সরকারের হাতে পুলিশ, প্রশাসন আরো অনেক কিছু। আইন তৈরী-আইন ভাঙ্গা পর্যন্ত। সরকারের কথায় চলে সবকিছু। জনগনের সমস্ত অর্থ জম হয় সরকারের হাতে। বছরের বাজেট এখন হিসেব হয় লক্ষ কোটিতে। সরকার যা চান তাই করতে পারেন। আসলেই পারেন ?
না পারেন না। সরকারের কথা শোনানোর সামান্যতম ক্ষমতাও নেই। সরকার পা যারেন এবং করেন তা হচ্ছে খোচানো। খুচিয়ে পরখ করেন কার প্রতিক্রিয়া কি। যদি সহ্যশক্তির পরীক্ষায় কেউ পাশ করে তাহলে সেটা চলতে থাকে সীমানা কোথায় দেখার, আর সে যদি শুরুতেই বেকে বসে তাহলে সরকার পিঠটান দেন। সবচেয়ে বড় প্রমান, রাজপথ।
বহু টাকা খরচ করে লাল-সবুজ-হলুদ বাতি বসানো হয়েছে। অবশ্যই সরকারী টাকায়, এদেশে ট্যাক্সের টাকা কেউ বলে না। কেউ রাস্তার সেই আলোকস
জ্জা দেখা প্রয়োজন মনে করে না। মোড়ে দাড়িয়ে থাকে আধাডজন পুলিশ। তাদের কাজ হাত দেখিয়ে ঠিক করে দেয়া কে কখন যাবে, কখন থামবে। তবে তারা থাকা না থাকায় খুব যে যায় আসে এমন মনে হয়না। যন্ত্র চেনে না কোন গাড়ি থামাতে হবে, কোন গাড়িকে কিছু বলা যাবে না। এরা জানেন, এবং মানেন। পুলিশের গাড়ি হলে তাকে সবসময়ই উল্টোদিকে চলতে হবে, কোটি টাকার গাড়ি হলে তাকে হাত দেখানো চলবে না, মাঝারি মানের গাড়ি হলে হাত দেখাতে পারেন তবে থামা না থামা তার ইচ্ছে, মিনিবাস-ট্রাক হাত দেখালেই বোঝে তাদের কর্তব্য কি। বাকি থাকে রিক্সা চালক। একসময় যথেষ্ট দুর্নাম ছড়িয়েছিল পুলিশ তাদের সাথে কারনে-অকারনে দুর্ব্যবহার করে। এই গরীব মানুষগুলো রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে সভ্যতার চাকা সচল রেখেছে, তাদের ওপর অত্যাচার। এখন সেটা হয় না। প্রচন্ড জ্যামের মধ্যে একজন রিক্সাচালক উল্টোদিকে যাচ্ছে দুজন গন্যমান্য ব্যক্তি চড়িয়ে, এভাবে গেলে শর্টকাট হয়, তার অনেকটা পথ ঘুরে আসতে হয় না, আর গন্যমান্য যাত্রীদেরও কষ্ট করে হাটতে হয় না। তা সেপথ বন্ধ। লাঠি হাতে একজন পুলিশ সেখানে দাড়িয়ে। রিক্সাচালক ধমক দিয়ে বলল, থামান ক্যান ? দ্যাহেন না ওইদিক দিয়া কত ঘুরতে হইব ?
পুলিশের উত্তর, হ, আপনারে যাইতে দিয়া নিজের --- মারা খাই।
এটাই বর্তমান চালচিত্র। পুলিশ এরচেয়ে বেশি করতে পারে না। নিতান্তই যদি ভিআইপির গাড়ি এসে পরে তখন লাঠি দিয়ে রিক্সার ওপর ঠকাস, ঠকাস বাড়ি। তবে তাতেও কাজ হয় না। রিক্সাচালক ঘুরে দাড়ায়, আমার ভাই আর্মিতে চাকরি করে। মোবাইল করলে অক্ষনে আইসা পরব।
ফলাফল বর্ণনা করার কোন প্রয়োজন নেই। ঢাকা শহরের যে কোন মোড়ে মিনিটখানেক দাড়ালেই যে কেউ স্বচক্ষে দেখতে পাবেন কোন নিয়মে চলছে সবকিছু। ট্রাফিক পুলিশকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে এগিয়ে যাওয়া ড্রাইভারের তৃপ্তি, নাক ঢুকিয়ে পথ তৈরী করা রিক্সাচালকের সাফল্যের হাসি, ঠিক মোড়ের ওপর বাস থামিয়ে যাত্রী নামানোর ড্রাইভারের কৃতিত্ব আর সফলভাবে সেখানেই নামতে পারা যাত্রীর সাফল্য। এসবেরই মাঝে রাস্তা পেরনোর চেষ্টারত মানুষ। শিশু থেকে বৃদ্ধ, পুরুষ-বালক, মহিলা সবাই। যদি দৌড়ানোর সামর্থ্য থাকে ভালই, না থাকলে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে অপেক্ষা। শুনেছি পশ্চিমা দেশে প্রয়োজনে গাড়ি থামিয়ে হাটা মানুষকে এগিয়ে যেতে দেয়। কি অসভ্য দেশ! যাদের গাড়ি নেই, রিক্সা-স্কুটারে ওঠার পয়সা নেই তারা রাস্তায় বেরয় কেন ? এদের খাচায় আটকে রাখা উচিত। ঢাকায় ঢুকতে পাসপোর্ট চেক করা উচিত। এদের ভিসা দেয় কে ?
কখনো যে বাধা দেয়া হয় না একথা বললে মিথ্যাচার হয়। কোন কোন ঘাড়ত্যাড়া পুলিশ বাধা দেয়। সেদিন উল্টোপথে যাওয়া এক রিক্সা থামাল এক পুলিশ। সেখান থেকে রোগা-পটকা যুবক যাত্রী মুখ লাল করে নেমে দাড়াল। যত্ন করে বেনি করা চুল, দুহাত ভর্তি চুড়ি, নক্সা করা দাড়ি, রঙিন চুল এসব দেখেও তাকে থামানোর সাহস হলো কিভাবে। গলা ফাটিয়ে হাত নেড়ে চিৎকার করে উঠল, কয়টাকা বেতনের চাকরী করেন ? আপনে চেনেন আমি কে ?
মুহুর্তে হাতে বেরিয়ে এল মোবাইল ফোন।
বেচারা পুলিশ কোন উত্তর দিল না। তবে রিক্সাকে সামনে যেতেও দিল না। সমানে গলা ফুলাতে থাকল যুবক। এবার তারসাথে যোগ দিল তার সঙ্গিনী। এতক্ষন রিক্সায় বসেছিলেন চুপ করে, এবার গলার জোর কতটা দেখালেন। এর স্বাস্থ্য-চেহারা ঠিক বিপরীত। ইনি নিশ্চয়ই কেএফসি-পিজাহাটের খাবার ছাড়া খান না। যা খান তা সার্থকভাবেই শরীরে জমা করেন।
পুলিশের মন গলল না তাতেও। মুখবন্ধ রেখে রিক্সার পথ আগলে দাড়িয়ে। ততক্ষনে ভিড় জমে গেছে সেখানে। গোল হয়ে ঘিরে দাড়িয়েছে দর্শক। যেভাবে দাড়িয়ে ছোটবেলায় বান্দরনাচ দেখতাম সেভাবেই। দেখি না এরপর কি হয়।
বলছিলাম সরকারের ক্ষমতার কথা। যার ক্ষমতা রয়েছে সে নিয়ন্ত্রন করে, যার ক্ষমতা নেই সে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না। যেখানে নিয়ন্ত্রন থাকে না সেখানে আইন থাকে না। যার শক্তি বেশি সে দুর্বলকে লাথি মারে, বড় শক্তির কাছে শিষ্যত্ব গ্রহন করে। এর ফল শুধু রাজপথেই সীমাবদ্ধ থাকে না, ছড়িয়ে পরে সবখানে। সবার মনে কাজ করে, আইন বলে কিছু নেই। আমার শক্তিই আমার আইন। ভাঙো, গুড়িয়ে দাও। আগুন লাগাও। গুলি কর। ছাত্র, রাজনৈতিক কর্মী, দোকানদার, ড্রাইভার, বিডিআর সবার মধ্যে এই একই বোধ, আমার যা প্রয়োজন সেটা পাওয়ার জন্য শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। এটাই একমাত্র পথ। আমাকে পাটি থেকে মনোনয়ন দেবে না এত বড় সাহস। আমার কি জনবল কম আছে ? ক্ষমতা কম আছে ? দিতে হবে।
0 comments:
Post a Comment