পদার্থবিদ্যার নীতি

Oct 18, 2012

জগতের সমস্ত পদার্থ (এবং অপদার্থ) পদার্থবিদ্যার নীতি মেনে চলে বিষয়টা এমন না যে আগে সবাই নীতিগুলি জেনেছে তারপর সেগুলির ব্যবহার শুরু হয়েছে এটা রাজনীতিবিদদের তত্ত্ব তারা আগে নীতি তৈরী করবেন এবং ধরে নেবেন তারপর কোন এককালে সেগুলি কেউ মানবে (নিজে বাদ দিয়ে) না মানলে বাধ্য করা হবে জগতের ক্ষেত্রে বরং এগুলি চালু আছে বহু বছর ধরেই কত বছর সেপ্রশ্ন অর্থহীন মানুষের আয়ু ১০০ বছর হলে তাকে র্দীর্ঘ বলা হয় (একমাত্র সাংগ্রিলা ছাড়া) তারকাছে হাজার কিংবা লক্ষ কিংবা কোটি এসব সংখ্যার কোন অর্থ হয় না সেকারনে অনেকে এসব সংখ্যা উল্লেখ করার সময় যতটা বেশি বলা যায় ততটাই বলেন। (উদাহরন, প্রথম আলো মংগল গ্রহের নদীর অস্তিত্ব সম্পর্কে রিপোর্ট করার সময় বলেছে হাজার হাজার কোটি বছর আগে সেখানে কলকল করে নদি বয়ে যেত। স্বয়ং হকিং এর মতে বিগ ব্যাং এর ঘটনা ১৫০০ কোটি বছর আগের, সৌরজগতের জন্ম ৬০০ কোটি বছর আগে। হাজার হাজার কোটি বছর আগে নদী থাকলেও থাকতে পারে, মংগল গ্রহ ছিল না।)

আইনষ্টাইন-নিউটন-আর্কিমিডিস এরা বলছেন সেই সৃষ্টির শুরু থেকে যাকিছু ঘটছে তার সবকিছুই পদার্থবিদ্যার নিয়মে এর ব্যতিক্রম হয়না, হওয়া সম্ভব না অন্যরাও তাদের কথায় সায় দিচ্ছেন অন্তত বুক ফুলিয়ে সরাসরি প্রতিবাদ করার সাহস আজ পর্যন্ত কেউ দেখান নি।
পদার্থবিদ্যা নিয়ে যারা কথা বলেন তাদের মধ্যে একদলকে বলা হয় থিওরিটিক্যাল ফিজিসিষ্ট। তত্ত্বকথা বলাই তাদের কাজ। এর ফল কি হবে ভাবেন না মোটেই। শেয়ার বাজারের কথাই ধরুন না কেন। হকিং একবার গেছেন জাপানে বক্তৃতা দিতে। সরকার আগেভাগে তাকে জানিয়ে দিলেন ওইসব পৃথিবী ধ্বংশ বিষয়ক কিছু বলবেন না। শেয়ার বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে।
তাতো বটেই। তারা দেশ চালান, শেয়ার বাজার চালান। পৃথিবী ধ্বংশ হবে একথা শোনার পর শেয়ার কিনবে কে ? সবাই তো বেচার জন্য পাগল হয়ে উঠবে। ৫০০ কোটি বছর পর সুর্যের বিষ্ফোরনের সময়ই হোক আর আগের রিপোর্টের মত হাজার হাজার কোটি বছর পরই হোক, পৃথিবীই যদি ধ্বংশ হয় তাহলে শেয়ার কোন কাজে আসবে!
এধরনের থিওরিটিক্যাল ফিজিসিষ্ট আইনষ্টাইন আবার বলে গেছেন সবকিছু আপেক্ষিক। এমনকি সময় পর্যন্ত।
একে ফর্মুলায় ফেলে অবশ্য অনেক উপকার পাওয়া যায়। ছিনতাইকারী বেতনের সব টাকা নিয়ে গেছে। ধরে নিন বিষয়টা আপেক্ষিক। জিবনটাতো আছে। সেটাও যেতে পারত। আপেক্ষিক সুখের কথা। কিংবা ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়ে গেছে, শেয়ার বাজারে মত লক্ষ কোটিও নিতে পারত। কিংবা পদ্মা সেতু হচ্ছে না তাতে কি, নদীটাতো আছে। সময়টাও আপেক্ষিক। দৈর্য্য ধরুন একসময় নদী থাকবে না। দিব্বি হেটে পারাপার হবেন। কিংবা সরকার যেমন প্রতিনিয়তই বলেন আগের যে কোন সময়ের চেয়ে ভাল অবস্থা। আইনশৃখলা আগের যে কোন সময়ের চেয়ে ভাল, বিদ্যুতের অবস্থা আগের যে কোন সময়ের চেয়ে ভাল, জিনিষপত্রের দাম আগের যে কোন সময়ের চেয়ে ভাল, যানজট আগের যে কোন সময়ের চেয়ে ভাল। আপেক্ষিতার নিয়ম এখানেও প্রয়োগ করুন। এখনও পকেটে টাকা নিয়ে ব্যাগে জিনিষ আনেন, একসময় ব্যাগে টাকা নিয়ে পকেটে জিনিষ আনবেন। তারচেয়ে তো ভাল আছেন।
আপেক্ষিকতার নীতির সবচেয়ে বড় উদাহরন নিশ্চয়ই বাংলাদেশের রাজনীতি। ক্ষমতায় থাকলে এক, বিরোধী দলে থাকলে ঠিক বিপরীত। একবার, দুবার, বহুবার। বিজ্ঞানের নিয়মে প্রতিবার একই ফল। আপেক্ষিকতার এমন বাস্তব প্রয়োগের জন্য নোবেল পুরস্কারের দাবিদার হতে পারে একমাত্র বাংলাদেশই।
অনেকে বলেন, এইতো সামনেই পরিবর্তণ আসছে। এবার কিছুএকটা না হয়ে যায় না।
তারা ভুলে যান, সবই চলে পদার্থবিদ্যার নিয়মে। আগে কারন পরে কাজ। পরিবর্তন যদি হতেই হয় তাহলে সেই নীতিতে হওয়ার কথা।
সরকার পরিবর্তন যদি কাজ হয় তাহলে জনগন পরিবর্তনের কারন। সেটা ঠিক না করে পদার্থবিদ্যাকে ভুল প্রমান করে পরিবর্তণ আশা করবেন, সেটা হয় না।

0 comments:

 

Browse