যেদিকে পাল সেদিকে হাল

Feb 16, 2013

বাংলা ভাষায় প্রবাদ অনেক। ঝোপ বুঝে কোপ মারা থেকে শুরু করে ঝড় ফুরালে আম পড়ে না, সবগুলির অর্থ মোটামুটি একই। সুযোগ বুঝে সুবিধে আদায় করতে হয়। এত প্রবাদ দেখে মনে হতে পারে এর পেছনে বড় ধরনের কারন রয়েছে। যুগ যুগ ধরে মানুষ এতে অভ্যস্থ। সেটা হলে বিষয়টা অনেক ব্যপ্তিলাভ করে। জাতির বৈশিষ্ট নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বরং বর্তমানের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন বিষয় শাহবাগের গনজাগরন নিয়ে থাকা যাক। বাংলাদেশে গনজাগরন নতুন বিষয় না। স্বৈরাচার বিদায় করাও ছিল গনজাগরন। যদিও সেই স্বৈরাচার এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের বীর সেনানীরা এখন একই কাতারে। তারপরও সাধারন মানুষ গনতন্ত্রের মুক্তি দেখেছে। তা নিয়ে উচ্ছাস দেখিয়েছে।
বর্তমান গনজাগরনের মুল শ্লোগান যুদ্ধাপরাধীর ফাসি। এটা মৌলিক দাবী। কয়েকশ মানুষের মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী ব্যক্তির শাস্তি বাংলাদেশের আইনে মৃত্যুদন্ড। বাংলাদেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে গৌরবের বিষয় যুদ্ধ করে জয় করা স্বাধীনতা। কাজেই লক্ষ মানুষ এককন্ঠ হয়েছে।
এরসাথেই শুরু হয়েছে পালে হাওয়া লাগার বিষয়টি।

সরকারের জন্য বিষয়টি সুবিধেজনক। রাজাকারের সাধে জামাতের নাম জড়িত। তারসাথে জোট থাকার কারনে বিএনপি জড়িত। তাদেরকে শায়েস্তা করতে পারলে ক্ষমতা চিরস্থায়ী। কাজেই প্রধানমন্ত্রীরও মন পড়ে থাকে শাহবাগে। প্রথম আলোয় খবরের সাথে শতশত মন্তব্য যোগ হয়, শিবির ধর, জবাই কর। পুলিশ ফাকা গুলি করে অপচয় করছে কেন। জামাত-শিবির দেখামাত্র গুলি করার আইন করা হোক।
যদিও একজন আন্দোলনকারীর মাথায় পেছন থেকে আঘাত করে হাসপাতালে পাঠানোর খবর প্রথম আলোয় যায়গা পায়নি। হাওয়ার বিপরীতে কে যায়!
ভিন্নমত দমন করার জন্য মেরে ফেলার উদাহরন পৃধিথবীর মানুষ জানে। গুলি করা কিংবা জবাই করার মত কষ্ট আইখম্যান করতে চাননি। এককোটি মানুষ মানুষ জন্য এককোটি গুলি খরচ করে কে ?
পুলিশের ফাকা গুলি করে অর্থের অপচয়ের সাথে মিল কি পাওয়া যাচ্ছে ?
কোটি মানুষ মেরেও হিটলার ইহুদি দমন করতে পারেননি। এরচেয়ে বড় উদাহরন ইতিহাসে নেই। কাউকে মেরে দমন করা যায় না। সরকার বলতে পারেন তারা জামাত-বিএনপির কবর দেবেন, সেক্সপিয়ার বলেছেন খারাপ মানুষ ছিল, আছে, থাকবে। ওথেলো তার শত্রুকে প্রানে মারেননি।
পৃধিবীর মানুষের সামনে অন্যকে খুন করার এই প্রতিজ্ঞা তুলে ধরা দেশের কোন পরিচয় তুলে ধরে সে প্রশ্ন আসতেই পারে। খবরের কাগজে কিংবা স্যাটেলোইট টিভিতে জবাই করার কথা বলা হয় তখন প্রশ্ন হতেই পারে, ফাসির দাবি আর জবাইয়ের দাবী কি এক ? সংবাদমাধ্যমগুলি বিষয়টি এড়িয়ে গেল কিভাবে ? একবারের জন্যও কেউ প্রশ্ন তুললেন না কেন ? জামাত-শিবিরকে যারা খুন করবেন তারা তাদের থেকে উন্নত ঠিক কি কারনে ? এদের হাতেই তো বিশ্বজিত খুন হয়েছে।
সম্ভবত প্রথম আলো কিছুটা সচেতন হয়েছে। একজন ব্লগারের খুনের খবরের সাথে এধনের কোন মন্তব্য ছাপা হয়নি। কেউ লেখেননি ধরে নিতে পারছি না, নিশ্তিভাবেই সেগুলি বাদ দেয়া হয়েছে।
গনজাগরন বিষয়ে প্রথম আলোর ঠিক বিপরীত অবস্থান নিয়েছে বিএনপির পত্রিকা আমার দেশ। স্বাভাবিকভাবেই সেখানকার মন্তব্যগুলি অধিকাংশই বিপরীতমুখি। এই খুনের খবরের সাথে সেখানে যোগ হয়েছে অসংখ্য মন্তব্য। সেগুলি রীতিমত ভয়াবহ। নাস্তিকের এমন শাস্তিই হওয়া উচিত, মুল বক্তব্য এটাই।
নাস্তিককে খুন করতে হবে এমন কথা ধর্মের কোথায় আছে হয়ত তারা জানেন। এই খুন অনেককে মনে করিয়ে দিচ্ছে ৭১ এর কথা। তখন মানুষ খুন করে ধর্মের কথা বলা হত।
গনজাগরনের হাওয়া এখন কোনদিকে যাবে বলা কঠিন। পালে হাওয়া লেগেছে মনে করে যদি পাল্টাপাল্টি খুন শুরু হয় তাহলেও হয়ত অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
এখনও সময় আছে সেটা এড়ানোর। পালের হাওয়াকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার না করার। আগুন আপন-পর চেনে না। নগর পুড়লে দেবালয় রক্ষা পায় না।

0 comments:

 

Browse