দৃষ্টান্ত সবসময়ই
দৃষ্টান্ত। আপনি স্বিকার করুন বা নাই করুন, সেটা উদাহরন হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
নিজে অনুসরন না করলেও আড্ডা দেয়ার উপকরনে পরিনত হয়। নিজের পান্ডিত্য প্রচার করা
যায়।
সেই মোল্লার কথা
বলা হচ্ছে না যিনি সরাসরিই বলেন, আমি যা বলি সেটা কর। আমি যা করি সেটা করো না।
তিনি বরং রীতিমত সত্যবাদি। সরল-সত্য কথাই বলেছেন। বলার সময় তিনি উপদেশ দেন,
দৃষ্টান্ত দেখান। নিজে সেপথে চলেন না।
কাজেই দৃষ্টান্ত
থেকে আপনি কোনটা গ্রহন করবেন সেটাকে আপনার বিষয়। আপনি তার কথা গ্রহন করে নিজের কথা
হিসেবে প্রচার করতে পারেন। সেইসাথে তার আচরন অনুসরন করতে পারেন।
বাংলাদেশে কথা
উঠলে রাজনীতি হাজির না হয়ে পারে না। কাজেই দৃষ্টান্ত দিতে গেলে সেখান থেকে দেয়াই
ভাল।
রাজশাহী
বিশ্ববিদ্যায়ের একজন ছাত্রনেতার পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়েছে। রগ কাটার সাথে
ছাত্রশিবির নামটি ওতপ্রোতভাবে জরিত। কাজেই পরবর্তী মন্তব্য করা নিশ্প্রয়োজন।
বরং আগের বিষয়
কিছুটা ব্যবহার করা যেতে পারে দৃষ্টান্ত হিসেবে। তিনি পরীক্ষা দেননি, ফরম পুরন
করেননি ইত্যাদি কারনে ছাত্রত্ব হারিয়েছেন। তারপরও ছাত্রলীগের সহসভাপতির পদ নিয়ে
ছাত্রনেতা হিসেবে বিচরন করছেন কয়েক বছর ধরে।
নিজের দলের
আরেকজন নেতাকে খুন করার অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত। একসময় শৃখলাভঙ্গের কারনে দল থেকে
বহিস্কৃত হয়েছেন। তারপরও তিনি ছাত্রলীগ নেতা। তার বিচরন সেই শিক্ষাপ্রতিস্ঠানেই।
সম্প্রতি
ছাত্রশিবিরের মিছিলে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আত্রমন করা হয়, পুলিশের সামনে গুলি ছোড়া
হয়। তিনি সেখানে নেতৃত্বে ছিলেন। পুলিশের বক্তব্য, অস্ত্রপ্রদর্শন করলে অপরাধের
কিছু নেই। ধরা পরলে তারা ব্যবস্থা নিতে পারেন।
তিনি আহত হয়ে
হাসপাতালে চিকিতসা নিলেও সেই নিয়মে ধরা পড়েননি।
এরপরের ঘটনা
বর্তমান। রাতের অন্ধকারে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আহত করার পাশাপাশি পায়ের রগ
কেটে দেয়া হয়েছে।
দৃষ্টান্তের কমতি
নেই। একাজ ছাত্রশিবির করেছে এতে সন্দেহ নেই। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে
চায় (এধরনের ছাত্রনেতার রগ কেটে কিভাবে সেটা সম্ভব প্রশ্ন করতে পারেন, উত্তর পাবেন
না)।
অনেকেই প্রশ্ন
তুলেছেন হামলাকারীর পরিচয় নিয়ে। রগ কাটলেই যদি শিবিরের কাজ হয় তাহলে শিবিরে পরিনত
হওয়া খুব সহজ। রাতের আধারে কারো রগ কেটে দিন, দোষ শিবিরের। অন্তত তারা যখন সরকারের
বিরোধী।
কেউ কেউ বলেন
তারা আসলে বিরোধী না পক্ষে সেটা নির্নয় করা জরুরী। প্রধানমন্ত্রী তাদের সুর ধরে বলেছেন
প্রয়োজনে শরিয়া আইন প্রয়োগ করবেন। জামাত অনায়াসে বিএনপি ছেড়ে মহাজোটে যোগ দিতে
পারে। তাদের দাবির কথাই তো প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। আর নেতারা সবসময়ই বলেন রাজনীতিতে
শেষকথা বলে কিছু নেই। অতীতের দৃষ্টান্ত রয়েছে।
দৃষ্টান্তের আসলে
শেষ নেই। কারো কাছে এটা জামাত শিবিরের বর্বরতার দৃষ্টান্ত, কারো কাছে অশুভ
রাজনীতির দৃষ্টান্ত, কারো কাছে প্রশাসন দলীয়করনের দৃষ্টান্ত, কারো কাছে
শিক্ষাপ্রতিস্ঠান ধ্বংশ করার দৃষ্টান্ত।
সবচেয়ে বড়
দৃষ্টান্ত ভুক্তভোগি নিজে। গর্ত ঘুড়লে একসময় নিজেকে সেই গর্তে পরতে হয়। সন্ত্রাসের
পথে গেলে একসময় নিজেকে তার শিকার হতে হয়।
শেষ খবর : ছাত্রলীগ কেন্দ্রিয় কমিটির পক্ষ থেকে তার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। একে কি নির্ভেজাল দৃষ্টান্ত বলবেন না ?
শেষ খবর : ছাত্রলীগ কেন্দ্রিয় কমিটির পক্ষ থেকে তার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। একে কি নির্ভেজাল দৃষ্টান্ত বলবেন না ?
0 comments:
Post a Comment