আবার সেই পুরনো
খবর। ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কটুক্তি করা হয়েছে। ফলে দেশদ্রোহিতার মামলায়
পড়েছেন একজন ছাত্র। বেচারা জানেন না পাগলকে পাগল বলতে নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
হুকার দিয়েছেন অন্য কেউ এমনকিছু করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। আদালতও
খুশিমনে মামলা বিবেচনা করছে। খুনের মামলা নেয়া হয়না তাতে কি, এমন বড় অপরাধ কি পাশ
কাটিয়ে যাওয়া যায়! দেশপ্রেম বলে তো কথা আছে।
মামলা করেছেন
শিক্ষাপ্রতিস্ঠানের দেশপ্রেমিক রেজিষ্ট্রার। তিনি স্বতপ্রনোদিত হয়ে ফেসবুক তদারকির
দায়িত্ব নিয়েছেন। পুরস্কার অবশ্যই পাবেন।
কে কোনফাকে বেফাস কথা বলে দেশের সর্বনাশ করে ফেলে। দেশপ্রেমিকের দায়িত্ব
দেশকে রক্ষা করা।
কি মন্তব্য করা
হয়েছে জানার উপায় নেই। খবরের সাথে সেটা প্রকাশ করলে যদি সাংবাদিকের নামেও একই
মামলা রুজু হয়। পথে ব্যানার টাঙানো হয়েছে, রাজপথ বন্ধ করে সাংবাদিকদের নৈরাজ্য
সৃষ্টি করা চলবে না। এদের নির্মুল করুন। দুজন সাংবাদিক খুন হয়েছেন, রাজপথে-আদালত
এলাকায় প্রতিদিন উত্তম-মধ্যম খাচ্ছেন তাতে কি। সব দেশের স্বার্থে। সরকারের যাকিছু
সাফল্য সেগুলি তুলে ধরে দেশের জন্য কাজ করুন। পুলিশ কি করেছে, কি করছে সেদিকে
দৃষ্টি দেবেন না। পুলিশ থেকে দুরে থাকুন।
পৃথিবীর
উল্টোদিকের দেশ হলেও আমেরিকাকে উপেক্ষা করার সাহস কারো নেই। এইতো পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ঘুরে দেলেন। নিশ্চয়ই বলে গেছেন, চালিয়ে যাও, আমরা আছি তোমার সাথে। একটাই কথা,
আমেরিকার বিরুদ্ধে কথা বলা চলবে না। কথা বলার আগে সবাই যেন ভেবে নেয় কি বলছে।
প্রতিক্রিয়াটাও চমতকার। মুখ খুললেই মামলা। ওসব জামিন-টামিন হবে না। বাইরে গিয়ে
আবার নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে।
সমস্যা হচ্ছে
দেশের খবর যেমন দেশে থেমে থাকে না তেমনি আমেরিকার খবর শুধুমাত্র আমেরিকায় থাকে না।
এমনকি সেই ইন্টারনেটের কল্যানেই তাদের ভিডিও বাংলাদেশে দেখা যায়। এমনই এক ভিডিও
ডকুমেন্টারী তৈরী করেছেন একজন। তার বক্তব্য বারাক ওবামা মিথ্যেবাদী, সংবিধান
লংঘনকারী। কেন সেটাও ব্যাখা করেছেন। সেটা করে জনপ্রিয়তা-খ্যাতি এসবও পেয়েছেন।
আরেব্বাস, খুটির
জোর কত। ইউনুসেরও এতটা খুটির জোর নেই।
আর কৌতুক-কার্টুন
তো নৈমিত্তিক ঘটনা। পৃথিবীতে বুশ-রামসফেল্ডকে নিয়ে যত কৌতুক করা হয়েছে সেটা নির্ঘাত
গিনেস বুকের নজর এড়িয়ে গেছে। নইলে তার নাম সেখানে পাওয়া যেতই যেত।
ওদের কথা থাক।
ওদেশে সাংবাদিককে কিছু বললে বিপদ। ওদেরকে নির্মুল করা সম্ভব না। বরং ওকাজটা অনায়াসে
করানো যেতে পারে অন্য দেশে। সেইসাথে ফেসবুক-টুইটারে কে কি বলছে সেটা খবরদারী। কে
জানে মিসরের মোবারকের মত বিস্বস্ত বন্ধু যদি হারাতে যদি হারাতে হয়।
তারপরও যারা
চেষ্টা করছেন তারা ভুলে গেছেন বাংলা প্রবাদ, পাগলকে পাগল বলা বিপদজনক। কখনো সেকাজ
করবেন না।
0 comments:
Post a Comment