বাগাড়ম্বর

Jun 21, 2009

বাগাড়ম্বরের শুরু শিশুকাল থেকে একদিন আপনার শিশু সন্তানের হাতে আচড়ের দাগ তেখে জিজ্ঞেস করলেন, কি হয়েছে উত্তরে সে বলল, বাইরে বের হয়েছি আর হালুম করে একটা বাঘ এসে হাজির তখন সোজা মুখের ওপর ঘুসি বাঘের সাথে মারামারি করে এখানে লেগেছে আপনি তখন মহাখুশি আপনার সন্তান বাঘকেও ভয় পায়না তার পিঠ চাপড়ে বললেন, সাবাস বেটা

ব্যাস সেখানেই শুরু তারপর আর থামাথামি নেই যত দিন যায় সেটা তত গতিপ্রাপ্ত হয় নানারকমভাবে গ্রহনযোগ্য করার পদ্ধতি শিখে নেয় নানারকম ব্যাখ্যা, নানারকম কারন অমুক কারনে তমুক হয়নি, নইলে

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না থাকলে তিনদিকে সব অপরাধী ধরে ফেলতাম, এটা পুলিশের বক্তব্য সেই সব অপরাধীদের মধ্যে পুলিশও পরে কিনা জানা নেই, তবে ধরতে না পারার ওটাই মুল কারন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আগের সরকার হস্তক্ষেপ করে কাজ করতে দেয়নি আমরা উন্নতির জন্য আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছি বর্তমান সরকার সবরকম সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন অচিরেই আপনারা ফল দেখতে পাবেন

ফল ফলার আগেই যদি গাছ উপড়ে যায়, কিংবা বদল হয় তখন নতুন আরেক পর্ব শুরু নাটকের ভাষায় বলে সিজন পাচ বছরের এক সিজন কখনো কখনো সেটা বাড়তে বা কমতেও পারে

নির্বাচনের আগে শোনা যায় এক ধরনের বাগাড়ম্বর আমরা নদীর ওপর সেতু বানাব, নিচে টানেল বানাব বিনামুল্যে সার দেব, দশ টাকা কেজি চাল খাওয়াব। নির্বাচনের পর শোনা যায় আরেক রকম বাগাড়ম্বর, ঢাকা শহরে উড়ুক্কু রেল বসাব, দোতলা রাস্তা বানাব আকাশে আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট পাঠাব, নাম ঠিক করে রেখেছি আমাদের পরিকল্পনায় সব আছে

ঢাকা শহরে পানি সমস্যা ? পানির স্তর নেমে যাচ্ছে হুড়হুড় করে? আপনারা ভাববেন না প্রয়োজনে বঙ্গোপসাগর থেকে পানি এনে খাওয়াব আপনারা ঢাকা চলে আসুন

বিদ্যুতের সমস্যা আর কদিন ঘড়ির কাটা ঘুড়িয়ে দিয়েছি, আর বিদ্যুত সমস্যা থাকবে না আপনারা দিন থাকতে কাজ শেষ করে রাতে শান্তিতে ঘুমান

স্থান-কাল-পাত্র ভেদে বাগাড়ম্বরের আকার-আকৃতি পরিবর্তিত হয়। আন্তর্জাতিক পর্যারে এর আকার সর্বোচ্চ। আলবারাদে-ব্লিকস ইরাকের অস্ত্র বের করছে না। তারকাছে রাসায়নিক অস্ত্র, জীবানু অস্ত্র, পারমানবিক অস্ত্র সব আছে। আমাদের কাছে প্রমান আছে। স্যাটেলাইটের ছবি, রেকর্ড করা কথাবার্তা সবকিছু। আমরা তিনদিনে ওসব বের করে ফেলব, এটা হচ্ছে সেই পর্যায়ের বাগাড়ম্বর। সেতুলনায় ব্যক্তি পয্যায়ের বাগাড়ম্বর নিতান্তই তুচ্ছ। আমি একদিন না থাকলে কোম্পানী অচল হয়ে থাকে, এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

বাগাড়ম্বরে শুধূ যে সাধারন মানুষ পটু এমন তো নয় দেশে-বিদেশে মহাপুরুষের অভাব নেই মহাজ্ঞানী মহাজন সেইসব মহাপুরুষ টিভি ক্যামেরার সামনে এসে বলেন, আমি সবসময়ই আশাবাদী আশা ছাড়া কিছু হয় না এই দেশ একদিন অন্য সব দেশকে ছাড়িয়ে যাবে আমি স্পষ্ট সে লক্ষন দেখতে পাচ্ছি কয়েখ বছরের মধ্যে দেশ উন্নয়নশীল থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হবে। দেশের মানুষের আয় দ্বিগুন-তিনগুন পাবে। কেউ যদি কটাক্ষ করে প্রশ্ন করেন, সেদিন কি আপনি পর্বতের চুড়া থেকে নেমে সাধারন মানুষের পাশে দাড়াবেন ? তাহলে উত্তর শুনতে পান, সেটা আমি সবসময়ই করি সবসময় সব সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামাই, সবকিছু নিয়ে কথা বলি কাউকে না কাউকে তো ভাবতে হয়, মাথা ঘামাতে হয় শোনেন নি ভানু কি বলে গেছে আমার চোখের সামনে সর্বস্ব চুরি হয়ে যাচ্ছে আর আমি ভাবব না, আপনি ভাববেন ?

তারা ভাবছেন আর বাগাড়ম্বর করছেন সকলেই তার শ্রোতা তারপর কিছুটা আত্বস্থ করে নিজেই ওপথ ধরছেন। কেউ কেউ এটা ওটা বলে বিষয়কে আরো উসকে দেন তবে কথা হচ্ছে, দেশে মানুষের অভাব নেই একশজনে একজন যদি কারো পক্ষ নেন তাহলে এতবড় সংখ্যা হয় যার সমান জনসংখ্যা অনেক দেশে নেই

ফলে এই বাগাড়ম্বর দ্রুত ছড়িয়ে পরে একসময় ছড়িয়ে যায় পুরো সমাজে দলবদ্ধভাবে সবাই ভাবতে থাকে, সত্যিই তো দেশটা তরতর করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে ভাবতে গর্ব হয়, এখন দেশেই তৈরী হয় আন্তর্জাতিক মানের গাজি ট্যাংক এই দেশের তুলনা নেই এমন প্রতিভাবান কোথাও জন্মেনা প্রয়োজন শুধু প্রতিভাকে কাজে লাগানো একদিন সেটা হবেই দেখছেন না পৃথিবীজুড়ে কত বাঙালী কাজ করছে। দেশের সবচেয়ে বড় আয় আসছে ওদের কাছ থেকে।

সমস্যা একটাই ওইসব ধনী দেশগুলো ওরা কোনমতে পরের ভাল সহ্য করতে পারে না এই দেশগুলো উন্নত হোক সেটা ওদের ধাতে সয় না প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে দেয় না যতরকমভাবে সম্ভব দমিয়ে রাখে ষড়যন্ত্র আর ষড়যন্ত্র ষড়যন্ত্র করে দেশটা দুশো বছর দখল করে রেখেছিল এখনো স্বভাব পাল্টায়নি

ষড়যন্ত্র ছাড়া কি পারত আমাদের সাথে ?

তুমি যাবে ভাই, যাবে মোর সাথে

Jun 20, 2009

প্রচন্ড গরমের মধ্যে হঠাৎ করেই বৃষ্টি। গ্রাম্য ভাষায় বলে কুকুর খেদানো বৃষ্টি। তবে কুকুর যখন নেই তখন মানুষকেই খেদাতে হয়। মুহুর্তে হুলস্থুল শুরু হয়ে গেল। যে যেদিকে পারে ছুটেছে। কারসাথে ধাক্কা লাগল, কে পায়ের নিচে পড়ল তাতে কিছু যায় বাসে না। নিজের জীবন বাচানো বলে কথা।

একটা দাবড়ানি দিয়ে যে বৃষ্টি থামবে সেটা আর হল না। ঝরঝর করে ঝরতেই থাকল। ফল সবসময় যা হয় তাই। রাস্তার পাশের দোকানগুলি ভরে গেল মানুষে। এমন অবস্থায় সবসময়ই জ্ঞানী ব্যক্তিদের দেখা পাওয়া যায়। কোনমতে এক যায়গায় মাথা গুজে আমি সেই জ্ঞান আহরনের চেষ্টা করি। এর চেয়ে বড় পাঠশালা নেই।

বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে হল না। একজনের বক্তব্য শুনলাম, এই অসময়ে বৃষ্টিতে দ্যাশের কত যে ক্ষতি হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি গরীব মাইনষের। মানুষগুলান কত কষ্ট কইরা রাস্তায় দোকান দিছে তাগো ব্যবসার বারোটা বাজল।

সাথেসাথেই বিপরীত বক্তব্য, বৃষ্টি হইল আল্লার ইচ্ছা। যা ভাল মনে করছে, করছে। আল্লার সমালোচনা করা গুনাহগারী।

প্রথম ব্যক্তি কিছু একটা বলল উত্তরে। কিন্তু সেটা শোনার সুযোগ হল না। একটা রিক্সা এসে থামল, এক ভদ্রলোক সেখান থেকে নেমে এসে যোগ দিলেন ভীড়ে, আর-

আর একদল ছেকে ধরল রিক্সাচালককে।

এই যাবে ?

ওই খালি যাইব ?

এই সামনে।

এই-যে, বাড়ায়া দিমুনে-

রিক্সাচালক বৃষ্টির মধ্যেই দাড়িয়ে শুনল এর ওর কথা। তবে কোন গন্তব্য তার পছন্দ হল না। আমার পরিচিত সব যায়গার নাম ততক্ষনে বলা হয়ে গেছে। কোন যায়গা তার পছন্দ ধরতে পারছি না। একজন ভীড়ের মধ্যে থেকে সেটাই বলে ফেলল, তুমি কই যাইবা তাই কও। দেহি সেইখানে যাওনের লোক পাই কিনা।

রিক্সাচালক বোকা না মোটেই। মনে হয় পড়াশোনা করেছে, মোটামুটি শিক্ষিত। সে বলল, আমার পছন্দমত গেছে তো চলব না। যার যেখানে দরকার সে সেখানেই যাইব।

তবে সেই যায়গা যে কোথায় তা বোধগম্য হল না। একসময় সে খালি রিক্সা নিয়েই চলে গেল।

এরপর এই খেলা চলতে থাকল। রিক্সা, ট্যাক্সি, সিএনজি, মিশুক যতযা আছে সামনে এদিক ওদিক ঘুরছে কিংবা থামছে আর দুর্যোগে আটকা পড়া মানুষ হাকডাক করছে।

একজনকেও রাজী হতে দেখলাম না।

শুনেছি রাস্তায় ট্যাক্সি, অটোরিক্সা ইত্যাদির লাইসেন্স দেয়ার সর্তই হচ্ছে যাত্রীর যেখানে প্রয়োজন সেখানে যেতে হবে। রিক্সা অবশ্য এই আওতায় পড়ে না। অনেক ট্যাক্সি গায়ে লেখা, যাত্রীর প্রয়োজনে যে কোন ন্যুনতম দুরতে যাইতে বাধ্য। মাঝেমাঝে কথা উঠলে পুলিশ-সরকার বলে দেয় এই নিয়ম মানা বাধ্যতামুলক। তবে বেশিরভাগ লেখাই উঠে গেছে। ফলে মানুষও ভুলে গেছে ওসব। এখন যা দেখা যায় তা হচ্ছে ট্যাক্সি, সিএনজি এগুলোর পিছনে খুব সুন্দর করে লেখা, পুকরু তারপর কয়েকটা ফোন নাম্বার অর্থাৎ আপনার সমস্যা হলে পুকরুতে ফোন করবেন আর সাথেসাথে তারা এসে সমাধান দিয়ে দেবে ভুলেও আপনার সামনে দাড়িয়ে যে হাত নাড়ছে আর বাশি বাজাচ্ছে তার কাছে যাবেন না এসব তার দায়িত্বের মধ্যে পরে না জানেন না তারা কত কষ্ট করে ডিউটি করে সামান্য বেতনে খেয়ে না খেয়ে চলে

ট্যাক্সির শহর নামে পরিচিত নিউইয়র্কে নাকি চালকরা (অধিকাংশই নাকি আবার বাঙালী) সকালের খাবার খায় দুপুর পেরিয়ে গেলে সকালে রাস্তায় বের হওয়ার সাথেসাথে শুরু হয় ছোটাছুটি হাত দেখালে থামতে হয় ওরা কোন কথা না বলে সোজা দরজা খুলে উঠে বসে তারপর বলে অমুক যায়গায় যাও কোন প্রশ্ন করার উপায় নেই অমুক যায়গায় যাব না তো দুরের কথা, চিনি না বললেও লাইসেন্স বাতিল ওরাও তর্ক করবে না সোজা পুলিশকে জানাবে পুলিশও তর্ক করে না একবারও বলে না যাবে না তো রাস্তায় চলার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে কেন ? একবারও বলে না, যায়গা চেন না তবে ট্যাক্সি নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছে কেন ? পুরো শহরের ম্যাপ মুখস্ত করে তবে লাইসেন্স পেতে হয় তার ফল এই। দুপুরে যখন সবাই ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নেয় তখন খাবারের সুযোগ মেলে

বাপরে কি অসভ্য দেশ

ট্যাক্সি চালায় বলে কি ওরা মানুষ না দোকানে বসে এককাপ চা, সিগারেটে দুটা টান, দুএকজনের সাথে খোসগল্প কিছুই করতে দেবে না আবার ওরাই কিনা মানুষের স্বাধীনতার কথা বলে!

দেখে যান স্বাধীনতা কাকে বলে আমার রাস্তা, আমার ট্যাক্সি, আমার সিএনজি, আমার রিক্সা আমার ইচ্ছেয় চলবে যায়গা পছন্দ হলে যাব, টাকা পছন্দ হলে যাব, স্বাস্থ্য চেহারা পছন্দ হলে যাব তুমি বাধা দেবার কেডা ? ট্যাকার কথা কও ? ওই ট্যাকা আমার ---- তলে থাকে গরম দেহায়েন না পারলে হাইট্যা যান

তবে হাটা যায় না ফুটপাতের লীজ নিয়েছে দোকান, কর্মসংস্থানের কারনে রাস্তার অর্ধেক লীজ নিয়ে গাড়ি মালিক পার্কিংএর কারনে আর বাকি যায়গা ?

সে যায়গা গাড়ির জন্যই গাড়ির আর দেখছেন কি ? দেখতে চান তো অপেক্ষা করেন গাড়ি তো অহনো আসার অপেক্ষায় চিটাগাং পোর্ট সামাল দিতে পারে নাই, মংলা চালু হইছে পারলে একখান কিন্যা লন নয়ত ঘরে বইস্যা আঙুল চোষেন নিজেরে কি জমিদার মনে করছেন রাস্তায় দাড়ায়া আঙুল উঠাইবেন আর দৌড় দিতে হইব

আজকাল কেউ আর রিক্সা থামানোর জন্য হাত তুলে বুড়ো আঙুল দেখায় না এই খালি, এই খালি বলেও ডাকে না খুব ভাল করেই জানে দেশের উন্নতির সাথে সাথে সকলের ষ্ট্যাটাস বেড়েছে সকলের কাজের মর্যাদা দিতে হয় তবে না সভ্য সমাজ

আজকাল ডাকতে হয় অন্যভাবে এইযে ভাই যাবেন ? এই যে মামা যাবেন ? যাবেন নাকি চাচা জান ?

আমি মামা, চাচা, দুলাভাই, শ্বশুরমশাই সবরকম ডাকই শুনেছি এতে নতুনত্ব নেই নতুননত্ব দেখলাম একজনের কাছে সেটাই বক্তব্য।

বৃষ্টি হঠাৎ করেই থেমে গেছে। অনেকেই রওনা দিয়েছে। রিক্সাচালকও মনে করছে ভুলটা হয়েই গেল। বেশি সবুরে ম্যাওয়া পচে গেল। এখন বোধহয় আর প্যাসেঞ্জার পাওয়া যায় না। এমন সময়,

পড়নে নক্সাকরা ফতুয়া, চোখে চশমা, গালভর্তি দাড়ি, মাথায় নক্সাকরা টুপি কাধে ঝুলছে একটা ব্যাগ ইনি কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-বিজ্ঞানী-অধ্যাপক কিছু একটা না হয়ে যান না আমার সামনে দিয়ে হেটে গিয়ে থেমে থাকা রিক্সাটার কাছে দাড়ালেন রিক্সাচালক তখন যাত্রীর সিটে গুটি মেরে বসে।

শুনতে পেলাম তার কাব্যিক স্বর, তুমি যাবে ভাই, যাবে মোর সাথে-

রচনা - বলদ

Jun 19, 2009

বলদ অত্যন্ত উপকারি প্রাণী বলতে কি এরচেয়ে উপকারি কোন প্রাণী নেই একেবারে প্রাচীনকাল থেকে মানুষের একান্ত বন্ধু কেউ কেউ বলে থাকেন কুকুর সকলের আগে মানুষের বন্ধু হয়েছে বিস্বস্ততার দিক থেকেও নাকি অনন্য। কিন্তু সেটা বাড়িয়ে বলা কুকুর বাড়ি পাহাড়া দিতে পারে বটে, তাকে দিয়ে হালচাষ করা যায় না, মোট বয়ানো যায় না কোন কোন দেশে কুকুর দিয়ে গাড়ি টানার কাজও করে বলে শুনেছি সেটা করা হয় সেদেশে বলদ নেই বলেই বলদ থাকলে কাজটা তাকে দিয়েই করানো হত আর কোন কোন দেশে কুকুরের মাংশ খায় সেটাও সম্ভবত সস্তা এবং সহজলভ্য বলে বলদ সহজলভ্য হলে সেকাজটিও তাকে দিয়েই মেটানো হত বলদ না বলে সাধারনভাবে গরু বললেও চলে তবে বলদের অভাব বলদই মেটাতে পারে হালচাষেই বলুন আর গাড়ি টানাতেই বলুন, বলদ সবচেয়ে উপযোগি

বলদ চেনা খুব সহজ সাধারনত এরা তাগড়া গড়নের হয়, নিতান্তই যদি অভাবে না থাকে খাবার পেলে সেটা হয় আরো বাড়ন্ত এর প্রভাব পরে চলাফেরায় ফলে চলাফেরা দেখেও চেনা যায় যেমন হাটার ধরন সাধারনত এরা যথেষ্ট যায়গা নিয়ে হাটে ধারেকাছে অন্যকেউ থাকলে ধাক্কাগুতো লাগতেই পারে তবে তারা তাতে কিছু মনে করে না একেবারে উপেক্ষা করে যায় যেন কিছুই হয়নি

এরা দাড়ায় সাধারনত রাস্তার মাঝখানে অন্যের পথ বন্ধ করে ছোটখাট হুসহাস করলে সরে না এমনকি ছোটখাট ধাক্কা দিলেও না মোটামুটি ধাক্কা দিয়ে সরানো যায় তখনও মন খারাপ করে না তবে বেশি গুতো দিলে কখনো কখনো শক্তিপ্রয়োগ পারে শক্তি মেশি বলে তাদের সামলানো দায় পরিস্থিতি সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমানে ওয়াকিবহাল না হওয়ায় এধরনের পরিস্থিতি বিপদজনক তবে তুলনামুলকভাবে এরা ষাড়ের চেয়ে নিরাপদ তেড়ে আসায় কখনো ষাড়কে ছাড়িয়ে যায় না

বলদ খুব সহজে ঘুমাতে পারে কোনমতে শোবার যায়গা দিলেই তার চলে যায় তবে গরম-ঠান্ডা নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা থাকলে অত্যন্ত খুশি হয় বলদ আরামপ্রিয় আরামের যায়গা পেলে সেখান থেকে নড়তে চায় না

খাবার বিষয়ে বলদ কমবেশি সচেতন ছাগলের মত কি-না খায় না, নিতান্তই বাধ্য না হলে স্বভাবগতভাবে ভাল খাবারের দিকে আগ্রহ বেশি খাবারের পরিমান সম্পর্কে খুবএকটা সচেতনতা দেখায় না যতক্ষন নাগালের মধ্যে ততক্ষন খেতেই থাকে। খাবার পর সমগ্র গরুজাতির মত জাবর কাটতে পছন্দ করে

কেউ কেউ বলদকে তাচ্ছিল্য করে বলদো উচ্চারন করে থাকে। এটা অনুচিত। এমনকি অন্য কোন প্রাণীর সাথে বলদের তুলনা করাও গর্হিত কাজ। এসব করার আগে মনে রাখা প্রয়োজন বলদের অবস্থান কোথায়।

বর্তমানে বাংলাদেশের জাতিয় প্রাণী বাংলার বাঘ তবে চারপেয়ে বাঘ খুব দ্রুত লোপ পাচ্ছে অচিরেই বিলুপ্ত হওয়ার সমুহ সম্ভাবনা। যদি বাঘের অস্তিত্ব না থাকে তাহলে অস্তিত্বহীন প্রাণীকে জাতিয় প্রানী হিসেবে আখ্যায়িত করা যায় না সেজন্য আগে থেকেই বিচরনশীল এবং সহজলভ্য কোন প্রাণীকে জাতিয় প্রাণীর মর্যাদা দেয়া উত্তম বলদ অনায়াসে সেই স্থান পেতে পারে

ভেজালের জাল

Jun 16, 2009

একসময় চানাচুর খেতে খুব পছন্দ করতাম। একবার চানাচুর খাওয়ার পরই পেটটা কেমন কেমন করতে থাকল। মনেমনে যাচাই করতে চেষ্টা করলোম, খারাপ কিছু তো খাইনি। রীতিমত দোকান থেকে কেনা প্যাকেট করা মচমচে চানাচুর। গায়ে হোমমেড লেখা কাগজ লাগানো। কোন সমাধান না পেয়ে পরামর্শের জন্য অন্যের স্মরনাপন্ন হতে হল।

ও, আপনি জানেন না চানাচুর কি দিয়ে ভাজে। ওতে পোড়া মোবিল দেয়। মোবিল দিয়ে চানাচুর সবসময় মচমচে থাকে। নষ্ট হয়না।

পেটের আর দোষ কি। পোড়া মোবিল যেখানে গাড়ি হজম করতে পারে না।

আমার চানাচুর খাওয়ার সেখানেই ইতি। কথাটা মনে পড়ল কারন সরকার ঘোষনা দিয়েছেন খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করার জন্য সারাদেশে ভেজাল বিরোধী মামলার আদালত গঠন করা হবে দেশের মানুষ এবার ভেজাল থেকে রক্ষা পাবেনই পাবেন আমি আবারও চানাচুর খাওয়ার সুযোগ পাব। কোন দেশে যেন খাবারের দোকানের নামে মামলা করলে লক্ষ ডলার পাওয়া যায়। ওই ব্যাটার দোকানের খাবার খেয়ে মোটা হয়েছি, ব্যাটা বলেনি কেন ওটা খেলে মোটা হব। দিন ক্ষতিপুরন।

ভেজালনিরোধ পদ্ধতি মনেমনে যাচাই করতে চেষ্টা করলাম।

ধরুন আপনি খাবার কিনলেন দোকান থেকে। খাওয়ার পর যদি ভেজাল মনে হয় (মনে হওয়া ছাড়া যাচাই করার অন্য পন্থা নেই) তাহলে সেখানে গিয়ে মামলা ঠুকে দেবেন ব্যাটা শাস্তি না পেয়ে যাবে কোথায় ?

মামলা ঠুকে দিয়ে খুশিমনে বাড়ি ফিরবেন তারপর মাঝেমাঝে খোজ নেবেন মামলার কতদুর কি হল পকেটের টাকা যায় যাক দেশ তো ভেজাল মুক্ত হবে দেশের সেবা করার মত ভাল কাজ আর কি আছে ? দেখেন নি এই কাজ করে একজন মহাপুরুষ হয়ে গেছেন প্রায়ই টিভিতে মুখ দেখা যায়, খবরের কাগজে ছবি ছাপা হয় তিনি কতজনকে কতটাকা জরিমানা করলেন। একজনকে তিনবার চারবার পর্যন্ত জরিমানা করলেন। সরকারের কোষাগার টাকায় ভরে ফেললেন এমন কৃতিত্ব কজন দেখাতে পারে ?

প্রশ্ন করতে পারেন শেষফল কি। এখন নতুন পদ্ধতি প্রয়োজন হল কেন ?

না। শেষফল কি সেপ্রশ্ন করবেন না খাদ্যে ভেজাল কমেছে না বেড়েছে সেকথা বলবেন না ওটা বিবেচনা করা তার দায়িত্বে ছিল না সরকারেরও ছিল না। এখনও নেই। তার এবং সরকারের মনে হয়েছে অমুক খাবারে ফরমালিন দেয়া হয়েছে কাজেই জরিমানা দিতে হবে আবারও ফরমালিন আবারও জরিমানা আবারও সরকারের ঘরে টাকা আয় বাড়তেই থাকে এসব বন্ধ হলে কি আয় হয় ?

আর আদালতের বিষয় যদি বলেন, জানেন আদালত কতজনের কর্মসংস্থান করে আদালতের সামনে ফুটপাত দখল করে বসে থাকা লোকজন থেকে শুরু করে রায় দেয়া বিচারক পর্যন্ত সকলের কর্মসংস্থান হয় তো ওই আদালত থেকেই আদালত বাড়া মানেই তো মানুষের নতুন নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া দেখেন না এক দিনের মামলা এক যুগ চলে আরে যত দিন গড়াবে তত টাকা গড়াবে এই গড়গড়ানি থামানোর কোন অর্থ আছে ? আমেরিকা ইউরোপের মানুষের টাকার অভাব নেই তাই তারা ওপথে যায় না বিচারক নাকি দুজনকে ডেকে একসাথে বসিয়ে বলে মামলা করলে এই হবে, না করলে এই হবে তোমরা মিটমাট করে ফেল বাপু নইলে দুজনেই পস্তাবে

এখানে এই কথা বললে কি চলবে ? এখানে বিচারককে কি ডলার দেয় ? ওই সামান্য বেতনে কত হিসেব করে চলতে হয় তা জানেন ? সেজন্যই এই ব্যবস্থা মামলার টাকা নাকি ভুতে যোগায় তা ভূতের টাকা বিচারকের পকেটে গেলে ক্ষতি কি ? নতুন তারিখ, নতুন হাজিরা, আরো টাকা। আদালতই সঠিক যায়গা ভেজাল সমস্যা মিটানোর

কি বলছেন ? তারা ভেজাল চিনবে কিভাবে ? প্রমান করবে কিভাবে ? সেই মহামানব জরিমানা করেছেন ভেজাল আছে অনুমান করে ? আদালতও কি তাই করবে ?

বড় বিপদে ফেললেন কেন আদালত যদি অনুমান করে শাস্তি দেয় তাতে সমস্যা কোথায় ? আদালতের রায় নিয়ে প্রশ্ন করা যায় না সেটা জানেন ? আর ভেজাল যদি না থাকে তাহলে বিজ্ঞাপন ব্যবসার অবস্থা কি হবে ভেবে দেখেছেন। একশ ভাগ খাটি কথাটা ভুলে যেতে হবে, একমাত্র নির্ভরযোগ্য জাতিয় শব্দ শোনা যাবে না।

যদি এসব মেনে নিতে চান, অন্য দেশ যা করে তা যদি করতে চান তাহলে আদালত প্রয়োজন নেই প্রথমে চেয়ার-টেবিলে কাগজ কলম নিয়ে বসুন, কি করতে চান ঠিক করুন। আইন করুন, যার কাছে ভেজাল পাওয়া যাবে তাকে নিশ্চিত জেলে যেতে হবে ওসব জরিমানা-টরিমানা দিয়ে কাজ কবে না তারপর বিজ্ঞান গবেষনাগার না কি যেন আছে, বড় বড় বিজ্ঞানীরা মোটা মোটা চশমা লাগিয়ে এসিরূমে বসে থাকে, তাদের বলুন সাথেসাথে ফরমালিন চেনার ব্যবস্থা করে দিতে লিটমাস না কি যেন নাম, ছোট্ট একটুকরো কাগজ দিয়ে নাকি সাথেসাথে কি কি সব বোঝা যায়, তেমনই একটা সহজ উপায় বাতলে দিতে বলুন না পারলে আউট করে দিন ওই অকম্মাগুলোর দরকার কি ?

বখশিস

Jun 15, 2009

এক ভদ্রলোক ষ্টেশনে গেছেন টিকিট কিনতে। দামাদামি সব যায়গায় চলে এখানে চলবে না কেন। তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করলেন। কিন্তু কাজ হচ্ছে না। শত চেষ্টা করেও টিকিটের দাম কমানো যায় না। ওই লোক সরকারী চাকুরে। তোমার কিনতে ইচ্ছে কেন নয়ত যাও বাপু। আমার বিক্রি নিয়ে এত মাথাব্যথা নেই। বিক্রি হোক বা না হোক মাসগেলে আমার বেতন যা তাই থাকবে।

কাজ না হওয়ায় চাহিদা মোতাবেক পুরো টাকা দিয়েই কিনতে হল। টাকা দেয়ার সময় বললেন, দাম তো কমালেন না, একটুকরো সুপারি দেন।

সুপারি কোথায় পাব ?

ওইযে খুট করে কাটলেন।

এটা হল বখশিসের আবদার

এখন খুট করে কেটে টিকিট বেচতে হয় না, তবে ওই যে বখশিস সেটা খুব ভাল জিনিষ। আমি দেয়ার কথা বলছি না বলছি প্রাপ্তির কথা। বছর ঘুরে যখন উৎসবের সময় হয় আর আপনার সামনে দারোয়ান-পিওন-ড্রাইভার-কাজের লোক-কাজের মেয়ে এসে লাইন দিয়ে দাড়ায় কখন আপনার আপত্তি করার পথ থাকে না। সারাবছর যাদের গাফিলতি- চুরি-বাটপারির জন্য প্রকাশ্যে গালাগালি করেছেন তাদেরও মনেমনে গালাগালি করে হাতে বখশিস দিতে হয়। তবে সেটা আপনার পক্ষের কথা। যাদের দিয়েছেন তারা অত্যন্ত খুশি। বখশিসের পরিমান যত বেশি খুশীর পরিমান তত বেশি। আর আপনি যদি আগ বাড়িয়ে বখশিস প্রাপ্তদের সংখ্যা বাড়াতে পারেন তাহলে তো কথাই নেই। একগোছা পাচশ টাকার নোট নিয়ে পাড়ার একজনকে ডেকে হাতে তুলে দেবেন। বলবেন, ল, বখশিস। সকলে মিল্যা আনন্দফুর্তি করিস। এটা আমার শোনা কথা। একজনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম নেতার সাথে মাস্তানের সম্পর্ক তৈরী হয় কিভাবে তার উত্তরে শুনেছিলাম এই পদ্ধতির কথা। এই পদ্ধতিতে মুহুর্তে জনদরদী হওয়া যায়।

সে যাকগে। বলছিলাম বখশিসের উপকারের কথা। একসময় রিক্সাচালক যাত্রীর হাত থেকে টাকা নিয়ে সসংকোচে বলত খুশী হয়ে দুটাকা বাড়ায়া দেন। এতে আপনার দয়ার উদ্রেক হত আর আপনি আরো দুটাকা বাড়িয়ে দিতেন। তবে আজকাল টাকার মুল্য কমে গেছে। দুটাকা আর কটাকা। এখন আপনাকেই আগ বাড়িয়ে বলতে হয়, ওই মিয়া, যাইন নি। বাড়ায়া দিমুনে। এটা হল আগ বাড়িয়ে দেয়া বখশিস।

কিংবা আপনি আপনার অফিসের পিয়নকে পাঠালেন একটা জিনিষ কিনতে। খুব ভাল করেই জানেন সে টাকা মারবে। পই পই করে বলে দিলেন, ভাওচার ছাড়া জিনিষ কেনা চলবে না।

তবে ভাওচার এল। আর দেখেই আপনি বুঝে গেলেন বখশিসের পদ্ধতি। একশ টাকা বাড়ায়া লেইখেন।

দোকানদারও এই পদ্ধতি জানে। না জেনে উপায় কি, সারাদিন একাজই করতে হয়। তিনিও আগ বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করেন, কত লেখমু-

লেখালেখির বিষয়টা সবচেয়ে বেশি চলে অফিসেই। আর যদি সরকারি অফিস হয় তাহলে তো কথাই নেই। সব হিসাব কাগজে থাকতে হবে। এই বছরের বাজেট কত ? টেন্ডার ছাড়া মাসে দুলাখ খরচ করা যায়। ভাওচার লেখেন তো, এক লাখ নিরাবব্বুই হাজার ট্যাকা। কিসের ভাওচার ? এই ব্যবসা শিখছেন এতদিনে ? লেখেন হার্ডডিস্ক ক্লিন করা, এন্টিভাইরাস এইসব। আরে যা দেখা যায় না এমন কিছু। এই তথ্য সরকারের এক মন্ত্রনালয় এবং কম্পিউটারের দোকানের হিসেব থেকে পাওয়া। প্রতিমাসে একলক্ষ নিরানব্বুই হাজার।

তা তারা করবেই বা কি। প্রতিযোগীতায় প্রতিযোগীতা করেই টিকে থাকতে হয়। নেতা-মন্ত্রীরা যখন এসব করছেন তখন এটুকু না করলে কি চলে ? তারাও তো অন্য দেশে গিয়ে একথাই বলছেন। ডলার-পাউন্ড-ইউরো আনছেন। সংসদে সবচেয়ে বেশি হাততালি কখন হয় জানেন। হয় দুবার, যখন ঘোষনা দেয়া হয় কোন দেশ কত টাকা দেবে, আর যখন ঘোষনা হয় সেই টাকায় সাসংদের ভাতা, সুযোগসুবিধা কত বাড়বে। সেখানে সরকারী-বেসরকারী, দলীয়-বিরোধী বলে কিচ্ছু নেই।

বখশিস বলে কথা।

ঠ্যালা

Jun 14, 2009

সভ্যতার শুরু ঠ্যালা দিয়েই একেবারে আদিকাল থেকে চলছে ঠ্যালাঠেলি। পছন্দ করি না না করি ঠ্যালার মধ্যেই আমাদের বাস করতে হয় ঠ্যালায় গতি সঞ্চার হয়, ঠ্যালা বন্ধ করলে গতি কমতে শুরু করে করে কমতে কমতে একসময় থেমে যায় এর সবচেয়ে বড় উদাহরন ঠ্যালাগাড়ি ঠ্যালা দিন চলবে ঠ্যালা বন্ধ করুন থেমে যাবে যত ঠ্যালা তত গতি বিশুদ্ধ, পরিবেশদুষন মুক্ত বাহন ভার বেশি হলে একা না পারলে অন্যকে সাথে নিন তারপর একসাথে, মারো ঠ্যালা, হেইও-

ঠ্যালা যদি বেশি হয় তাহলে আবার সমস্যা তখন সেই ঠ্যালা সামলানো দায় ঠ্যালাগাড়ির ব্রেক থাকে না কাজেই এমন গতিতে ছুটতে থাকে যে পরিনামে ফল ভোগ করতে হয় সেই ফল যদি আম-কাঠাল-কলা-আনারস হত তাহলে আপত্তি ছিল না এটা কারো জন্য আম-কাঠাল, কারো জন্য বিষফল

আপনি ধরে নিলেন নির্বাচনের সময় এমন ঠ্যালা দেবেন যার ফলে পাচ বছর গতি থাকবে বাস্তবে সেটা হয় না। তখন ঠ্যালার এর ফল যখন দেখেন তখন হিসেব পারেন দুভাবে এক, আপনার ঠ্যালায় জোর এতটা নেই যা পাচ বছর গতি ধরে রাখতে পারে পাচদিন পরই সেটা গতি হারিয়ে ফেলে তারপর উৎরাই ছেড়ে চড়াইয়ের দিকে রওনা হয় আরেক সম্ভাবনা সেটা এতটাই গতিবেগ প্রাপ্ত হয় যে আপনার নাগাল ছাড়িয়ে যায় নির্ভর করে আপনার অবস্থান কোথায় তার ওপর আপনি যদি ধারে কাছে থাকতে পারেন, কোচড় কিংবা লেজ ধরে ঝুলে থাকায় দক্ষ হন তাহলে হাতছাড়া হবার ভয় কম, নয়ত নির্ঘাৎ অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী ঠ্যালার রাগ করে মনেমনে বলবেন, ঠ্যালাগাড়ির দৌড় কতদুর জানি আবার ঠ্যালা দেবার সময় আসুক তখন দেখিয়ে দেব একেবারে উল্টোদিকে ঠ্যালা দেব

তারপর দিলেন ঠ্যাল্টা উল্টোদিকে চলল উল্টোদিকের পালা উল্টোদিকের খেলাও বলতে পারেন একবার এদিক আরেকবার ওদিক। ঠ্যালা-পাল্টাঠ্যালার খেলা।

দুর্নীতির দায়ে জরুরী আইনে গ্রেপ্তার হবার পর নেতা হয়ত বললেন, এতে ভাল শিক্ষা হল এই শিক্ষার প্রয়োজন ছিল। নতুন ঠ্যালার চোটে সেই শিক্ষা বেশিদিন মনে রাখার সুযোগ ঘটল না সবাই যখন অন্যদিকে ঠ্যালা মেরে যখন আকাশে তুলে দেয় হয় তখন মনে হয় এইত ভালো আছি এই সুযোগ ছাড়ে কোন বোকা কিসের শিক্ষা। আমি যা শেখাই সেটাই শিখুন।

কিংবা নেতা হয়ত ঠ্যালা সামলাতে না পেরে তখনকারমত বললেন সংস্কার প্রয়োজন সংস্কারেই সবকিছু মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত সব যায়গায় সংস্কার করতে হবে আসুন দেখিয়ে দেই সংস্কার কত প্রকার ও কিকি। কিভাবে কখন কোথায় কি করিলে কি হইবে।

তারপর ঠ্যালা একটু কমতেই দেখলেন অন্যরূপ। সংস্কার! সেটা আবার কি জিনিষ দেখছেন না আমরা কত ব্যস্ত দেশরক্ষা আগে। আবার সময় হলে দেখা যাবে

আরেক ধরনের ঠ্যালাঠেলি সবসময়ই দেখতে হয়। অমুক সমস্যা সমাধানের জন্য তমুক কাজ করতে হবে। আমি বলে দিলাম আপনি ঠ্যালা দিয়ে দেখান। না পারলে ঠ্যালার জোর বাড়ান। না পারলে দোষ আপনার। সমাধান সামনেই তবু ধরতে পারেন না। পারেন কি আপনারা ?

ঠ্যালা খেতে খেতে জনগনের একসময় বোধোদয় হয় আর ঠ্যালা সহ্য করব না এবার আমরাই ঠ্যালা দেব আমাদের কথায় চলবে দেশ দেখিয়ে দেব ঠ্যালা কাকে বলে। আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দেব। কোন দুর্নীতিবাজ এবার ভোট পাবে না। নিজের চোখে দেখুন। . . .

ভ্যালারে ঠ্যালা বেচে থাকো চিরকাল

 

Browse