উচুতে থাকে। তত প্রভাব, তত প্রতিপত্তি।
বুদ্ধিজীবী বাছাইয়ের কাজ আসলে সহজই। যার টাকা যত বেশি, প্রভাব যত বেশি, পরিচিতি যত বেশি, ক্ষমতা যত বেশি সে জীবিকার পেছনে তত বেশি বুদ্ধি ব্যয় করে। কাজেই সে তত বড় বুদ্ধিজীবী।
0 comments:
Post a Comment