বিশ্বাসঘাতক এবং দেশপ্রেমিক

Apr 21, 2013


লেখক হিসেবে টমাস পেইনকে চেনেন এমন মানুষের সংখ্যা নিশ্চয়ই খুব বেশি না। যদিও আজ থেকে দুশ বছর আগে তার লেখা বই লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছে। তখনকার জনসংখ্যা, প্রকাশনা এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করলে অনেকের মতে সেই রেকর্ড আজও অক্ষুন্ন। কোন একক ব্রিটিশ লেখক সারা বিশ্বে এতটা আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারেননি। এরপরও তার নাম অপরিচিত। কারন জনপ্রিয় হলেও তিনি ছিলেন বিশ্বাসঘাতক। ১৯৬৪ সালে যখন তার ব্রোঞ্জের মুর্তি তৈরী করে বসানোর উদ্দ্যোগ নেয়া হল তখন শহরের মেয়র বললেন অনুমতি দেয়া হবে তবে সেখানে লেখা থাকতে হবে তিনি বিশ্বাসঘাতক। কথার অন্যথা হয়নি। যায়গাটির বর্তমান পরিচয় কনভিক্টেড ট্রেটর এভিনিউ নামে।
একজন ব্যক্তি একইসাথে নন্দিত এবং নিন্দিত হলেন কিভাবে কৌতুহল থাকা স্বাভাবিক। ইংরেজ এই লেখক নিজের দেশে কোন কাজেই সুবিধে করতে পারেননি। কপর্দকশুন্য অবস্থায় আমেরিকা গেছেন। আমেরিকা তখন জর্জ ওয়াশিংটনের নেতুত্বে বৃটিশ উপনিবেশ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য যুদ্ধ করছে। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী পেইন সরাসরি জর্জ ওয়াশিংটনের পক্ষ নিলেন। এটাই তার বিশ্বাসঘাতকতার শুরু।

সাদা এবং কালো

Apr 16, 2013


যখন টেলিভিশন প্রথম চালু হয় তখন সেখানে রং দেখা যেত না। এধরনের টিভির ব্যবহার এখনো আছে। প্রচলিত নাম সাদা-কালো টিভি। অনেক ফটোগ্রাফকেও বলা হয় সাদাকালো ছবি। কিন্তু বুদ্ধিমান ব্যক্তিমাত্রই জানেন সেখানে সাদা এবং কালো এই দুটি রং নেই। এই দুইয়ের মাঝখানে যে বহু রং আছে সেগুলি সাদাও না কালোও না। সেকারনে ইংরেজিতে বলা হয় গ্রেস্কেল। কোথাও হালকা ধুসর, কোথাও গাঢ়। সেগুলিই মুল সাদা-কালোকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
আমরা সবকিছু সাদাকালোতেই দেখতে পছন্দ করি। হয় সাদা নয় কালো। হয় এই পক্ষে নয় ওই পক্ষে। মাঝামাঝি কিছু চাই না। সাদা এবং কালো ছাড়া অন্যকিছু থাকতে পারে না। আমি সাদা অন্যরা কালো।
সাদাকালোর উদাহরনের অভাব নেই। জর্জ ওয়াকার বুশ বলেছিলেন আপনি আমাদের পক্ষে নয়ত টেররিষ্ট। অন্যকিছু হতে পারেন না। বর্তমান বাংলাদেশে এর প্রকাশ আরো প্রকট হবে এটাই স্বাভাবিক। আপনি হয় দেশপ্রেমিক নয় মৌলবাদি। একইসাথে দুটি হতে পারেন না। এর মাঝামাঝি কিছু হতে পারেন না।

চার্লি চ্যাপলিন এবং বাংলাদেশ

Apr 11, 2013


চার্লি চ্যাপলিন একটি ছবি তৈরী করেছিলেন সোলজার-আর্মস (সোল্ডার-আর্মস) নামে  অভিনয় করেছেন একজন সৈনিকের চরিত্রে তিনজন শত্রসৈন্যকে আটক করে নিয়ে এলেন তাকে জিজ্ঞেস করা হল একা কিভাবে তিনজনকে আটক করলেন তার উত্তর, ওদেরতে ঘেরাও করে ফেললাম ...
তার একার পক্ষে তিনজনকে ঘেরাও করা সম্ভব গ্রেট ডিকটেটর বলতে তিনি শুধু হিটলারকে বোঝেননি, নিজেকেও বুঝিয়েছেন ইংল্যান্ডে তিনি ছিলেন সেরা কমেডিয়ান, আমেরিকায় এসে তাকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিলেন তিনি যেখানে যেতেন সেখানে ভিড় জমে যেত তার বেতন ছিল সপ্তাহে ১৩ হাজার ডলার একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট তারচেয়ে বেশি বেতন পেতেন

হাত থাকতে মুখে কি

Mar 12, 2013


নজিরবিহীন ঘটনা সচরাচরন ঘটে না। যেমন ধরুন গতকালের ঘটনা। আশরাফুল প্রথমে ১৯০ রান করে রেকর্ড গড়লেন, এরপর মুশফিকুর সেই রেকর্ড ভেঙে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ২০০ রান করলেন, এরপর একই ইনিংসে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে নাসির শতরান করলেন। একেবারেই নজিরবিহীন ঘটনা। সন্ধের পরও যখন মানুষ হুমড়ি খেয়ে টিভির সামনে ভিড় করেছিল তখন অনেকে ভাবল হয়ত বাংলাদেশ শ্রীলংকাকে নজিরবিহীনভাবে হারিয়েই দিল।
কিন্তু না। দিনের খেলা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। টিভিতে দেখানো হচ্ছে পুলিশের বিএনপি অফিসে অভিযানের লাইভ কাভারেজ। কয়েক ঘন্টা ধরে পুলিশি অভিযানের লাইভ কমেন্টারি নিশ্চয়ই নজিরবিহীন। মানুষ দেখল কিভাবে বিরোধীদলের অফিসের তালা ভেঙ্গে ঢুকতে হয়। পুলিশের বক্তব্যকেও নজিরবিহীন বলা যেত যদি না আগেই বেনজির কিংবা কোহিনুরের দৃষ্টান্ত না থাকত।

মস্তিস্ক কোথায়

Feb 26, 2013


ক্যারিবিয়ান জলদস্যু ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারোর বক্তব্য, মস্তিস্ক যখন ব্যবহার হচ্ছে না তখন ওটা না থাকলে ক্ষতি কি?
মস্তিস্ক ব্যবহার নিয়ে অনেক জটিল বিতর্ক হতে পারে। জটিলতা থেকে যতটা দুরে থাকা যায় তত ভাল। কে যেন বলেছিল বাঙালীর মস্তিস্ক সবচেয়ে টাটকা কারন ওটা কখনো ব্যবহার করা হয় না। ব্যবহার করবেন না-কি ব্যবহার না করে টাটকা রাখবেন সেটা আপনার বিষয়। কিংবা সংবাদমাধ্যমে যাদের সর্বক্ষন উপস্থিতি তাদের বিষয়। সমস্যা হচ্ছে তাদের কাজের কিছু উপসর্গ সকলের ওপর এসে হাজির হয়। সমস্যা তৈরী হয় তখনই।
গত কয়েকদিনে যে মানুষগুলো জীবন দিয়েছে তাদের হয়ত এভাবে মৃত্যু প্রয়োজন ছিল না। যে পক্ষ যত কথাই বলুন না কেন, নিহতদের বড় অংশ কোন পক্ষের না। অন্তত যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে তেমন যুদ্ধাপরাধী কিংবা জামাতের কর্মী না এটা নিশ্চিত।
গনজাগরন এর ফল কি এখনো নিশ্চিত করা কঠিন। একবার বিজয় অর্জন হয়েছে উল্লেখ করে ঘরে ফেরার ঘোষনা দেয়া হয়েছে। শুরুতে একদাবী ছিল যুদ্ধাপরাধীর ফাসি, বর্তমানে একদাবী জামাত-শিবির এর রাজনীতি নিষিদ্ধ। সাথে তাদের পক্ষে যে সংবাদমাধ্যম কথা বলেছে সেগুলি বন্ধ করা, তাদের জেলে ঢোকানো।
গনজাগরনের অন্তত একটা সাফল্য দৃশ্যমান। জনগন দুভাগে ভাগ হয়েছে। একপক্ষের বক্তব্য ধর্মের ওপর যে আঘাত করা হয়েছে তার বিচার করতে হবে। আরো একবার মনে করিয়ে দেয়া যেতে পারে, এরা যুদ্ধাপরাধী বা জামাত-শিবির কর্মী বা সমর্থক না। অনেকে তাদের চরমভাবে ঘৃনা করেন।

যেদিকে পাল সেদিকে হাল

Feb 16, 2013

বাংলা ভাষায় প্রবাদ অনেক। ঝোপ বুঝে কোপ মারা থেকে শুরু করে ঝড় ফুরালে আম পড়ে না, সবগুলির অর্থ মোটামুটি একই। সুযোগ বুঝে সুবিধে আদায় করতে হয়। এত প্রবাদ দেখে মনে হতে পারে এর পেছনে বড় ধরনের কারন রয়েছে। যুগ যুগ ধরে মানুষ এতে অভ্যস্থ। সেটা হলে বিষয়টা অনেক ব্যপ্তিলাভ করে। জাতির বৈশিষ্ট নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বরং বর্তমানের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন বিষয় শাহবাগের গনজাগরন নিয়ে থাকা যাক। বাংলাদেশে গনজাগরন নতুন বিষয় না। স্বৈরাচার বিদায় করাও ছিল গনজাগরন। যদিও সেই স্বৈরাচার এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের বীর সেনানীরা এখন একই কাতারে। তারপরও সাধারন মানুষ গনতন্ত্রের মুক্তি দেখেছে। তা নিয়ে উচ্ছাস দেখিয়েছে।
বর্তমান গনজাগরনের মুল শ্লোগান যুদ্ধাপরাধীর ফাসি। এটা মৌলিক দাবী। কয়েকশ মানুষের মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী ব্যক্তির শাস্তি বাংলাদেশের আইনে মৃত্যুদন্ড। বাংলাদেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে গৌরবের বিষয় যুদ্ধ করে জয় করা স্বাধীনতা। কাজেই লক্ষ মানুষ এককন্ঠ হয়েছে।
এরসাথেই শুরু হয়েছে পালে হাওয়া লাগার বিষয়টি।
 

Browse