অষ্টম সুর

Feb 4, 2013

গুপি গাইনকে ৩য় সুর এবং ৬ষ্ঠ সুরে চাপিয়ে গ্রাম থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে এই দুই সুরের সমম্বয় বেড়েছে না কমেছে নিশ্চিত করে বলা কঠিন। গাধার অস্তিত্ব রয়েছে একমাত্র চিড়িয়াখানায়। সেখানেও খুব ভাল আছে মনে করার কারন নেই। প্রায়ই চিড়িয়াখানা বিষয়ে নানারকম খবর ছাপা হয়।
বরং সুর নিয়েই থাকা যাক। তাকে অন্তত টাকা খরচ করে খাওয়াতে হয় না। বর্তমানকালে তো বটেই। আগেকার দিনে গান শেখার জন্য সারেগামা করতে হত, এখন সেটো প্রয়োজন হয় না।
হিসেবে সুর ৭টি হওয়ার কথা। সা-রে-গা-মা-পা-ধা-নি। সমস্যা হচ্ছে এখানেই সুর থামে না। শেষে আরেকবার সা যোগ করা হয়। সেটা করার পর সপ্তসুর বিষয়টি থাকা উচিত না।
এই অষ্টম সুরের প্রয়োজন কি এনিয়ে কেউ গবেষনা করলেও করতে পারেন। সুরসাধকের গবেষনা একরকম আর বাংলাদেশের বাস্তবতা আরেকরকম। বাংলাদেশে মানুষ মুখ খুললেই সেখানে রাজনীতি এসে হাজির হয়। রাজনীতিতে অষ্টম সুরের ব্যবহার কি সেটা বরং আলোচনা করা যেতে পারে।
সুর একদিকে যাত্রা করে থেকে যায় না, একবার যায় আরেকবার ফিরে আসে। ফিরে আসার জন্য যে প্লাটফর্ম প্রয়োজন হয় সেটাই অস্টম সুর। একে বাংলায় পুনরাবৃত্তি বলতে পারেন (ভাষার মাস যখন চলছে)।
একটা উদাহরন দিয়েই দেখা যাক।

বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর পরিচিতি একাধিক রঙের। এক পরিচয়ে তারা দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা। সুশৃংখল, পরিশ্রমী, সত ইত্যাদি। বিভিন্ন সময় তারা কাজে সেটা দেখিয়েছেন। এরশাদ সাহেব ক্ষমতার শেষপ্রান্তে এসে তাদের ব্যবহার করে টিকে থাকতে চেয়েছিলেন, তারা সায় দেয়নি। দুর্নীতির প্রশ্নে তাদের তুলনা নেই। বাংলাদেশের যে কোন গোষ্ঠির তুলনায় তারা কম দুর্নীতিগ্রস্থ এটা প্রমানিত সত্য।
অন্য রঙটি বেশ জটিল। ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতি তার পরিবারের সদস্য সহ নিহত হন সেনাবাহিনীর সদস্যের হাতে। এরপর ক্যু-পাল্টা ক্যু, খালেদ মোশাররফ-কর্নেল তাহের ইত্যাদি সেনা কর্মকর্তার ভুমিকার পর একসময় রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলেন আরেক সেনাকর্মকর্তা জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালে তিনি নিহত হলেন আরেক সেনা কর্মকর্তার হাতে। বছরখানেকের মধ্যে ক্ষমতা গেল আরেক সেনাকর্মকর্তা এরশাদের হাতে। তিনি নয় বছর দেশ শাসন করলেন।
অনেকে মনে করেছিলেন রাজনীতিতে সেনাকর্মকর্তার ভুমিকা হয়ত শেষ হল। বাস্তবতা সেকথা বলে না। আবারো দুবছর দেশ চলল প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সেনাকর্মকর্তার ইচ্ছেয়। এরপর ...
প্রশ্নটা এখানেই। দেশ কি আবারো পুনরাবৃত্তি নামের অষ্টম সুরের দিকে যাচ্ছে।
অনেকেই মনে করেন দুবছল দেশের জন্য ভাল ছিল। অনেকে আরো আগ বাড়িয়ে বলেন এরশাদের সময় ভাল ছিল। সহজ কথায়, পরবর্তীকালে দুই প্রধান দলের প্রধানগত এতটাই খারাপ করেছেন যে তাদের সময় খারাপের চেয়ে ভাল। বাংলাদেশের মত বিপুল জনশক্তির একটি দেশ, যার সম্পর্কে প্রতিদিনই আশার বানী শোনা যাচ্ছে সেদেশের মানুষের কাছে প্রধান সমস্যা ক্ষমতাশীনের নির্লজ্জ দুর্নীতি। মানুষ মনে করলে একমাত্র দুর্নিতি বন্ধ করলেই দেশ তরতর করে সামনের দিকে যাবে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীকে বলেছেন গনতন্ত্রের শত্রুর বিরুদ্ধে সচেতন থাকতে বলেছেন। সেকারনেই এই প্রসংগের অবতারনা।
সেনাবাহিনীর মুল কাজ বাইরের আক্রমন থেকে দেশরক্ষা করা। বাস্তবে প্রাকৃতিক দুযোর্গ, ত্রান বিতরন থেকে শুরু করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনের মত কাজ তাদের দিয়ে করানো হয়েছে। তারা সুনামের সাথে কাজ করেছেনও। কিন্তু গনতন্ত্র রক্ষার বিষয়টি কি ? সেটা কি রাজনীতির বিষয় না! তিনি নিজেই যখন পরিবর্তন করে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ বন্ধ করেছেন তখন আবারো তাদের ডাকা হচ্ছে কেন ?
অষ্টম সুরের ভুমিকা এখানেই। আগের অভিজ্ঞতা তিনি ভোলেন নি। দুবছর সেনাশাসন দেখে অনেকে বিরক্ত হয়ে বলতে শুরু করেছে এরচেয়ে রাজনৈতিক সরকার ভাল। এই পদ্ধতি কি আবারো কাজে লাগানো যায় না! অন্তত সরকারের জনপ্রিয়তা যেখানে গেছে তাতে স্বাভাবিক নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা যখন প্রায় শুন্য।
যায়। কোনভাবে নির্বাচন বাতিল হলে সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা যাবে। নেতাগন বছরখানেক বা বছর দুয়েক দেশবিদেশে থেকে, গত কয়েক বছরের কামানো টাকায় দিব্বি চলতে পারবেন। এরপর মানুষ যখন আবারো রাজনৈতিক সরকারের জিগির তুলবে, বর্তমানের বিতর্কগুলি পলিচাপা পড়বে, তখন আবারো ক্ষমতায় আসা যাবে।
অষ্টম সুরের চেয়ে ভাল আর কি হতে পারে ?

0 comments:

 

Browse