বাউন্ডুলে জিন্দাবাদ

Jun 13, 2011
রাহুল সাংকৃত্যায়ন একখানা বই লিখেছিলেন ভবঘুরে শাস্ত্র নামে আপনি যদি ভবঘুরে হতে চান তাহলে কিভাবে হবেন তার বিবিধ বর্ননা অন্যকথায় কিভাবে তারপথে চলবেন সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য হয়েও তিনি ছোটবেলায় বাড়ি থেকে পালিয়েছিলেন একবার ধর্ম বদল করলেন, তাতেও সন্তুষ্ট না হয়ে ধর্মত্যাগ করে কম্যুনিষ্ট হলেন তারচোখে মহাত্মা গান্ধী ছিলেন ভন্ড আপনারাও তাকে অনুসরন করে দলভারী করবেন এটাই নিশ্চয়ই তার কাম্য ছিল
সৈয়দ মুজতবা আলীও নিজেকে ভবঘুরে ভাবতেন নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতেন দেশ-বিদেশ তিনিও ভবঘুরে শব্দটি ব্যবহার করেই লিখেছেন
আপনি ভবঘুরে দেখেছেন কি ?
হয়ত দেখেন নি অন্তত বুকে-পিঠে ভবঘুরে লিখে ঘুরে বেড়ানো কাউকে যখন দেখেননি সবাই তো আর তাদের মত লিখে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষন করতে পারেন না
বুকে-পিঠে লেখা হয় দৃষ্টি আকর্ষনের জন্যই নানারকম লেখা কারো জামায় লেখা, দেখতে যেমন খেতেও তেমন খেয়ে দেখবেন নাকি!
এরই মধ্যে চোখে পরল চমকে ওঠার মত লেখা, বাউন্ডুলে

মহত্ব থেকে লাভ

Jun 11, 2011
মহত ব্যক্তিরা মহত কথা বলেন...
অনেকে হয়ত এরই মধ্যে অস্ত্র তৈরী করে ফেলেছেন। মনে মনে বলছেন, আরে ব্যাটা ওই কথা কি আমার থিক্যা বেশি জানস। আমি কি জানি না মহত ব্যক্তি কি, মহত কথা কি ?
কাউকে মহত ব্যক্তি চেনানো কিংবা মহত কথার উদাহরন দেয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে আমার নেই। বরং একটু ঘুরিয়েই বলি। অনেক সময় মহত্ব সরাসরি ধরা পড়ে না, সামান্য হলেও দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। এতে আপনার মহত্ব কমছে না। নিজেকে মহত ধরে নিয়েই মহত্বের খাতিরে এই সামান্য বিষয়টি এড়িয়ে যান।
কথা হচ্ছে, মহত ব্যক্তিরা মহত কথা বলেন। তারা কখনোই খারাপ দিক দেখেন না, যাকিছু ভাল, যাকিছু আশাবাদি সেদিকেই দৃষ্টি দেন। ওই যে অর্থমন্ত্রীর কথাই ধরুন না কেন। তিনি মহত বিষয়ের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বললেন শেয়ারবাজারে সবাই সর্বশ্রান্ত হয়নি, কিছু মানুষ টাকা কামিয়েছে। এটাই মহত্ব। ওই কিছু মানুষের যে উপকার হয়েছে তাকে স্বিকৃতি দিন।
কিংবা প্রধানমন্ত্রী যখন বললেন হরতালে পরিবেশ দিবসে পরিবেশ রক্ষা হয়েছে। কলকারখানা বন্ধ- গাড়ি চলাচল বন্ধ। সপ্তাহে একদিন এমন হলে কার্বনের টাকা আমাদের হাতে না এসে যায় না। সাথেসাথে সায় দিয়েছে বিরোধীদলও (এটাই বরং বিরল ঘটনা)। তারা আরো উতসাহে দুদিন হরতাল ডেকেছে। মহতের খাতায় নাম লেখানোর চেষ্টা আরকি।

ঘুস দক্ষতা বাড়ায়

Jun 9, 2011
এটা দুঃখজনক যে ঘুসের মত অতুলনীয় পদ্ধতি কে আবিস্কার করেছেন সেকথা ইতিহাসে লেখা নেই এমনকি যে গুগলে যে কোন শব্দ, ভুল হোক আর ঠিকই হোক, টাইপ করলে লক্ষ লক্ষ ফল দেখা যায় সেখানেও এর ফলাফল শুন্য আবিস্কারক হিসেবে কারো নাম নেই
অথচ ঘুসের মহাত্বের কথা কে না জানে মালয়েশিয়ায় তো আইন করা হয়েছিল, ঘুস নিন তবে একা খাবেন না সরকারকে ঘুস ট্যাক্স দিতে হবে
ব্যাকরনগতভাবে ঘুস নেয়া নাকি ঘুস খাওয়া এটাও আসলে নির্ধারিত হয়নি ঘুসের মত বিষয়ের জন্য এটাও অবমাননাকর সুকুমার রায় যদিও বলেছিলেন ঘুস খায় দারোগায়, তাহলেও সবচেয়ে সহজ ঘুস পদ্ধতি হচ্ছে টাকা টাকা কি কেউ খায় বড়জোর সেই টাকায় কিছু কিনে খায় কাজেই ঘুস খাওয়া শব্দ গ্রহনযোগ্য কিনা ভেবে দেখা উচিত

হয়রানি

Jun 5, 2011
হয়রানিমুলক মামলা একথা শুনতে শুনতে মানুষের এতটাই কানসওয়া হয়ে গেছে যে এরপর কি শোনার ধৈর্য্য থাকে না। গত আড়াই বছরে বহু হাজার মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এই কারনে। এমনকি রাজনৈতিক হয়রানীমুলক কারনে এমন খুনের মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে যে খুনির সাথে আদৌ রাজনীতির সম্পর্ক নেই। কিন্তু আগেই যেমন বলেছি, এগুলি কানসওয়া। এনিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না।
জরুরী আইনের সরকার যখন নানারকম মামলা কারনে নেতাদের গ্রেপ্তার করতে শুরু করল তখন বিদায়ী সরকারের একজন প্রভাবশালী নেতা বলেই ফেললেন, ওই মামলা তো হয়রানী করার জন্য দেয়া হয়েছিল। কিন্তু জরুরী সরকার দুর্নীতি দুর করবেনই করবেন। দুই প্রধান দলের প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হল দুর্নীতি মামলায়।
সেসব ইতিহাস। কিন্তু ওই মামলা নামের বিষয়টি থেমে থাকেনি। মামলা মানেই গ্রেপ্তার, গ্রেপ্তার মানেই রিমান্ড তারপর জেলহাজত। আদালত যদি জামিন দেয়ও সেই রায় জেলে পৌছে না, পৌছালেই বা কি আসে যায়!
বিষয়টি উল্লেখ করতে হচ্ছে কারন গত চারদলীয় জোট সরকারের একজন মন্ত্রী এরসাথে জড়িত। কাজেই খবরে সেটা স্থান পায়। তার জামিন দিয়েছে আদালত, সেটা নিয়ে বহু টানাহেচড়া। জামিন পেয়েছেন মুক্তি পাননি, এইসব। সেটাই খবর। অবশেষে তিনি ছাড়াও পেলেন ৪৭০ দিন জেলবাস করার পর। সেটাও খবর। এবং তখনই খবরে জানা গেল তার নামে মামলা সম্পর্কে।
তিনি ঘড়ি এবং মোবাইল ছিনতাই করেছেন, পুকুরের মাটি চুরি করেছেন।

দেখি না কি হয়

Jun 2, 2011
বহু মানুষ সিদ্ধান্ত বদল করে ইতিহাস সৃষ্টি করে রেখেছেন বিশ্ববাসীর সামনে। গ্যালীলিওর কথাই ধরুন না কেন। ডাক্তারী পড়ছিলেন। হঠাত উপলব্ধি করলেন সেটা তার বিষয় না। সেটা ছেড়ে গ্যালীলিয় হলেন। মানুষের চিন্তার পদ্ধতি পাল্টে দিলেন। নইলে ইতালির গ্যালীলিও নামে এক ডাক্তারের কথা কে মনে রাখত।
কিংবা ল্যু সুনের কথাই ধরুন না কেন। তিনিও ডাক্তারী পড়ছিলেন। তারপর নিজের পথ বুঝে সিদ্ধান্ত পাল্টালেন। ডাক্তার হওয়া ছেড়ে সাহিত্যিক হলেন এবং বিশ্বখ্যাতি লাভ করলেন।
অন্য দেশের উদাহরন যদি পছন্দ না হয় তাহলে দেশের উদাহরনই দেখুন না। এটাও ওই ডাক্তারী ছেড়ে অন্য দিকে যাওয়ার উদাহরন। জগদীস চন্দ্র ডাক্তার হতেই বিলেত গিয়েছিলেন। সেটা ছেড়ে বিএসসি পাশ করেই সন্তুষ্ট থাকলেন। আর পরিনত হলেন বিজ্ঞানীতে।
এসবের ব্যাখ্যা করেছেন ডেল কার্নেগি। তিনি উপদেশের বই লিখে বিশ্বখ্যতি লাভ করেছেন। তার বক্তব্য, ক্ষতি বন্ধ করা। যেই বুঝলেন আপনার পথ ভুল সেই মুহুর্তে সেটা ছেড়ে দেয়া।

উল্টাসুর

Jun 1, 2011
পাশ্চাত্যে গানের সুরের হিসেব খুব সহজ। অংক জানলেই চলে। এ-ওয়ান মানে ১১০ হার্টজ, এ-থ্রি মানে তার দ্বিগুন, ২২০ হার্টজ। এভাবেই দ্বিগুন, তিনগুন, চারগুন ...
ভারতীয় উপমহাদেশে সেতুলনায় সঙ্গিত অনেক জটিল। অনেকটাই কান নির্ভর। সা-রে-গা-মা-পা যাই বলুন না কেন, কানে শুনে বুঝতে হবে সেটা ঠিক আছে কিনা।
আর সেখানে যদি উল্টাসুর যোগ হয় তাহলে খবর আছে!
সেকারনেই সঙ্গিতে এত আয়োজন। তবলা, হারমনিয়াম, তানপুরা, সারিন্দা। সবাই একই তালে চলে। একই সুরে কথা বলে। একজন যে সুর ধরে অন্যকেও সেটাই ধরতে হয়। নইলে সঙ্গিত থাকে না।
সুর অবশ্য সঙ্গিত ছাড়াও থাকে। কথার সুরই ধরুন না কেন। একজন যা বললেন তারসাথে সুর ধরে তাকে আরেকটু এগিয়ে নেয়া। নীতির রাজা রাজনীতি যদি হয় তাহলে তো কথাই নেই। বরং এখানে গড়মিল হলে সমস্যা সঙ্গিতের চেয়েও বেশি। ওই যে প্রধানমন্ত্রীর কোন এক উপদেষ্টা (প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা কতজন কে জানে!) বললেন র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমন সন্ত্রাসী, তার বাপ সন্ত্রাসী, ভাই-বোন সব সন্ত্রাসী। পায়ে গুলি করবে না-তো কি করবে!
এরসাথে সুর মিলিয়ে যার দায়িত্বে র‌্যাব সেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, ওনার বক্তব্যই সরকারী বক্তব্য। আমাকে আলাদাভাবে প্রশ্ন করবেন না।
 

Browse