সিটি অব জয়

Apr 22, 2010
আনন্দনগর, কলকাতা সম্পর্কে এ নামেই বিশ্বখ্যাত বই লিখেছিলেন লাপিয়ের সাহেব। শুধু বইতেই না বইয়ের বাইরে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছিলেন একমাত্র সেখানেই জীবন দেখেছেন তিনি।
তা দেখারই কথা। খুব বেশিদিন আগের কথা না সেটা। পথের দুথারে জমে থাকত আবর্জনার স্তুপ, ঘরে ঘরে গোয়াল ঘর, পথে জানজট। কারেন্ট কখন আছে কখন নেই তা ভববানই বলতে পারেন। বাড়িতে বাড়িতে জেনারেটন নয় ইনভার্টার। বাসে বাদুর ঝোলা মানুষ।
সেই বাদুরঝোলা অবস্থায়ই আনন্দ। একজন রেগে বলছেন, দাত খুলে নেব। আরেকজনের উত্তর, দাতের ডাক্তার নাকি ?
আনন্দ আর কাকে বলে!
কিছু মানুষ ঢাকায় পা দিয়ে বলত, বাপরে! ইউরোপে এসে পড়লাম নাকি ? কি বড় বড় দালান, দামী দামী গাড়ি, ঘরে ঘরে জাপানী জিনিষ। আমরা বাপু ওসব জিনিষ চোখেও দেখিনা। বড়জোর চোরাই পথে কিছু ভিসিপি আসে।
দিন বদলায়। মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেচে থাকলে বদলায়। কারনে অকারনে বদলায়। বলে গেছেন মুনীর চৌধুরী। কাজেই দিন বদলেছে। এখন কলকাতায় নাকি পধের ধারে ময়লা নেই। জ্যোতিবাবুর জ্যোতিতে বদলে গেছে। দুমিনিটের সোজা পথ আধ ঘন্টায় ঘুরে আসতে হয়। কোনমতেই উল্টোদিকে যাওয়া চলবে না। সব আনন্দ কেড়ে নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে এখন আর ঢাকাকে কেউ ইউরোপের শহর মনে করে না। নট নড়নচড়ন ট্রাফিক। পানি নেই, বিদ্যুত নেই, গ্যাস নেই। বাসযাত্রীকে বাদুরের সাথে তুলনা করলে নিরীহ প্রাণীটিকে অসন্মান করা হয়। তারা অন্তত ডাল ধরেই ঝোলে, একজন আরেকজনকে ধরে ঝোলে না। রাস্তার দুপাশ পুরোটাই গাড়ি-রিক্সার গ্যারেজ। পুরো শহরটাই বাজার। দামাদামি করার অফুরন্ত সুযোগ। পর্যটন কর্পোরেশনের প্রচারপত্র খুলে দেখুন, এখানে দামাদামী করার সুযোগ পাবেন। আপনারা দলে দলে আসুন। অবশ্য একে দামাদামী বলেন না অনেকেই। বলেন মুলামুলি। শব্দটার উপত্তি সম্ভবত মলামলি থেকে। এটাও একধরনের কান মলামলিই। হাত দিয়ে কান না ধরে শব্দ দিয়ে কান মোচড়ানো।
আর আনন্দ! সে জিনিষটা ভরপুর। ওইতো, এক ভদ্রমহিলার সাথে রিক্সাচালকের তুমুল ঝগড়া। কেউ কারে নাহি ছাড়ে। তাদের ঘিরে উফুল্ল মানুষের ভীড়। হাতাহাতি লাগে না ক্যান। তাইলে তো মজাটা জমে।
আরেকটু দুরে হাতাহাতি চলছে। হাতাহাতি না বলে বরং গুতাগুতি কিংবা ঠেলাঠেলি বলাই ভাল। দুজন মাঝবয়সী ঠেলাঠেলি করে শক্তি পরীক্ষা করছেন। কে কাকে ঠেলে ফেলতে পারে। সেখানেও উসুক মানুষের ভিড়। একসময় একজন জয়ী হল। অপরজন উল্টে পড়ে ধাক্কা খেল রিক্সার সাথে। মাথা থেকে রক্ত বেরচ্ছে। ধরাধরি করে সেই রিক্সায় তুলেই নিয়ে যাওয়া হল হাসপাতালের পথে। অপরজন রেসলিংয়ে বিজয়ীর মত ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালেন সববেত জনতার দিকে, কেমুন খেলডা দেখাইলাম।
রাস্তায় মানুষ চলেছে পিলপিল করে। হাসতে হাসতে, গাইতে গাইতে। খুশিমনে এ ওকে ধাক্কা দিচ্ছে, তাকে কাতুকুতু দিচ্ছে, আরেকজনের বাপের শ্রাদ্ধ করছে, কানের সাথে মোবাইল ধরে হাসতে হাসতে বলতে বলতে চলেছে। রীতিমত স্বপ্নের দেশ।
লাপিয়ের সাহেব আনন্দের শহর নিয়ে লিখেছিলেন। মনে চাইলে স্বর্গের শহর নিয়েও লিখতে পারেন।

বিষ্ফোরন

Apr 18, 2010
একসময় বামপন্থীদের ভাল অবস্থা ছিল। মানে, আমি বামপন্থী একথা বলে বেশ আসর জমানো যেত। রীতিমত কদর পাওয়া যেত। কেউ কেউ আবার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সেই বামপন্থী মতবাদ প্রচারের কাজেও লেগেছিলেন। একেবারে সহজ সরল ভাষায় তাদের বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের বই লেখা হোত। ছাপা হোত। বিক্রিবাট্টাও হয়ত ভালই ছিল। উদাহরন দিয়ে দেখানো হোত কেমন করে, কতদিনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।
যেমন ধরুন পদার্থবিদ্যার উদাহরন। আজকাল অনেকেই যে গুনগত পরিবর্তনের কথা জোরেসোরে বলেন তার উদাহরন।
একটি পাত্রে পানি রাখিয়া মুখ বন্ধ করিয়া উত্তপ্ত করুন। তাপ প্রয়োগের সাথেসাথে পানির উষ্ণতা বৃদ্ধি পাইবে। ইহা পরিমানগত পরিবর্তন। তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রীতে পৌছাইলে পানি বাষ্পে পরিনত হইবে। ইহা গুনগত পরিবর্তন। যদি বাষ্প বাহির হওয়ার পথ না থাকে তাহা হইলে পাত্রটি বিষ্ফোরিত হইবে। বিষ্ফোরন ঠেকাইতে হইলে বাষ্প বাহির হওয়ার পথ করিয়া দেওয়া প্রয়োজন, অথবা উত্তাপ কমানো প্রয়োজন।
বাস্তবের সাথে মিল করে দেখানো হত এই সুত্র। শাসক যদি এমন আচরন করেন যারফলে মানুষ অসন্তুষ্ট হয় তাহলে তাদের সেই অসন্তুষ্টি তাপমাত্রার মতই বাড়তে থাকে। এইই পরিমানগত পরিবর্তন। অসন্তুষ্টি বিশেষ পর্যায়ে পৌছালে সেখানেও বিষ্ফোরন ঘটে। বিষ্ফোরন এড়ানোর জন্য পাত্রে ফুটো করার উপযোগি ক্যাডার বাহিনী ব্যবহার করতে হয়। অথবা সন্তুষ্টি বাড়ানোর কাজ করতে হয়।
আজকাল কিছু মানুষ অসন্তুষ্ট হয়ে পথে নামছে। মানববন্ধন করছে, মিছিল করছে, শ্লোগান দিচ্ছে। কে জানে, হয়ত এটা পরিমানগত পরিবর্তন। পরিমান হয়ত বাড়তির দিকে। সরকার বলছেন ধৈর্য্য ধারন করুন। প্রধানমন্ত্রী বলছেন তিনি নিজের হাতে সুইচ বন্ধ করেন, আপনারাও সুইচ বন্ধ রাখুন। ধৈর্য্যহারা হয়ে পথে নামবেন না।
বাঙালীর ধৈর্য্য সবসময় প্রশংসনীয়। সাত চড়েও রা কাটে না। একগালে চড় দিলে আরেক গাল এগিয়ে দেয়। ৯ বছর আন্দোলন করে, বহু জীবন দিয়ে এরশাদ সরকারকে সরানো হয়েছে। সেদিন কারো ওপর রাগ দেখানো হয়নি। এককথায় তাদের মাফ করে দেয়া হয়েছে।
কিন্তু ওইযে গুনগত পরিবর্তন। সেটা ভয়ের কারন বৈকি। সেটা যে এখনো বাকি।
ট্যাপে পানি নেই, বিদ্যুতের অভাবে বাতি জ্বলে না, ফ্যান ঘোরে না, গ্যাসের অভাবে চুলা জ্বলে না, এগুলো বাঙালীর ধৈর্য্যচ্যুতির কারনে সহায়তা করতে পারে কিন্তু মুল কারন অন্যখানে। তাদের সামনে একজন রাতারাতি শতকোটি টাকার মালিক হচ্ছে, কোটি টাকার গাড়ি হাকাচ্ছে, খুন করে নিজেই খুনের মামলা তুলে নিচ্ছে, এসব ঘটছে তাদের চোখের সামনেই। কোন রাখঢাক নেই। পত্রিকায় খবর দিয়েছে প্রতি ৮ সেকেন্ডে একটা এই হারে মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এগুলি দৈর্য্যচ্যুতির তাপমাত্রা বাড়াতেই পারে। একসময় তা বিষ্ফোরন ঘটাতেও পারে।
আর একবার ক্ষমা করার ফল যখন জানা তখন আরেকবার বিষ্ফোরনের সময় ফল অন্যরকম হতেও পারে। গুনগত পরিবর্তনের কথা যখন বলছে সকলে।

পথ কোন দিকে

Apr 16, 2010
সংস্কৃতি কিংবা দেশপ্রেম নিয়ে সন্দেহ পোষন করার কোন কারন নেই অন্তত বিশেষ বিশেষ দিনে যখন যেমন খুশি সাজো পোষাক পড়ে মুখে রং মেখে লাখো মানুষ পথে নামে তখন প্রশ্ন করছেই বা কে এদেশে জন্মগ্রহন করে আমরা ধন্য, আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতির তুলনা মানবজগতে নেই একটু আধটু ধাক্কাধাক্কি, গালাগালি, হাতাহাতি এসব তো হতেই পারে এতে মন খারাপ করার কি আছে ? আমরা এত ছোট বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাই না ওই সংস্কৃতি আর স্বাধীনতা, ওসব বড় বড় বিষয় আমাদের চিন্তায়, আচারে, আচরনে, ব্যবহারে, ভাষায়, পোষাকে ...
একটুখানি কিন্তু থেকেই যায় একেবারে টাটকা অভিজ্ঞতা দিয়েই বলতে হচ্ছে,
সাইবার ক্যাফে নামক যায়গায় চুরি সবসময়ই ঘটে যেখানে দেয়াল যত উচু সেখানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার সুযোগ তত বেশি, ঘন্টাপ্রতি টাকার পরিমান তত বেশি, চুরি হওয়ার সম্ভাবনা তারচেয়েও বেশি কম্পিউটার থেকে র‌্যাম, হার্ডডিস্ক খুলে নেওয়ার বিষয়টা অনেকটাই নিয়মিত সেতুলনায় পুরো মনিটর হাওয়া করে দেয়াটা নতুনত্বের দাবী করতে পারে আজকাল ডিজিটাল যুগের ছোট মনিটর আর প্রত্যেকের কাধে ঝুলানো ব্যাগ সে সুযোগ করে দিয়েছে সেটাই ঘটল ক্যাফের লোকে চোখে পড়ল মনিটর হাওয়া
সাথেসাথে বাইরে ছুট তাকে ধরাও গেল সামনের রাস্তায় বেশিদুর যেতে পারেনি সাথেসাথে লোক জমে গেল বেশ একটা তামাসা পাওয়া গেছে তামাসা দেখতে হাজির হল হল পুলিশও
তবে পুলিশ বোধহয় শুধু রসিকই না সেই সাথে বাস্তবধর্মীও বটে সেইসাথে কর্তব্যপরায়ন সাথেসাথে হাতকড়া লাগিয়ে ফেলল বিপত্তিটা বাধল সেখানেই
ক্যাফে মালিকের বক্তব্য, ওর বাড়িতে খবর পাঠাব ওর অভিভাবক আসলে মাফ চাইবে, ছেড়ে দেব আমরা অভিযোগ করিনি হাতকড়া লাগালেন কেন ?
পুলিশের বক্তব্য, এটা আমাদের কর্তব্য ওকে থানায় নেব আরো পাচটা কম্পিউটার চুরি করছে সেইডা জানেন ? খবর রাখেন কিছু ?
কাজেই টেনে-হিচড়ে রাজপথ পর্যন্ত এরই মধ্যে থানার বড়সাহেব পর্যন্ত হাজির
বাঙালীর বাঙালীত্ব সম্ভবত এখনও পুরোপুরি যায়নি আসেপাশের লোক রীতিমত হাউকাউ শুরু করল কোথায়, কত টাকায় কন্ট্রাক্ট হবে সে বিষয়েও ভবিষ্যতবানী শোনা গেল শেষমেশ হতাস হয়েই পুলিশকে খালিহাতে বিদায় নিতে হল
আসলে ঘটনাটা সামান্যই নেতা যখন শতকোটি-হাজার কোটি চুরি করে, সেটা নিয়ে প্রকাশ্যে বাহাদুরী দেখায় তখন এসব ছোটখাটো বিষয় কি অপরাধ হতে পারে ?
মোটেই না সবাই বলছে অর্থনৈতিক উন্নতি প্রয়োজন যেভাবে পারো অর্থ উপার্জন করো আলোচনা আলো যদি লোডসেডিংএ নিভে যায় তাহলে বাকি থাকে চোনা। অর্থনৈতিক থেকে অর্থ বাদ দিলে বাকী যা থাকে তাকে কি চলবে ? তাই দিয়ে কি দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হবে ?
ওসব চুরিতে কিছু যায় আসে না আমাদের স্বাধীনতা আছে, সংস্কৃতি আছে, গর্ব আছে সামান্য চুরিতে আর কি ক্ষতি হবে
সমাজ নিয়ে যারা ভাবেন, রাজনীতি নিয়ে ভাবেন, দেশ নিয়ে ভাবেন তাদের কেউ কেউ বলেন বর্তমানের নেতারা খারাপ হয়ত পরিবর্তন প্রয়োজন হয়ত তাই
এই নেতাদের পরের সারিতে যারা অপেক্ষা করছে সেখানে কি ভাল কিছু দেখছেন ? তার পরের সারিতে ?? তার পরের সারিতে ???
বর্তমান নেতারা একসময় সুনাম কুড়িয়েছিলেন, পরে সুযোগ বুঝে চোর হয়েছেন তাদের উত্তরাধিকারী জন্ম নিয়েছে চোরের ঘরে তাদের ভাল হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু লক্ষন কি বলে ?
যারা তত্ত্বকথা বলতে পছন্দ করেন তারা বলেছেন গনতন্ত্র হচ্ছে সাধারন মানুষের তন্ত্র নেতা জনগনের হাতে গনতন্ত্র তুলে দেন না, জনগনকেই সেটা তৈরী করে দিতে হয় সেই জনগন আশায় বসে থাকে কে গনতন্ত্র এনে দেবে, যদি হিসেব করে কোন নেতার হাত গলে কতটুকু পাওয়া যাবে তাহলে প্রশ্ন করতেই হয়, পথ কোন দিকে ?

প্রতিশ্রুতি

Apr 12, 2010
প্রতিশ্রুতির সাথে ভুলে যাওয়ার খুব গভীর সম্পর্ক। এক তৈরীই হয়েছে অন্যের জন্য। এইতো, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী ১০টাকা কেজি চালের কথা বলেছিলেন কিনা ভুলে গেছেন। বলেছিলাম না-কি ! ও। হয়ত আগের কোন নির্বাচনের সময় বলেছিলাম। কিন্তু এইযুগে ১০টাকা কেজি চাল হলে কৃষকের কি দশা হবে ভাবুন তো। আমরা কি কৃষককে মারতে পারি!
কাজেই প্রতিশ্রুতি ভুলে যাওয়ার উপকারিতা অনেক। কৃষক বাচানো যায়।
কিংবা ধরুন, মন্ত্রী বললেন বঙ্গোপসাগর থেকে পানি এনে হলেও ঢাকাবাসিকে দেয়া হবে। এদেশের নাগরিককে কোন কষ্ট করতে দেয়া হবে না। ঢাকাবাসি যখন প্রতিদিন পানির জন্য রাস্তায় নামছে তখন মনে করিয়ে দিতে পারেন সেই প্রতিশ্রুতির কথা। কিন্তু এরই মধ্যে যে নতুন প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এবছরই যমুনার পানি বুড়িগঙ্গায় আনা হবে। সেতো আপনাদেরই জন্য। ধৈর্য্য ধরুন।
কিংবা প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন বাড়িতে পানির জন্য দুই লাইন বসানো হবে। একটাতে খাবার পানি, আরেকটাতে অন্যান্য কাজের পানি। আজকাল পানিতে কেচো পাওয়া যায়। ওটা ভাল দেখায় না। কেচো হল গিয়ে প্রকৃতির লাঙ্গল। এভাবে ওদের খেয়ে ফেলা সহ্য করা যায় না।
তাছাড়া কোন কোন দেশে নাকি খাবার পানিতে ফ্লুরাইড মেশানো থাকে। দাত বাচাতে আগে থেকেই সাবধান। আমরাও কিছু করে দেখাতে চাই। যাকিছু প্রোটিন-ভিটামিন প্রয়োজন সব ওই পানিতেই মিশিয়ে দেব। আপনারা টেরই পাবেন না সরকার গোপনে গনগনের কি সেবা করছে। ওসব বাইরে বাইরে কি হচ্ছে ওসবে কান দেবেন না। পানি নিয়ে হাউকাউ করবেন না। পানিতে মারব, ওটা কথার কথা। পানির অভাবে কেউ মারা যায় না। বড়জোর ডায়রিয়ায় মারা যেতে পারে। সেটাও মানুষের গাফিলতি। সময়মত হাসপাতালে যায়না। আবার ডাক্তারদেরও গাফিলতি আছে। ডায়রিয়া-কলেরার রোগি গেলে তাদের বাচায় না। অন্যের গাফিলতির দায় সরকারের ওপরে চাপাতে পারেন না।
আর বিদ্যুত নেই বলছেন ?
এ আর নতুন কি ? ওই জোট সরকার যা করে গেছে না। কত আর বলব। সব ষড়যন্ত্র। এমন ব্যবস্থা করে গেছে যেন পরের সরকার ভোগান্তির মুখে পরে। আপনারা দৈর্য্য ধরুন, আর ৫ বছরের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে।
আরো ৫ বছর কেন ? ক্ষমতার মেয়াদ তো সাড়ে তিন বছর ??
আরে ওইটাই তো প্রতিশ্রুতি। জানেন ডাক্তার কি বলে ? নিজের কানে শোনা। অসুখ যদি সেরেই যায় তাহলে টাকা দেবে কেন ? যতদিন অসুখ ততদিনই টাকা। যতদিন মামলা ততদিন টাকা। সমস্যা যদি মিটেই যায় তাহলে কি ডাক্তার, উকিল, পুলিশের পকেটে টাকা যায় ? সমস্যা মিটলে সামনের ইলেকশনে ভোট দেবেন ?
প্রতিশ্রুতি শুনে রাখুন। যে প্রতিশ্রুত দেয় সে ভুলতে পারে, যাকে দেয় সে কখনো ভোলে না। আরেকবার ক্ষমতায় এলেই সব সমস্যার সমাধান ......

টেন্ডার

Apr 10, 2010
ইংরেজিতে টেন্ডার শব্দের অর্থ-, মোলায়েম জাতিয় কিছু একটা হবে। নিশ্চিত করতে পারছি না কারন ইংলিশে বরাবরই কাচা এবং দুর্মুল্যের বাজারে চাল না কিনে ডিকশনারী কেনার অর্থ হয়না। বাংলা টেন্ডার নিয়েই কথা বলি।
এটা হচ্ছে, নিয়ম মোতাবেক কাজ করার পদ্ধতি। বিশেষ করে সরকারী কাজের ক্ষেত্রে বাধ্যতামুলক (দুএকটা ব্যতিক্রম ঘটলেও ঘটে থাকতে পারে)। আর পদ্ধতিটি হচ্ছে;
একাধিক বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন আকারে কাজ বা দ্রব্যের বিবরন প্রকাশ করে দরপত্র আহ্বান। যারা কাজ করতে বা জিনিষ কিনে দিতে আগ্রহী তারা নিজেদের যোগ্যতা প্রমান করে প্রতিযোগিতামুলক মুল্য জমা দেবেন। যিনি যোগ্যতার মাপকাঠি পুরন করেন এবং যাহার মুল্য কম তিনি কাজ পাইবেন।
মোটকথা এই হচ্ছে টেন্ডার পদ্ধতি। অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতার যতরকম কাগজপত্র আছে জমা দেবেন এবং সম্ভাব্য কম মুল্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেবেন।
মাঝের পর্যায় বাদ দিয়ে শেষ পর্যায়টি সংক্ষেপে উল্লেখ করি। কাজ অথবা সরবরাহকৃত দ্রব্য যাচাই করার পর বিল পরিশোধ করা হইবে।
এই নিয়মেই সবকিছু হচ্ছে। কিছু এদিক-ওদিক, সেতো সবখানেই হয়। গরমের দিন বলেই কি সবদিন সমান তাপমাত্রা থাকতে হবে ? কমা-বাড়া চলবে না ?
কাজেই কিছু এদিক ওদিক হয়। দক্ষতা-অভিজ্ঞতার বিচার যেহেতু করেন কমিটির সদস্যগন, কাজেই তাদের সন্তুষ্ট রাখলে কিছু পয়েন্ট বেশি হতেই পারে। সেই টেকনিক্যাল পয়েন্টের গুনে সবচেয়ে কমদামকে পাশ কাটানোও যায়।
আবার শর্তে আছে কমপক্ষে অতজনকে অংশগ্রহন করিতে হইবে। চারজন হলে একাই চারনামে কাগজ জমা দেয়া যায়। অন্য কারো দাম কমানোর সম্ভাবনা থাকলে তাকে দুরে রাখা যায়। একসময় এই পদ্ধতি ছিল ঘুষ দেয়া। আমি এত টাকা দিচ্ছি ভাই, তুমি সরে দাড়াও। তারপরের পদ্ধতি টেন্ডার কিনতে না দেয়া। তারপরের পদ্ধতি টেন্ডার জমা দিতে না দেয়া। পরিচিত একজনকে পিস্তলের মুখে আটকে রাখা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত।
তারপরও কিছু ফাকফোকর থেকেই যায়। কাজ হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। কাজেই, একেবারে কার্যকর পদ্ধতি,
কাজটা আমার। তুই কে-রে ব্যাটা!
সেই ব্যাটা যদি আবার নিজের দলের হয় তাহলেই মুসকিল। সেও সমানে সমানে ঘুরে দাড়ায়। তখন একটু-আধটু ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, একটু-আধটু মারামারি, দুএকটা খুন হতেই পারে। এসব সাধারন ঘটনা। অন্তত খুন পর্যায়ে না গেলে এনিয়ে মাথা ঘামানো কিছু নেই। সরকার উন্নয়ন করে টাকা খরচ করতে পারছে না। বাজেটে ছিল ৩০ হাজার কোটি, খরচ হয়না দেখে সেখান থেকে কমানো হয়েছে, তারপরও খবর হবে কিনা সন্দেহ। এটা হলে কি মান থাকে ?
কাজেই, টাকা খরচ কর। যারা ইলেকশনে জিতাইছে তাগো কাজ দাও। ওইসব অভিজ্ঞতা-টভিজ্ঞতা বাদ। দুই কোটি ট্যাকার কামে অভিজ্ঞতা লাগব না। জোট সরকারের আমলে কাম করেনাই বইলা কি মহাজোটের আমলে কাম করব না। ইলেকশনের আরো বহুত দেরী। অহন যা করার কইরা ফালাও। ইলেকশনের আগ দিয়া দলের ভাবমুর্তি নষ্ট করা চলব না। ওই মিয়ারা, কাম দেন। ট্যাকা খরচ করেন। বছরের মাত্র দুইমাস বাকি।
একসময় পুরনো পাগলদের দুচারজনের দেখা পাওয়া যেত। এখন টেন্ডার আর লীগ সমার্থক শব্দ। মাঠ ফাকা। গুতোগুতি হলে নিজেদের মধ্যেই হয়।
বাছারা, তোমরা যা করার কর, খুনাখুনির পর্যায়ে যাইও না। নিজের ভাইরে খুন কইর না। লোক কুকথা কয়। নৌকায় বইসা জোটের সদস্য কয় এইসবের দায় কান্ধে নিব না। এইদেশের পাবলিক বড় খারাপ রে ভাই। কখন কোন হুজুগে মাতে কে জানে।
ইংলিশে টেন্ডার বইলা একটা শব্দ আছে। তার মান রাখ। চুপেচাপে কাম কর-

বিকল্প

Apr 9, 2010
বিকল্প খুব ভাল জিনিষ। মানে, খুব আগ্রহের জিনিষ। সবাই যেপথে চলেছে সেপথ ছেড়ে নতুন পথে চলা। অন্যকে পথ দেখানো। এরচেয়ে বড় কৃতিত্ব অন্যকিছুতে হয় না। একজন সমাজসংস্কারক বিকল্প পথের সন্ধান দেখিয়ে রীতিমত নবীর পর্যায়ে পৌছেছিলেন। এখনও বিকল্প বলতেই তার নামটি চলে আসে। ইউনিভার্সিটি পাশ বেকার ? ভাবনা নেই বস। গাড়ি চালাও। এতবছর ধরে বাপ-মায়ের টাকা পয়সার যে শ্রাদ্ধ করেছ, কয়েক বছর ধরে ইউনিভার্সিটিতে যে কেরাতমী দেখিয়েছ এবার সেটা রাজপথে দেখাও। আমরা দেশে কোন অশিক্ষিত ড্রাইভার রাখব না। সব হবে বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা।
তার রেশ এখনও কাটেনি। এখনও যানবাহনে পরিস্কার করেই লেখা থাকে, সিএনজি চালিত, ভাড়ায় চালিত, ছাত্র চালিত-
তবে শিক্ষিত বলে কথা। তারা নিজেরাই বিকল্প খুজে নিতে জানে। পাবলিক গাড়ি চালানোর মত নিকৃষ্ট কাজ না করেও তাদের চেয়ে বেশি কামানো যায়। দরকার শুধু একটু সাহস আর একটু বুদ্ধি।
বিকল্পে ব্যবহার শিক্ষাক্ষেত্রেই বোধহয় সবচেয়ে বেশি। ঢাকা শহর ছেয়ে গেছে বিশাল বিশাল বিজ্ঞাপনে, বিকল্প পথে ব্যারিষ্টার। অতশত কষ্ট করার দরকার নেই। টাকা নিয়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন আমরা নামের আগে ব্যা লাগিয়ে দেব।
আর স্কুল কলেজ প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির তো কথাই নেই। মেধা প্রয়োজন নেই, আমরা বিকল্প পথে ব্যবস্থা করে দেব। বাবা-মা! ওরা আবার ছেলেমেয়ের জন্য কষ্ট করবে কেন ? টাকা সাপ্লাই দেয়াই যথেষ্ট। বাকি ভাবনা আমাদের। সন্তানকে আমাদের হাতে তুলে দিন আর মাসমাস টাকা গুনুন।
আরো বিকল্প চান ? বিকল্প পথে স্পোকেন শিখুন, বিকল্প পথে উপার্জন করুন, বিকল্প পথে চলাফেরা করুন, বিকল্প পথে চিকিসা করুন, বিকল্প খাবার খান, বিকল্প পোষাক পরুন, বিকল্প চিন্তা করুন, বিকল্প হাটুন, বিকল্প ঘুমান....
নামকরা লেখকের বইয়ের অনেক দাম। শুধু নামের গুনেই দাম বেড়ে যায়, সেই সাথে কমে কমিশন। নিলে নেন নানিলে নাই, এইসুরে কথা বলে বিক্রেতা। ঝকঝকে গ্লসি কাগজে ছাপা, কাঠের মত শক্ত কাভার, তাতে সোনালী রঙে নাম লেখা। ওই নাম লিখতে নাকি ৫ টাকা দাম বেড়ে যায়। ঘরে সাজিয়ে রাখলেও লোকে সন্মান করে কথা বলে। এমন বই কি হাতছাড়া করা যায় ?
কাজেই কয়েকবার চাওয়ার পরও যখন ধারনেয়া ব্যক্তি মার্ক টোয়েনের পথ ধরেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেল তখন আর চুপ করে থাকা গেল না। বইটা ফেরত নিতেই হবে।
তিনিও হাসিমুখেই ফেরত দিলেন। তবে, রীতিমত আতকে উঠার মত ঘটনা। ওপরে-নিচে যে শক্ত কাগজ ছিল সেটা উধাও।
কাভার গেল কোথায় ? এটা ছেড়া তো রীতিমত কষ্টসাধ্য ব্যাপার !
হে-হে-হে, লোডসেডিংএ বিকল্প পাখা বানাইছি। সুন্দর হাওয়া খাওয়া যায়।
 

Browse