খাম্বা বনাম খুটি All The Same

Mar 22, 2010
খাম্বা বাঙালী খুব ভালভাবেই চিনেছে চারদলীয় জোট সরকারের সময়। একেবারে আখাম্বা দেয়া হয়েছে জনগনকে। কে দিয়েছেন, কিভাবে দিয়েছেন সাথেসাথে খুবএকটা জানা যায়নি। কেন কে জানে ? যাদের জানানোর কথা তারাও হয়তো খাম্বার ভাগ পেয়েছেন। পরবর্তীতে জানা গেছে বিস্তারিত। কেন জানা হয়তি তার প্রসংগ উল্লেখপুর্বক ব্যাখ্যাসহ। যিনি খাম্বা দিয়েছেন তিনি প্রধানমন্ত্রীপুত্রের বন্ধু। কাজেই জাতিকে খাম্বা দিতেই পারেন। অন্তত প্রধানমন্ত্রীপুত্রের সমালোচনা করা যায়না।
তারপর নদীতে বহু পানি গড়িয়েছে। বহু মানে কতটা বলা কঠিন কারন আজকাল পানি বেশি গড়ায় না। শুধু বালুচর নদীর মাঝখানে। তারপরও, কিছু হলেও গড়িয়েছে। দিনবদলের ডাক শুনে চৈতন্য ফিরেছে বাঙালীর। আর দুর্নীতি নয়, আর অনিয়ম নয়। যারা খাটি দেশপ্রেমিক, যোগ্য তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় পাঠাব। দিন বদল করব।
দিন বদলানো। শুধু দিনই বা কেন, দিনরাত সবই বদলালো। যত দখলদারী আছে হাতবদল হল। প্রধানমন্ত্রী রীতিমত ঘোষনাই দিয়ে ফেললেন, দখলদারী মুক্ত করবে না ?
কাজেই তোমরা মুক্তভাবে দখলদারী মুক্ত কর। রাস্তাঘাট, খালবিল, নদীনালা-বনজঙ্গল, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সব দখলদারীমুক্ত কর। বদলে ফেল, বদলে যাও। নামবদলের বহর এবং জিয়ার কবর নিয়ে টানাটানি দেখে একজন মন্তব্য করে বসল, বুজছি, ওইডারে বঙ্গবন্ধুর মাজার বানাইব।

এরই মধ্যে খবর শোনা গেল সরকার ৫১ হাজার খুটি কিনছে। চোখের চশমা ঠিক করে আরেকবার খবরের কাগজে চোখ বুলাল বাঙালী। দিনে ১২ ঘন্টা লোড সেডিং এরই মধ্যে ৫১ হাজার খুটি। ভারত থেকে বিদ্যুত কি এসেই গেল! নাকি দেশপ্রেমিক সরকার দেশেই বিদ্যুতকেন্দ্র বসালো। এজন্যই বোধহয় দাম বাড়ালো কদিন আগে। খুটিগুলো কোথায় বসাচ্ছে ? আমার এলাকায় পাবো তো ?
ধুর, ওসব কিছু না। খুটি কোথাও বসানো হচ্ছে না। ব্যাখ্যা দিলেন কর্মকর্তা, অনেকসময় দেখা যায় নতুন সংযোগ দেবার সময় খুটির অভাবে দেয়া যায় না, তাই অগ্রিম কিনে রাখা।
কতদিনে নতুন সংযোগ দেয়া শুরু হবে ?
কি যে কন না! একদিন না একদিন হইব। খুটি কি পচার জিনিষ যে পচব। অহন সস্তায় কিন্যা রাখলাম আরকি। একদিন ঠিকই কামে লাগব। ক্ষমতার একবছরের বেশি পার হইছে। বাঙালীর বিশ্বাস কি ? যদি সত্যিসত্যি ক্ষমতার হাতবদল তাইলে মুসকিল। সময় থাকতে নিজের খুটি ঠিক করি।
সাপ্লাই দিল কে ?
কে আবার! যার খুটির জোর আছে। এপ্রশ্ন আবার করতে হয়!

নাপিতকে ডাক্তারী শেখাবে কে Look Before You Leap

Mar 21, 2010
এক গ্রামে একজন নাপিত ডাক্তারদের জন্য ত্রাস হিসেবে দেখা দিয়েছিল সন্ত্রাসী কাজকর্ম দিয়ে না, বরং নিজের কৃতিত্ব দিয়ে ফোড়ার রোগি পেলে সে ঘ্যাস ঘ্যাস করে ক্ষুর চালাত আর ফি একেবারে নগন্য অন্তত ডাক্তারের ছুরি-কাচির সাথে তুলনা চলে না ফল যা হবার তাই হল লোকে লাইন দিল নাপিতের কাছে আর ডাক্তারদের ভাতে-পানিতে মরার দশা
একসময় সব ডাক্তাররা একত্রিত হল সমাধান খুজতে বর্ষীয়ান একজনের মাথা থেকে বুদ্ধি এল, দায়িত্ব আমি নিচ্ছি তোমরা ধৈর্য্য ধর
পরদিন তিনি দেখা করলেন নাপিতের সাথে ওহে নাপিত, তুমি তো বেশ ভাল ফোড়া কাট তোমাকে কিছু নিয়ম কানুন শিখিয়ে দেই আরো ভালভাবে কাজ করতে পারবে এই যে, এই হল ক্ষুর, আগে এটাকে পরিস্কার করতে হবে এতে অনেক রোগজীবানু থাকে কোনটা শরীরে ঢুকে গেলে সেই রোগ হবে একে বলে ষ্টেরিলাইজ করা তারপর যেখানে কাটবে সেই যায়গা ভালভাবে লক্ষ্য করবে আমি ছবি দিয়ে দেখাচ্ছি, এইযে এটার নাম ভেইন এর মধ্যে দিয়ে সারা শরীরের রক্ত হার্টে যায় এটা কাটলে রক্তপড়া বন্ধ হবে না রোগি মারা যাবে এটার নাম আর্টারী এটা দিয়ে রক্ত হার্ট থেকে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এটা কাটলেও রক্ত পড়া বন্ধ হবে না কোথায় ভেইন কোথায় আর্টারী এসব বাদ দিয়ে সাবধানে কাটবে
রীতিমত কদিন ট্রেনিং নিয়ে খুশীমনে নতুন রোগির ফোড়া কাটতে গেল নাপিত ক্ষুরটাকে গরম পানিতে ধুয়ে নিল স্যাভলন দিয়ে মুছে নিল তারপরও খুতখুতি যায়না, জীবানু কি থেকেই গেল!
এরপর কাটার পালা এইদিক দিয়ে গেছে ভেইন ওইপাশে ছোট আরেকটা তার কাছেই আর্টারী বাপরে, ওগুলো পাশ কাটিয়ে কাটব কিভাবে ?
নাপিতের হাত কাপতে শুরু করল একসময় ক্ষুর পড়ে গেল হাত থেকে
আসলে নাপিত যতক্ষন নাপিত ততক্ষন ডাক্তারী খুব সহজ অমুক যায়গায় সমস্যা, কেটে ফেলুন
এই নাপিতামি শুধু ফোড়া কাটার মধ্যে থাকলে এত আপত্তি ছিল না অন্তত ফোড়া না হওয়া পর্যন্ত তাকে ভয় পাবার কারন ছিল না নাপিত নিজেই যদি ফোড়া তৈরী করে তারপর নিজেই সমাধান দিতে ক্ষুর চালায় সমস্যা তখনই
ঢাকা শহরে বিলবোর্ড খুলে মাথায় পরে মানুষ মারা গেছে নিজেদের জীবন দিয়ে তারা জানিয়ে গেছেন শহর জুড়ে রাস্তার ধারে এসব বিলবোর্ডের ৯৯ ভাগই অবৈধ কাজেই লোক লাগাও, ওগুলো ভাঙ্গতে হবে আজ গুলশান, কাল শাহবাগ, পরশু মতিঝিল ততক্ষনে গুলশানের নতুন কাজের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে কিভাবে অবৈধ বিলবোর্ড লাগানো সম্ভব হল, কার বোর্ড লাগানো হল, কে লাগালো, কিভাবে শতশত কোটি টাকা হাতবদল হল এপ্রশ্ন করবেন না। মানী লোকের মান রেখে চলতে হয়।
আর ভাঙ্গার নির্দেশনা কে দিল তা নিয়েই বা মাথা ঘামাচ্ছে কে ? ক্ষমতা আমার হাতে, আমিই কাজী। ক্ষমতায় থেকে কিছুই করব না তাকি হয় ? এতটা নেমকহারাম নই। কাজেই, ভেঙ্গে দাও ঘুড়িয়ে দাও-
ভাঙ্গা হবে কার টাকায় ? সরকারের টাকার অভাব নেই। শুধু জমছে আর জমছে। আয় সন্তোষজনক, ব্যয় কমছে। খরচ করার যায়গা নেই। জমা টাকা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বিনিয়োগের জন্যও কেউ টাকা নেয় না। সাংসদপিছু ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। তারা কিছুটা অর্থভার কমাবেন।
আর জনগন ? তারা ভারবাহি পশু। প্রতিনিয়ত ট্যাক্সের পরিমান বাড়িয়ে যাবেন। গ্যাস-বিদ্যুত-পানির জন্য টাকা বাড়াতে থাকবেন আর ক্রমেই সেগুলোর ব্যবহার কমাবেন। দিনে-রাতে অর্ধেক সময় গ্যাস-বিদ্যুত-পানিছাড়া থাকবেন। পরিবেশ বিপর্যয় থেকে বিশ্ব রক্ষা করবেন। বিশেষ বিশেষ দিবস পালন করবেন। এজন্যই তো স্বাধীনতা এনে দিয়েছি। স্বাধীনতা পালন করুন।

গা জ্বালা The Ugly Words

Mar 17, 2010
গায়ে জ্বালা অনেক কারনে হয়। আমি চৈত্রের দিনে বা রাতে লোড সেডিং-এর কথা বলছি না। সেটা গা সওয়া হয়ে গেছে। বলছি তাদের কথা যাদের দিনরাত এসিরুমে থাকার পরও গা-জ্বালা করে। রোগতত্ত্ব হিসেবে বলতে পারেন এটা রোগ। শারীরিক বা মানষিক যে কোনটাই হতে পারে। অতিমাত্রায় বার্গার-কাবাব খেলে তাদের নাকি শারীরিক গা-জ্বালা তৈরী হয়। আবার কেউ যদি অসন্মান করে, যদি গালাগালি করে তাহলে মানষিক গা-জ্বালা তৈরী হয়।
বকারামের পাঠকেরা এত বোকা নন যে একথা ব্যাখ্যা করে বুঝাতে হবে। সরাসরি সোজা কথাতেই যাই।
জিয়াউর রহমান স্বাধিনতার ঘোষক, বিএনপির এই কথায় আওয়ামী লীগের গা-জ্বালা। যদিও ইতিহাস বলে আমি মেজর জিয়া বলছি একথা দিয়ে শুরু করে তিনি স্বাধিনতার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিলেন সবাইকে।
রেডিও-টিভি অথবা মাইকে এমনকি খালি গলায় যখন কেউ কিছু জানান দেয় তাকে ঘোষক বলে। জিয়া এই যুক্তিতে ঘোষক। একমাত্র মিথ্যাচারনই পারে এটা অস্বিকার করতে। বিএনপি জিয়াকে ঘোষক-ই বলে। তাকে আওয়ামী লীগের আদর্শিক নেতার বিকল্প হিসেবে দাড় করিয়েছে বলে কখনো শোনা যায়নি। অন্তত জাতির পিতা- এই শব্দ নিয়ে কখনও টানাটানি করেনি। সেটা একজনের জন্যই নির্দিষ্ট।
কিন্তু গা-জ্বালা যখন শুরু হয় তখন কান্ডজ্ঞান লোপ পায়। কোথায় কোন যুক্তি আছে টেনে বের করতে হয়। জিয়া যদি স্বাধীনতার ঘোষনাই দিয়ে থাকেন তাহলে স্বাধিনতা দিবস ২৭ মার্চ হল না কেন ? তিনি তো ঘোষনা দিয়েছিলেন ওদিনই। আসলে স্বাধিনতার ঘোষনা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষনেই দেয়া হয়েছে। এবারের সংগ্রাম স্বাধিনতার সংগ্রাম, এরচেয়ে বড় ঘোষনা আর কি হতে পারে ?
তবে যুক্তি বলে কথা। এইসব যুক্তিবাদীদের কেউই একবারও বলেননি স্বাধিনতা দিবস আসলে ২৬ মার্চ না হয়ে ৭ মার্চ হওয়া উচিত। কারন ঘোষনাটা সেদিনই দেয়া হয়েছিল। অবশ্য সেটা ভবিষ্যত পরিকল্পনা হলে অন্য কথা।
পৃথিবীর কোন দেশে স্বাধিনতার ঘোষক নামে কেউ পরিচিতি পেয়েছেন কিনা জানিনা। কিছুদিন আগে পর্যন্ত জিয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন একথাই লোকে জানত। জেড ফোর্সের প্রধান ছিলেন। (আজকাল শোনা যায় তিনি পাকিস্তানের চর ছিলেন। অনেকের কাছেই প্রমান আছে। তারা ৪০ বছর ধরে অতিযত্নে গোপনে সংরক্ষন করে রেখেছেন)। তিনি মুক্তিযুদ্ধে কি ভুমিকা রেখেছেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে কি ভুমিকা রেখেছেন, দেশের উন্নতির জন্য কি পরিকল্পনা করেছেন এসব ভুলে তিনি স্বাধিনতার ঘোষক এই একটিমাত্র বিষয়কে আকড়ে ধরতে আগ্রহী বিএনপি।
তাতে সমস্যা কোথায় ?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফাদার অব নেশন বলে একটি শব্দ পরিচিত। জাতির জনক। যিনি জাতিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করেন তিনি এই সন্মান লাভ করেন। এজন্য যুদ্ধ করে স্বাধিনতা পেতে হবে এমন কথা নেই। আমাদের নিকটতম প্রতিবেশি দেশে গান্ধীকে এই মর্যাদা দেয়া হয় যদিও তিনি সবধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে ছিলেন। এমনকি স্বাধিনতার জন্য যুদ্ধেরও। কেউ আবার জাতির জনক হন সরাসরি যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে। শত্রুকে পরাজিত করে। জর্জ ওয়াশিংটন, মাও সে তুং কিংবা  ফিডেল ক্যাষ্ট্রো নিশ্চয়ই এই দলে। কেউ আবার যুদ্ধের পর দেশ গঠন করেও জাতির জনকের সন্মান পান। আমেরিকায় ওয়াশিংটনকে যতটা ভক্তি করা হয় জেফারসন-লিংকনকে তারথেকে বিন্দুমাত্র কম করা হয় না। মাও নিজে সবচেয়ে বেশি মানুষের ছন্নছাড়া এক দেশের অর্থনীতি ৫ বছরে দ্বিগুন করতে পেরেছিলেন। বলতে গেলে একেবারে খালি হাতে। যেখানে খরা-বন্যা-পঙ্গপাল ছিল নিত্যসঙ্গি।
বঙ্গবন্ধু জাতির জনক নিশ্চয়ই প্রথম কারনে। সেটা তার প্রাপ্য। এনিয়ে বিএনপি তো দুরের কথা সরাসরি স্বাধিনতার বিপক্ষে অবস্থান নেয়া জামায়াতের নেতারাও কিছু বলার সাহস পান না। এদেশের সব মানুষের কাছে বিষয়টি চিরসত্য। 
কিন্তু কথা একটাই, আমার নেতা স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছেন। সেকারনেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। নইলে কক্ষনো এদেশ স্বাধীন হত না। যে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন দিল, যারা সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করল তারা এই ঘোষনার কাছে তুচ্ছ। ঘোষনাই সব।
প্রশ্ন করতে পারেন জিয়া-মুজিব বিরোধ লাগল কেন ? জীবিত অবস্থায় তারা বিরোধে জড়িয়েছিলেন এমন খবর তো নেই। মৃত্যুর পর একে অন্যের বিরুদ্ধে লাগলেন কেন ? যেখানে তারা অবস্থান করছেন সেখানেও কি হাতাহাতি করছেন ? নাকি এটা একেবারে পার্থিব বিষয় ? এখানেই বা একের সাথে অন্যের তুলনার বিষয় সামনে এল কেন ??
এপ্রশ্নের উত্তরের জন্য জাতিকে অপেক্ষা করতে হবে বহুদিন। হয়ত কয়েক প্রজন্ম। যখন এই নেতাদের বর্তমান রাজনীতিতে ব্যবহার করা হবে না। তাদের নাম বিক্রি করে নিজের চামড়া বাচানো যাবে না। এরই মধ্যে তাদের নাম প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বিক্রি হয়ে গেছে।
ইতিহাস কখনো বদলানো যায় না। সত্যিকারের ইতিহাস একসময় লেখা হবে। আপাতত একের কথায় অন্যের গা-জ্বালা এবং তার প্রতিক্রিয়া দেখা ছাড়া গতি নেই।

চলতি ধারাবিবরনী - Running Commentary

Mar 16, 2010
আস্তে আস্তে তিনি বোলিংএর শেষ প্রান্তে গিয়ে পৌছালেন, এইমাত্র ঘুরলেন, দৌড় শুরু করলেন, আম্পায়ারকে অতিক্রম করলেন, বল করলেন-
বুঝতেই পারছেন এটা ক্রিকেটের ধারাবিবরনী। যারা ক্রিকেট পছন্দ করেন তাদের খুবই প্রিয় চলতি ধারাবিবরনী। এই মুহুর্তে কি ঘটছে জানা যায়। এক মুহুর্ত অপেক্ষা নয়, ঘটনার সাথেসাথেই খবর। ক্রিকেট বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। বিশ্বের মাত্র কয়েকটা দেশ টেষ্ট খেলার যোগ্য। বাংলাদেশ তাদেরই একজন। কাজেই, চলতি ধারাবিবরনী শোনা এবং দেখার গৌরবও আমাদেরই, অন্যদের নেই। এমনকি আমেরিকা-রাশিয়া-চীন-জাপানেরও নেই। ওরা বড়জোর ৯০ মিনিটের ধারাবিবরনী শুনতে পায়, আমরা পাই পুরো ৫ দিন। গর্বটা কার!
শুধু খেলার ধারাবিবরনী বলে তো কথা না, আরো বহু কিছু আছে চলতি ধারাবিবরনীর। যেমন ধরুন জাতিয় সংসদ। কে কিভাবে মাতৃভাষা প্রয়োগ করলেন, কতজোরে টেবিল চাপড়ালেন, কার বংশ কতটা ধুয়ে দিলেন জানা যায় সরাসরিই। আগে যদি না চিনে থাকেন তাহলে সাথেসাথে চিনে নেয়া যায় কে দেশপ্রেমিক, কতটা দেশপ্রেমিক। কে কোন নেতার ভক্ত, কতটা ভক্ত। আমাদের নেতাগন কয়েক দশক আগে বিদায় নিতে পারেন, তাই বলে তাদের আমরা ভুলিনি। দমে দমে তাদের স্মরন করি। শুধুমাত্র কয়েকজন সংসদে বসে করলে তো হবে না, দেশের আপামর জনসাধারনের করা প্রয়োজন। তাদের দানেই তো এই দেশ। তারা ঘোষনা না দিলে কি কেউ যুদ্ধে যেত? জীবন দিত ??
মোটেই না। সেজন্যই এই চলতি বিবরনী।
এসব ধারাবিবরনীর কিছু সমস্যা থেকেই যায়। রেডিও মাঝেমাঝে শো শো করে ঝড় শোনায়, টিভি মাঝে মাঝে রাতের তারা দেখায়। এতে ধারাবিবরনীর ধারাবাহিকতা নষ্ট হয় বৈকি। ধারাবাহিক নাটকের একপর্ব মাঝখানে না দেখলে যেমন অবস্থা হয় তেমনি। নায়ক কিভাবে ভিলেনে পরিনত হল (অথবা বিপরীত) জানার সুযোগ হাতছাড়া হয়।
কাজেই, সবচেয়ে সুবিধেজনক এবং নিরাপদ ধারাবিবরনী হল পয়েন্ট টু পয়েন্ট ধারাবিবরনী। একের সাথে অন্যের।
আগে একটা উদাহরন দিয়ে নেই। এক ব্যক্তি সিডির দোকানে এসে জিজ্ঞেস করলেন, অমুক গান আছে ? চালান তো।
গান চালু হল। আর সেই ব্যক্তি পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে কল করলেন। তারপর ফোনটা বাড়িয়ে ধরলে স্পিকারের সামনে। তারপরই ফোন কানের কাছে নিয়ে অপর পারের ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, এই গান ?
আপনি নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন গানের ধারাবিবরনী প্রচার করা হল অপর প্রান্তে। মোক্ষম পদ্ধতি।
কাজেই, যদি সত্যিকারের ধারাবিবরনী দিতে হয় সেজন্য রেডিও-টিভির ওপর নির্ভর না করে মোবাইল ব্যবহার করুন।
যেমন, আপনি এখন কোথায় ?
এই যে আপনের বাড়ির কাছে। রাস্তার ওপার। ডানদিকে তাকাইলাম। একটা গাড়ি আইতাছে। রাস্তা পার হমু। হাত তুললাম কিন্তু ব্যাটায় থামল না। একটু হইলে পায়ের উপর দিয়া যাইত। দ্যাহেন তো ব্যাটারে কিছু করতে পারেন নাকি। মনেহয় দুইনম্বরি ড্রাইভার। ধুরছাই, সক্কলেই তো তাই। এইডা মনে হয় তিন নম্বর। গাড়ির নম্বরডা- আহহারে দ্যাখতে পারলাম না। রাস্তা ফাকা পাইছি, দৌড় দিতাছি। এই পাড়ে আইছি। এইযে এবার বামদিকে ঘুরলাম--

আদেশমাত্র মান্য করিতে বাধ্য থাকিবে Obey The Law

Mar 14, 2010
বৃটিশ মন্ত্রী ডেভিড ব্লাংকেটকে মন্ত্রীত্ব হারাতে হয়েছিল সুপারিশ করার অপরাধে। তিনি নাকি তার বান্ধবীকে কম খরচে সরকারী বাড়ি পাইয়ে দিতে নিজের পরিচিতি ব্যবহার করেছিলেন। কোন প্রমান অবশ্য হাজির করা হয়নি। আসলেই সেটা অভিযোগ নাকি সত্য সেটা জানা যায়নি। তাদের দেশে নিশ্চয়ই কেউ রাজনৈতিক হয়রানীমুলক অভিযোগ আনে না, কাজেই ধরে নেয়া যায় সত্য। কাজেই চাকরী নট।
বুশের প্রিয়ভাজন পল উলফোভিতজকেও বিশ্বব্যাংক প্রধানের পদ ছাড়তে হল ওই সুপারিশের কারনেই। তিনি নাকি নিজের পরিচিতি ব্যবহার করে বান্ধবীকে প্রাপ্যের চেয়ে বেশি বেতন দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। কাজেই চাকরী নট।
আসলে সুপারিশের বিষয়টি নগন্য। মুল বিষয় ওই - বান্ধবী। ধর্মপ্রান বাংলাদেশের নেতারা ওসব কুকাজ করেন না। তবে সুপারিশ করেন। ওই যে একজনের চাকরী গেল ব্যাংক থেকে। তিনিও জানেন কোন পথে যেতে হয়। প্রতিমন্ত্রী। তার ফোন গেল ব্যাংক প্রধানের কাছে,
হ্যালো, আমি মাহবুবুর রহমান। কি বলছেন ? চেনেন না ?? নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে চেনে না ! আমি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। পানিসম্পদ রক্ষা করি, দেশের সম্পদ রক্ষা করি, চাকরী রক্ষা করি আর আমাকে চেনেন না। বাড়ি কোথায় ? এ্যা, ঘড়বাড়ি নেই ? বেয়াদ্দপ কোনহানকার। তোর এতবড় সাহস। তুই রাজাকার, আলবদর। গানম্যান পাঠালাম, দেখ আমি কে। এই, কে আছিস, ধরে আনতো-
সাথেসাথে সরকারী গাড়ি নিয়ে ছুটল সরকারী গানম্যান। সাথে মন্ত্রীর পিএস। নিতান্তই তার অফিসের লোকজনের কারনে বেধে আনা গেল না। এত লোকের সামনে-
না, প্রতিমন্ত্রী তাকে ধরে আনতে গানম্যান পাঠাননি। চায়ের দাওয়াত দিতে পাঠিয়েছেন। অন্তত সাংবাদিকগন এই উত্তরই পেলেন তারকাছে।
আপনারা সাক্ষী, ওই লোক দেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় তাও শেখেনি। আমার ফোন পেয়ে বলে চেনে না! অপেক্ষা করুন। কদিনেই জানবেন সে রাজাকার - সন্ত্রাসীদের অর্থজোগানদাতা  না-কি।
কাজেই, হে বঙ্গবাসি, যদি রাজাকার হতে না চান, যদি গানম্যানের কাছে চায়ের দাওয়াত পেতে না চান তবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির জন্য আচরন শিখুন। তাদের চিনে রাখুন। তাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পরিবার, ভাই-বেরাদর, সঙ্গিসাথীর নাম মুখস্ত করুন।
টাকার গায়ে লেখা থাকে, চাহিবামাত্র দিতে বাধ্য থাকিবে। এই লিষ্ট দেখে সকাল-বিকেল নিজেকে বলুন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আদেশ করামাত্র মান্য করিতে বাধ্য থাকিবে।

মান এবং হুস - Be a Man

Mar 13, 2010
মান এবং হুস, এই নিয়ে মানুষ বলে গেছেন রামকৃষ্ণ তার কথা অমৃতসমান কাজেই ধরে নিতেই হয় মানুষ পরিচিতিলাভের জন্য মান এবং হুস এই বিষয়দুটি থাকতে হয় বন্যপ্রানী সহজেই বন্যপ্রানী তরুলতা সহজেই তরুলতা মানুষ, প্রানপন চেষ্টায় মানুষ, একথাও তাই বলে প্রানপন চেষ্টা করে মানুষ হতে হয় নিজের মান রাখতে হয় হুসজ্ঞান ঠিক রাখতে হয়
 কিন্তু কথা হচ্ছে, শুধু কথায় কি চিড়ে ভেজে ? চিড়ে ভেজাতে প্রয়োজন হয় পানি আর সেটা পেতে মান এবং হুস কিছুটা হারাতেই হয় শুধু পানিতেই তো চলবে না, চিড়েটা আগে তার বিনিময়েও কিছু দেয়ার বিষয় থেকে যায় সকলের আগে যা দেয়া যায় তাহচ্ছে মান এবং হুস বিকোয় খুব সহজে যায়গামত বিকোতে পারলে চিড়ের অভাব হয় না
যেমন ধরুন, সরকারী প্লট বরাদ্দ সাংসদ হিসেবে আপনার সেটা প্রাপ্য আবার দেশের মান রক্ষার্থে কিছু নিয়মও উচ্চারন করতে হয় নিয়মে বলা হয়েছে প্লট তিনিই পাবেন যার নিজের এধরনের জমিজমা নেই দুদিক ঠিক রাখতে আপনাকে যা করতে হয় তা হচ্ছে হলফনামা দেয়ার সময় বলে দেয়া, আমার জমিজমা কিচ্ছু নেই ওই প্লটটুকু না পেলে ফুটপাতে থাকতে হবে আর সাংসদ হিসেবে সেটা করা যায় না অনেক দেশে প্রধানমন্ত্রী সাইকেলে চেপে বাহাদুরী দেখায়। ধুরো! ওই জাতির মানসন্মান বলে কিছু আছে নাকি ? যতসব জংলি। নেতা-মন্ত্রী ওসব করলে দেশের মান যায়, সমাজের মান যায় নেতা-মন্ত্রী-সাংসদের দায়িত্ব দেশের মান উচুতে তুলে ধরা
কাজেই দেশের স্বার্থে, সমাজের স্বার্থে মিথ্যে হলফনামাটুকু দিতে হয় পত্রিকায় যদি খবর যায় তাতে কিছুটা মানহানিও হয় সেই অর্থে কিছুটা মনুষ্যত্বহানিও হয় অন্তত ওই রামকৃষ্ণের কথা মানলে
কিন্তু খবরের কাগজে ওকথা থাকেই বা কদিন তাদের প্রতিদিন নতুন খবর ছাপতে হয় আগেরটা না ভুললে চলে না তাছাড়া এই মানহানি আবার অন্যভাবে পুশিয়ে নেয়া যায় অন্য সবকিছুর মত মান বিষয়টিও আপেক্ষিক একের তুলনায় বেশি কিংবা কম এক পদ্ধতি হচ্ছে বেশি মান সংগ্রহ করে অন্যের চেয়ে মানী হওয়া আরেক পদ্ধতি হচ্ছে আরেকজনের মান কমিয়ে তারচেয়ে বড় হওয়া আপনি লম্বায় আরেকজনের চেয়ে উচু হবে, অথবা আরেকজনের ঠ্যাং ভেঙে তাকে ছোট করে দেবেন একেবারে সহজ কার্যকর পদ্ধতি
কাজেই, অমুকে অতবড় চুরি করেছে, এইকথা বলে তাকে আপনার চেয়ে ছোট করে দিন জানেননা আগের সরকার কত দুর্নীতি করছে। প্রমান চান? ওইযে, রিমান্ডে গিয়া সব ফাস কইরা দিছে। ষড়যন্ত্রে কার কার নাম আছে সব কইছে। এইবার যাইবা কোনে!
প্রশ্ন করতে পারেন অন্যে চুরি করলে সেখানে নিজের চুরি ঢাকা পরে কিনা। কিংবা চুরি করে কেউ ছোট হয় নাকি বড় হয় অবস্থাদৃষ্টে বড় হওয়ার উদাহরনই বেশি চুরি করতে যোগ্যতা লাগে। যার যোগ্যতা যত বেশি সে তত বড় হয়।
আবার অন্যদিকও সামলাতে হয়। নীতিকথা বলে কথা চুরি করেছেন, করবেন, তাইবলে নীতিকথাও বলবেন না! পরকালে দোযখে যাবেন নাকি ?
কাজেই (নীতির বিচারে) কিছুটা মানহানি মেনে নেয়া যায়
সমস্যা হচ্ছে, এসব বড়বড় মানুষের কথা মন্ত্রী-সাংসদ-নেতা-আমলা এদের কথা আপনি ইচ্ছে করলেই ওদলে যোগ দিতে পারেন না দেশে হাজার হাজার মন্ত্রী-সাংসদ রাখার ব্যবস্থা নেই  কাজেই আপনাকে অন্য পথ খুজতে হয় কোন পথে মান বিক্রি করে কিছু কামানো যায়
এজন্য দুটি কাজ করুন নীতিকথা শিখুন অনবরত বলতে শুরু করুন চারিদিকে কার কি দোষ সেগুলি যতভাবে সম্ভব বলতে শুরু করুন বড় থেকে ক্রমাম্বয়ে ছোটর দিকে
উদাহরন, জানেন মন্ত্রীরা কত হাজার হাজার ট্যাকা দুনীতি করে পারলে সেইগুলান বন্ধ করেন তারপর ওইসব আমলা, সরকারী কর্মকর্তা, সচিব, তাগো সহকারী, সহকারীর সহকারী, তার পিওন ওগো দুর্নীতির খবর জানেন ? বড় বড় ব্যবসায়ীর দুর্নীতির খবর জানেন ? সিন্ডিকেট কইরা হাজার হাজার কোটি ট্যাকা কামাইতাছে সেই খবর রাখেন ? আমি কয়ট্যাকা চাইলে কন ঘুস! ব্যবসায়ী কয়ট্যাকা বেশি লাভ করলে কন বাটপারি! রিক্সাঅলা কয়ট্যাকা বেশি নিলে কন ঠকবাজি!
আমরা তাগো কাছে শিশু সববিচারেই শিশু শিশুরা যেমন বড়দের কাছে শেখে আমরাও তাগো কাছে শিক্ষা নেই আমার মান নাই-হুস নাই কওনের আগে যারা এইসব শিখাইছে তাগো কাছে যান
রামকৃষ্ণ এদ্দিন বেচে থাকলে তাকেও কথাটা অন্যভাবে বলতে হত। যাকে মানতে হয়, যার মানি বেশি সে-ই সত্যিকারের মানুষ।
 

Browse