মামার শালার
পিসের ভাই দুর সম্পর্কের আত্মিয় নাকি কাছের এককথায় উত্তর দেয়া হয়তো কঠিন।
বাংলাদেশে বংশলতিকার প্রচলন নেই। যদিও দুটি রাজবংশ বিদ্যমান। অন্তত এই দুটি রাজবংশ
যে বংশপরম্পরায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে থাকবেন এটা নিশ্চিত।
বংশ পরম্পরার
বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রেই প্রসারলাভ করছে। বর্তমান সরকার আইন করেছেন যারা যুদ্ধ করে
দেশ স্বাধীন করেছেন তাদের কিছু পাওয়া উচিত। শুধু তারা নন, তাদের সন্তান, তস্য
সন্তান অর্থাত নাতি-নাতনিকেও কিছু দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তারা শিক্ষাপ্রতিস্ঠানে
ভর্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন, চাকরী পাওয়ার সময় অগ্রাধিকার পাবেন, চাকরীর মেয়াদে
অগ্রাধিকার পাবেন। ১৯৮৮ সালে মুক্তিযোদ্ধার যে সংখ্যা ছিল ২০১২ সালে সেটা বেড়ে ৩
গুন হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো বাড়বে এতেও সন্দেহ করার কারন নেই।
বংশপরিচয়ের
ব্যবহার আসলে আরো ব্যাপক। রাজপথে একজন যুবককে কুপিয়ে-পিটিয়ে খুন করা হয়েছে।
সংবাদপত্রের ছবি, টিভিতে ভিডিওতে সারা বিশ্ব দেখেছে কারা খুন করেছে। খুন করার কয়েক
মিনিট আগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে প্রথম সারিতে অংশ নিয়েছে খুনিরা, সে
ছবিও ছাপা হয়েছে। অথচ সরকার বলছেন তারা আমার বংশের না। শুধু সরকারই, সরকারের
নিয়ন্ত্রনে যাকিছু যন্ত্র রয়েছে সবাই প্রতিস্ঠা করতে ব্যস্ত তারা বিরোধীদলের সাথে
যুক্ত কি-না। অমুকের নানা কুখ্যাত রাজাকার
ছিল, তমুকের মামার শালার পিসের ভাই বিএনপি সমর্থন করত। কাজেই এজন্য বিরোধীদল দায়ী।
মির্জা ফখরুলকে জেলে ঢোকানো হয়েছে, প্রয়োজনে খালেদা জিয়াকেও ঢোকানো হবে।
প্রসংগ যখন জেল
তখন সেখানেও দুকথা বলার থাকে। জেলে অসীম যায়গা নেই যে যতখুশি মানুষ ঢোকানো যায়।
আমার দেশ এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান দেশদ্রোহিতা করেছেন ইকনোমিষ্ট এর খবর বাংলায়
ছেপে। যে কোন মুহুর্তে জেলে ঢুকবেন। যায়গা খালি করতে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ছেড়ে
দেয়া হয়েছে গোপনে। এজন্য সাধারন যে নিয়ম থাকে সেটাও নাকি মানা হয়নি। তিনি আধাডজন
খুনের মামলায় জামিনে মুক্ত কিন্তু মুক্ত হওয়ার পর কোথায় গেছেন পুলিশ জানে না। তিনি
মুক্তি পেয়েছেন সেকথাও পুলিশ জানে না।
যাকগে সেসব। বর্তমানের
আলোচিত নাটক নিয়ে কথা বলা যাক। কেউ কেউ বলছেন খুনিরা বিএনপির
মামার-শালার-পিসের-ভাই হলেও হতে পারে, আপন ভাই তো ছাত্রলীগের। কিংবা আওয়ামী লিগের।
তারচেয়েও বড় কথা, তারা কোন লীগের কি কোন দলের তাতেই বা কি আসে যায়। যে খুন করে তার
পরিচয় সে খুনী। খুনের দায়ে তার বিচার হবে এটাই প্রত্যাসা।
কেউ কেউ আক্রোস
দেখিয়ে বলছেন, ওদের আবার বিচারের দরকার কি। ছবিতে দেখা গেছে ওরা কারা, চেনা গেছে।
ধরে ফাসিতে লটকে দিলেই তো হয়। কিংবা ক্রশফায়ারে। ক্রশফায়ার কি বন্ধ হয়ে গেছে?
তাহলে একটা
প্রশ্ন করতে হয়। পুতুলের কি মামার-শালার-পিসের-ভাই থাকে? কিংবা অন্য কোন ধরনের আত্মিয়তা?
পুতুলের সম্পর্কতো যে পুতুল নাচায় তারসাথে।
যদি ভেবে থাকেন
এই পুতুলগুলোকে মৃত্যুদন্ড দিলে এধরনের অপরাধ বন্ধ হবে তাহলে ভুল করছেন না-তো! এক
পুতুলের বদলে আরেক পুতুল যে কোন সময় হাজির হবে। এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে।
মামার-শালার-পিসের-ভাই
এর চেয়ে এই সম্পর্ক অনেক গভীর।
0 comments:
Post a Comment