ভুল করলে ভুল হয়

Jun 29, 2011
সত্যজিত রায় একখানা গল্প লিখেছিলেন এক ব্যক্তিকে নিয়ে। তিনি যা করেন তাতেই অন্যদের সমস্যা তৈরী হয়। এমন না যে তিনি কারো ক্ষতি চান, ক্ষতি হয়। গল্পের বিস্তারিত উল্লেখ না করে শেষটুকু উল্লেখ করাই যথেষ্ট, তিনি মারা গেলেন তার এক আত্বীয়ের বিয়ের দিনে। এরথেকে বড় ভুল আর কি হতে পারে।
মানুষ কেন ভুল করে এনিয়ে নানারকম ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছেন পশ্চিমা সমাজবিজ্ঞানী-দার্শনীকেরা। সেটা পশ্চিমের বিষয়। এদেশে এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই কারোই। একসময় একজন সমাজবিজ্ঞানী গবেষনা করে বাঙালী এবং চীনাদের মধ্যে খুব মিল পেয়েছিলেন। দুদেশের মানুষই নাকি নিজের দেশে অলস, অন্য দেশে কঠোর পরিশ্রমী। দুদেশের মানুষই চাপের মধ্যে ভাল কাজ করেন। অন্য কথায় দৌড়ের ওপর থাকলে এদিক ওদিক খোচাখুচি করেন না।

বকিশনে আর খবরদার-

Jun 27, 2011
সোডার বোতল খুললে ফসফসিয়ে রাগ করে কেন এ প্রশ্নের জবাব পাননি সুকুমার রায়। সেটা বহু আগের কথা। তখন নিশ্চয়ই মানুষ এসব বিষয় নিয়েও মাথা ঘামাত। আজকাল এসব প্রশ্ন নিয়ে মাথা ঘামানোর ফুরসত নেই। অনেকের ঘেই গরমে-লোড সেডিং এসি চলে। কখনোই মাঘা ঘামে না। যাদের সেটা নেই তাদের রয়েছে মাথা ঘামানোর নানা গুরুত্বপুর্ন বিষয়। একেবারে রাজকীয় বিষয়। কে রাজা হবেন, কে সভাসদ হবেন এইসব। এর বাইরে চিন্তা করার কোন বিষয় নেই। কাজেই বকারামকেও আর সবকিছু ছেড়ে এনিয়েই কথা বলতে হয়।
অনেকদিন আগেই বকারাম একবার উল্লেখ করোছল আগামী রাজকার্য কিভাবে চলতে যাচ্ছে। জামাত রাজাকারের দল, ইসলামি চরমপন্থি দল। বাংলাদেশে ওদের যায়গা হতে পারে না। বিএনপি অগনতান্ত্রিক দল। গনতান্ত্রিক দেশে অগনতান্ত্রিক দল থাকতে পারে না। আবার একদলীয় গনতন্ত্র কথাটা ভাল শোনায় না। অন্তত বিরোধী দল থাকতে হয়। অন্তত জাপা যতদিন মহাজোটের সদস্য ততদিন সেটা অগনতান্ত্রিক দল হতেই পারে না। বিএনপি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল, ক্ষমতায় থেকে দল গঠন করেছিল। এরশাদ সেটা করেনি। তার ওপর কদিন আগে তার মামলা বাতিল করেছে আদালত। কাজেই এরশাদ বিরোধী দলের আসনে সভাসদ হিসেবে বসতেই পারেন। বেশ গনতন্ত্র চর্চ্চা হয়।
প্রশ্নটা আসলে অন্য যায়গায়।  অনেকটা সুকুমার রায়ের গোলকধাধার মতই।

মাতব্বরী ভাল জিনিষ

Jun 25, 2011
মাতব্বরী করতে কে-না পছন্দ করে। একজন শিশু যদি হাতে টিভির রিমোট পায় সেও সেটা হাতছাড়া করে না। জানে মাতব্বরীর সুযোগ ওখানেই। আর যদি বয়স্ক হয় তাহলে তো কথাই নেই। বয়স যত বাড়ে মাতব্বরী করার প্রবনতাও তত বৃদ্ধি পায়। অন্যান্য দেশে বয়স্কদের বলা হয় সিনিয়র সিটিজেন। তারা জীবনের অনেক বছর পার করেছেন, অনেক অভিজ্ঞতা। কাজেই তারা মাতব্বরী করবেন সেটাই স্বাভাবিক। তাদের আলাদা করে চিনে রাখুন। পোড়া দেশে বয়স্কদের আলাদাভাবে চেনা প্রয়োজন হয় না। কারন বয়স বাড়লে অভিজ্ঞতা-জ্ঞান-সন্মান এসব বাড়ে না। বরং শরীরের শক্তি কমে। চুলে পাক ধরে, দাত পড়ে যায়, হাতে-পায়ে বল কমে। বনে যেমন বুড়ো বাঘের কদর নেই তেমনই অবস্থা হয়।
সেই অবস্থা দুর করার জন্য সহায়ক হচ্ছে মাতব্বরী।

রাতকানা ভাল নাকি দিনকানা

Jun 24, 2011
চিকিতসাবিজ্ঞান বলে রাতকানা একটি বিশেষ রোগ। তারা দিনের বেলা স্বাভাবিকভাবেই সবকিছু দেখেন, সুর্য অস্ত গেলে আর দেখেন না। বিদ্যুত থাক বা না থাক, মোমবাতি-চার্জার জ্বালানো হোক বা নাহোক, তারা দেখতে পান না। একমাত্র সুর্য্যের আলোতেই তারা দেখেন।
সৃষ্টিকর্তা এমন অদ্ভুত রোগ কেন সৃষ্টি করেছেন তার ব্যাখ্যা পাওয়া কঠিন। আসলে সৃষ্টিকর্তার কোনকিছুরই ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা তার সৃষ্টের নেই। হয়ত সেকারনেই এই ভ্রান্তি। কিন্তু অন্যভাবে দেখলে, রাতকানা তো সকলেই। দিনরাতে বিষয় বাদ দিয়ে একটু অন্যভাবে দেখুন না কেন।

বাঘ বনাম বেড়াল

Jun 21, 2011
অনেকে বলেন বাংলার বাঘ সুন্দরবনেই ভাল মানায় এমনকি চিড়িয়াখানায়ও মানায় না কিন্তু তার সমস্যা কি সেটা কি ভেবে দেখেছেন অনেকেই বলছেন সুন্দরবন গাছশুন্য হচ্ছে ফলে একসময় বাঘশুন্য হবে এটাই তো স্বাভাবিক আর চিড়িয়াখানায যে দুচারখানা আছে তাদের খাবার যায় যারা চিড়িয়াখানা দেখাশোনা করেন তাদের পেটে ফলে তারাও কতদিন টিকবে বলা কঠিন এইবেলা বিকল্প ব্যবস্থা করে রাখাই ভাল
বিজ্ঞান এখনও এতটা অগ্রগতি লাভ করেনি যে ল্যাবরেটরীতে বাঘ তৈরী করবে আর করলেও সেটা থাকবে কোথায় সেটাও বড় প্রশ্ন সহজ সমাধান হতে পারে সমাজ
আবার তাতেও সমস্যা অনেক সত্যিকারের চারপাঅলা বাঘ যদি ফুটপাতে ঠেলাঠেলি করে চলতে শুরু করে তাহলে অবস্থাটা কি হবে ভেবে দেখেছেন কি?

চুরিতে সমস্যা কোথায়

Jun 17, 2011
মানুষের স্বাভাবিক প্রবনতা অল্পের থেকে বেশি পছন্দ করে। অল্প টাকা, অল্প খাবার, ছোট বাড়ি, ছোট গাড়ি যাই বলুন না কেন তারচেয়ে বেশিটাকা, বেশি খাবার, বড় বাড়ি, বড় গাড়ি অনেক বেশি প্রিয়। বড় থাকতে কেউ ছোটর দিকে চায় না। এমনকি উপন্যাসের কাছে ছোটগল্প পাত্তা পায় না।
কাজেই মানুষ ছোট বিষয় বাদ দিয়ে বড় বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাবে এটাই স্বাভাবিক। যদি আলোচনা করতেই হয় তাহলে ভিক্ষুক কিংবা বেকারকে নিয়ে সময় নষ্ট করে কে, তারচেয়ে বরং প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, নেতা কিংবা বিরোধী দলের নেতাদের নিয়ে মাথা ঘামানো মানায়। নির্বাচনের কথাই যদি বলতে হয় তাহলে এমন নির্বাচনের কথা আলোচনা করা উচিত যেখানে জিতে প্রধানমন্ত্রী হওয়া যায়। ছোটখাট নির্বাচন আলোচনা থেকে দুরে থাকবে, খবর থেকে দুরে থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক। অন্তত যতক্ষন না খুনখারাপির মত কিছু না ঘটে। অথবা খবর বলার মত ঘটনা না ঘটে।
কখনো কখনো ঘটনা ঘটে। তখন খবর হয়। এমনই এক খবর। ইউপি নির্বাচনে সদস্য পদের একজন প্রার্থী বলেছেন, তিনি জীবনে বহুলোকের গরু-ছাগল-হাস-মুরগী সহ বহুকিছু চুরি করেছেন। তাকে ভোট দিয়ে জনগনের সেবা করার সুযোগ দিন, তিনি সবার চুরি করা জিনিষপত্র ফেরত দেবেন।
এবং তিনি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।
 

Browse