বিচিত্র - This Is Miracle

Mar 11, 2010
আলেকজান্ডার যখন ভারত জয় করতে আসেন তখন তিনি নাকি তার সেনাপতিকে বলেছিলেন, কি বিচিত্র এই দেশ।
সেই কথা সাক্ষী কে ছিল সেপ্রশ্ন না করেই অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারে, কথাটা আমরা নানাসময় নানাভাবে ব্যবহার করি। বিচিত্র দেশ, বিচিত্র প্রকৃতি, বিচিত্র ফলমুল-গাছপালা। এবং বিচিত্র মানুষ। বিচিত্র চালচলন। বিচিত্র নীতি। বিচিত্র আইন।
কথা না বাড়িয়ে সরাসরি প্রসঙ্গে যাওয়া যাক। জরুরী সরকার কয়েকদিনের মধ্যে দেশকে অত্যাধুনিক দেশে পরিনত করতে চেয়েছিলেন বিচিত্র পদ্ধতিতে। তার একটি হচ্ছে, কেউ বেওয়ারিশ থাকবে না। সবাইকে জন্মসনদ নিতে হবে, মৃত্যুসনদ নিতে হবে এবং পরিচয় পত্র নিতে হবে। একাজ যদিও শুরু হয়েছিল ভোটকে সামনে রেখে ভোটার আইডি নামে, এখনও এর দায়িত্বে থেকে গেছে নির্বাচন কমিশন, তারপরও- এটা দেখালেই পাসপোর্ট মিলবে, ব্যাংক থেকে টাকা পাওয়া যাবে, বিনামুল্যে সার পাওয়া যাবে, ছিনতাইকারীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, অনাহার-রোগ-মহামারি থেকে বাচা যাবে ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। জোরেসোরে কাজ শুরু হল, একসময় শেষও হল। দেখা গেল একজনের পরিচয়ের সাথে আরেকজনের ছবি গিয়ে লেগেছে। একজন বললেন তার ছেলেমেয়ের নাকি কার্ড জ্বর এসে গেছে। ভোটার আইডি কার্ড (নাকি এনআইডি!) দেখে ছবিকে ভুত মনে করেছে। অনেক সৌভাগ্যবান অবশ্য যাকিছু করা প্রয়োজন ছিল সবই করার পরও সেই ভৌতিক কার্ডের দেখা পাননি। আমি নিজে একজন।
আরেকটা ঘটনা ঘটে গেছে একই সময়ে। যারা কয়েক বছর ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে তাদেরকে সেই কার্ড দেখিয়ে, নয়ত পাসপোর্ট দেখিয়ে, নয়ত অন্যকিছু দেখিয়ে সেগুলি নতুনভাবে রেজিষ্ট্রেশন করাতে হবে। কয়েক বছর ধরে ফোন ব্যবহার করার অপরাধে তারা অপরাধী। হয় রি-রেজিষ্ট্রেশন করুন, নয়ত ওটা ফেলে দিয়ে ফুটপাত থেকে নতুন আরেকটা কিনে নিন।
বাস্তবে হয়েছে সেটাই। একেজনের পকেটে ৫-৭টা মোবাইল সিম। কারন একেক কোম্পানীর অফার একেকরকম। একেক জনের একেকরকম সুবিধে। যখন যেটা কাজে লাগে।
পরিসংখ্যান বলে প্রতিবেশি সব দেশ থেকে একটামাত্র বিষয়ে আমরা এগিয়ে, সেটা মোবাইল ফোনের ব্যবহার। পথের দিকে তাকিয়ে দেখুন, যত অসুবিধেই হোক অন্তত অর্ধেক মানুষ একহাতে কান ধরে হাটছে। যদি সেটাও সম্ভব না হয় অন্তত কাধ আর মাথার বাকানো ভঙ্গি বলে দিচ্ছে সেখানে মোবাইল সেট গোজা। কিংবা কাউকে যদি একা একাই অনবরত গালাগালি করতে করতে যেতে দেখেন তাহলেও জানবেন সে পাগল হয়নি। কানে হ্যান্ডস-ফ্রি গোজা রয়েছে।
আশেপাশের সব দেশকে ছাড়িয়ে যাওয়া এই আমিত্ব আবারও হুমকিতে পরেছে। স্বরাষ্টমন্ত্রী বলেছেন, আইডি কার্ড ছাড়া কেউ সিম কিনতে পারবে না। সত্যায়িত করা আইডি কার্ড জমা দিতে হবে, বিক্রেতা সেটা নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন, তারা সেটা আসব বলে নিশ্চিত করবে, তারপর সিম বিক্রি।
বাপরে! নির্বাচন কমিশনের অফিস কতগুলো ? তাদের লোকবল কত কোটি ??
সে যাকগে। কথা শেষ হয়নি। কথা হচ্ছে আইডি কার্ড থাকতে হবে (না থাকলে ফোনের কথা ভুলে যান), সাথে একজন সাক্ষী আনতে হবে, বয়স ১৮ বছরের ওপর হতে হবে (তারমানে ১৮ বছরের নিচেও যদি ভোটার আইডি পেয়ে থাকেন তাহলে সিম পাবেন না)।
আর যদি ফুটপাতে বসে সিম ব্যবসা করতে চান আগে এসএসসি পাশ করে আসুন।
এই সবকিছু করা হচ্ছে জনগনের স্বার্থে। হুমকি-সন্ত্রাস-চাদাবজি বন্ধ করার জন্য।
কাজেই যদি সন্ত্রাস-চাদাবাজি-ছিনতাই-ডাকাতি এসব থেকে মুক্ত থাকতে চান তাহলে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করুন।

ডিজিটালের টাল - Digital Life

Mar 10, 2010
তাল খুব ভাল জিনিষ গানে সুরের সাথে তাল থাকলে দিব্বি তারসাথে মিল রেখে পা নাচানো যায় বেতালা গানে সেটা করা যায় না সামর্থ্যের সাথে তাল রেখে চলতে পারাও খুব ভাল জিনিষ আপনার নামে মামলা ? একবার ক্ষমতা হাতে পেয়ে দেখুন - সব মামলা ফিনিস সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আপনার কাজেই আপনার বেতন-ভাতা দ্বিগুন আপনার দল ক্ষমতায় কাজেই খালবিল-নদীনালা - মাঠঘাট- বনজঙ্গল এমনকি বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত আপনার সরকার আর সরকারের লোক, কথা তো একই সরকারী সম্পত্তি মানে সরকারের লোকের সম্পত্তি নিজের নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিন ডিজিটাল মাছ চাষ, ডিজিটাল খামার, ডিজিটাল কর্মসংস্থান, ডিজিটাল আবাসন আপনার ক্ষমতার তালের সাথে পাল্লা দেবে কে ?
গাছের তালও ভাল যতক্ষন না পিঠে কিংবা মাথায় পড়ে কাচা-পাকা দুভাবেই কাজে লাগে পিঠে পড়ার বদলে যদি তালের পিঠে বানাতে পারেন তাহলে তো কথাই নেই খেতেও স্বাদ, দেশের সংস্কৃতি রক্ষা দুইই হয় বিশেষ বিশেষ দিনে উসব করে খেতে হয়।
তাল যদি কোনভাবে টালে পরিনত হয় তাহলেই সমস্যা
রিক্সা কিংবা সাইকেলের টালের কথা জানেন তো গোত্তা খেতে খেতে চলে টালের এটাই বৈশিষ্ট কখনো সোজাভাবে, সরলপথে যেতে দেয়না একবার এদিক আরেকবার ওদিক গোত্তা মারে প্রতি মুহুর্তেই আপনাকে মনে করিয়ে দেয় আপনি টালের ওপর বাস করছেন
কাজেই, ডিজিটালের টালও আপনাকে টালের কথা মনে করিয়ে দেবে এতে অবাক হবার কি ?
অনলাইন জিডির ব্যবস্থা চালু হয়েছে পাড়ার মাস্তান টাকা চেয়েছে, ভাবলেন দেই একটা কেস ঠুকে ট্রাফিক জ্যাম ঠেলে যেতে তো হচ্ছে না ঘূসের ঝামেলা নেই যার নামে মামলা সে জানার সুযোগ পাবে না।
বসলেন অনলাইনে, ঠুস করে বাত্তি অফ-
গেল ডিজিটাল মামলা তখনই একবার ভাবলেন ডিজিটাল মামলায় পুলিশ যদি ডিজিটাল আসামী ধরে, ডিজিটাল তদন্ত হয়, ডিজিটাল রিমান্ড হয়, ডিজিটাল বিচার হয়, ডিজিটাল জেলে পাঠায়, এমনকি ডিজিটাল ফাসিও দেয় তাতে আমার কি ধুত্তোর ওসব মামলা-টামলায় কাজ নেই তারচে অন্য কাজ করি
রাস্তায় বেরলেন সামনেই চোখে পড়ল ডিজিটাল রিকসা মনটা খুশি হয়ে উঠল, বাহ বেশ তো কি চমকার দেখা যায় উঠেই দেখি না কাঠের এনালগ রিক্সার বদলে লোহা আর প্লাষ্টিকের ডিজিটাল রিক্সা নিশ্চয়ই দেশে তৈরী দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, ভাবতেই ভাল লাগে
আপনার খুশিভাব কাটতে সময় লাগল না কারন ডিজিটাল রিক্সার চালক এনালগ, চালানোর পদ্ধতিও অধিক পরিশ্রম-অধিক প্রসংশার দাবীদার সেই পুরনো পদ্ধতি, রাস্তাঘাটে যানজটও সেই এনালগ, বরং এনালগ থেকেও কিছুটা বেশি প্রতিদিনই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডিজিটাল রিক্সার যাত্রা শেষে সবশেষ যা মনে করতে পারেন তা হচ্ছে, সবকিছু এনালগ হলেও ভাড়াটা ডিজিটাল
ডিজিটাল ভাড়া মিটিয়ে মার্কেটে ঢুকতে গিয়ে দেখলেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে তা বন্ধ ডিজিটাল নিয়ম বলে দিয়েছে একেকজন একেক এলাকায় সাপ্তাহিক ছুটি কাটাবেন কোন দিন কোন এলাকায় ছুটি আগে থেকে জানতে ডিজিটাল ডায়রি ব্যবহার করবেন এবার এনালগ পদ্ধতিতে আরেক এলাকায় পৌছে দেখলেন সেটা ডিজিটাল টাইমে বন্ধ হওয়ার সময় হয়ে গেছে আট বাজ গিয়া
কাজেই এনালগ পদ্ধতিতেই বাড়ি ফেরত
এখনও ডিজিটাল খাওয়াদাওয়া চালু হয়নি, ডিজিটাল আয়ের ঘোষনাও দেয়া হয়নি কাজেই বাকি কাজগুলি এনালগ পদ্ধতিতেই সারতে হল
ঘুমানোর প্রস্তুতি মশা মারা ডিজিটাল ব্যাট ব্যবহার করে কিছু মশা মারলেন তারপর মশারী গুজতে হল (ডিজিটাল হাত যেহেতু এখনও গজায়নি) ফ্যান থেকে ফুরফুরে হাওয়া আসছে চোখ বন্ধ হচ্ছে হঠা করে মাথার ওপর ফ্যানটা গোত্তা মারল তারপর গতি কমাতে কমাতে একসময় স্থির হয়ে দাড়াল এনালগ-ডিজিটাল কোন পদ্ধতিতেই সে আর চলবে না মিনিট সেকেন্ড গুনে এক ঘন্টা
এই টাল সামলাতে সেই তালপাতাই ভরসা
ডিজিটালের সাথে তাল মিলিয়ে যারা সাইনবোর্ড লাগানো শুরু করেছেন, ব্যবসা শুরু করেছেন, তারা শিখে গেছেন কোন সুরে কি তাল দিতে হয় এবার আপনার পালা
ডিজিটালের টাল সামলান

মানিয়ে নিন - সুখে থাকুন - Dont Worry Be Happy

Mar 8, 2010
এক ভদ্রলোক নিজের ভবিষ্যত জানতে গেছেন জ্যোতিসীর কাছে। নিজের হাত মেলে ধরে বললেন, দেখুন তো আমার দুর্দিন কবে যাবে। দিনরাত পরিশ্রম করি কিন্তু অভাব যায় না।
জ্যোতিসী বললেন, বছর দশেক ধৈর্য্য ধরতে হবে।
তিনি আশাম্বিত হয়ে বললেন, দশ বছর পর সুদিন আসবে বলছেন!
জ্যোতিসী বললেন, তারপর আরো পাচ বছর।
তিনি বললেন, তারমানে পনের বছর পর সুখি হব ?
জ্যোতিসী বললেন, ততদিনে সবকিছু মানিয়ে যাবে।
মানিয়ে নেয়া খুব বড় গুন। মানিয়ে নিন, ভাল থাকুন। সকল জ্ঞানী ব্যক্তিরাই একথা বলে গেছেন। চাকরী নেই তাতে কি, মানিয়ে নিন। প্রয়োজনে এরওর কাছে হাত পাতা অভ্যেস করুন। এদিক ওদিক করতে শিখুন। শ কমাতে চেষ্টা করুন। বাহুল্য কমান। খাওয়ার খরচ কমান। সমাজের সাথে মানিয়ে নিন।
বাস-রিক্সা পাচ্ছেন না ? ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে আছেন ? মানিয়ে নিন। অন্যকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে উঠুন নয়ত পাজোড়া কাজে লাগান। 
কি বললেন ? পথে ছিনতাইকারীর ভয় ??
মানিয়ে নিন। যেপথে ছিনতাইকারীর ভয় কম সেপথ খুজুন। নয়ত জিনিষপত্র ছাড়া পথে নামুন। টাকাপয়সা-ঘড়ি-মোবাইল নিয়ে বেরবেন না। এমনকি দামী জুতা-সার্ট-প্যান্ট পড়বেন না।
অথবা গাড়ির মালিক হোন।
ভেজাল খাবার ? মানিয়ে নিন। একটু একটু করে বিষ খেলে সেটাও হজম হয়। যারা মানিয়ে নিতে পারেনা তারাই সমস্যায় পড়ে। ফরেনারদের দেখুন, এদেশে আসামাত্র পেটের পিড়ায় আক্রান্ত হয়। ওরা জানেনা কিভাবে মানিয়ে নিতে হয়। রীতিমত বিদেশ থেকে পানি এনে খেতে হয়। কোন কোন দেশি ফরেনারও সেকাজ করেন। আপনি তো কোনটাই নন। মানিয়ে নিন।
রাস্তায় জট ? যানজট-মানবজট ? মানুষ চলেছে গবাদী পশুর পালের মত গুতোগুতি করতে করতে ? মানিয়ে নিন। গুতোগুতি শিখুন। মানিয়ে নিতে নিতে ডারউইনের বিবর্তনের সুত্র ধরে মাথায় শিং, পায়ে খুর গজাতেও পারে।
পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়াটাই আসল কথা। এভাবে মানিয়ে নিতে নিতেই বানর একসময় মানুষ হয়েছে। চারপা ছেড়ে দুপায়ে খাড়া হয়েছে। লেজ খসে গেছে। মানিয়ে নেয়ার পদ্ধতি থামেনি। চলছে, চলবে।
কি বললেন ? বইপত্রের নীতিকথার সাথে মেলে না ? বিবৃতিবাজ বুদ্ধিজীবীদের আশাবাদের সাথে মেলে না ?? সরকারের উন্নতির জোয়ারের বর্ননার সাথে মেলে না ???
তাহলে সবকিছু ছেড়ে বাড়ির মধ্যে বসে থাকুন।
খবর পেলাম পরিচিত একজনের বাড়িতে ঢুকে সর্ব্বস্ব নিয়ে গেছে। ফার্মগেট এলাকায়, দুপুর বেলা। অস্ত্রহাতে কয়েকজন ঘরে ঢুকে সবাইকে বেধে রেখে, টাকাপয়সা-জমানো যাকিছু ছিল, প্রয়োজনীয় যাকিছু ছিল।
সবকিছু ছেড়ে বাড়িতে বসে থাকায়ও সমাধান নেই। সমাধান একটাই, সবকিছুর সাথে মানিয়ে নিন। সুখে থাকুন।

ডান্ডা কার হাতে - Who Is In Control

Mar 4, 2010
কিছু মানুষ উটকো প্রশ্ন করতে পছন্দ করে যেমন নিউটন বসে রয়েছেন বাগানে মাথার ওপর একটা আপেল গাছ গাছ থেকে একটা আপেল খসে পড়ল তার গায়ে আর তিনি উটকো প্রশ্ন করতে শুরু করলেন, আপেলটা আমার গায়ে পড়ল কেন ? নিচের দিকে না এসে ওপরদিকেও তো যেতে পারত অন্য যে কোন দিকেই যেতে পারত তা-না সোজা আমার গায়েই এসে পড়ল
এই প্রশ্নে জোরেই নাতি আবিস্কার হল মাধ্যাকর্ষন সুত্র। মহাবিশ্ব কিভাবে চলছে তার সুত্র।
আমরা তাদের মত উটকো নই অকারন প্রশ্ন পছন্দ করি না আমাদের কোন সুত্র আবিস্কারের প্রয়োজন নেই। ওসব ফালতু বিষয় নিয়ে সময় নষ্ট করে কে ?
আমাদের সবকিছুই চলবে প্রশ্নহীন একেবারে সহজ-সরল ইউনিভার্সিটিতে ছাত্র মারা গেছে, প্রশ্ন করবেন না এমন ছোটখাট ঘটনা ঘটতেই পারে আরো বড় ঘটনা ঘটেনি এতেই শুকরিয়া আদায় করুন
দেশ ধনী দেশে পরিনত হচ্ছে কিভাবে সে প্রশ্ন করবেন না যা বলেছি বিশ্বাস করুন দেশে কোন দরীদ্র থাকবে না কেউ না খেয়ে থাকবে না গিনেস বুকে নাম উঠেছে ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ার সবচেয়ে বড় সমাবেশের পত্রিকায় রঙিন ছবি ছাপা হয়েছে কেফসির শতকরা ৫১ জন দারিদ্রসীমার নিচে বাস করা এই দেশে ক্ষুধা বলে কিছু রাখা হবে না বলে পণ করেছে তারা। দেশে কোন অশিক্ষিত থাকবে না সবাইকে শিক্ষার আওতায় আনা হবে সবাইকে ইন্টারনেটের আওতায় আনা হবে সরকার ঘোষনা দিয়েছে
তিন বছরে ৭ লাখ ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করা হবে, বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। একজন কম কিংবা বেশি না। কোথায়, কিভাবে সেপ্রশ্ন করবেন না।
ইন্টারনেটে ক্লিক করলে ঘরে বসে লক্ষ ডলার আয় করা যাবে মাত্র কয়েকশ টাকায় শিখে যান আমি নিজে কেন সেকাজ করছিনা সেপ্রশ্ন করবেন না
ভাষা আমাদের গর্ব সারা পৃথিবীর মানুষ মাতৃভাষা দিবস পালন করে আমাদের কল্যানে একুশের বইমেলায় দৈনিক নতুন বইয়ের সেঞ্চুরী হয় আমরা কেন সুদ্ধ বাংলা বলতে পারি না সে প্রশ্ন করবেন না
প্রধানমন্ত্রী বলেন যানজটের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর যোগাযোগমন্ত্রীর অদক্ষতা দায়ী তখনও প্রশ্ন করবেন না একথা তিনি কাকে শোনাচ্ছেন। যোগাযোগ মন্ত্রী যখন বলেন ঢাকা শহরেই ফিটনেস নেই এমন গাড়ির সংখ্যা ৮০ হাজার তখন প্রশ্ন করবেন না সেটা দেখার দায়িত্ব তিনি কাকে দিচ্ছেন।
নিতান্ত উটকো মানষিকতা থাকলে বলতে পারেন, ডান্ডা যখন আপনার হাতে তখন দায়িত্বটাই পালন করুন। নয়ত যাকে শোনাচ্ছেন তারহাতে ডান্ডা দিন।
কে কি বলেছেন, কেন বলেছেন একথাও তুলবেন না যা বলে শুনে যাবেন হ্যা-হু করে যাবেন পারলে হাততালি দিয়ে সমর্থন জানাবেন নিজের অবস্থান বুঝে চলবেন প্রশ্ন করলে সেই বাস হেলপারের চাকরীর কথা মনে রাখবেন।
নিতান্তই লেজে লেজে সুত্র পেয়ে একজন গেল বাসের হেলপার হতে ড্রাইভার বলল, দরজার কাছে খাড়াইবি আর বাসে থাবা দিবি এক থাবা দিলে বাস থামব, দুই থাবা দিলে চলব, তিন থাবা দিলে ননষ্টপ-
সে প্রশ্ন করল, এক থাবা দিলে থামবে কেন ?
উত্তর, কাম করন লাগব না ভাগ এইহান থিকা
আপনার অবস্থা তারচেয়েও খারাপ হতে পারে। হাতাহাতি সংসদের মধ্যেও হয়।

কোন পাগল নেই

Feb 23, 2010
সুস্থ স্বাভাবিক এক বৃটিশ ভদ্রলোকের স্ত্রী লক্ষ্য করলেন তার স্বামী পর্নোগ্রাফির দিকে ঝুকে পড়েছে সেটা নিয়ে ব্যস্ত থাকে সেটা শতভাগ শিক্ষিত মানুষের দেশ এবং সেখানে শিক্ষা বলতে সার্টিফিকেট কেনা বুঝায় না শিক্ষার প্রয়োগ বুঝায়। কাজেই তিনি মাথা খাটালেন নিজে সমাধান না পেয়ে একসময় স্বামীকে নিয়ে গেলেন ডাক্তারের কাছে প্রথমে মনোবিজ্ঞানী তারপর সাধারন চিকিসক তিনি কিছুতেই হাল ছাড়বেন না একসময় ফল ফলল অন্যরকম ডাক্তার রিপোর্ট দিল তার মস্তিস্কে টিউমার হয়েছে ফলে অপারেশন টিউমার বাদ দেয়ার পর ভদ্রলোক আগের মতই স্বাভাবিক হয়ে উঠলেন
এখানেই যদি ঘটনা শেষ হত তাহলে সেটা বিবিসির খবর হত না কবর হয়েছে কারন কিছুদিন পর সেই ভদ্রলোকের সেই পর্নোগ্রাফির নেশা ফিরে এল আবারো ডাক্তার এবং সবাইকে চমকে দিয়ে জানা গেল তার টিউমার নতুনভাবে গজিয়েছে
লোকে বলে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর যে ফল পাওয়া যায় সেটাই বিজ্ঞান অন্তত এই ঘটনা প্রমান করেছে পর্নোগ্রাফিতে আগ্রহ স্বাভাবিক মস্তিস্কের কাজ না কিছুটা বিকৃতি সেখানে রয়েছে বড় আকারের হলে টিউমার জাতিয় কিছু, অথবা ছোট আকারের বৈকল্য বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্য।
তবে সমস্যা হচ্ছে, অমুকের মানষিক সমস্যা রয়েছে একথা মুখফুটে বলা যায় না এতে তার তো বটেই, পরিবারের মান যায় আর পর্নোগ্রাফির মত বিষয় যদি হয় তাহলে তো কথাই নেই ব্যক্তির, পরিবারের, সমাজের মান, দেশের মান সবই যায় কাজেই- মুখবন্ধ
প্রবাদ, দুদিনের চাদ ঘরে বসে দেখা যায় ঈদের আগের দিনের মত হা করে আকাশের দিকে চেয়ে থাকতে হয় না এমনকি দেখতে না চাইলেও দেখা হয় সমাজে যখন কোন ঘটনা ঘটে সেটাও অনেকটাই ঈদের চাদের মত কেউ কেউ আগ্রহ নিয়ে দেখেন কেউ কেউ না দেখার ভান করেন কিন্তু একসময় না দেখে উপায় থাকে না আজকাল আবার খবরের কাগজঅলারা দেশের-সমাজের ভাবমুর্তি নিয়ে ততটা মাথা ঘানায় না খবর পেলে প্রকাশ করে দেয় সেভাবেই
প্রকাশ পেয়েছে ঘটনা ধর্ষন করে তার ভিডিও করা হয়েছে দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে খবরটা একেবারে নতুন না অবশ্য কয়েক বছরে কয়েক ডজন খবর চোখে পড়েছে কাগজে বিষয় একই পরদিনই সেটা খবরের পাতা থেকে উধাও
এবারের খবর, কোন সংগঠন নাকি প্রতিবাদ করে মামলাও করেছে পুলিশ বলেছে, ব্যবস্থা নেয়া হবে অবশ্যই হবে আদালত কি বলে দেখি-
এত ছোট বিষয় নিয়ে বড় মাথা ঘামানো যায় না অন্তত ভাবমুর্তির কথা মাথায় রেখে হলেও বড় মাথার সামনে এপ্রশ্ন তোলা যায় না যদি যায়ও, ভদ্রলোকের সবসময়ই এককথা- এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা
আর যদি তেমন কেউ থাকে তাহলে, আপনের কাছে আছে নাকি ভিডিওডা দ্যানতো দেখমুনে- আমেরিকার মানের হইছে ? অন্যদিকে তো সম্ভাবনা নাই, এইদিকেও কি পারমু না!
এই মনোবৈকল্যের চিকিসা এদেশে হয় না একজন থেকে শতজনে, শত থেকে লাখে ছড়িয়ে পরে কম্পিউটারে, সিডিতে, মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পরে এই ভিডিও রীতিমত রমরমা ব্যবসা দোকানে-ফুটপাতে, শহরে-গায়ে-গঞ্জে সব যায়গায় ডিজিটাল দেশে কোন এলাকা পিছিয়ে নেই আমেরিকা-ইউরোপ যদি পারে আমরা পারব না কেন ? আমরা কম কিসে ? কিছু মানুষ আয়-রোজগার করে তো খাচ্ছে চোখ টাটায় কেন ? দেখে শিখুন জীবনের মানে কি
সমস্যা একটাই, একদিকে ইউরোপ-আমেরিকা যা পারে সেটা করে দেখানো পোষাক-আচরন-কথাবার্তা থেকে শুরু করে সবকিছুতেই, আরেকদিকে সহজ-সরল-ধর্মপরায়ন-দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীর ভাবমুর্তি ঠিক রাখা একটা রাখলে আরেকটা যায় দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ দরীদ্রসীমার নিচে, আরো বাড়ছে, শিক্ষার হার কমছে, মান নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে সেখানে মনবৈকল্য নামের রোগ নিয়ে মাথা ঘামায় কে ?
জানেন না, দশের মধ্যে একজন অন্য কথা বললে সে পাগল, সবাই যদি বলে তখন কোন পাগল নেই

হায়- মরি বাংলা ভাষা

Feb 21, 2010
কিসের কথা কইতাছেন। একুশে ফেব্রুয়ারী। পার্টি। আইচ্ছা-আইচ্ছা, আমুনে। আইজতো ছুটির দিন। সমস্যা নাই। কি ব্যবস্থা করছেন কন। দ্যাশের লগে বিট্রে করতে পারমু না কইলাম। বাংলা মদের ব্যবস্থা রাইখেন। আর কি পোষাক পড়তে হইব ? কালা পাঞ্জাবী-কালা শাড়ি
লোকে নাকি অল্প শোকে কাতর হয়, বেশি শোকে পাথর হয়। বাঙালী কাতর না পাথর বোঝা কঠিন। আমাদের বিশেষজ্ঞরা বলেন বাংলার প্রচলন হওয়া উচিত সবখানে, তবে ইংরেজি ছাড়া চলবে না। সবখানে বাংলা, পেশার জন্য ইংরেজি। ডলার-পাউন্ড-ইউরো তো আসে ওই ইরেজীর দেশ থেকেই। কথা না বললে ওরা জানবে কিভাবে আমরা কত অসহায়। কত প্রয়োজন। প্রয়োজনে সব করতে হয়। ঢাকাবাসি হয়ত গ্রীন সুপার মার্কেটের সামনে একজন পঙ্গু ভিক্ষুক দেখে থাকবেন। একদিন তার মুখে শোনা গেল, মাদার, মাদার, গিভ মি ফাইভ টাকা।
লক্ষ্য এক বিদেশী ভদ্রমহিলা। এমন নিখুত ইংরেজি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরুনো কীর্তিমানরাও বলতে পারেন কিনা সন্দেহ। একেই বলে প্রয়োজন। এজন্যই বিদেশী ভাষা।
আরেক উদাহরন না দিলে চলে না। পরিচিত একজন হঠাত করে জাপানী ভাষা শিখতে শুরু করল। কারন জানা গেছে জাপানী ভাষা শিখলে, জাপানের কোন প্রফেসরের রিকমেন্ডেশন বাগাতে পারলে জাপান যাওয়া যায়। চলল দু প্রক্রিয়াই। এক ভদ্রলোকের সাথে চিঠি আদান প্রদান। একবার সাহস করে লিখেই ফেলল জাপানী ভাষা শেখার কথা। পরের চিঠি এল খাস জাপানী ভাষায়। তারপর সেই চিঠি নিয়ে দৌড়াদৌড়ি। কে পাঠোদ্ধার করে দিতে পারে।
জ্ঞানলাভে জন্য প্রয়োজনে চীন দেশে যাও, কোরানের কথা। বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজনে হিব্রু ভাষা শেখ, বর্তমান বাংলাদেশের কথা। এখনও হিব্রুর প্রচলন হয়নি সেখানে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে। তবে ভালমতই চালু রয়েছে কোরিয়ান-ইতালিয়ান-মালয়েশিয়ান ভাষা পর্ব। মুখে ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে।
ভাষার মাস। ভাষার দিন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এতো আমাদেরই অবদান। সবাই- অবাক তাকিয়ে রয়। ক্রিকেটে সেঞ্চুরী না হতে পারে বইমেলায় প্রতিদিন নতুন বইয়ের সেঞ্চুরী পুর্ন হয়। বেষ্টসেলারের নতুন সংস্করন প্রতিদিন। লেখক নিজেই ষ্টলে উপস্থিত থাকবেন। আপনারা দলেদলে যোগ দিন। মাতৃভাষা প্রয়োগ করুন।
একবার এক বিদেশীর সাথে থাকা অবস্থায় রাস্তায় দুজনের মাতৃভাষার সংলাপ শুনে কান গরম হয়ে উঠল। একজনের সাথে আরেকজনের কি সম্পর্ক, কার জন্মদাত্রী কে এসব যদি জিজ্ঞেস করে বসে ? আড়চোখে তাকালাম তার মুখের দিকে কথার অর্থ বোঝে কিনা জানার চেষ্টায়। তিনি আস্বস্ত করে বললেন, সকলের আগে ওই শব্দগুলোর অর্থ শিখে নিয়েছি। একজন বলেছে ওগুলোই বেশি ব্যবহার হয়। ওথেকেই বুঝে নিতে হয় আন্তরিকতার পরিমান।
কাজেই, ভাষার গর্ব করুন। বাংলাভাষা দেশেই থেমে নেই। ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বাইরে। হয়ত হলিউডের **** *** শব্দের সাথে বাংলা শব্দও শোনা যাবে একদিন। আমরা এই ভাষাকে ছড়িয়ে দেব সবখানে।
আর ইংরেজি। ওটা ছাড়া জাপানীরা বিশ্বে দ্বিতীয়  ধনী দেশ হতে পারে। ওরা নিজের দেশে থাকে, দেশে কাজ করে। আমাদের শিখতেই হবে। যত ভাল ভাল চাকরী সব যে বিদেশে।
 

Browse