চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই মানতে রাজি Anything and everything is possible

Apr 28, 2009

বিডিআর সদর দপ্তরের ঘটনার তিনমাস পার হয়েছে এই তিন মাসে আমরা জেনেছি এতে কি হয়েছে কতজন মারা গেছে, কতজন ধরা পরেছে, কতজন পালিয়েছে, কত অস্ত্র খোয়া গেছে, কতজন আটক অবস্থায় স্বাভাবিক মৃত্যুবরন করেছে যা জানি না তা হচ্ছে এই কাজ কে করেছে কেন করেছে তিনমাসে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বেরয়নি, সেটা কবে বেরবে, তাতে কি থাকবে তা নিয়ে নানারকম কথা উঠেছে তিন তদন্ত কমিটির তদন্তকে সমন্মিত করার দায়িত্ব নিয়েই মন্ত্রী বলতে শুরু করেছিলেন এর পেছনে কার কার হাত আছে, কে চক্রান্ত করেছে, তদন্তের কতদুর অগ্রগতি হয়েছে এইসব এখন তিনিও মুখ বন্ধ করেছেন

এবং মুখ বন্ধ করেছে সংবাদ মাধ্যমগুলোও তাদের সামনে যে আরো বড় সমস্যা সেগুলো লিখলে পত্রিকার কাটতি আরো বেশি টিভির সামনে দর্শক বেশি হয় এরসাথে তাদের ব্যবসা জড়িত, লাভ জড়িত

এই তিন মাসে বহুকিছু ঘটে গেছে বিরোধী দলের প্রধান বলেছিলেন কমকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচনা না করে সাধারন ক্ষমা ঘোষনা কৌশলগত ভুল ছিল সাথে সাথে প্রতিবাদের ঝড় উঠল মহাজোটের নেতারা বসে গেলেন বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে নিন্দাপ্রসস্তাব পাশ করা হল (মহাজোটের সন্মানিত নেতৃবৃন্দ কতবার এমন জরুরী প্রয়োজনে একসাথে বসেছিলেন আমার জানা নেই) পিলখানা ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে এপার্টমেন্ট তৈরী করে দেয়ার ঘোষনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী এপার্টমেন্টগুলি তৈরী করা হবে খালেদা জিয়াকে সরিয়ে, সেখানে যায়গা করে খালেদা জিয়া সামরিক বাহিনীর এলাকায় থাকতে পারেন না, তিনি একাই দুটি বাড়ি পেতে পারেন না, এই ঠিকানায় ব্যবসা করতে পারেন না এসব অবৈধ (যতদুর মনে পরে প্রধানমন্ত্রী নিহত সেনাপরিবারের সদস্যদের দুটি করে এপার্টমেন্ট (বাড়ি নয়) দিতে চেয়েছেন যার একটি তারা ভাড়া দিতে পারবেন, অবশ্যই সামরিক বাহিনীর এলাকায় থাকা যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের, যারা দলিলে লিখে দেবেন কখনো বিরোধীদলের রাজনীতি করবেন না, আরেকটিতে তারা থাকবেন এবং নিহত সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে তারা সামরিক এলাকায় থাকার যোগ্য, খালেদা জিয়া নন) মন্ত্রীপরিষদ বসে সিন্ধান্ত নিয়ে ফেলল, তাকে চিঠি দেয়া হল এখন সেটা গরম খবর বিরোধী দল আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়ে রেখেছেন কঠোর হস্তে আন্দোলন দমন করা হবে

গরম আরো আছে। গরমে কাহিল হয়ে পরেছে মানুষ। চৈত্র-বৈশাখে বৃষ্টি নেই। বিদ্যুত একঘন্টা থাকে আরেকঘন্টা থাকে না ফলে পানি ওয়াশার কর্মকর্তারা অসহায় তারা চাইলেও পানি দিতে পারছেন না তবে ওয়াসা প্রধান আশ্বাস দিয়েছে, দ্রুতই বৃষ্টি হবে, তখন পানিসংকট থাকবে না ততদিনে মিছিল বিক্ষোভ করবেন না। সেটাও কঠোরভাবে দমন করা হবে। আগেই পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে পাওয়ার ষ্টেশনগুলিতে।

গরম আরো আছে। ক্যাম্পাস গরম। ছাত্রলীগ নামধারীরা সারা দেশে ক্যাম্পাস গরম করে রেখেছেন। তাদের কল্যানে একে একে বন্ধ (ছুটি) হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই ছাত্রলীগ নামধারীদের দৌরাত্ম এমনই যে ছাত্রলীগের সন্মেলনেও মারামারি করেছে প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রধান পদ থেকে সরে গেছেন তারপরও তাদের গরম কমেনি।

সাধারন মানুষ (যদিও আমার ধারনা এদেশে সাধারন বলে কিছু নেই, সবাই অসাধারন) আরো অন্যান্য বিষয় নিয়েও ভুগেছে, ভুগছে সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চালের দাম কমিয়েছেন তবে তাতেও স্বস্তি নেই কৃষকরা বেকে বসেছে তাদের খরচের চেয়ে চালের দাম কম ভোটের আগে সারাদেশে ক্যামেরা-মাইক্রোফোন ঘুরেছে। একই প্রশ্ন। ভোট কাকে দেবেন। একই উত্তর। যে সৎ, যে যোগ্য তাকে। আগে থেকে নাম বলা যাবে না। সেই সততা এবং যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করছে তাদেরই লোক। বলছে এর পরিচয় টেন্ডারবাজি, চাদাবাজি আর যায়গা দখলে নেই। ভাগ্যিস প্রধানমন্ত্রী আগেই জানিয়ে রাখিয়েছেন এটা দখলদারি নয়, দখলদারীমুক্ত করা।

সরকারের ভাবমুর্তি নষ্ট করতে সচেষ্ঠ সবাই। এমনকি মশারা পর্যন্ত। তারাও সুযোগ বুঝে ঝাপিয়ে পরেছে সরকারের বিরুদ্ধে। কয়েলে কাজ হয় না। মশা মারার জন্য চীন থেকে ইলেকট্রিক ব্যাট আমদামী করতে হয়েছে। রিচার্জেবল, কারেন্ট না থাকলেও কাজ চালানো যায়। ভাগ্যিস চীন ছিল।

এতসব সংকটের মধ্যেও কিছু কিছু ভাল খবর সুবাতাস বইয়ে দেয় একদল বুদ্ধিজীবী দল ধরে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে গেলেন রক্তপাতহীন পিলখানা সমস্যা সমাধানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে এলেন প্রধানমন্ত্রীকে নাহলে দেশে গৃহযুদ্ধ লেগে যেত কৃষক-শ্রমিক-চাকুরে-ব্যবসায়ী-বেকার-ছাত্র একে অন্যকে মারতে শুরু করত দেশ চলে যেত ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে পিলখানার ঘটনার সময়ই মেশিনগানের বেল্ট দেখানো হয়েছিল যা বিডিআর-সেনাবাহিনী ব্যবহার করে না তবে বিষয়টি চাপা পরে গেছে এফবিআই-স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ঘুরে গেছে একটু একটু কানে আসছে পিলখানায় বাইরের অস্ত্র যাওয়ার কোন প্রমান পাওয়া যায়নি ষড়যন্ত্রকারী কারা তাদের নামও ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে। তবে ভেতরে যারা ছিল তাদের হাতে বিপুল পরিমান অস্ত্র ছিল যুদ্ধ লাগলে আশেপাশের হাজার হাজার (নাকি লক্ষ লক্ষ) মানুষ মারা যেত রক্তপাতহীন এই সমাধানের জন্য চৌধুরী সাহেবেরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতেই পারেন সরকারী টাকায় চা-পানি খেয়ে একটু আলাপচারিতা সারতেই পারেন তার বয়স যখন সাতাত্তর পেরিয়েছে তখন ভীমরাত্রির কথা তিনি অবশ্যই জানেন

রক্তপাতহীন! অর্ধশত উচ্চপদস্থ অফিসারের মৃত্যু রক্তপাতহীন তবে রক্তপাত কোনটা ? কিছু বিপথগামী অস্ত্রধারীর মৃত্যু ? সভ্যতার ইতিহাস বলে যে কোন ভালোর জন্য রক্ত প্রয়োজন রক্তপাতে আমরা ভাষা পেয়েছি, বহু রক্তপাতে এদেশ স্বাধীন হয়েছে, কোরবানী-বলির নামে রক্ততৃষ্ণা মেটানোর ব্যবস্থা চালু রয়েছে তাহলে রক্তপাতকে এত ভয় কেন ? ঘটনা শুরুর মুহুর্তে ঘোষনা দেয়া হতে পারত, যদি কেউ অকারনে জীবন হারায় অপরাধীদের একজনকেও জীবন নিয়ে বেরতে দেয়া হবে না একটা বার্তা পৌছে যেত এইসব অস্ত্রধারীদের কাছে তারা জানত ক্ষমতার একা তাদের হাতে নেই, মারলে মরতে হবে দেড়দিন ধরে ঠান্ডা মাথায় খুন করা যায় না

সেটা হয়নি সামরিক বাহিনীর কিছু সদস্য প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন তার রেকর্ড প্রচার করা হয়েছিল ইন্টারনেটে সাথেসাথে বন্ধ করে দেয়া হল ইউটিউব এতে দেশের মান যায় প্রধানমন্ত্রীর মান যায় আমাদের মান কচুপাতার পানি বৃটেন-আমেরিকার একজন জেনারেল যখন বুশের ইরাক আক্রমনের সমালোচনা করেন, সরাসরি বিরোধীতা করেন তাতে তাদের মান যায় না তাদের মান শক্তপোক্তভাবে এটে গেছে প্রধানমন্ত্র এত তড়িঘড়ি ইউটিউব বন্ধের পথে না গিয়ে কি বলতে পারতেন না এমন ঘটনা ঘটেছে তারা তাদের প্রীয়জনকে হারিয়েছে, সেকারনে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এটা করা তাদের অধিকার বিষয়টাতো মিটে যেত সেখানেই

নাকি প্রধানমন্ত্রীর কোন বিষয়ে ক্ষোভ জানাতে নেই জনগনের ম্যান্ডেট নিয়ে যারা ক্ষমতায় যান তাদের প্রশ্ন করা যায় না তাদের কাছে জবাবদিহিতা থাকতে হয় সবার দুর্নীতি দমন কমিশনেরও তারাও আইনের বাইরে নন জবাবদিহিতার বাইরে নন আপনাদের দায়িত্ব দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা, সেকাজ করুন কক্ষনো, ভুলেও নেতা মন্ত্রিদের বিষয়ে প্রশ্ন করবেন না সেজন্য বিরোধীদল রয়েছে, সেখানে মনের ঝাল ঝারুন

আমি চোর-ডাকাত-ছিনতাইকারী সবাইকে মেনে নিতে রাজি প্রত্যেকেরই কাজের পিছনে সামান্য হলেও গ্রহনযোগ্য যুক্তি থাকে একজন নির্লজ্জ ব্যক্তির কোন যুক্তি নেই মৃত্যুর আগমুহুর্তে কামরূল হাসান এক কালজয়ী শব্দ রচনা করে গিয়েছিলেন বিশ্ব বেহায়া এরচেয়ে জোড়ালো শব্দ তৈরীর জন্য হয়ত তাকেই উঠে আসতে হবে

0 comments:

 

Browse