টিভি, নাটক এবং পাগল

Sep 18, 2009

রেডিও, সর্বদা গোলমাল করতেই রেডি-ও বলেছিলেন শিব্রাম

এখন রেডিওর চল নেই সেই কাজ করতে টেলিভিশন ভিষনভাবে ব্যস্ত স্যাটেলাইটের কল্যানে দিন-রাত চব্বিশ ঘন্টা সম্ভবত একমাত্র লোডসেডিং তাতে বিরতি দেয় আর যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে চালু থাকে ইউপিএস/আইপিএস এর কল্যানে কিংবা জেনারেটর চিনের কল্যানে টিভি পানির চেয়ে সস্তা এক বোতল পানি বিশ টাকা, ওয়াসার বিল মাসে আটশ, রঙিন টিভি ৪ হাজার টিভি কিনবেন একবার পানি কিনবেন প্রতিদিন সরকার জানিয়েছে খাবার পানি আর অন্য কাজের পানির পৃথক লাইন বসাবে পার্থক্য আরো বাড়বে

আমি টিভি দেখি না কোন কারনে কাছাকাছি টিভি চালু থাকলে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে রাখি তবে তাতে শেষরক্ষা হয় না কান ঘুরানো যায় না এসে কানে প্রবেশ করে যদি রাতের বেলা হয় তাহলে তো কথাই নেই অন্য শব্দ যত কমতে থাকে তত বেশি করে শব্দ আসতে থাকে কখনো কখনো ভাবি যারা সারারাত টিভি দেখে তারা নিশ্চয়ই নিশাচর সারাদিন ঘুমায়, সারারাত টিভি দেখে নয়ত ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে টিভি দেখে অন্তত শব্দ শোনে টিভি এদের ঘুমপাড়ানি মাসিপিসির কাজ করে একদিন হাউমাউ শব্দ শুনে তটস্থ হয়ে রইলাম কেউ মারা গেলে এমন শব্দ শুনেছি কিছুক্ষন পর একজন জানাল টিভিতে জমজমাট নাটক হচ্ছিল আরেকদিন তেমনই শব্দ শুনে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছিলাম কিছুক্ষন পর মসজিদের মাইকে একজনের মৃত্যুসংবাদ প্রচার করা হল আমাকে একেবারে বিভ্রান্ত করে ফেলেছে এসব কখন হাসি, কখন কান্না, কোনটা নাটক, কোনটা প্রতিবেশির গলার আওয়াজ বুঝে উঠতে পারি না ঘুমের মধ্যেই অনেক মানুষের কান্নার আওয়াজ শুনে জেগে উঠি বাস্তবতা বুঝে উঠতে অনেকক্ষন কেটে যায় তারপর জানতে পারি এটা নাটক টিভিতে নয়ত কোন বাড়িতে

আর যদি উপলক্ষ্য থাকে তাহলে তো কথাই নেই একে নাচুনে বুড়ি তার ওপর ঢোলের বাড়ি-

খবরের কাগজে প্রকাশ, বিটিভিতে ঈদের নাটক জমা পরেছে শতখানেক সাথে টেলিফিল্ম (নাটকের সাথে পার্থক্য কোথায় জানি না) যোগ করলে সেঞ্চুরি পার স্যাটেলাইট টিভির সামর্থ্য নিশ্চয়ই আরো বেশি বিটিভির লোকজনের অন্তত কিছু বিধিনিষেধ মানতেই হয়, তাদের সে বালাই নেই সব মিলিয়ে নাটকের সংখ্যা হাজার ছাড়াবে নিশ্চয়ই এই শিল্পের সাথে জড়িত হাজার হাজার, নাকি লক্ষ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে এই নাটক করেই শতপর্ব, হাজার পর্বের নাটক হাজার পর্বের নাটক বানাতে যোগ্যতা লাগে সত্যিই, যার যোগ্যতা আছে তিনি নাটক বানান যার নেই তিনি বানান ডকুমেন্টারী যদি সরকারি কাজ হয় তাহলে তো কথাই নেই অমুক নেতা, তমুক মন্ত্রীকে ধরে কাজ বাগানোটাই মুল কথা তারপর ভিডিও করে জমা দিলেই হল বিয়ের ভিডিও করে এমন কাউকে ভাড়া করলেই চলে যায় এরচেয়ে সহজ কাজ হয় না যদিও মৃনাল সেন বলেছেন ডকুমেন্টারী সবচেয়ে উচু মানের শিল্প ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, হিষ্টরী চ্যানেল এসব বানিয়েই কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা করছে

সে তাদের হিসেব আলাদা তারা নিশ্চয়ই পাগল এখানে নাটকই সবকিছু নাটক জীবনের কথা বলে বর্তমানের কথা বলে মানুষের কথা বলে মানুষ কিভাবে চলে, কিভাবে বলে শেখা যায় কি হবে অতীত ঘেটে বনে বাদারে ঘুরে

রীতিমত বুদ্ধিজীবী পর্যায়ের একজন ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক পত্রিকা দেখে বলেছিলেন, ও দিয়ে কি হবে ? আমার টিভিতেই দেখা যায়

আর সেটাই বা দেখে কে নাটক থাকতে সবাই তো আর পাগল না

মড়ার ওপর খাড়ার ঘা The way to live

Sep 17, 2009

মড়াকে খাড়ার ঘা মারার সুবিধে অনেক পহেলা নম্বর হচ্ছে পাল্টা ঘা খাওয়ার ভয় নেই যত খুশি ঘা মেরে যান কোন প্রতিরোধ আসবে না দ্বিতীয়ত, মরাকে মেরে কেউ খুনের দায়ে পরেছে বলে জানা নেই যুক্তিতে বলে যে মৃত তাকে খুন করা যায় না কাজেই আইন মৃতকে খুন করার দায়ে সাজা দিতে পারে না তৃতিয়ত, এবং সবচেয়ে গ্রহন যোগ্য এবং প্রচলিত সুবিধে হচ্ছে, মনের আশ মিটিয়ে নেয়া।

বাড়িতে বউয়ের দাবড়ানি খেয়ে খালি পেটে অফিস গেছেন। অফিসের পিয়নের ওপর ঝালটা ঝেড়ে দিন। সে আর যাই করুক সামনে ট্যা-ফু করবে না। বরং নতুন যে পিয়ন যোগ দিয়েছে গতকাল তাকে খুজে বের করবে ঝালটা ট্রান্সফার করতে। পথে ছিনতাইকারী মোবাইল-মানিব্যাগ নিয়ে গেছে, ছেলে-মেয়ের ওপর ঝালটা ঝাড়ুন। কিংবা ভিখারীর ওপর, কিংবা ফুটপাতের দোকানীর ওপর। যেভাবেই হোক একটা পথ বের করুন। ঝাল জমিয়ে রাখা ক্ষতিকর। মনের চাপ দেহে যায়। চিনদেশে নাকি রাস্তার ধারে রাবারের মুর্তি দাড় করানো আছে ঝাল ঝাড়ার জন্য। ইচ্ছে করলেই তাকে মনপ্রাণ ভরে ঘুসি মারুন। তারপর মনের ঝাল কমিয়ে নিজের কাজে যান। যদি ঘুসি মারতে সমস্যা হয় (হতেই পারে) তাহলে মনখুলে গালাগালি করুন। তাতেও ঝাল কমবে। মেক্সিকোতে নাকি রাস্তায় অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করলে জেলে যেতে হয়। আপনার সে ভয় নেই। বরং যদি তাতে নতুনত্ব দেখাতে পারেন নিশ্চয়ই ভীড় জমে যাবে। বাহবা পাবেন। একসময় নাকি বাংলা ভাষায় গালাগলির রীতিমত শংকট ছিল। শ্বশুরের ব্যাটা, মুরগিচোর, পাচিল টপকানির ব্যাটা এসবের বাইরে গেলেই উর্দু-হিন্দীর আশ্রয় নিতে হত। এখন সেটা প্রয়োজন হয় না। হলিউড-বলিউডের দৌলতে গালাগালি এখন রীতিমত ধনবান। ইচ্ছে করলে রপ্তানিও করা যায়।

রাজনীতি সকল নীতির রাজা। এখান থেকেই নীতি ছড়ায় সবখানে। অন্য দলকে ঘায়েল করতে চান, যখন তারা কোমড় ভেঙে কোনমতে খোড়াচ্ছে ঠিক তখনই ঘা মারুন। এমন মোক্ষম সময় আর পাওয়া যাবে না। এমনভাবে মারতে হবে যেন আর কখনো প্রতিদ্বন্দীতার সুযোগ না পায়। গনতন্ত্র আমরা একাই প্রতিষ্ঠা করতে পারি।

অর্থনীতি, এছাড়া সমাজ অচল। যদি ঘা মারতে হয় তাহলে সময়মত মারা উচিত। যখন না কিনে উপায় থাকবে না ঠিক তখনই লাভটা করে নিন। সারা পৃথিবীতে বড়দিন-নববর্ষে দাম কমানোর হিড়িক লেগে থাকে! সে অন্য কথা। রোজা-ঈদ-পুজায় ব্যবসা না করলে করব কখন ? এখনই তো ক্রেতা কুজো হয়ে থাকে। একেবারে পিঠ বাগিয়ে রাখে মারার জন্য।

বক্তব্য একটাই, এমন কাউকে খুজে বের করুন সোজা হয়ে দাড়াবে না। যে মড়া। প্রতিউত্তর দেবে না। একেবারে রিস্ক-ফ্রি। তারপর তেড়ে মেরে ডান্ডা, করে দিন ঠান্ডা।

সীমা – Where is the limit

Sep 16, 2009

হ্যারি কালাহান ওরফে ডার্টি হ্যারির বক্তব্য, মানুষকে তার সীমাবদ্ধতা জানতে হয়। একেবারে সত্য কথা। একজন শিশু যদি মনে করে ছাদ থেকে লাফ দিলেই সে সুপারম্যানের মত উড়ে যাবে তাহলে তার পা ভাঙে। শোনা যায় মাইকেল জ্যাকসনের থ্রিলার নাচতে গিয়ে বহুজনের পা ভেঙেছে। পা ভাঙার পর বুঝেছে তারা মাইকেল না। তাদের সাধ্যের সীমাবদ্ধতা আছে যা মাইকেলের নেই (ছিল না)।

সীমাবদ্ধতা বুঝতে সময় লাগে। পা ভাঙার পর তারা বুঝেছে। একজন শিশুও বোঝে একসময়। তারপর আর সেপথে পা বাড়ায় না। তবে যদি পা ভাঙার মত বিষয় না থাকে তাহলে সময় প্রয়োজন হয় আরো বেশি। কখনো কখনো কোন কোন বিষয়ে কারো কারো আদৌ বোধোদয় হয় না।

চেনস আমারে। কল্লা কাইট্টা দিমু একেবারে কমন ডায়ালগ। যদিও তার জানার কথা কারো কল্লা কাটলে তার কল্লা দড়িতে ঝুলবে। সেখানেই একটা কিন্তু-

সব যায়গা হলিউড না। সব দেশ আমেরিকা না। অনেক যায়গায় অন্যের কল্লা যে কাটতে পারে তার কল্লা ধরা যায় না। কল্লার জোর থাকলে তবেই অন্যের কল্লায় হাত দেয়া যায়। যেমন ট্রাফিক পুলিশকে পকেটে রাখার ক্ষমতা থাকলে তবেই রাস্তায় গাড়ি রাখা যায়। প্রয়োজনে তাকে দিয়ে গাড়ি পাহারা দেয়ার কাজও করানো যায়। পুলিশ জানে প্রয়োজনে রিক্সাঅলাকে পেটাতে হবে, পথচারীকে এক্রোব্যাটিক পদ্ধতিতে চলতে হবে কিন্তু কোনভাবেই গাড়ির মালিককে চটানো যাবে না। তার বাপের দেয়া চাকরি। সরকারের দেয়া সবুজ রঙের গাড়ি হলে সুবিধে আরো বেশি। কোন কথাই বলতে হয় না। যদি গাড়ি না পাওয়া যায় তাহলে সাদা কাগজে লিখে সামনের কাচে লাগিয়ে রাখলেও একই কাজ দেয়।

কখনো কখনো সীমা একেও ছাড়িয়ে যায়। যেমন বিডিআর ডিজি সরকারী খরচে ঈদকার্ড ছাপিয়ে তাতে নিজের পরিচিতি লিখলেন, ডিজি - বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ। অর্থাৎ তিনি বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ নামক কোনকিছুর ডিজি। এর অস্তিত্ব কোথায় সেটা তিনি নিশ্চয়ই জানেন। আজ না হলেও আগামীকাল অন্যরাও জানবে। তিনি অগ্রিম কিভাবে জানলেন সেপ্রশ্ন করবেন না। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর কোন বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হারাম, জরুরী আইন সরকারের একজন উজির মনে করিয়ে দিয়ে গেছেন। কোন প্রশ্নই করবেন না। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা যখন চলমান তখন বিবিসিতে একজন জানাল বিদ্রোহের কারন। যেপথে বিদ্রোহীরা পালাল সেই পথে পাওয়া গেল পড়ে থাকা টাকার বান্ডিল। তার পরিমান এতটাই যে তারা সাথে করে নিতে পারেনি। পথে ফেলতে ফেলতে গেছে। সেই টাকার উৎস কি সেপ্রশ্ন করা কেউ প্রয়োজন মনে করেনি। সেটা সীমা লঙ্ঘন। প্রশ্ন করার সময় জওয়ানরা আত্মহত্যা করতে শুরু করল, স্বাভাবিক কারনে মরতে শুরু করল, সেটা নিয়ে প্রশ্ন করাও সীমা লঙ্ঘন।

কাজেই,

সীমা বিষয়টি নির্ধারন করা অত্যন্ত জটিল কাজ। সীমা লঙ্ঘন শব্দটি ব্যবহারের আগে জানা প্রয়োজন এরসাথে জড়িত ব্যক্তি কে, বিষয়টি কি, কোন সময়, কি কারনে, কোন মনোভাব নিয়ে, কি উদ্দেশ্যে, কার কারনে, কোন যায়গায়, কার খরচে, কোন যোগ্যতায়, কার সমর্থনে, কার গোচরে, কার অগোচরে . . .

তবেই তা বলা সম্ভব সীমা লঙ্ঘন হল কি-না।

মাথার ওপর জ্বলিছেন রবি

Sep 13, 2009

ম্যয় আজাদ হুঁ অমিতাভ বচ্চনের অত্যন্ত জনপ্রিয় রাজনৈতিক বক্তব্যের বলিউডি ছবি বক্তব্য, এক সাংবাদিক কলাম লিখে আজাদ নামে এক প্রতিবাদী নেতা সৃষ্টি করলেন তার জনপ্রিয়তা এতটাই প্রবল হয়ে উঠল, পাঠকেরা তাকে এমনভাবেই মেনে নিল যে তাকে সশরীরে উপস্থিত করার দাবী তুলল। সেই দাবী উপেক্ষা করা সম্ভব হল না জনগনের মধ্যে যে আশা তৈরী করা হয়েছে তা যেন ভেঙে না যায়, এই যুক্তিতে একজনকে আজাদের ট্রেণিং দেয়া হল তারপর একসময় উপস্থিত করা হল জনগনের সামনে

ছবিটি প্রতীকি এই উপমহাদেশের রাজতৈক পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে এতে ক্ষমতার লোভ এবং প্রতিবাদী নেতার কথা বলছি না বলছি জনগনের আশা আকাঙ্খার কথা তারা আশা করে একজন নেতা তাদের পথ দেখাবেন তিনি স্বর্গ থেকে নেমে আসবেন নাকি সমাজ থেকে বেড়ে উঠবেন তাতে কিছু যায় আসে না তার নিজেকেই তৈরী হয়ে আসতে হবে তারপর যদি জনগনের আস্থা অর্জন করতে পারেন তাহলে জনগন তার পেছনে দাড়াবে তার বেড়ে ওঠার কাজে সাহায্য করবে না পাশে দাড়াবে না যখন মনে হবে নেতা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী তখন তার পেছনে দাড়াবে জনগন নেতার হুকুম শুনতেই আগ্রহি চোখ বন্ধ করে সিদ্ধান্ত মানতেই আগ্রহি নেতার ভুল হতে পারে না সে নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না নেতা এবং দেবতা একই বস্তু তাদের পুজা করতে হয় ভক্তি করতে হয়

তারা সামনে আসবেন। স্বপ্নের কথা শোনাবেন। স্বপ্নপুরনের কথা বলবেন। কোন কোন অর্বাচিন প্রশ্নও করে বসে, অতীত নেতারা যদি এতকিছু ম্বপ্ন দেখেই থাকেন তাহলে সেই স্বপ্ন দেখার জন্য ঘুমিয়েছেন কত সময়! ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখাই কি তাদের একমাত্র কাজ ছিল ? যেন পরবর্তিকালে যুগ যুগ ধরে তাদের উত্তরসুরীরা সেই স্বপ্নের গুনগান করে চলতে পারেন!

সে প্রশ্ন করা যাবে না কারন এটাই প্রচলিত রীতি। এটাই যোগ্য নেতৃত্ব। এটাই পদ্ধতি।

আর কেউ যদি দৈনন্দিন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

তিনি আবার নেতা কিসের ?

দেশের গ্যাস বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে এই নিয়ে হরতাল। কেন ? হরতালে দেশের কত ক্ষতি হয় তা-কি তারা জানেন ? সামনে ঈদ-পুজা। ব্যবসার এটাই তো সময়। এক সপ্তাহে এক কেজি চিনির দাম বেড়েছে ৩০ টাকা। এখন না বেচলে বেচব কখন ? এর মধ্যে এইসব ঝামেলা। আবার কয় রাস্তায় গাড়ি ভাংচুর করব না। হেঃ হেঃ হেঃ। হরতাল এতই সহজ!

হরতাল ডাকার আগে হিসেব শিখেন। জীবনটাই লাভ ক্ষতির। নিজের দুটাকা লাভ যদি না হয় তাহলে ওই হরতালে যায় কে ? তার ওপর বলছেন নিজের ক্ষতি করে হরতাল করতে। দুরো-

গ্যাস বিক্রি হলে আমার কি ? দেশের ক্ষতির কথা কন ? ক্ষতির হিসাব বোঝেন ? লাভের হিসাব বোঝেন ?

একটু শেখার চেষ্টা করেন, ভবিষ্যতে কামে লাগব। সমস্যা যত বাড়ব জিনিষের দাম তত বাড়ব। দাম যত বাড়ব লাভ তত বাড়ব। এই সহজ হিসাব বোঝেন না। আরো ভাইঙ্গা কই। ত্যালের দাম বাড়লে কি হয় জানেন ? উৎপাদন খরচ বাড়ে, পরিবহন খরচ বাড়ে, জিনিষের দাম বাড়ে, গাড়িভাড়া বাড়ে। কইতে পারেন রিক্সা ত্যালে চলে না, তারও ভাড়া বাড়ে। সকলেরই ইনকাম বাড়ে। সকলেরই লাভ। আর এমন সুযোগ যেখানে সেইখানে সবাইরে কন লাভ ছাইড়া লসের দিকে যাইতে।

আগে নেতা হন। কতটা জনদরদী সেইডা কামে দেহান। সামনে খাড়াইয়া কন কতজনরে চাকরী দিছেন, কতজনরে টেন্ডার পাইতে সাহায্য করছেন, কতজনরে জেল-ফাসি থিক্যা বাচাইছেন, কতজনের চাকরীর সুপারিশ করছেন, কতজনরে বড়লোক বানাইছেন, কতজনরে নিজের পায়ে দাড় করাইছেন, কতজনরে . . .

আমাগো মাথার ওপর নেতা আছে জানেন না!

টেনশন On Way To Success

Sep 12, 2009

সকালে পুবদিকে সুযোর্দয় হয় সন্ধ্যায় পশ্চিমে অস্ত যায় একথা চীনের মানুষ বিশ্বাস করে তারা নাকি নিজের কফিন নিজের হাতে তৈরী করে তারপর অপেক্ষা করে সেটা ব্যবহারের তার ওপর বসে চা খায়, গল্প গুজব করে অপেক্ষা করতে করতে একসময় সেটা নষ্ট হয়, ভেঙে যায় তখন আরেকটা তৈরী করে তারপর আরেকটা কোন কোন ব্যক্তির চার-পাচবার কফিন তৈরীর ঘটনার কথাও জানা যায় তারপর কোন এক সময় সেটা কাজে লাগে যত দেরীই হোক, সে জানে একদিন সেটা কাজে লাগবে

চীনারা বেশিদিন বাচে বিশ্বের শতবর্ষী যত মানুষ বর্তমান তাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চীনে নিজের কফির তৈরী করে অপেক্ষা করা আর বেশিদিন বাঁচা এই দুইয়ের মধ্যে কোন সম্পর্ক আছে কিনা বিশ্লেষক হয়ত বের করার চেষ্টা করতে পারেন তবে ধারনা করা যায় সম্পর্ক থাকা অস্বাভাবিক না অন্তত ডাক্তাররা যখন টেনশন নামক বস্তুর সাথে স্বাস্থের ভালমন্দর সম্পর্ক আবিস্কার করেছেন তখন তো কোনমতেই না

পদার্থবিদ্যায় টেনশন বিষয়টি খুব কাজের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পদার্থ এরই কারনে ভাঙার হাত থেকে রক্ষা পায় যার টেনশন কম সে কাচের মত ভেঙে যায়, যার টেনশন বেশি সে টিকে থাকে ট্যাপ খেয়ে গেলে, বেঁকেটেরে গেলেও ভাঙে না তেমনই টেনশনে মানুষ ট্যাপ খেয়ে যায়, বেঁকেটেরে যায় তারপরও টিকে থাকে

আইটি সেক্টরের উন্নতি ঘটিয়ে দশ বছরে দেশের মানুষের আয় দ্বিগুন হওয়া সম্ভব, বলা হয়েছিল দশ বছর আগে যিনি বলেছিলেন তিনি এখনও বর্তমান এবং তার আয় দ্বিগুন হয়নি শুধু, বহুগুন হয়েছে তিনি যদি সেকথাই বুঝিয়ে থাকেন তাহলে শতভাগ সত্য বলেছেন তবে বলার সময় যে সাধারন মানুষ উল্লেখ করেছেন সেই সাধারন মানুষ তিনি নিজে নন যারা সাধারন মানুষ তারা সাধারন মানুষই থেকে গেছে আগের সরকার যেভাবে দেশের সর্বনাশ করে, জনগনের অভাব বাড়ায়, ছিন্নমুলের সংখ্যা বাড়ায় সেই ঐতিহ্য ঠিক রেখে আগের সরকারগুলি কাজ করে গেছে এরশাদ সরকার, হাসিনা সরকার, খালেদা সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, জরুরী সরকার, সকলেই মানুষের টেনশন বাড়িয়ে গেছে মানুষ বেঁকে যায়, নেতিয়ে যায়, ভাঙে না সোজা হয়ে দাড়ায় না লতার মত কোন অবলম্বন আকড়ে ঝুলে থাকে একসময় সেটাই সম্বল হয়ে দাড়ায় যারা খুটি হিসেবে থাকার তাদের অবস্থান আরো পাকাপোক্ত হয় অন্যদের অবলম্বন পাকাপোক্ত করে গার্মেন্টস সেক্টর বহু লক্ষ মানুষের অবলম্বন কাজেই সেখানে কিছু করা যাবে না। রাজপথ-ফুটপাত বহু মানুষের কর্মসংস্থানের যায়গা সেখানে হিছু করা যাবে না, লক্ষ লক্ষ মানুষ রিক্সা চালিয়ে জীবনযাপন করছে, তার বিপল্প খোজা যাবে না। এগুলি খুটি।

আইটি সেক্টরের উন্নতি, অন্তত দুদশক ধরে হচ্ছে মিলিয়ন, বিলিয়ন ডলার উচ্চারন করা হচ্ছে এই খাতে বরাদ্দ কত তাও সগৌরবে প্রচার করা হচ্ছে তারপর সেই বরাদ্দ কার পাতে যায়, ফল কি হয় সে প্রশ্ন কেউ করে না একাই ডজনখানেক হার্ডওয়ারের ডিলার হলে দেশের আইটি খাতের উন্নতিতে ভুমিকা রাখা হয় বৈকি নইলে মানুষ কম্পিউটার কি চোখেই দেখত না স্কুল খুলেও আইটি খাতের উন্নতি করা যায় ওয়াইম্যাক্স কিভাবে ব্যবহার করতে হবে শেখানোর স্কুল চালু হয়, আর মানুষ টাকা খরচ করতে সেদিকে দৌড় দেয় ওয়াইম্যাক্স চালু হলে ডাউনলোড তো করতে হবে

বলছিলাম টেনশনের কথা টেনশন সবার মধ্যেই বিদ্যমান সিডি-ডিভিডি কপি করে আইটি সেক্টরে টিকে আছে যারা তাদের মধ্যে যেমন, কোটি কোটি সিডি-ডিভিডি আমদামী যারা করছে তাদের মধ্যেও তেমন, আইটি সেক্টরের উন্নতির জন্য যাদেরকে নতুন নতুন তথ্য খোজ করতে হচ্ছে তাদের মধ্যেও তেমন, সস্তায় মানুষের হাতে কম্পিউটার তুলে দিচ্ছে যারা তাদের মধ্যে তেমন, যে অভিভাবক সন্তানের হাতে কম্পিউটার আর গেমের সিডি তুলে দিচ্ছেন তার মধ্যেও তেমন, আবার সেই কম্পিউটারে যে ব্যবহার করছে তার মধ্যেও তেমন টেনশনের কমতি নেই

টেনশন অন্তত ভাঙার হাত থেকে রক্ষা করছে সবাইকে

যুক্তি-তক্কো-গপ্পো free the speech

Sep 9, 2009

সমরেশ মজুমদার তার গল্পে বাংলাদেশে ভারতীয় সন্ত্রাসীদের ঘাটির কথা উল্লেখ করেছেন সেই কারনে তাকে বাংলাদেশে ভিসা দেয়া হয়নি বলে দুঃখ করেছেন। দুঃখ পাবারই কথা। তিনি লিখলেন গল্প আর সরকার ধরে নিল তিনি সরকারের ভাবমুর্তি নষ্ট করছেন। সরকার এদেরকে প্রশ্রয় দিচ্ছে একথা প্রচার করছেন।

বিষয়টি কতটুকু অস্বাভাবিক এদেশে ? বিজেপি নেতা জিন্নাহর কথা লিখে দলের শত্রুতে পরিনত হলেন। এটেনবরো যখন গান্ধী ছবির জন্য পুরস্কার পেলেন তখন কথা উঠেছিল পাকিস্তানে। তিনি জিন্নাহকে ছোট করে দেখিয়েছেন। আবারো প্রশ্নটা করতে হচ্ছে। বিষয়টা কতটুকু অস্বাভাবিক এই উপমহাদেশে ?

এদেশ আমেরিকা না। এখানে কেউ এ্যাবসলিউট পাওয়ারের মত উপন্যাস লিখতে যাচ্ছে না। ক্লিন্ট ইষ্টউডের মত কেউ সেটা নিয়ে ছবি বানাতে যাচ্ছে না। জানে এইডসে নিশ্চিত মৃত্যু নাও হতে পারে, এর পরিনাম নিশ্চিত মৃত্যু। আমেরিকার সমালোচনায় সারা বিশ্ব (এই উপমহাদেশসহ) যত সোচ্চারই হোক, তাদের পক্ষে সম্ভব ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা বুশ সরকার এবং সিআইএর সাজানো একথা টিভিতে প্রচার করা। যুক্তি-প্রমান দিয়ে দেখানো সেখানে আদৌ বিমান হামলা হয়নি, যা হামলা করেছে তা হচ্ছে মিসাইল। রাসায়নিক কারন দেখিয়ে বলা হচ্ছে, যে কারনে টুইন টাওয়ার ওভাবে ধ্বসে পরেছে তা সম্ভব কন্ট্রোলড এক্সপ্লোশনের ফলে। এমনকি এত হৈচৈ করে যে চন্দ্র অভিযানের কথা নতুনভাবে প্রচার করা হল তার বিপক্ষে যুক্তি দেখানো এখনও শেষ হয়নি। এর শ্যুটিং হয়েছে এরিয়া ফিফটি ওয়ানে, তথ্য গোপন করার জন্য কয়েকজন নভোচারীকে মেরে ফেলা হয়েছে, তাকে দুর্ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে এসব কথা তারা দর্শকদের দেখিয়েই চলেছে।

এর পরও তাদের বিরুদ্ধে দেশের, সরকারের, গোয়েন্দা বিভাগের কিংবা অন্য কারো মর্য্যাদাহানির অভিযোগ আনা হয়নি। তারা তাদের মত প্রকাশ করবেন, প্রয়োজনে সরকার তার যুক্তি দেখাবে, বিষয়টি সীমাবদ্ধ এর মধ্যেই। সাধারন মানুষ কোন যুক্তি গ্রহন করবে সেটা তাদের বিষয়। সাংবাদিকের কাজ সংবাদ পরিবেশন করা। বিশ্লেষকের কাজ বিশ্লেষন করা। সমালোচকের কাজ সমালোচনা করা।

এই উপমহাদেশে মানুষ এত বোকা না। তারা জানে কোন গাছে কোন ফল ধরে। যে দেবতা যে ফুলে তুষ্ট তারজন্য তো সেটাই। আগেই যখন উদাহরন দেখানো হয়েছে তখন নতুনভাবে সেকাজ না করেও বলা যায়, ফল কি ফলবে সেটা জেনেই ঠিক করা হয় কি লেখা হবে, কি লেখা হবে না। কি বলা যাবে, কি বলা যাবে না। বললে কি হবে, না বললে কি হবে।

একজন সাংবাদিক সেজন্যই তক্কে তক্কে থাকেন, অমুক কথা বললে সরকার ব্যাজার হবে, পিছনে পুলিশ লাগবে। তমুক কথা লিখলে নেতার মান যাবে, তার সাঙ্গপাঙ্গ ঠ্যাং ভেংঙে দেবে। সমুক কথা লিখলে কোম্পানীর বদনাম হবে, তারা বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেবে।

কি প্রয়োজন এত ঝামেলায়। তারচেয়ে যদি বলা যায়, স্যার অমুক খবরটা আমরা প্রচার করছি না। আপনার দিক আমরা দেখছি, আমার দিকটা দেখবেন।

কিংবা যদি বলা যায়, অমুক খবরটা রেডি। তাড়াতাড়ি কন্ট্যাক্ট করেন, নইলে দিমু ছাপায়া।

লাভ দুদিকেই।

ভুয়া পুলিশ, ভুয়া মিলিটারী হয়ত অনেক দেশে পাওয়া যাবে। ইউনিফর্ম থাকলে সুবিধে পাওয়া যায় কাজেই ভুয়া হতে ক্ষতি কি ?

ভুয়া সাংবাদিকের দেখা অন্য সমাজে পাওয়া সত্যিই কঠিন।
 

Browse