একজন বাসযাত্রী
কন্ডাক্টরের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়লেন। কন্ডাক্টর কথায় একেবারে মিতব্যায়ী। মুখে কিছু
না বলে পাশের লেখার দিকে আঙুল দেখালেন। সেখানে লেখা, কোন অভিযোগ থাকিলে চালককে
বলুন।
যাত্রী
নাছোরবান্দা। ড্রাইভারের কাছে নালিস জানাতে গেলেন। তিনি পাশের আরেক লেখার দিকে
আঙুল দেখালেন, চলন্ত অবস্থায় চালকের সাথে কথা বলিবেন না।
বাস্তবতা তুলে
ধরা এমন সার্থক কৌতুক খুব বেশি নেই। একে কৌতুক না বলে উপমা বললেই ভাল মানায়।
বিশ্বাস না হয় একবার চারিদিকে দেখুন।
সরকার, প্রশাসন,
বিচারব্যবস্থা, পুলিশ, ব্যবসায়ী সবাই নিখুতভাবে দায়িত্বপালন করছে। যদি তাদের
একজনকে জিজ্ঞেস করেন। ব্যবসায়ীর উদাহরন দেয়া তুলনামুলক নিরাপদ। জিনিষের দাম বেশি,
দোষ কার ?
খুচরা বিক্রেতা
বলেণ পাইকারী বিক্রেতার, পাইকারী বিক্রেতা বলেন আমদানীকারকেন, আমদানীকারন বলেন
খুচরা ব্যবসায়ীর। সরকার বলেন আমরা ঠিকঠাক তদারকি করছি। আপনি যার কাছেই যান না কেন,
ফল একই। নিজের পকেটের টাকা বেশি গুনতে হবে।
ইন্টারনেটে বহু
টাকা আয় করা যায়, বিশেষজ্ঞরা বলছেন। এমনকি এর মাধ্যমে দেশ ২২ নম্বর ধনী দেশে পরিনত
হবে, বলেছেন মহাজোটের একজন নেতা।
একথা বিশ্বাস
করেই একজন ছাত্র রাত জেগে টাকা আয়ের চেষ্টা করেছে। সেটা করেছেনও। টাকা জমা হয়েছে
অনলাইন ব্যাংক একাউন্টে (সেটা বিনাখরচেই ব্যবহার করা যায়) বিপত্তি হয়েছে তারপর।
টাকা উঠাতে হলে
স্থানীয় ব্যাংকে আনতে হয়। সেখানে একাউন্ট নেই। কেন নেই ? কারন তার বয়স ১৮ হয়নি,
ভোটার তালিকায় নাম নেই, সেকারনে ভোটার আইডি কার্ড নেই। ওটা ছাড়া ব্যাংক একাউন্ট
করা যায় না।
তাতে কি ? যে
ভোটার না সে আবার মানুষ না-কি ? ইলেকশনে একটা ভোট দেয়ার সামর্থ্য পর্যন্ত নেই।
তাকে নিয়ে মাথা ঘামায় কে ?
ইন্টারনেটে টাকা
আয় কাজটা কঠিন। সবাই তারমত যোগ্যতা দেখাতে পারে না। সেতুলনায় মোবাইল ফোন ব্যবহার
করা সহজ। সবাই পারে। সেখানেও ব্যাপার একই,
সিম কিনলেই
সাথেসাথে চালূ হবে না। ৩০ দিন সময় লাগবে তার ঠিকানা যাচাই করতে। যাচাই করা হবে
কোথায় ? নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজে। সেখানে নাম যায় কিভাবে ? ভোটার হলে। যাচাই করা
যায় কিভাবে ?
ও, সেব্যবস্থা এখনও
চালু হয়নি। ডাটাবেজ তারা নিজেরাই ব্যবহার করে। সার্ভার রাখার জন্য কয়েকটা বাড়ি
কিনেছে বাজারদরের চেয়ে কয়েকগুন বেশি দামে।
বিষয়টা যাই হোক
না কেন, চক্র একটাই। বয়স ১৮ না হলে ভোটার হবেন না, ভোটার না হলে কার্ড পাবেন না
(ভোটার হলেও পাবেন সে নিশ্চয়তা অবশ্য নেই। মিলিটারীর দায়িত্বে কাজ হচ্ছে, প্রশ্ন
করে কোন বাপের ব্যাটা।) কার্ড না পেলে মোবাইল ব্যবহার করবেন না।
বাঙালী অবশ্য
কার্ডের বিষয়ে খুব আগ্রহি। রঙির ছবি সহ একটা কার্ড বলে কথা। বিনা পয়সায় আলকাতরা
যখন নেয়। যদি বলা হয় গলায় একটা করে যন্ত্র লাগানো হবে, কে কখন কোথায় কি করে, কি
বলে সব রেকর্ড হবে, তাতেও গলা বাড়িয়ে দেবে এতে সন্দেহ নেই। এরপর কি হবে তাতে কিছু
যায় আসে না। সবাই সরকারের বাধ্য হয়ে চলবেন। বিপক্ষে একটা কথা বললেই পুলিশ এসে
ক্যাক করে ধরবে।
প্রশ্ন উঠতে পারে,
মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে কার্ড দরকার হবে এই আইন তো আগেই ঘোষনা করা হয়েছে। তারপরও
দেদারসে ফুটপাতে সিম বিক্রি হচ্ছে। এখন হঠাত কি ঘটন যে সিম কিনলেও চালু করা যাবে
না। ইদানিং মোবাইল বিষয়ক ঘটনা তো একটাই ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী তার ফোন নাম্বার দিয়ে
বলছেন তার পরিবারের কেউ দুর্নীতি করলে তাকে জানাতে। তিনি দেখে নেবেন কার কতবড়
আশ্পর্দা তাদের সম্পর্কে দুর্নীতির কথা বলে। নিজেই গর্ব করে বলেছেন ফোন করার সুযোগ
পেয়ে দেশের সবাই কত খুশি।
নাকি অন্যকিছু
ঘটেছে ? অন্তত প্রথম আলোতে প্রধানমন্ত্রী বিষয়ক খবরে যেসব মন্তব্য দেখা যায় তাতে
দেশের সবাই প্রধানমন্ত্রীর সবকাজে সন্তুষ্ট বলে তো মনে হয় না। তাদের কেউ কি এমন
কিছু বলেছেন যার ঠিকানা প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজন। এতই যখন সাহস কখন সামনে এসে ....
সে যাকগে। দেশ
রক্ষা করতে হলে কিছু নিয়ম মানতে হয়। ষড়যন্ত্রকারীদের দমন করতে হয়। সেজন্যই ওই আইন।
শেষরক্ষা একটাই,
মোবিইল অপারেটররা ব্যবসা করে। তারা ব্যবসা করছে, করবে। জরিমানা দেয়, সাথে ভিওআইপি
ব্যবসাও চালিয়ে যায়। এই বিষয়টাও চালিয়ে যাবে এতে সন্দেহ নেই।
নইলে সরকারের হাতে
টাকা আসবে কোত্থেকে ?
0 comments:
Post a Comment