এমন এক শয়তান, নাকে
বসে ধরে কান। শয়তান বলুন আর যাকিছু মনে আসে বলে গালাগালি করুন,
চশমা ছাড়া চলার কথা ভাববেন না। এখন যদি নাও হয়, বয়স
বাড়লে তাকে কান ধরার সুযোগ দিতেই হবে। আর যদি ভাগ্য ভাল
থাকে তাহলে আগেই শুরু করতে পারেন।
সহজ কথা চশমার সুবিধে
অনেক। সারা দুনিয়া লাল দেখতে চান, লাল কাচের চশমা লাগান। সবুজ দেখতে চান সবুজ কাচ লাগান। সাথেসাথে কেল্লা ফতে। সামনের সবকিছু পাল্টে গেছে।
যদি কাচ না পান তাহলে
প্লাষ্টিক কিংবা কাগজ ব্যবহার করেও একই ফল পাওয়া যায়।
একবার ভেবে দেখেছেন
কি এই চশমার কৃতিত্ব কতটা। ট্রাফিক সিগনালের
লাল-সবুজ বাতির কথাই ধরুন না কেন ? পছন্দমত রঙের চশমা লাগান, সবসময়ই লাল অথবা সবুজ
দেখবেন। সবসময় আপনার জন্য রাস্তা ক্লিয়ার অথবা সবসময়ই বন্ধ।
কেউ কেউ বলেন আওয়ামী
এবং জাতিয়তাবাদী চশমা। নাম যাই হোক, কাজ একই। সবকিছু লাল অথবা সবকিছু সবুজ।
টিনের চশমা থেকে কি
একই ফল পেতে পারেন ?
সম্ভবত না। এর ফল ভিন্ন। বুদ্ধিমান কলু কোন একসময় আবিস্কার করেছিল টিনের চশমার
মহাত্ব। গরুর চোখে টিনের চশমা লাগিয়ে দিলে কেল্লা ফতে। গরু টেরও পায় না কলু লাঠি হাতে দাড়িয়ে আছে নাকি ঘুমাচ্ছে। সে অনবরত ঘানি টানতে থাকে।
এরপর টিনের চশমার
ব্যাপক প্রচলন শুরু হয়েছে। যেমন ধরুন ব্যবসার
ক্ষেত্রে। আপনি দোকান থেকে একটা প্যান্ট কিনে বাড়ি গিয়ে দেখলেন
সেটা কোমড়ে ১ ইঞ্চি ছোট (কেনার সময় তাদের ম্যাজিক ফিতা দিয়ে মেপেই কিনেছেন)। সেটা বদল করে আনতে আবার দোকানে গেলেন। দেখলেন তিনি টিনের চশমা পড়েছেন, ওই জিনিষ আমি জীবনেও বেচি নাই। আপনারে জীবনেও
দেহি নাই। আমার বাপদাদাও আপনারে কোনদিন দেহে নাই।
আপনি হয়ত ওজর-আপত্তি
করে বলার চেষ্টা করলেন, ওই যে এই জিনিষ আরো আছে, বদল করে দেন। এটা আরেকজনের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। দরকার হয় কিছু টাকা নেন।
তার উত্তর, ওইডা এক
নম্বর মাল। আপনেরডা দুই নম্বর। দেখতে একরকম হইলে কি হইছে। ২০ বছর ধইরা ব্যবসা
করতাছি, আসল-নকল চিনি। দরকার হয় আরেকটা কিন্যা নেন।
এটাই টিনের চশমার
কৃতিত্ব। অর্থমন্ত্রী যখন বলেন তিনি শেয়ার বাজারে কোন সমস্যা
দেখেন না, দেশের অর্থনীতিতে কোন সমস্যা দেখেন না তখন অনেকেই বলেন তিনি টিনের চশমা দিয়ে
দেখার চেষ্টা করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একথা বলা হয় নিয়মিতই। বিরোধীদলের অবরোধের সময় রাস্তায় একজন যুবককে পিটিয়ে মেরেছে ছাত্রলীগের
কর্মী। পত্রিকায় ছবি-পরিচয় ছাপা হয়েছে। তিনি বলছেন ওরা ছাত্রলীগের না। আটজনকে
গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে তারা কাউকে গ্রেপ্তার করেনি. শনাক্ত করে ৬ জনকে। দুটিকে
একসাথে করলে দাড়ায়, ছাত্রলীগের না হলে ওরা নিশ্চয়ই বিএনপি-জামাত বা শিবির। টিনের
চশমার কেরামতি।
বাংলাদেশে ঘটনা-দুর্ঘটনা
ঘটে (কোনটা ঘটনা আর কোনটা দুর্ঘটনা যদি পৃথক করতে পারেন)। কারখানায় আগুনে পুড়ে শতাধিক শ্রমিক নিহত হওয়াকে ঘটনাও বলতে পারেন, দুর্ঘটনাও
বলতে পারেন। ব্যাখ্যা দুধরনের কেন হচ্ছে জানতে হলে সেই টিনের চশমার
মহাত্ব জানতে হয়।
প্রধানমন্ত্রী এজন্য
শোকদিবস পালন করেছেন, দোষীদের আইনের আওতায় আনবেন বলে ঘোষনা দিয়েছেন। দোষীদের চেনাও গেছে। তারা পুলিশের ওপর
হামলা করছে, গাড়িতে আগুন দিচ্ছে। সিসিটিভিতে দেখা গেছে
একজন ম্যাচ দিয়ে আগুন ধরাচ্ছে। মাত্র ২০ হাজার টাকায়
তাকে দিয়ে এটা করানো হয়েছে। টিনের চশমায় এগুলো
দেখা যায়।
যা দেখা যায়না সেটাও
কল্পনা করতে পারেন। কেউ যদি আগুন ধরায় তাহলে আগুনে বিল্ডিং পুরতে পারে। গেটে তালা লাগানোর ব্যবস্থাও কি তারাই করেছিল ? কিংবা যে আগুনে মানুষ পুড়ে
কয়লা হল সেখানে ম্যাচের কাঠি পাওয়া গেল কিভাবে ? কিংবা যে বিল্ডিং ৩ তলা হওয়ার কথা
সেটা ৯ তলা হয়ে এত শ্রমিক নিয়ে চালু থাকল কিভাবে ?
এটাও টিনের চশমার
কেরামতি।
একই সময়ে ঘটনা আরেকটাও
ঘটেছে। ওভারব্রিজ ভেঙে মানুষ মারা গেছে। কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উত্তরে প্রশ্ন করেছেন, ওটার ওপর কি জামাত-শিবির
লাফালাফি করেছিল ? নইলে ষড়যন্ত্রে ওটা ভাঙল কিভাবে ?
টিনের চশমায় দেখা
যায়নি ওটা তৈরীর কন্ট্রাক্ট কে পেয়েছিল, কিভাবে পেয়েছিল। তারা কি বানিয়েছে সেটাও দেখা হয়েছিল টিনের চশমায়।
সবাই অবশ্য টিনের
চশমা ব্যবহার করেন না। অনেকে সাধারন চশমা দিয়েই দেখেন। যেমন দেখেছেন যোগাযোগমন্ত্রী। তিনি বলেছেন ওধরনের
অনিরাপদ সেতু নির্মান করা হবে না। ওতে জনগনের জীবনের
ঝুকি থাকে।
অনায়াসে একে আগামী
সিদ্ধান্তে ব্যবহার করতে পারেন। জনগনের জানমালে নিরাপত্তার
কারনে পদ্মা সেতু তৈরী করা হবে না। বাপরে! চিটাগাংএ ভেঙে
রাস্তায় পড়েছে বলে রক্ষা, পদ্মায় ভাঙলে তো একেবারে পানিতে। জনগনের সরকার কি এমন বিপদ তৈরী করতে পারে!
বিশ্বব্যাংকের কারনে
সেতু হচ্ছে না- একদম বাজে কথা। সকলে ফোপড়দালালী করছে।
টিনের চশমা
জিন্দাবাদ।
0 comments:
Post a Comment