সহযোগি শিল্প Way to success

Aug 13, 2009

একসময় লোকে বাসে উঠতে, ভিড়ের মধ্যে হাটতে ভয় পেত সে ভয়ের নাম পকেটমার নিজের অজান্তেই হাত চলে যেত পকেটে যা আছে সেটা চেপে ধরার জন্য আর সেটাই নজরে পড়ত পকেটমারের কার পকেটে টাকা আছে জানতে বাকী থাকত না কিছুদুর অনুসরন করার পর সুযোগ না পেলে পকেট বিক্রি করে দেয়া হত আরেকজনের কাছে তখন সে পিছু লাগত এক টিভি সাক্ষাৎকারে পকেটমার বলেছিল তাদের গোপন রহস্য, পকেট যতদিন থাকবে ততদিন পকেটমারও থাকবে

কিন্তু বাস্তবতা সেকথা বলে না পাথর শেষ না হয়েও যেমন প্রস্তরযুগ শেষ হয়েছে তেমনি পকেট শেষ হওয়ার আগেই পকেমার শেষের পথে এখনও যে দুচারজন টিকে আছে তা শুধুমাত্র ঐতিহ্য রক্ষার কারনেই যতদিন এই গৌরবজনক শিল্প রক্ষা করা যায় শোনা যায় গুলিস্তানের পকেটমারের খুব নামডাক ইটালীও হার মানে একজন সেটা পরীক্ষা করার জন্য পকেটে একটা কয়েন নিয়ে কয়েক চক্কর ঘুরল তারপর হতাস হয়ে বলল, কোথায় পকেটমার আমার পকেটে কেউ হাত দেয়ার সুযোগই পেল না

পাশ থেকে একজন বলে উঠল, এক টাকার কয়েন লইয়া ঘুরলে পকেমার পাওয়া যায় না

সেই ঐতিহ্য এখন সত্যিসত্যি বিলুপ্তির পথে তাদের যায়গা দখল করেছে স্থুলবুদ্ধির ছিনতাই হাতে একটা ছুরি, কিংবা খেলনা পিস্তল, আর সত্যিকারের জাতে উঠলে সত্যিকারের পিস্তল তারপর রাস্তায় একজনকে থামিয়ে কি আছে আদায় করা কিছু না কিছু পাওয়া যাবেই। আরকিছু না থাকলেও অন্তত একটা মোবাইল ফোন তো থাকবেই দিনে দুবেলা খাবার না জুটতে পারে তাই বলে শখ থাকবে না।

কাজেই ব্যবসা রমরমা

পকেটের টাকা, মোবাইল ফোন এসব হচ্ছে ক্লাসিক ছিনতাই তবে সব শিল্পেরই সহায়ক শিল্প থাকে রয়েছে ছিনতাইয়েরও এবং এগুলি এখনও প্রবৃদ্ধির পথে দ্রুত প্রসারমান কারন একটাই, বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয় এতে

বিষয়টা শুরু হয় কর্মসংস্থানের পথ ধরেই যার বেচে থাকার কোন অবলম্বন নেই সে কোনমতে ঢাকা এসে পৌছে তারপর কোনমতে খুজে বের করে একজনকে যার সামর্থ্য আছে তাকে বেচে থাকার পথ দেখানোর কারন তার রয়েছে অভিজ্ঞতা এবং সম্পদ যার ফুটপাতে কয়েক ডজন দোকান একসময় সিটি কর্পোরেশন তাদের কথা ভেবেই হকার্স মার্কেট বানিয়েছে। তবে হকাররা দোকান মালিক হয়নি, হয়েছে দোকানের কর্মচারী। মালিকের রয়েছে রাজনৈতিক পরিচিতি। অনুসারী। তার অধীনে তারই কোন এক দোকানে একদিন মাথা গোজার যায়গা হয়ে যায়

কর্মসংস্থানের সাথেসাথে আসে বাসস্থানের প্রশ্ন। তার সমাধান দেয়ার জন্যও রয়েছেন নেতা। নেতা ছাড়া কি দেশ চলে ? তারা এইসব ছিন্নমুলদের জন্য মুলের ব্যবস্থা করে দেন। অনেকে বলেন এরা কয়েকফুট যায়গার জন্য যে ভাড়া দেয়, কয়েক বালতি পানির জন্য যে টাকা দেয়, কয়েক ওয়াট বিদ্যুতের যে দাম দেয় তা অভিজাত এলাকার খরচকেও ছাড়িয়ে যায়।

তা-তো যেতেই পারে। দেশকে টিকিয়ে রেখেছে এরাই। এরাই কর্মী, এরাই ভোটার।

যাকগে সেকথা। বলছিলাম সহায়ক শিল্পের কথা। এদের নানারকম সেবা দিয়ে যারা শিল্প পরিচালনা করছেন তারা শিল্পপতি তো বটেই।

এদেরকে নানারকম সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়। ফলে আরেক শিল্প তৈরী হতে হয়েছে। এদের কাজ কোনমতেই যেন এই ব্যবস্থা ভেঙে না পড়ে সেটা দেখা। এদের হাত অনেক লম্বা। সেই হাতে ইউরোপ-আমেরিকা থেকে ডলার-ইউরো-পাউন্ড এসে জমা হয়। তবে কাজটি খুব সহজ না। ছবি উঠিয়ে বিদেশে প্রদর্শনী করতে হয়, রিপোর্ট লিখে দেখাতে হয়, সমসয়ে সময়ে রাস্তায় মিছিল পর্যন্ত করতে হয়। এতসব চাষবাসের পরই না ফসল ফলে।

আরো এক শিল্প যোগ দেয় এতে। কোন মেডিসিনে মোটা কমানো যায়, কিসে স্বর্গের অনুভুতি পাওয়া যায়, কিসে শিল্পবোধ-কল্পনাশক্তি-মেধা বাড়ানো যায় সেইসব খুজে এনে দোরে দোরে পৌছে দেওয়া। বিদেশি স্কুল-কলেজ হলে কাজ সহজ হয়। বেশি কথা বলতে হয় না। এরা অনেক খোজখবর রাখে। ইন্টারনেটে জানা যায়। তাদের হাতে টাকা পয়সাও অফুরন্ত। ফলে যত মানুষের কর্মসংস্থান হয় সেটাও বাড়তেই থাকে। একের থেকে এক, তার থেকে আরেক। ব্যবসা এবং কর্মসংস্থান বাড়তেই থাকে।

কোনমতে বিদেশে পা রাখলে দুচার বছর কষ্ট করতে হয়। তারপর পায়ের নিচে মাটি শক্ত হলে পরিবারের ভিসার চেষ্টা করতে হয়। ঢাকা নামক বিদেশেও একই প্রক্রিয়া। একসময় দেশ থেকে পরিবারকেও আনতে হয়। তাদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়। ফলে চক্রবৃদ্ধিহারে শিল্পে প্রসার ঘটতে থাকে। নতুন নতুন সহায়ক শিল্প গড়ে ওঠে।

এইসব সহায়ক শিল্পে জোরে একদিন দেশ শিল্পোন্নত হবেই হবে।

ভাল ছবি মন্দ ছবি - In search of a good photograph

Aug 7, 2009

ভাল ছবি দেখতে ভাল, মন্দ ছবি মন্দ। ফটোগ্রাফার অথবা ছবির দর্শক সবার কাছে বিষয়টা এমনই। মন্দ ছবিকে ভাল বলা হবে আর ভাল ছবিকে মন্দ বলা হবে এমনটা ঘটে না। অবশ্য ফটোগ্রাফিক বিচারে ভাল ছবি তত গুরুত্ব নাও পেতে পারে, কিংবা আপাত দেখতে সুন্দর না হয়েও কোন ছবি ফটোগ্রাফিক বিচারে অমুল্য হতে পারে। একটা বিষয়ে অমত নেই তা হচ্ছে সুন্দর একটা ফুল, সুন্দর একটা পাখি, সুন্দর একজন মানুষ কিংবা সুন্দর প্রকৃতি, সকলেই একটু সময় নিয়ে দেখে।

একজন ক্যামেরা হাতে মানুষ কখন মনে করেন ছবিটা ধরে রাখি সেটা বুঝতেও সমস্যা হবার কথা না। তিনি কখনোই রাস্তা উপচে পড়া নর্দমা, কিংবা ডাষ্টবিন উপচে পড়া ময়লা, রাস্তায় মানুষে মানুষে ধাক্কাধাক্কি, রিক্সা-গাড়ির জট, কিংবা নাকের সামনে শরীর চুলকানো মানুষ এসবের ছবি তুলে সেই ছবি ঘরে রেখে দিতে চান না। এমন ছবি তুলতে আশা করেন যা দেখে চোখ জুড়াবে। বহু আশা করে টাকা জোগার করে ক্যামেরা কেনেন। তারপরই পড়েন বিপদে।

ছবি উঠাবেন কিসের ?

মানুষ টাকা খরচ করে হোয়াইট হাউসে যায়। ইচ্ছেমত ছবি উঠিয়ে আনে। সেখানে ছবি উঠাতে বাধা নেই, বঙ্গভবনে ছবি উঠানো মানা। নিশ্চয়ই সন্ত্রাসীরা সেই ছবি দেখে সেখানে আক্রমন করবে এই কারনে। নয়ত বেড়ানো এবং ছবি উঠানোর সুযোগ করে দিয়ে বহু টাকা কামানো যেত। সেতুলনায় সংসদ ভবন বেশ নিরাপদ। সময়ে অসময়ে সেখানে যাওয়া যায়। ক্যামেরা নিয়ে হাজির হলেন সেখানে। তবে,

হোয়াইট হাউসের ছবি উঠালে হোয়াইট হাউসই দেখা যায়। আশেপাশে বাড়ি দেখা যায় না। তারা নাকি বড় কোন বিল্ডিং তৈরীর আগে বিশেষজ্ঞ ফটোগ্রাফার এনে জিজ্ঞেস করে কিভাবে বানালে ছবিতে ভাল দেখা যাবে। শোনা যায় সংসদ ভবনের মুল পরিকল্পনায় আশেপাশে কোন উচু বাড়িঘর নির্মানে নিষেধাজ্ঞা ছিল।

সেসব মানলে কি চলে ? সাংসদরা থাকবেন কোথায় তাহলে। সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালা দিয়ে দেখবেন সংসদটা দেখতে কেমন (যেহেতু অধিবেশনের সময় যাওয়া হয় না)। তবেই না গনতন্ত্র মাথার মধ্যে কিলবিল করবে। আর সংসদের সভাপতি, তার যায়গা হওয়া উচিত সংসদ ভবনের গা ঘেষে। থুথু ফেললে যেন সংসদ ভবনের গায়ে গিয়ে পড়ে। তবেই না সম্পর্ক থাকে সংসদের সাথে।

কাজেই যা হবার তাই। সংসদ ভবনে আবাসিক এলাকা, সন্ধ্যায়-রাতে পতিতা-ছিনতাইকারীর আখড়া।

ছবি উঠাবেন কিসের ?

বাঙালীর দেশপ্রেম প্রশ্নাতীত। আপনি সেটা ধরে রাখতে ক্যামেরা হাতে হাজির হলেন অপরাজেয় বাংলার সামনে। একেবারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে। ছবি উঠাতে গিয়ে থমকালেন। সারা গায়ে সরকারী-বেসরকারী দলের পোষ্টার। ছবি না উঠিয়েই বেরিয়ে এলেন সেখান থেকে।

আপনি গো ছাড়লেন না। অন্তত একটা বিল্ডিং এর ছবি উঠাবেনই। নয়ত অন্তত পরিচ্ছন্ন একটা রাস্তার ছবি। ইমেইল করে দেশের বাইরে পাঠাবেন। দেখাবেন বাংলাদেশ শুধু বণ্যা, ঘুর্নিঝড় বা ভিখারীর দেশ না। এখানে উচু উচু বিল্ডিংও দেখা যায়। রাস্তায়দামী দামী গাড়ি দেখা যায়। ছবি উঠাতে শুরু করলেন। যতবারই ছবি উঠান চোখে পড়ে সব দেয়ালে পোষ্টার আর লেখা, বিজ্ঞাপন আর বিজ্ঞাপন, তারের জঞ্জাল আর আবর্জনা, ভিক্ষুক আর ভবঘুরে, ডাষ্টবিন আর যানজট।

একসময় হার মেনে ঢুকলেন রমনা গ্রীনে। আরকিছু না হোক কিছু গ্রীন গাছপালা তো পাওয়া যাবে। ভীড় আছে তাতে কি, একসময় না একসময় ভীড় কমবে। একেবারে কাছ থেকে একটা ফুলগাছের ছবি উঠাবেন। কোনভাবেই যেন বাইরের আবর্জনা ধরা না পড়ে।

অপেক্ষা করতেই থাকলেন।

তারপর অবশেষে বাড়ি ফিরলেন। ক্যামেরা, মোবাইল, মানিব্যাগ সব খুইয়ে।

হুজুগ - Widen your eyes

Aug 6, 2009

বাঙালীর হুজুগ বেশীএকথা বহুবার শুনেছিএবং দেখেছিওআর ঢাকা শহরে ? সেটা কি সারাদেশের চেয়ে বেশী ? না কম ? নাকি একইরকম ? আমার পক্ষে উত্তর দেয়া কঠিনদানিং অনেকেই অনেক বিষয় নিয়ে গবেষনা করেনএজন্য নাকি ফান্ড পাওয়া যায়গবেষনার খরচ এবং নিজের খরচ দুইই চলে যায় তাতেকেউ ইচ্ছে করলে একাজে হাত দিতেও পারেনআমি শুধু এটুকুই বলতে পারি, হুজুগ এখানে রয়েছে যঠেষ্ট পরিমানেইঅবশ্য যদি তাকে হুজুগ বলা যায়

হুজুগ কাকে বলে ?

বড়ই বিপদে পড়লাম হুজুগের কথা তুলেএর কোন ব্যাখ্যা কোন পাঠ্য-অপাঠ্য বইতে দেখেছি বলে মনে পরে নাআমি যেমনটা বুঝি তেমনটাই সহজভাবে বলার চেষ্টা করিআমার মতে একজনের দেখাদেখি আরো কয়েকজন যদি একই কাজ করতে যায় তাকেই হুজুগ বলা যায়কিছুটা ভুল হলেও হতে পারে, তবে আমার ধারনা এই ব্যাখ্যা হুজুগশব্দটির মোটামুটি পরিচয় বহন করেসাথে দৃষ্টান্তও দিতে পারিপথেঘাটে একটু লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন বহু লোকের, না শুধু লোক বললে ভুল হবে, শিশু, কিশোর, নরনারী, বৃদ্ধবৃদ্ধা যে কোন বয়সের যে কোন পেশার মানুষের চুলের রঙ কিছুটা বাদামী, কিংবা খয়েরীবাঙালীর চুল বাদামী হয় নাএটা হুজুগকোন হেয়ার ড্রেসারে যেয়ে স্প্রে করলেই চুলের সেই অংশ বাদামী হয়ে যায়আগে সেটা সাদা অথবা কালো যাই থাকনা কেনঅনেকে অন্য রঙও করেনলাল, নীলচে, সবুজএকজনকে দেখেছি তার পোশাকের সাথে মিল রেখে চুলের রঙ করতেজুতা, প্যান্ট, সার্ট এই তিনরকম রঙ, পরপর, থাকে থাকেএই রঙ টেকে বেশ কিছুদিনএর খরচও খুব বেশী বলে মনে হয় না, কারন ফুটপাথের দোকানী, রিক্সাচালক এদেরও চুল বাদামী রঙ করতে দেখেছিতবে টাকা খরচ হয়একেবারে বিনাপয়সায় এই হুজুগে যোগ দেয়া যায় না

বিনাপয়সার হুজুগে যোগ দেয়া সে তুলনায় সহজযদি রাস্তায় দেখতে পান কোথাও জটলা হচ্ছে তাহলে সাথেসাথে সেখানে গিয়ে একপাশে দাঁড়ানব্যাস, হয়ে গেল হুজুগে যোগ দেয়াএরপর চলবে হুজুগে আপনার আগ্রহ কতখানি তারই পরীক্ষাহুজুগ বেশী হলে ঠেলেঠুলে একেবারে কেন্দ্রে গিয়ে পৌছবেন, একে ওকে কনুই দিয়ে গুতা মেরে জানতে চাইবেন কি হয়েছেউত্তর অবশ্য পাবেন একেকজনের কাছে একেকরকম, কিংবা কেউ উল্টো আপনাকেই প্রশ্ন করে বসবেন্তত আপনার পরে যে এসেছে সে তো বটেইহয়ত একসময় দেখা যাবে আপনিই সেখানে সবচেয়ে প্রবীন সাক্ষীআগের সবাই কেটে পরেছে, আর নতুন নতুন লোকের ভীড় বেড়েই চলেছেআমি একবার এরকম এক ভীড়ে কি হয়েছেজিজ্ঞেস করে যে উত্তরগুলি পেয়েছিলাম তার কয়েকটির নমুনা হচ্ছে, ‘একসিডেন্ট’ ‘রর‌্যাবে এ্যাটাক করছে’, ‘ছিনতাই’, ‘মারামারি’, ‘রিক্সার ভাড়া কম দিছে’, ‘কিছু না ভাই, হুজুগ’, ‘হানিফ সংকেত আইছে’, ‘আমি ক্যামনে কমুইত্যাদি ইত্যাদিইচ্ছে করলে সত্যিকার কারনটা জানার জন্য অপেক্ষা করা যেত, কিন্তু একটু পরেই যা ঘটল তাতে আর সাহস পেলাম নাএকজন যুবক- সে ছিনতাইকারী, কিংবা একসিডেন্টকারী ড্রাইভার, নাকি রিক্সার ভাড়া কম দেয়া প্যাসেঞ্জার অথবা অন্যকিছু যাই হোক, লোকের হাতে পরে গেলঅথবা লোকজন করার কিছু না পেয়ে তাকেই পাকড়াও করলতাকে ঘিরে একটি ভিড়ই শুধু দেখতে পেলামক্রমেই সেই ভিড় বাড়ছে, নতুন নতুন লোক যোগ দিচ্ছেযারা একেবারে কেন্দ্রে পৌছেছিলেন, পরে তারচেয়েও শক্তিশালী কারো ধাক্কায় স্থানচ্যুত হয়েছেন, তারাও সন্তুষ্টইন্তত একটি ঘুসি বা একটি লাথি মারতে পেরেছেনঅল্পক্ষন পর সেখানে যোগ দিল পুলিশবাঁশি বাজাতে বাজাতে এসে ধাক্কাধাক্কি করে ভিড় সরিয়ে দিলজীবিতই উদ্ধার করা সম্ভব হল সেই যুবককেদেখা গেল সে একজন পথচারীএখানে কি হয়েছে জানতে ঢুকেছিল

আমার মনে হয় এখানে শুধুমাত্র হুজুগ শব্দটি ব্যবহার করলে ভুল হওয়ার সম্বাবনা থাকেকিছুটা হুজুগ, কিছুটা আগ্রহ, দুইই বিদ্যমানশুনেছি বাচ্চা এমুর আগ্রহ এতটাই বেশী যে মানুষকেও ভয় পায় নাদৌড়ে কাছে যায়, পেছনে পেছনে হাঁটতে থাকেতা একটি পাখির ছানা যদি এত আগ্রহী হতে পারে তাহলে মানুষের দোষ কি ? তারা কাছে গিয়ে জানতে চাইতেই পারে, কেসটা কি?

ভিড় তৈরীর সহজ একটি পন্থার বর্ননা দিয়েছিলেন কে যেনআপনি রাস্তায় চলতে চলতে হঠাৎ করেই একযায়গায় দাঁড়িয়ে পরুনতারপর নিবিষ্টভাবে তাকিয়ে থাকুন কোন একদিকেসেটা রাস্তার কোন বিজ্ঞাপনের দিকেই হোক, কারো বাড়ির জানালার দিকেই হোক, কোন ব্যক্তির দিকেই হোক আর পরিস্কার আকাশের দিকেই হোক, তাতে কিছু যায় আসে নাএকটু পরেই আপনার একজন সঙ্গি এসে জুটবেসেও সেদিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করবে আপনি কি দেখছেনআপনাকে প্রশ্ন করবেযদি বিষয়কে আরো উসকে দিতে চান তাহলে তাকে শুধু বলুন, ‘দেখেছেন?’ সে আরো মনোযোগ দিয়ে মর্মোদ্ধার করতে চেষ্টা করবেততক্ষনে জুটে যাবে আরো কয়েকজনএ ওকে দেখাবে, সে তাকে দেখাবেতখন সাবধানে একপাশে একটু দুরে সরে যানদেখবেন ভিড় বাড়তেই থাকবে, নানারকম মত কানে আসতে শুরু করবেএকসময় সেখানে পুলিশ এসেও হাজির হতে পারেতবে ভয়ের কিছু নেইপুলিশ এতে অভ্যস্থতারা অন্তত জানে তাদের সববিষয়ে নাক গলাতে হয় নাবরং কোন কোন ঘটনা থেকে নিজেদেরকে যতটা দুরে রাখা যায় ততই মঙ্গলএক দোকানে ভিড় জমানোর জন্য এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করতে দেখেছিআমি চোরলিখে একজন সুবেশী যুবকের গলায় ঝুলিয়ে দরজার কাছে দাঁড় করিয়ে রাখাসাথে সাথেই ভিড় জমে যেত সেখানেদেশে যখন সার্কাসের চল উঠেই গেছে তখন বিনেপয়সার সার্কাস দেখতে ছাড়ে কে ?

একবার রিক্সায় করে যেতে দেখলাম একযায়গায় বেশ ভীড়সেদিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম কি হচ্ছেআমার রিক্সাচালকও রিক্সা থামিয়ে দিল একপাশেবোধহয় আমার দেখার সুবিধা করার জন্যই আমি যতটা পারি দেখলাম রিক্সায় বসে থেকেইন্তত দাঁড়ানো লোকগুলির মাথার ওপর দিয়েই আমি দেখতে পেলাম কিছুটাদেখেই চিনলাম, একজন টিভি তারকাদাঁড়িয়ে রয়েছেনদুপাশে দুজন বড় আয়না ধরে দাঁড়িয়েসামনে একজন কাঁধে ক্যামেরা নিয়ে দাঁড়িয়েনিশ্চয়ই নাটকএখন এখানে হচ্ছে, পরে টিভিতে দেখানো হবেবুঝতে পেরে আমার আগ্রহ কমে গেলবরং টিভিতেই দেখে নেব একথা ভেবে রিক্সাচালককে সামনে যেতে বললাম

আমাকে অবাক করে দিয়ে সে বলল, ‘অন্য রিক্সা নিয়া যান

আমি দোটানায় পরলামঅর্ধেক রাস্তা এখনো বাকি, এখন অন্য রিক্সা নিলে অনর্থক বেশী খরচাআর অন্য রিক্সাঅলাই বা যাবে কেন খেলা না দেখে! টাকার কথায় কাজ হবে ভেবে সেটাই বললামবললাম, ‘তোমার ভাড়া?’

লাগব না, যান গাসে একেবারেই গা করলনা

ভাড়া লাগবে না! যতদুর এসেছি সেজন্য তাকে কোন টাকা দিতে হবেনা! আমি বাক্যব্যয় না করে নেমে পড়লামএকবার ভাবলাম তাকে এই সুযোগ করে দেয়ার জন্য তারকাছেই কিছু দাবী করব কিনাপরে ভেবে দেখলাম সেটা করতে হলে আমাকে আরো বহুবছর ঢাকায় থাকতে হবেএখনও সে যোগ্যতা অর্জন করিনি

কোন চিত্রতারকা বা টিভিতারকা যদি তাদের নাগালে এসে পরেন তাহলে কি হতে পারে ভাবতে ভাবতে হেঁটেই রওনা হলামভেবে যা পেলাম তা হচ্ছে তারা প্রত্যেকেই তার একটি করে চুল ছিঁড়ে নেবেন, যদি শেষ হওয়ার আগেই তারকাছে পৌছাতে পারেনতারপর বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনকে দেখিয়ে উল্লাস করবেন, এটা অমুকের চুল, নিজের হাতে ছিঁড়ে এনেছি

এজন্যই তারা পথেঘাটে বের হন না

কম্প্রোমাইজ - Way of better living

Aug 4, 2009

আমার কলেজ জীবনে একজন বিজ্ঞানের শিক্ষক ডারউইন পড়াচ্ছিলেন একসময় তিনি বললেন, বিজ্ঞানীরা বলেন বিশ্ব এবং জীবন সৃষ্টি হয়েছে বিবর্তনের মাধ্যমে আর ধর্ম বলে বিশ্ব এবং জীবন সৃষ্টি হয়েছে সাত দিনে আমি এই দুইয়ের রহস্য বের করেছি তখন একেকটা দিন ছিল বহু বছরের সমান মৌখিক হিসেবের সুবিধার্থে যদি ধরেও নেই সৃষ্টির শুরু থেকে বর্তমানের মানুষ হতে সময় লেগেছে সাড়ে তিনশ কোটি বছর তাহলে তখন একেকটা দিন ছিল পঞ্চাশ কোটি বছরের সমান সৃষ্টিকর্তার অসাধ্য কিছু নেই তিনি সবই করতে পারেন

এটা উদাহরনযোগ্য কম্প্রোমাইজ

তাকে বিজ্ঞানে বিশ্বাস করতে হয় কারন তিনি বিজ্ঞান পড়েছেন এবং পড়াচ্ছেন শিক্ষার আলো ছড়িয়ে মাস মাস বেতন পাচ্ছেন তাকে ধর্ম মানতে হয় কারন তিনি বাংলাদেশের ধার্মিক মুসলমান কাজেই সৃষ্টির সময়কালে যদি সুর্য থেকে পৃথিবীর দুরত্ব, গতিবেগ, মহাজাগতিক প্রভাব এগুলি পরিবর্তন হয়েও থাকে তাহলে তা দুপক্ষই রক্ষা করে

বলা উচিত তিনপক্ষ কারন তিনি তৃতীয় পক্ষ হিসেবে এই মহামুল্যবান তত্ত্ব আবিস্কার করেছেন ধর্ম এবং বিজ্ঞানে কম্প্রোমাইজ করেছেন এবং দেখিয়েছেন কম্প্রোমাইজ সুত্রে খুব সহজে সমস্যার সমাধান করা যায়

কম্প্রোমাইজ সুত্রের ব্যবহার কখন থেকে শুরু হয়েছে তা নিয়ে গবেষনা করা যেতে পারে এতে অন্তত কয়েকশ বছর পাওয়া যাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই হয়ত হাজার বছর কারন আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য অনেক পুরনো কম্প্রোমাইজের বিষয়টিও একেবারে রক্তে মিশে গেছে। ছোট-বড়, জ্ঞানী-মুর্খ, ধনী-গরীব, ধার্মিক-নাস্তিক কোথাও কমতি নেই।

ধরুন শিক্ষকের কথা। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেবেন সমাজে। কিন্তু তার নিজের ঘর থাকে অন্ধকার। বেতনের টাকায় খাবার জোটে না, নিজের ছেলেমেয়েকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে আনার অবস্থা। নীতির ব্যবহারে একটুখানি কম্প্রোমাইজ। ক্লাশে সময়মত যাবেন, ক্লাশ নেবেন আর সুযোগমত জানিয়ে দেবেন যেটুকু ঘাটতি থেকে গেল তা পুরন করার জন্য যেতে হবে বাসায়। সেখানে কয়েকখানা বেঞ্চ পাতা হল। একবেলা ক্লাশ নেয়ার পর আরেকবেলা ক্লাশ। প্লেটোও সেটা করতেন। একবেলা একাডেমির ছাত্রদের ক্লাশ নিয়ে আরেকবেলা এথেন্সবাসীর ক্লাশ নিতেন। কাজেই এই শিক্ষক কোন অন্যায় করছেন না। শিক্ষার প্রসার ঘটাচ্ছেন।

এরপর ধাপে ধাপে উন্নতি। বেঞ্চের সংখ্যা বাড়ল। একসময় তাতেও যায়গা কুলায় না। নতুন যায়গা, নতুন ঘর ভাড়া করতে হল। রাস্তায় রাস্তায় বিজ্ঞাপন দিতে হল। অমুক স্যার তমুক যায়গায় পড়ান। শাখা রয়েছে এখানে, ওখানে, সেখানে। ততদিনে কম্প্রোমাইজ ভালভাবে জেকে বসেছে। একই স্যার একডজন যায়গায় কিভাবে ক্লাশ নেন সে প্রশ্নটিও হারিয়ে যায়। ব্যক্তি থেকে প্রতিষ্ঠান। স্যার থেকে কোচিং সেন্টার, কোচিং সেন্টার থেকে স্কুল, স্কুল থেকে স্কুল ও কলেজ, তারপর ইউনিভার্সিটি। দেশে বসে বিদেশী ডিগ্রী।

চাকরীজীবির কথাই বা বাদ দেবেন কেন। তাকেও বেতনের টাকা হিসেব করে চলতে হয়। তাতে কি আসলে চলে ? বাড়িভাড়া, খাবার খরচ, যাতায়াত খরচ, ছেলেমেয়ের স্কুল খরচ, আরো কতরকম ধানাই-পানাই। বেতনের টাকায় যাতায়াত খরচ হয় বড়জোর। তখন প্রয়োজন হয় কম্প্রোমাইজ। যদি কাজ করতে চান তাহলে কম্প্রোমাইজ করুন। আপনার উপকার আমারও উপকার। সমাজে উপকারের চেয়ে ভাল কিছু নেই।

কিংবা ব্যবসায়ী, কিংবা শিল্পপতি। যা লাভ হয় তাথেকে কর্মচারীদের বেতন, খরচাপাতি, বিদ্যুৎ-গ্যাস, ট্যাক্সঅলা এতজনকে দেয়া যায় না। একটুখানি কম্প্রোমাইজ। বিদ্যুৎ-গ্যাসের লোক খুশি, ট্যাক্সঅলারা খুশি, ব্যবসায়ী-শিল্পপতিও খুশি। খুশির চেয়ে ভাল জগতে আর কি থাকতে পারে!

কিংবা সৎ জীবনযাপনের কথাই ধরুন না কেন। ধার্মিক হয়ে সৎভাবে চলতে গেলে অনেক নিয়মকানুন মানতে হয়। দানখয়রাত করতে হয়। হজ্ব পালন করতে হয়। একটুখানি কম্প্রোমাইজ। ইচ্ছেমত দান খয়রাত করার সুযোগ হাতে এসে গেল। নবীর শিক্ষা কোরনা ভিক্ষা, ওটা বানানো কথা। আজকাল ধর্মের ওই নিয়ম চলে না। কেউ যদি ভিক্ষে না করে তবে দান করবেন কাকে। দোয়া কামাবেন কিভাবে। টাকাপয়সা তো পরকালে সাথে নেয়া যায় না, ওই দোয়াটাই নিতে হয়। আর একে ভিক্ষেই বা বলবেন কেন। মহল্লার পোলাপানের হক আছে, তাদের হাতে কিছু দিতে হয়। বিপদে আপদে তারাই পাশে দাড়ায়।

অবস্থা ভালর দিকে গেলে চাইলে প্রতিবছর হজ করতে পারেন। ধর্মে হজ বাধ্যতামুলক। যাওয়ার সময় কিছু নিয়ে যাবেন, আসার সময় কিছু সাথে আনবেন। খরচ উঠে এল। রথ দেখা কলা বেচা দুইই হল। মাঝখানে নামের সাথে হাজি যোগ হল। সবদিকেই লাভ।

আর রাজনীতির কথা যদি বলেন, সেখানে কম্প্রোমাইজই মুলকথা। এটা যেহেতু নীতির রাজা সেহেতু সবকিছু নিয়ন্ত্রন করে এটাই। রাজা যা বলবেন প্রজার কর্তব্য সেটা মেনে চলা। কালো টাকার মালিক হয়েছেন, কোন সমস্যা নেই। একটুখানি কম্প্রোমাইজ করুন। ঘরবাড়ি-জমিজমা কিনুন, শেয়ার কিনুন। টাকা খাটান। কেউ প্রশ্ন করবে না টাকা সাদা না কালো।

পলিটিক্স ইজ আর্ট অব কম্প্রোমাইজ, বলেছেন টাকামন্ত্রী।

পজিটিভ - Think positive

Aug 3, 2009

লবন কিংবা নুন কিংবা নেমক অত্যন্ত প্রয়োজনীয় দ্রব্য কারো নুন খেলে গুন গাইতে হয় না গাইলে নেমকহারামী হয় গান্ধী এই সামান্য লবন নিয়ে আন্দোলন করে বৃটিশরাজের টনক নড়িয়ে দিয়েছিলেন আর যাই হোক লবনের দাম বাড়ানো কি সহ্য হয়

একবার নাকি সেটাই হয়েছিল বাধ্য হয়ে মন্ত্রীকে লবনের দামবৃদ্ধির গুনগান করতে হল;

লবন কম খাওয়ার অনেক উপকার কখনো বুড়ো হবেন না, চুল সাদা হবে না, কলপ লাগাতে হবে না, অসহায় হয়ে ঘরে পড়ে থাকতে হবে না, বাড়িতে পাহারাদার না থাকলেও চুরি হবে না, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি

কারন, ডাক্তারিবিদ্যা বলে শরীরে লবনের ঘাটতি থাকলে যক্ষা থেকে শুরু করে নানারকম রোগ হয় আপনি সারারাত না ঘুমিয়ে কাশবেন আর চোর ভাববে আপনি জেগে রয়েছেন চুরি সমস্যার সমাধান আপনি বুড়ো হওয়ার আগেই মারা যাবেন কাজেই বার্ধক্যের কষ্ট থেকে রেহাই চুল রং করার ঝামেলা থেকে মুক্তি। নবীনদের জন্য জায়গা করে দিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেবেন, জনসংখ্যার চাপ বাড়াবেন না-

এগুলি হচ্ছে পজিটিভ চিন্তা ইতিবাচক চিন্তা কখনো নেতিবাচক চিন্তা করতে নেই পজিটিভ থেকেই বৃদ্ধি, বৃদ্ধি মানেই সমৃদ্ধি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে পজিটিভ চিন্তার প্রসার ঘটান

যোগাযোগমন্ত্রী বলেছেন দেশে পরিবহন খাতে কোন চাদাবাজি নেই একবার ভেবে দেখুন তো কত পজিটিভ কথা চাদাবাজি আবার কি জিনিষ এটা হচ্ছে অর্থের হাতবদল। কর্মসংস্থানের একটা পথ জানেন কত মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে এতে গ্রাম থেকে ভোক্তার বাড়ি পর্যন্ত যেতে জিনিষের দাম হচ্ছে তিন গুন তারমানে দুশোভাগ অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন এগুলো কার হাতে যাচ্ছে একবার ভেবে দেখুন যাদের চাকরী নেই, ব্যবসা নেই, আয়ের সুযোগ নেই বাংলাদেশ দরীদ্র দেশ জানেন না সরকারের পক্ষে কি সম্ভব সকলের কাজের ব্যবস্থা করা সেটা করতে গেলে কখন কোন ফাকে খারাপ লোকজন ঢুকে পড়ে ঠিক নেই সরকারের সাথে হাত মিলিয়ে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করুন এইসব দরীদ্র মানুষের কথা কিছু ভাবুন শুধু নিজের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন না

আর চাদাবাজি বলুই আর অন্যকিছুই বলুন, এতে ক্ষতিই বা হচ্ছে কার ? আপনি যে দামে পাবেন সেই দামেই কিনবেন মরিচের দাম দুশো টাকা বলে কি মরিচ কেনা কমিয়ে দিয়েছেন ? কাচামরিচের বদলে শুকনো মরিচ খাওয়া শুরু করেছেন ? তা করেননি আর্জেন্টিনার লোকে সেটা করতে পারে দল ধরে জিনিষ কেনা বন্ধ করে দেয় আমাদের কি সেটা মানায় ? ধরে নিন এটাই স্বাভাবিক দাম মাঝখান থেকে সমাজের বেকারত্ব দুর করার মহান দায়িত্ব পালন ঢিল না মারতেই পাখি শিকার এই সুযোগ ছাড়বেন কেন ?

গ্যাসের দাম সামান্য বাড়ানো হয়েছে একেবারেই সামান্য দশের লাঠি একের বোঝা আপনাদের একটা একটা করে লাঠি থেকে তৈরী হবে টাকার বোঝা এই টাকা জমা হবে উন্নয়ন তহবিলে নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র বের করা হবে আরো বেশি বেশি করে গ্যাস দেয়া হবে আপনাদের একসময় এই গ্যাসের ওপর ভর করেই জানজট এড়িয়ে চলাফেরা করতে পারবেন

কি বললেন ? তিতাস নিয়ে অনেক অভিযোগ! যৌথবাহিনী কি কি সব খবর বের করেছে ? পত্রিকায় কি কি সব লেখা হয়েছে

ওসব নেগেটিভ কথায় কান দেবেন না ওসব ষড়যন্ত্র সেই যুগ পার হয়ে গেছে ওই সরকারের দুর্নীতির খবর তো রাখেন না। রাখলে মুখ খুলতেন না।

এখন চলছে ডিজিটাল যুগ এখন আর ওসব হবে না, ইনসাল্লাহ শোনেননি কৃষকদের ডিজিটাল পরামর্শ দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এই হচ্ছে পরিবর্তনের হাওয়া আপনারাও ডিজিটাল চিন্তা শুরু করুন পজিটিভ হোন

জিপিএ ফাইভ পেয়ে ভর্তি হতে পারবে না বলছেন ? শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কম ?

আপনেরা খালি নেগেটিভ চিন্তা করেন। সামনের দিকে যাইতে হয় ধাপে ধাপে। আগে জিপিএ ফাইভ পাওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ুক, তারপর না স্কুল-কলেজ ইউনিভার্সিটি। আগেই এইগুলান বানাইলে সেইখানে যাইব ক্যাডা ? খরচার ট্যাকা দিব কেডা ?

পজিটিভ চিন্তা করেন। একবার চক্ষু মেইলা দ্যাখেন দেশ ক্যামনে তরতর কইরা সামনের দিকে যাইতাছে। ঢাকা শহরের দিকে একবার চাইয়া দ্যাখেন, শহর ঢাইকা রইছে কোচিং সেন্টার, কলেজ আর ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞাপনে। হাজার হাজার কোচিং সেন্টার, লক্ষ লক্ষ মানুষ, সবাই কইরা খাইতাছে। তারপর বিদেশে ভর্তি, বৃত্তি এসব তো রইছেই। সেখানেও হাজার হাজার, লাখ লাখ। এইসব মানুষের কথা ভাববেন না! পজিটিভ ভাবেন।

ঢাকা শহরে জানজট। হাজার কোটি টাকার ক্ষতি।

আবারও সেই পুরানো কথা। আরে ক্ষতির দিকটাই দেখলেন, লাভের দিকটা দেখলেন না। সারা পৃথিবীতে মানুষ রাস্তায় ভীড় করে অফিস যাওয়ার সময় আর ফেরত যাওয়ার সময়। আর এইখানে দ্যাখছেন। কোনসময় কমতি নাই। রিক্সা, স্কুটার, ট্যাক্সি, বাস সব হাউসফুল। একদিনে কত টাকা হাতবদল হয় জানেন ?

জানেন না। জানলে ওইসব নেগেটিভ কথাবার্তা কইতেন না। অর্থনীতি পড়েন সব জানতে পারবেন। টাকা হাতবদল হওয়া মানেই অর্থনীতি সচল হওয়া। অর্থনীতি সচল হওয়া মানে দেশের উন্নতি। খোজ রাখেন না, আমেরিকার সরকার ক্যামনে টাকা দেয় মানুষরে। খালি খরচ কর আর খরচ কর। দেশ সচল রাখ।

আরেকটা কথা কই। ওবামা কইছে তার দেশে মায়েগো পড়ালেখার ট্যাকা দিব। সরকারের টাকায় তারা ডিগ্রী নিব।

সেইডা হইল আমেরিকার কথা। আমেরিকা হইল পৃথিবীর একেবারে উল্টাদিকে। উল্টাদিকে কখনও চাইতে নাই। উল্টাও যা নেগেটিভও তাই। আগেকার দিনে ষ্টুডিওতে দেখেন নাই ? সেইডা এনালগ যুগ। এখন ডিজিটাল যুগ। এইখানে নেগেটিভ বইলা কিছু নাই, সব সরাসরি পজিটিভ।

আপনেরা পজিটিভ চিন্তা করেন, পজিটিভ কথা কন, পজিটিভ কাম করেন।

আমেন

ভেলকি - Strange things happens

Aug 2, 2009

আপনি সবসময় ফার্মগেটের চিরাচরিত চেহারা দেখেই অভ্যস্থ্ একদিন দেখলেন অন্যরকম অবস্থা এলাকায় কোন রিক্সা নেই, ফুটপাতে কোন দোকান নেই, রাস্তায় ধাক্কাধাক্কি নেই একেবারে সুনসান চারিদিক ঘন্টাখানেক পর আবারও যখন ফিরলেন তখন দেখতে পেলেন সেই নিত্যদিনের অবস্থা পুলিশে-রিক্সাঅলায় ঠেলাঠেলি, মানুষে-মানুষে গুতোগুতি, দোকানী-ক্রেতায় হাতাহাতি

এটা এক ধরনের ভেলকি

কিংবা দোকান থেকে অনেক বাছাই করে, অনেক দরদাম করে প্যান্ট কিনলেন রীতিমত যাহা চাহিবে তাহার অর্ধেক পদ্ধতিতে গজ-ফিতে দিয়ে মেপে দেখলেন আপনার কোমড়ের সাথে একেবারে মানানসই চৌত্রিশ-চৌত্রিশ বাড়ি এসে ট্রায়ল দিতে গিয়ে দেখলেন প্যান্ট আর ওঠে না ব্যাপার কি, হঠাৎ করে এত মোটা হয়ে গেলাম নাকি ?

অনেক কষ্টে গজ-ফিতে বের করে কোমড় মাপলেন ঠিকই আছে এবার প্যান্ট মাপলেন সেটা দুইঞ্চি ছোট হয়ে গেছে

এটা আরেক ভেলকি

কিংবা পাড়ার যে মেয়েটিকে দেখে আপনি মনেমনে ভাবেন, মেয়েটা কত নম্র কত ভদ্র কত সাধারন ভাবে চলে সাধারন পোষাক পড়ে। কত বুদ্ধিমান তারপরই একদিন চোখ উল্টে দেখলেন তার পড়নের জিন্স হাটু পর্যন্ত উঠে গেছে গায়ের জামা মনে হচ্ছে আঠা দিয়ে আটকানো চুলের রং পাল্টে গেছে চোখের রং পাল্টে গেছে হাটার ভঙ্গি পাল্টে গেছে এই হাটাকেই লোকে বলে বিড়াল হাটা তার যে সঙ্গি তার মাথায় বেনি, হাতে চুড়ি, কানে দুল পড়নে হাফপ্যান্ট। কাধের ব্যাগ বলে দিচ্ছে তাতে রয়েছে বই, এবং দুজনে বের হয়েছে বিদেশি সার্টিফিকেটের ক্লাশ করতে।

এটা আরেকটা ভেলকি

কিংবা আপনার যে প্রতিবেসিকে খরচ বাচাতে সবসময় পাড়ার সাইকেলের দোকানে নিজের হাতে চাকায় হাওয়া দিতে দেখে অভ্যস্থ, দিনবদলের পালায় রাতারাতি তাকে দেখলেন কোটি টাকার গাড়িতে রাস্তা চষে বেড়াতে যদিও খুব ভাল করেই জানেন তার নির্দিষ্ট কোন পেশা নেই দেশের সবচেয়ে বড় লটারীর প্রথম পুরস্কারের টাকায় এমন গাড়ির দাম হয় না

এটা আরেক ভেলকি

কিংবা একজন নেতা, যিনি চিরদিন একই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন, একই দোকান থেকে সিগারেট কেনেন, তিনি একসময় জনগনের সমর্থন পেয়ে আরো বড় নেতা হলেন এখনও সেই পথেই যান, সেই দোকানেই সিগারেট কেনেন তারপর একদিন সাজসাজ রব পরে গেল তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যাবেন ওই পথ দিয়ে দুপাশের সব দোকান উঠিয়ে দেয়া হল (তার সিগারেটের দোকানটা সহ), দুপাশের দেয়াল থেকে সব নোংরা দুর কথা হল, ডজন ডজন পুলিশ দাড়িয়ে গেল সার দিয়ে আর তিনি স্বর্গের দেবতার মত সকলের আশির্বাদ নিতে নিতে সেই পথে গেলেন

এটা আরেকটা ভেলকি

কিংবা যার প্রশংসায় সারা দেশ পঞ্চমুখ, জনগন তারহাতে দেশ তুলে দিতে একপায়ে খাড়া, ঋন নেয়ার সামর্থ্য যাদের নেই তাদের ঋন দিয়ে যিনি দেশে সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন এবং বিশ্বের স্বিকৃতি পেয়ে বিশ্ব নাগরিকে পরিনত হয়েছেন, হঠাৎ করেই দেখলেন তার পক্ষে ওয়েবসাইট। সারা বিশ্বের দরীদ্রদের পক্ষে সারা বিশ্বের কাছে হাত পাতা হয়েছে।

এটাও ভেলকি বইকি।

 

Browse