হাউজ অব লর্ডস

Jan 11, 2010
একসময় তিনি ল্যান্ডলর্ড ছিলেন। ল্যান্ড যখন হাতছাড়া হল তখন লর্ডটাকে নামের সাথেই রেখে দিয়েছিলেন লর্ড ভানু বন্দোপাধ্যায়। তিনি যদি ল্যান্ড ছাড়াই লর্ডগীরি ধরে রাখতে পারেন তাহলে যাদের ল্যান্ড আছে তারাই বা পিছিয়ে থাকবেন কেন ?
পিছিয়ে নেই। বরং একেবারে সামনেই রয়েছেন বর্তমানের ল্যান্ডলর্ড। একসময় সরকার বাড়ি তৈরীর জন্য সহজ সর্তে লোন দিত। ছয তলার লোন নিয়ে তৈরী হত নিজের থাকার মত একতলা বাড়ি। অথচ কাগজে কলমে দেখাতে হত তিনি ছয়তলাই বানিয়েছেন। ফল, একতলার ওপর কুতুব মিনারের মত ছয়তলা সমান স্থাপত্য। বাকি পাচতলার টাকা চলে যেত অন্য ব্যবসায়।
এঘটনা ঘটত দশক দুই-তিন আগে। এখন দাবার ছক উল্টে গেছে। এখন লোন নেবেন ব্যবসার নামে, শিল্পের নামে। যদি আইটি খাতে পরিচিতি দেখাতে পারেন তাহলে তো কথাই নেই। কুতুব মিনারের মত কিছু একটা দেখিয়ে দেবেন। আর টাকা ঢালবেন মাটি ভরাট করতে, বাড়ি তৈরী করতে। পত্রিকায় গর্বিত বিজ্ঞাপন, দশ বছরে দাম দশগুন।
দশ বছরে দাম দশগুন বাড়াতে যোগ্যতা লাগে। সবার এই যোগ্যতা থাকে না। সরকার কোন দলের, কোন ধরনের তাতে কিছু যায় আসে না, সবাই বৈঠকে তাদের ডাকে। মন্ত্রী তাকেই বলেন ওমুক কাজ যারা করে তাদের বের করে দিন। নিজেই নিজেকে কিভাবে বের করে দেয়া যায় সেপ্রশ্ন করবেন না।
কাজেই, দশবছরে দশগুন হবে এই নিয়মে যায়গা কিনুন। ফুরানোর আগেই কিনুন। বাড়ি তৈরী করুন। নয়ত তৈরী বাড়ি কিনুন। বুকিং দিলেই গাড়ি ফ্রি, টিভি ফ্রি, বিছানা ফ্রি। ঢাকা শহরের কেন্দ্র থেকে মাত্র দশ মিনিটের পথ।
আবারও পুরনো কথা। গুলিস্তান থেকে ফার্মগেট যেতে সময় লাগে দুঘন্টা। দশমিনিটের পথ আসলে কি সেপ্রশ্ন করবেন না।
কথা হচ্ছে, বাড়ির মালিক হতে হবে। ল্যান্ডলর্ড হতে হবে। তারপর আজীবন লর্ডগীরি চালিয়ে যাবেন। মাসেমাসে ভাড়া বাড়াবেন। গ্যাসবিল, বিদ্যুত বিল, পানি বিল, সুয়ারেজ বিল কত দিতে হবে সেটা নিজেই ঠিক করবেন। কতটুকু পানি ব্যবহার করবে সেটা সুইচ টিপে বলে দেবেন। কোনরকম অমত থাকলে একের বদলে আরেকজন। যার সামর্থ্য আছে। শুধু আপনি নন আপনার ভবিষ্যত প্রজন্মও নিশ্চিন্ত। কোনকিছু করা প্রয়োজন নেই। নিশ্চিত আয়ের নিশ্চিত সুযোগ। প্রয়োজন একটাই, লর্ডগীরি লাভ।
আর অন্য পক্ষ!
বিশ্বাস করুন আর নাই করুন এতকিছু সমস্যার মধ্যেও ভাড়াটিয়াদের একজোট হয়ে রাজপথে মিছিল করতে হয়। বক্তব্য, বাড়িভাড়ার নিয়ম চালু করা। বিদ্যুত বিল-পানি বিলের নিয়ম চালু করা। অগ্রীম ভাড়ার বিষয়ে নিয়ম চালু করা। লর্ডের সাথে চুক্তির নিয়ম চালু করা। এগুলি দেখার জন্য কাউকে দায়িত্ব দেয়া।
সমস্যা হচ্ছে, এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় কোথায়। নিয়মকানুন তৈরী কাজ করতে জনগনের ম্যান্ডেট নিয়ে যে ৩০০ জন সংসদে যান তাদের এত সময় কোথায়। তারা বড় মানুষ বড় সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত। এসব তুচ্ছ বিষয় নিয়ে নষ্ট করার সময় তাদের নেই। ইংলন্ডে বলে হাউজ অব লর্ডস, শব্দটি বাংলা হলে এখানেও চালু করা যেত। আর এত কাজের মানুষই বা কোথায় ? সরকারকে কত সীমিত সম্পদ নিয়ে কাজ করতে হয়! পাই পয়সা হিসেব করে খরচ করতে হয়।
আর দায়িত্ব দেবেন কাকে ? সেতো কাউকে তার নিজেকেই বের করে দেয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি। তারাতো কেউ ভাড়াটিয়া নন। সকলেই লর্ড।
কাজেই, হয় নিজে লর্ডে পরিনত হন। লর্ডগীরি দেখান। নয়ত লর্ডগীরি মেনে নেয়ার প্রস্তুতি নিন। দল বেধে পথে মিছিল করা হয়ত একদিন করতে পারেন, দ্বিতীয় দিন এদের দেখা পাবেন না। এই মিছিলের খবরও লর্ড তো দুরের কথা
এদেশে খারাপ কাজে জোট বাধার মানুষের অভাব নেই। অন্যায়ের প্রতিবাদে শতরকম আপত্তি। সমাধান যদি খুজতেই হয় কোন পথে কতটুকু সমাধান সম্ভব যাচাই করে নিন।

0 comments:

 

Browse