চার্লি চ্যাপলিন এবং বাংলাদেশ

Apr 11, 2013


চার্লি চ্যাপলিন একটি ছবি তৈরী করেছিলেন সোলজার-আর্মস (সোল্ডার-আর্মস) নামে  অভিনয় করেছেন একজন সৈনিকের চরিত্রে তিনজন শত্রসৈন্যকে আটক করে নিয়ে এলেন তাকে জিজ্ঞেস করা হল একা কিভাবে তিনজনকে আটক করলেন তার উত্তর, ওদেরতে ঘেরাও করে ফেললাম ...
তার একার পক্ষে তিনজনকে ঘেরাও করা সম্ভব গ্রেট ডিকটেটর বলতে তিনি শুধু হিটলারকে বোঝেননি, নিজেকেও বুঝিয়েছেন ইংল্যান্ডে তিনি ছিলেন সেরা কমেডিয়ান, আমেরিকায় এসে তাকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিলেন তিনি যেখানে যেতেন সেখানে ভিড় জমে যেত তার বেতন ছিল সপ্তাহে ১৩ হাজার ডলার একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট তারচেয়ে বেশি বেতন পেতেন

এক ছবিতে তিনি আমেরিকান ইমিগ্রেশন অফিসারের পাছায় লাথিমারা দেখালেন তার সহকর্মী (এবং ভাই) সাবধান করে বললেন, তুমি আমেরিকান না একথা ভুলে যেও না আমেরিকার সরকার এটা ভাল চোখে দেখবে না
তিনি নিজের মত প্রকাশে অবিচল থাকলেন একসময় ফলও ভোগ করলেন এফবিআই তার নামে দেড় হাজার পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন তৈরী করল এক মহিলার সাথে অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে মামলা সাজানো হল শেষ মুহুর্তে দেখা গেল সেই মহিলা তার বিবাহিত স্ত্রী
তিনি ইংল্যান্ড রওনা হয়েছিলেন তার ছবির স্যুটিং করার জন্য পথে টেলিগ্রাম করে জানিয়ে দেয়া হল তাকে আর আমেরিকায় ঢুকতে দেয়া হবে না তিনি হিটলারের অনুসারী এবং কুখ্যাত কম্যুনিষ্ট
বাংলাদেশের হিসেব অন্যরকম মাত্র দুমাস আগেও হেফাজতে ইসলাম নামটি সকলের অপরিচিত ছিল তারা যখন লংমার্চের ঘোষনা দিল তখনও কেউ পাত্তা দেয়নি সব ধরনের পরিবহন বন্ধ করেও তাদের আটকানো গেল না, পায়ে হেটে কয়েক লক্ষ মানুষ সমাবেশ করল অনেকে বলছেন তারা জীবনে এতবড় সমাবেশ দেখেননি
তারমানে ১৪ দল, ১৮ দল কিংবা ৮৪ দল তাদের সমস্ত অর্থ-শক্তি-সামর্থ ব্যয় করেও এত মানুষ একসাথে করতে পারেনি!
থামুন ওই যে কে যেন বলছেন, আমরা লংমার্চ প্রতিহত করেছি চার্লি চ্যাপলিন নাকি! একাই তিনজনকে ঘেরাও করার সামর্থ্য আর কার আছে ?
শাহবাগে যখন গনজাগরন মঞ্চ তৈরী হল তখন সারা দেশের মানুষ আশা নিয়ে তাকিয়েছিল তাদের দিকে এই বুঝি সব সমস্যার দাবী তুলে ধরা হচ্ছে সেখানে এবার সমাধান না হয়েই যায় না
কিন্তু তারা পুরোপুরি চার্লি চ্যাপলিন হননি ইমিগ্রেশন অফিসারের পাছায় লাথি মারলে দেশ ছাড়তে হয় সেকথা তাদের ভালভাবেই মনে আছে কি দরকার বাবা ওসব কথা তুলে যুদ্ধাপরাধীতে পরিনত হওয়ার তারচেয়ে বরং শেয়ার বাজারের টাকা, পদ্মা সেতুর টাকা, ব্যাংকের টাকা এসব থেকে যদি দুদিন ফাও খাওয়া যায় মন্দ কি সর্বক্ষন মিডিয়ায় চেহারা দেখানোর এমন সুযোগ কি বারবার পাওয়া যায় কাজেই, হে দেশপ্রেমিক জনগন, তোমরা আমাদের সাথে যোগ দাও দেশপ্রেমিক হও যদি শশরীরে আসতে না পারো অমুক মোবাইল অপারেটরের সিম ব্যবহার করে দেশপ্রেমিক হও
দেশ যারা চালান তারা হঠাত করেই জাগরনের মঞ্চের কল্যানে সব সমস্যার সমাধান পেয়ে গেলেন সারা দেশের মানুষ যুদ্ধপরাধীদের ফাসি চায় আর যুদ্ধপরাধী মানেই জামাত আর জামাত মানেই বিএনপি এক জালে সবাই আটকা এখন নাস্তিকতার কথা তুলে নিজের পায়ে কুড়োল মারে কে!
সমস্যা একটাই ওই নাম না শোনা হেফাজতে ইসলাম দেখিয়ে দিল তাদের সমর্থন কতটা আর সুযোগমত এমন কিছু শর্ত জুড়ে দিল যা মানতে হলে দেশের পরিচিতি পাল্টে ফেলতে হয় সরকার বলছেন তত্তাবধায়ক সরকারের কথা বলে কাজ হবে না মুখ খুললেই জেলে ঢোকাব ওসব হরতার-টরতালে কিছু যায় আসে না দেশ স্বাভাবিক গতিতে চলছে তবে হেফাজতে ইসলামের সাথে আলোচনা করতে রাজী আছি
কেউ কেউ বলছেন এতকিছুর কোনই প্রয়োজন ছিল না যখন কিছু ব্লগারের নামে অভিযোগ উঠল তখন লোকদেখানো হলেও প্রতিবাদ করা যেত অন্তত দেশের সাধারন মানুষ জানত এনিয়ে তাদের মাথা না ঘামালেও চলবে হেফাজতে ইসলামের সাথে গলা মেলানোর প্রয়োজন নেই
কিন্তু মব সাইকোলজি বলে কথা সরকার ইচ্ছে করলেই যখন বিরোধী দলের সব নেতাকে জেলে রাখতে পারে তখন সেটা না করে তাদের সাথে আলোচনা করতে যাবে কোন দুঃখে বাড়াবাড়ি করলে বিরোধী দলকে খেসারত দিতে হবে।
চার্লি চ্যাপলিন পুরোপুরি ঢাকা আসেননি বড়জোর তার তৈরী চরিত্রের কিছু ছায়া ফেলেছেন বাংলাদেশে বিশ্ব নিয়ে খেলা না করলেও দেশ নিয়ে যে খেলা করা যায় সেটা দেখার ব্যবস্থা করেছেন

0 comments:

 

Browse