আশংকা করবেন না

Oct 29, 2010
দুনীতিতে বাংলাদেশ একধাপ এগিয়েছে না একধাপ পিছিয়েছে বিষয়টি আমার কাছে পরিস্কার না পরীক্ষার ফলে রোল যদি ১ হয় তাহলে আমরা বলি ফাষ্ট বয় এরচেয়ে ভাল কিছু হয় না কাজেই ১৩ থেকে ১২ হওয়া উন্নতি তো বটেই বরং আমরা আমেরিকা থেকে কিছুটা পিছিয়ে আছি এটাই আপত্তি তা তারা বিশ্বের সবথেকে ধনী দেশ, সবচেয়ে শক্তিশালি দেশ তাদের থেকে পিছিয়ে থাকা মেনে নিতে আপত্তি কোথায়
আমেরিকা থেকে পিছিয়ে থাকা বিষয়টি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে আসলে আমেরিকার মুল ভুখন্ড সম্পর্কে বলা হচ্ছে না আমেরিকা মানে ইরাক-আফগানিস্তান বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তারা এই দুই দেশের দখল নিয়েছেন নিজেদের সমস্ত সামর্থ্য ব্যয় করছেন কাজেই তারা বাংলাদেশের মত দেশ থেকে এগিয়ে থাকবে এটাই স্বাভাবিক আর সোমালিয়ার কথা নাইবা হিসেবে আনলেন অন্তত ব্লাক হক ডাউন নামের হলিউডি ছবি যারা দেখেছেন তারা জানেন আমেরিকা কিভাবে জীবন বাচিয়ে পালিয়েছিল ওখান থেকে
কথা হচ্ছে, কথা তা না সরকার বলেন ওই টিআই এর রিপোর্টে কোন ভিত্তি নেই আর বিরোধীদলের বক্তব্য, ওরাই বলে দিচ্ছে সরকার কতটা দুর্নীতিবাজ দুর্নীতিকে প্রশাসনিক রুপ দিয়েছে ওইযে, সরকারী দলের লোককে চাকরী না দেয়ায় ডিসি-এসপি পর্যন্ত হটিয়ে দিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন চাকরী দেয়া হবে আওয়ামী লীগের মধ্যে থেকে, টেন্ডারবাজি সরকারের লোকের অধিকার টেন্ডারের জন্য কোন অভিজ্ঞতা-সার্টিফিকেট প্রয়োজন নেই দলের সার্টিফিকেটই যথেষ্ট আর টেন্ডার মানেই টাকা কাজ করতে হয় না, বিল জমা দিলেই চলে। বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ যে ওখানেই উন্নয়ন কর্মকান্ড
আসলে দুর্নীতি সব দেশেই থাকে সবচেয়ে ধনী দেশেও থাকে, সবচেয়ে গরীব দেশেও থাকে বরং দরীদ্র হলেই দুর্নীতি বাড়বে এমন কথা অন্তত পরিসংখ্যান বলে না প্রতিবেশি দেশগুলির মধ্যে ভুটানে দুর্নীতি সবচেয়ে কম, অথচ ওরাই নাকি সবচেয়ে গরীব না খেয়ে থাকলেও ধান্দাবাজি-বাটপারি করে না
কথাটা ঠিক তো বটেই যে খেতে পায় না সে পেট ভরে খেতে চায় তার চাহিদা এটুকুই যদি একবার খেতে পায় তাহলেই চাহিদা বাড়তে থাকে ডাল-আলু ভর্তায় চলবে না, ওইযে কেন্টাকি থেকে যে আলু আসে ওটা চাই দুহাজার টাকার মোবাইল ফোন কি ফোন হল! ওতে কি হাই রেজ্যুলুশন ভিডিও করা যায় ? ডাউনলোড করা যায় ??
কাজেই চাহিদা বাড়তেই থাকে রাবনের মত দশ মাথায় চারিদিকে চোখ রাখে, দুর্গার মত দশহাতে দশদিকে আয় খুজতে শুরু করে আর, সুযোগ তো রয়েছেই চারদলীয় জোট সরকারের সময় নানারকম পথ তৈরী হয়েছিল, মহাজোট সেই পথকে অলিতে-গলিতে পরিনত করেছে হাত বাড়ালেই টাকা টাকা মানেই ক্ষমতা অমুক মেয়েকে আমার পছন্দ, বাধা দেবে কে ? মেরে ফেলব না
কেউ কেউ বলেন স্বাধীনতা পরবর্তী পরিস্থিতি ফেরত আসছে তখন নাকি এটাই ঘটত যাকে পছন্দ তুলে নিয়ে গেলেই হল এভাবেই বিরত্বের পরিচয় অনেকেই বীর হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। কেউ আবার বলছেন দেবার আর বাকি কি ? চাকরী পাবার আশা গেছে, ব্যবসা গেছে, জমিজমা যাচ্ছে, জীবন যাচ্ছে। এরপর হয়ত বলতে হবে আমরা ক্ষমতাশীন দলের ক্রীতদাস। দয়া করে দেশে থাকতে দাও তাই থাকি। কাজকম্ম করতেও তো মানুষ লাগে। আমরা সেই ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো। একসময় বিদেশীদের দাসত্ব করতে হয়েছে এখন নাহয় যারা স্বাধীনতা এনেছে তাদের দাসত্ব। পার্থক্য কোথায় ?
কেউ কেউ আশংকা করছেন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে। বেশি বাড়াবাড়ি নাকি সৃষ্টিকর্তাও মেনে নেন না। কোন একভাবে একহাত দেখিয়ে দেন।
এই আশংকা সম্ভবত অমুলক পুরনো পথে ফেরা, সেটা হয়ত হবে না পাশে ভারত আছে না! তাদের প্রাক্তন সেনাপ্রধান বলেছেন একবার ঢাকার দিকে থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ২১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে দিল্লি আর সেভুল করবে না
এটাই ঠিক ভারতের জন্য ট্রানজিট ফি স্থগিত রাখা হয়েছে বাংলাদেশে সাংসদ ভারতে গিয়ে ত্রানসামগ্রী দিয়ে আসছেন দাদা পাশে থাকলে ভয় পাবার কিছু নেই
অমুলক আশংকা করবেন না

মচকাবেন, ভাঙবেন না

Oct 25, 2010
এটা অনেক পুরনো কথা কয়েক হাজার বছর আগে প্রাচীন ভারতের কথা এক বৃদ্ধ প্রশ্ন করলেন, শরীরে সবচেয়ে শক্ত কোন যায়গা তাকে বলা হল, দাত তিনি মুখ হা করে ভেতরে দেখিয়ে বললেন আমার সব দাত পড়ে গেছে কিন্তু জিহ্বা কিছুই হয়নি
দাত পড়ে যায় কারন দাত শক্ত ঝড়ে গাছ ভেঙে যায় কারন গাছ শক্ত লতা ঝড়ে ভাঙে না প্রয়োজনে মচকে যায় বেকে যায়, তেড়িয়ে যায় অনেকটাই সাপের মত যদি কোনভাবে সাপ হতে পারেন তাহলে আর ভাঙার ভয় নেই
সবাই সাপ হতে পারে না সাপ হয় না উদাহরন দেখিয়ে গেলেন শিক্ষক মিজানুর রহমান তার ছাত্রীকে উত্তক্ত করায় তিনি ঘুরে দাড়িয়ে প্রতিবাদ করলেন আর তার ওপর মোটর সাইকেল চাপিয়ে দেয়া হল তিনি ভেঙে পড়লেন
আপনি বলতেই পারেন সেই মোটরসাইকেল চালকের একজনকে তো গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিচার হবে দৃষ্টান্ত তৈরী করা হবে স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই দৃষ্টান্ত তৈরী করেন এই নাটোরেই আরো দৃষ্টান্ত তৈরী হয়েছে একজন উপজেলা চেয়ারম্যানকে পিটিয়ে মারা হয়েছে প্রকাশ্যে টিভিতে দেখানো হয়েছে সেই দৃশ্য দুসপ্তাহের বেশি পেরিয়ে গেছে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছেন, যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাধা তৈরী করছে তাদের নিয়ে ব্যস্ত নারায়নগঞ্জে যারা পৈত্রিক জমি রক্ষায় পথে নেমেছে, গুলিতে জীবন দিয়েছে তারাও আসলে কাজ করছে ওই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাধা তৈরী করতে। সব ষড়যন্ত্র, সব চক্রান্ত। যারা স্বাধীনতা এনেছে কেউ তাদের ভাল দেখতে চায় না। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো বলেই রেখেছেন নির্দেশ না মানলে তিনি কি করবেন!
দৃষ্টান্ত দেশে হয়, বিদেশে হয় বর্তমানে হচ্ছে, অতীতে হয়েছে একদিন একজন শিক্ষক খবর পেলেন এক ছাত্রীকে ধর্ষন করা হয়েছে তিনি এতটাই ক্ষিপ্ত হলেন যে নিজেই বিচার করবেন সিদ্ধান্ত নিলেন অপরাধীদের ধরে ফাসি দিয়ে পথের ধারে ঝুলিয়ে রাখলেন অনেকে এতে এতটাই খুশি হল যে দলে দলে যোগ দিল তারসাথে দেখতে দেখতে রাষ্ট্রক্ষমতা পর্যন্ত এসে গেল তার হাতে তিনি দেখিয়ে দিলেন সমাজে শৃংখলা আনা যায়, পপি চাষের মত লাভজনক ব্যবসাও পুরোপুরি বন্ধ করা যায়
নিশ্চয়ই বুঝেছেন সেই শিক্ষকের নাম মোল্লা ওমর সেই দেশের নাম আফগানিস্তান তার শিষ্যরা তালেব, বাংলা ভাষায় ছাত্র
তালেবান শুনলে গালাগালি করা অনেকেরই অভ্যেস আমেরিকা এটা শুনতে পছন্দ করে ওরা খারাপ বলেই তো ইচ্ছেমত বোমা ফেলা যায়। কিছু সাধারন মানুষ মারা যেতেই পারে। ভুল সবারই হয়। সব তদন্ত করে দেখা হয়। লাদেনপুত্র তাদের নানাকাজে ব্যবহার করেছে, তারা অনেক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যা গনতন্ত্রের পরিপন্থি, বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার পরিপন্থি সেইসাথে এটাও ঠিক, সেই মোল্লা উদাহরন দেখিয়েছেন ইচ্ছে থাকলে সমাজে অপরাধ বন্ধ করা যায় খুব দ্রুতই করা যায়
গ্রীষ্মকালের ফতোয়া শীতকালে দেয়া যায় না এক যায়গার উদাহরন আরেক যায়গায় চলে না ইংরেজরা প্রায় দুশো বছর এদেশ শাসন করেছে এখনও আইন বলতে যা বুঝায় তা তাদের তৈরী তারা এদেশের মানুষকে বুঝতে চেষ্টা করেছে, বিশ্লেষন করেছে ফল প্রকাশ করে বলেছে বাঙালী একা ভিতু, দলে ভয়ংকর
বিষয়টা বোঝা কি খুব কষ্টকর ?
আমাদের বিশেষজ্ঞরা টিভিতে বক্তৃতা দিয়ে, সারা দেশ ঘুরে মানুষকে শপথ করিয়ে সবাইকে ভাল বানাবেন আর মিজানুর রহমানের মত কাউকে কথা বলতে হবে একাই জীবন দিতে হবে পাশে কেউ দাড়াবে না কারন অপরাধীরা দলে শক্ত তাদের একতার তুলনা হয় না রাজনৈতিক দলগুলো ওত পেতে থাকে তাদের দলে টানার জন্য। লগিবৈঠা এদের পক্ষেই। এদের বিপক্ষে কেউ লগি-বৈঠা হাতে পথে নামে না। নিজের পায়ে কুড়াল মেরে ক্ষতি ছাড়া লাভ নেই।
মানুষ অভিজ্ঞতা থেকেই শেখে। মিজানুর রহমানকে দেখে এটাই শিখতে পারেন, মচকাবেন, নুয়ে যাবেন। কখনো সোজা হয়ে দাড়াবেন না। তাতে জীবন যেতে পারে।

গনতন্ত্রের যত নিয়ম

Oct 15, 2010
শিরোনাম দেখে কেউ যদি ভেবে থাকেন গনতন্ত্রের পাঠদান করা হচ্ছে তাহলে ভুল করছেন। গনকিন্ত্র কি, কতপ্রকার, কিভাবে পরিধান করতে সেটা আপনারা আমার থেকে অনেক ভাল বোঝেন। অন্তত জরুরী আইনের সময় সেটা ভালভাবেই প্রমানিত হয়েছে। সংবিধান কতদিনের জন জরুরী আইনের অনুমতি দেয় সেনিয়ে কথা উঠেছিল। চারিদিকে রব শোনা গেছে, সংবিধান মানুষের জন্য, মানুষ সংবিধানের জন্য হতে পারে না। কিসের সংবিধান,  পাল্টে ফেলুন। মানুষ রক্ষা করুন। তারা যতদিন খুশি ক্ষমতায় থাকুক। দেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করুন।
অবশ্য সেই গতিপথ পাল্টাতে খুব সময় লাগেনি। কদিনের মধ্যেই আবারো রব উঠেছিল, আমরা গনতান্ত্রিক সরকার চাই। ওসব মোটামাথা মিলিটারী দিয়ে দেশ চলে না। ওরা দেশকে পাকিস্তান বানিয়ে ফেলবে। গনতন্ত্র টেনে আনো, হেইয়ো-
সেই গনতন্ত্রের কথা বলছি।
লোকে বলে (কোন লোকে জিজ্ঞেস করবেন না। এটা কথার কথা), গনতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধরে রাখে কিছু প্রতিষ্ঠান। প্রথমত বিচার ব্যবস্থা। পাকিস্তানের পারভেজ মোশাররফ বিচারককে বরখাস্ত করে টের পেয়েছিলেন ওখানে হাত দিলে কি হয়। সবকিছু ছেড়েছুড়ে যেতে হল ওই কারনেই। ওরাই বলে দেয় আইনের বক্তব্য আসলে কি। অন্যদের সবাইকে সেটা মানতে হয়। এমনকি জনগনের ম্যান্ডেট পাওয়া সরকারকে, উর্দি পরা সামরিক সরকারকেও।
দ্বিতীয় বিষয়টি প্রশাসন। এটা চাকরী করেন রাষ্ট্রের। যদি জেলা প্রশাসক হন তাহলে তো কথাই নেই। রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রের স্বার্থে জেলার প্রশাসন ঠিক রাখার জন্য।
আর কথা বাড়িয়ে কাজ নেই। এই প্রশাসন কি করিলে কি হয় আমরা ভালভাবেই দেখেছি। পাবনার প্রশাসন বলেছিল আমরা সরকারের কথায় চলি না। তারা যাকে বলি তাকেই চাকরী দিতে হবে এটা রাষ্ট্রের পরিপন্থী। চাকরী পেতে চাও, যোগ্যতার পরীক্ষা দাও।
ফল, সরকারের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় সারির নেতাকর্মীদের হামলা, ভাংচুর, পরীক্ষা বাতিল। এবং শেষফল, পুরো প্রশাসনের গনবদলী। গনতন্ত্রের সার্থক ব্যবহার এখানেই।
নাটোরের প্রশাসন এত বোকা না। অন্তত পাবনার গনতন্ত্র দেখে শিক্ষালাভ করেছে তো বটেই। জেনেছে ওই বাহিনীর বিপক্ষে গেলে কি হয়। অমুককে পিটিয়ে মারা হয়েছে তো হয়েছে কি! জনসংখ্যা কমেছে। আর জেল-হাজত ওসব তোল ছাত্রদল-যুবদল-জামায়াত-শিবির দিয়ে ভর্তি। আর যায়গা নেই। তার ওপর লীগ ঢোকালে ওখানেই মারামারি খুনোখুনি হবে। তারচেয়ে বরং পৃথক থাক। ওরাও দিনবদলের হাওয়া খাক, আমরা মনের সুখে চাকরী করি।
আর ওদের ধরে মামলা করলে, জেল-ফাসি দিলেই বা কি যায় আসে। ওইযে২০ জনকে ফাসির রায় দিয়েছিল, ওরা তো এখানেই ঘোরাফেরা করছে।
আইন বিষয় আরেকটু জটিল। জটিল না বলে ভীতিকর বলাই ভাল। কখন কার অবমাননা হয়ে যায় বলা তো যায় না। মানের রং কি সেটা আবার জানা নেই।
বরং পত্রিকায় যেটুকু ছাপা হয়েছে সেটুকুই দেখি। খালেদা জিয়াকে ক্যান্টমেন্টে দেড়শ কাঠার বেশি যায়গার (বাপরে!) সরকারী বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে। এটা কোর্টের হুকুম।  
ওটা সরকারী যায়গা, মালিকানা মিলিটারীর। তিনি যদিও বাস করছেন ৩ যুগের বেশি সময় ধরে। ওটার দলিল পত্রও নাতি তার নামে। এরশাদ সাব যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন তার নামে লিখে দেয়া হয়েছে।
কে ? স্বৈরাচার এরশাদ! জানেন না সে অবৈধ সরকার। কোর্ট রায় দিয়েছে। সে যাকিছু করেছে সব অবৈধ। তার সময়ে করা দলিল অবৈধ। তার সময়ে জন্ম নেয়া মানুষ অবৈধ ..
গনতন্ত্রের সত্যিকারের চেহারা আসলে এটাই।

তালি একহাতেই বাজে

Sep 29, 2010
বকারামের বক্তব্যে অনেকেই নিশ্চয়ই বিরক্ত, অনেকে ক্ষুব্ধ। সত্যি বলতে কি, বকারামেরও বহুবার মনে হয়েছে অকারনে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন কি। শ্রোত যেদিকে টেনে নিয়ে যায় সেদিকে যাওয়াই উত্তম। অন্যদিকে যাবার চেষ্টা করলেই শ্রম দিতে হয়। সফল হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। তারপরও,
তারপরও কথা থেকে যায়। ডাষ্টবিনের পাশে অবস্থান করে ডাস্টবিনের গন্ধ ভুলে থাকা যায় না। তাকে সুগন্ধ মনে করে তৃপ্তিলাভ করা যায় না। পাশের বাড়িতে আগুল লাগলে একসময় তা নিজের বাড়িতে পৌছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন পাবনায় একহাতে তালি বাজেনি। জেলা প্রশাসক একপক্ষ, আরেকপক্ষে যুবলীগ-ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ। জেলা প্রশাসক নিজের পছন্দমত লোক ঢুকাবেন সরকারী চাকরীতে আর অন্যরা চুপ করে বসে থাকবে হাত গুটিয়ে তাতো হয়না। সেজন্যই ওই তালির ব্যবস্থা। তারা শুরু করেছে, শেষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। রাতারাতি জেলাপ্রশাসক, পুলিশ সুপার বদল। পাবনা থেকে মনপুরা। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার ব্যাখ্যা, এটা সংকেত। অন্যরা দেখে শিক্ষা নিন।
সেখানেই একটু গিট্টু লেগেছে। তালি একহাতে বাজা ভাল, না দুহাতে বাজা ভাল।
আমাদের সাংসদরা সংসদ অধিবেশনে খুব দক্ষতার সাথে তালির জন্য টেবিল ব্যবহার করেন। তখন একহাতই যথেষ্ট। বলতে কি, উপকারী। অন্যপক্ষ তাতে অংশ নেয় না। জেলা প্রশাসককে বদলী করা কিংবা দলের মধ্যে থেকে চাকরী দেয়া এগুলিও ওই একহাতে তালি বাজানোর মতই। অন্যহাত যদি তালি বাজাতে চায় তাহলেই বিপত্তি। প্রয়োজনে আরেকহাত অকেজো করে দেয়া হবে যদি তালির প্রতিযোগিতায় নামে।
এতেও কিছু যায় আসে না। তালি জিনিষটা খারাপ না। আমার শংকা আসলে অন্য যায়গায়। সেই পুরনো উদাহরন আবারো উল্লেখ করতে হচ্ছে, একসময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিম সাহেব পুলিশের পিটুনি খেয়ে হাসপাতালে। তারপর একসময়ের স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী বাবর সাহেব হাজতে-রিমান্ডে-জেলে।
যদি কোনভাবে দিনবদল হয়!
পুলিশের সাইকোলজী বোঝা খুব কঠিন। যখন যার তখন তার, এটা একটা দিক। আবার এটা করতে গিয়ে যা জমা হয় তা একই নিয়মে কাজে লাগে পরবর্তীকালে। তারা কাজ করেন সরাসরি জেলা প্রশাসক-পুলিশ সুপারের কথামত, কখনোই রাজনৈতিক নেতার কথামত না। এখন যারা একপক্ষে তারা যদি কোনভাবে অন্যপক্ষে যান তখন কি হবে ? যে পুলিশ সদস্য ছাত্রলীগের নেতার পিটুনি খেয়েছেন তিনি কি সেটা ভুলে গেছেন ? নাকি যাবেন ? নাকি অপেক্ষা করবেন বিপরীত হাওয়ার ?
আওয়ামী লীগের ভেতর থেকে চাকরী দেয়া হবে, একথারই বা অর্থ কি ? দেশের শতকরা কতজন আওয়ামী লীগের ? ভোটের সময়ও কোন হিসেবই ৪০ ভাগের বেশি হয়না। বাকি ৬০ ভাগ চাকরী ছাড়া, টেন্ডার ছাড়া চলতেই থাকবেন এটা কতটুকু বাস্তবসম্মত।
বিমানমন্ত্রীকে নিয়ে জোরালো খবর হয়েছে বেশ কিছুদিন। তার প্রতিদ্বন্দী বিশাল, শতকোটি-হাজার কোটি টাকার মামলা। তিনি নিজে আবার সরাসরি লীগের কেউ নন। তাকে হুমকি দেয়া হয়েছে মোবাইল ফোনে, এসএমএস পাঠানো হয়েছে। তার বড় বিপদ হবে, আগেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
ডিসি-এসপি-মন্ত্রী যখন হিমসিম খাচ্ছেন তখন সাধারন মানুষ তো পোকামাকড়।
শংকাও সেকারনেই।
সরকারের কাছে অনুরোধ, তালি একহাতে বাজানোর বিষয়টি চিরস্থায়ী করার ব্যবস্থা করুন। কোনভাবেই যেন দুহাত একসাথে না হয়। নইলে বাঘে-মহিষের লড়াইয়ে নলখাগড়ার প্রাণ যাবে অকারনেই।

সেরা তিন পেশা

Sep 26, 2010
সব মানুষের লক্ষ থাকে সেরার দিকে। একজন খেলোয়ার চান সেরা খেলোয়ার হবেন, একজন ব্যবসায়ী চান সেরা-সফল ব্যবসায়ী হবেন। কাজেই পেশা বেছে নেয়ার সময় সেরা পেশা বেছে নেবেন এটাই স্বাভাবিক। দেশ হিসেবে যারা সেরা (অনেকের আপত্তি থাকতে পারে। সব দেশই নিজের দেশকে সেরা মনে করে। কিন্তু বাস্তবতা এটাই, এখানেও বিচারের পদ্ধতি রয়েছে) তাদের বক্তব্য কি খোজ নেয়া যেতে পারে।
পশ্চিমা দেশে নাম উল্লেখ করে বলা হয় তিন পেশা, শিক্ষক, নার্স এবং পুলিশ। এরাই নাকি সবথেকে গুরুত্বপুর্ন। এদের দিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। এদের হাতেই নির্ভর করে সমাজ।
উল্লেখ করা যেতে পারে এখানে বলা হয়েছে নার্স, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জাতিয় কিছু বলা হয়নি। শিক্ষক বলায় ধরে নেয়া যায় বুদ্ধিজীবী-নেতা শিক্ষকও বুঝানো হয়নি। এমনকি পুলিশ বলতেও যারা পথে দায়িত্ব পালন করে তাদেরই বুঝানো হয়েছে। এমন পুলিশ প্রধানের কথা বলা হয়নি যিনি সগর্বে বলতে পারেন অমুক সাংসদের গাড়িতে তার পিস্তল ব্যবহার করে খুন করা হতে পারে, তিনি নির্দোষ। তার বিরুদ্ধে কোন প্রমান নেই। তাকে হয়রানী করব কেন ?
একে যদি চোখ ধোয়া বলতে চান (এরথেকে ভাল বাংলা আমার জানা নেই) তাহলে বলতেও পারেন। সারা বিশ্ব জানে বুশ-ওবামা মুখে যত কথাই বলুন তারা আসলে চলেন ওই ম্যাকডোনাল্ডস-কোকাকোলা-মাইক্রোসফট-এপলের কথায়। তারা যা করতে বলেন সেটাই করেন। আর সামনে এসে সাফাই গান জনগনের সেবার। কারন ভোটার ওই জনগনই। সরকার চালানোর টাকা তারাই দেন। আমাদের জানা উদাহরন, সাংসদরা বলতে পারেন তারা সবচেয়ে দামী আনবেন ট্যাক্স দেবেন না, নিজেদের আয়ের আয়কর দেবেন না কারন তারা সাংসদ। তাদের নামে মামলা করতে হলে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। আর অবাক হয়ে বলবেন, জনগন ট্যাক্স দেয় না কেন ? এদেশে কি মানুষ আয় করে না! সবাই শুধু ক্রেতা!! কোটি মানুষকে ট্যাক্সের জালে আটকানো হবে।
আগের কথায় ফেরা যাক। দেশ চালানোর জন্য প্রশাসন প্রয়োজন। সেজন্য প্রয়োজন প্রশাসক। প্রতি জেলায় রয়েছেন একজন করে। এমনকি অতিরিক্ত নামে অতিরিক্তও থাকেন। যদিও অতিরিক্ত প্রয়োজন কি আমার মাথায় ঢোকে না। যদি অতিরিক্তই মনে করে থাকেন তাহলে তাদের বেতন-ভাতা দিয়ে পুশছেন কেন ?
তা সেই জেলা প্রশাসকের আবার অন্য অনেকরকম ক্ষমতাও আছে। সেটা আসলে কি আমার জানা নেই। পত্রিকায় চাকরীর জন্য পরীক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়েছে কাজেই ধরে নিচ্ছি কে চাকরী পাবেন সেটা নির্ধারন করা তাদের দায়িত্ব। এমন গুরুদায়িত্ব যার থাকে তাকে সাবধানী হতেই হয়। কোনমতে অযোগ্য লোক যেন সুযোগ না পায়। অন্তত যিনি চাকরী পাবেন তিনি কোন দলের সে খোজটা তো নেবেন! প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তো স্পষ্ট করেই বলেছেন, দলের প্রার্থী যদি সবচেয়ে খারাপও হয় তাহলেও দলের বাইরে কেউ যেন চাকরী না পায়।
পাবনার জেলা প্রশাসক সম্ভবত খবরের কাগজ পড়েন না। কথাটা তার দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। সেকারনেই-
হ্যা, সেকারনেই প্রতিবাদ। ভাংচুর। পরীক্ষা বাতিল।
দেশে সেবকের অভাব নেই। দেশ প্রেমিকের অভাব নেই। তারা কখনোই অযোগ্য ব্যক্তিকে চাকরীতে যাওয়ার সুযোগ দেবেন না। বরং অযোগ্য জেলা প্রশাসককে চাকরী ছাড়তে হবে।  আপনারা সাংবাদিকদের সামনে এসে চোখের পানি ফেলবেন ফেলুন, আমরা দেখিয়ে দেব ক্ষমতা কার হাতে। দেখেছেন পুলিশ, র‌্যাব, কতরকম লীগ। আর নেতা-মন্ত্রী তো আছেনই। দলের বাইরে আছে কেউ ? দল যার দেশ তার, চাকরী তার। সব যায়গায় লিষ্ট পাঠানো হয়েছে। সেটা দেখে ঠিক করবেন কে চাকরী পাবে, কে পাবে না। পাবনার জেলা প্রশাসককে দেখেও শিক্ষা হয়নি ? আপনে কেডা ? প্রাণ গোপাল দত্ত! নিজের প্রাণ বাচান।
সত্যিকারের গুরুত্বপুর্ন পেশা আসলে ওই তিনটিই। পুলিশ, নার্স আর শিক্ষক। কনষ্টেবল থেকে পুলিশ প্রধান এভাবে বিচার করলেও খুব হেরফের হয় না। সেইসাথে নার্স থেকে ডাক্তার, শিক্ষক থেকে ভিসি। বাচাল বাঙালী হলে এরসাথে উকিল থেকে বিচারক একথাও যোগ করতে পারেন।
দেশ চালানোর জন্য এদের একই সুরে বাধতে হয়। বেসুরো কেউ ঢুকলে মজা থাকে না।
সংবাদমাধ্যমগুলো অকারন হাউ-কাউ করছে কেন ? এমন প্যাদানি দেব-

বহু নৌকায় বহু পা

Sep 20, 2010
দুই নৌকায় পা দেয়ার কথা আমরা সবসময়ই জানি। এতে নাকি নিজের ক্ষতি হয়। কোন নৌকাতেই যায়গা পাওয়া যায় না।
আসলে একেবারে বিভ্রান্তিকর কথা। সম্ভব হলে শুধু দুই নৌকা কেন, বহু নৌকায় বহু পা দেয়া নিরপদে থাকার লক্ষন। যদিও ভাল করেই জানি রাবনের ১০ মাথা কিংবা দুর্গার ১০ হাত উল্লেখ থাকলেও কারো দুইয়ের বেশি তিন পায়ের উল্লেখও নেই। তাহলেও ...
যাদের প্রয়োজন নেই তাদের কথাই আগে বলে শেষ করি। ধরুন সরকারী চাকুরীজীবী। তারা এক নৌকায় পা ঝুলিয়ে বসে অন্য নৌকার থেকে কিছু পেতে পারেন। কথায় বলে, সরকারী চাকরী এমন জিনিষ যা একবার হাতে পেলে কখনো হাতছাড়া হয়না। চুরি-ডাকাতি করলেও না। কাজেই অনায়াসে এক নৌকার বিষয়ে নিশ্চিন্তে থেকে আরেক নৌকার দিকে হাত বাড়াতে পারেন (কিংবা পা)।
অন্য অনেকের জন্যও এই উদাহরন প্রয়োগযোগ্য। যেমন ধরুন ডাক্তার। অনায়াসে প্রতিমাসের বেতন পকেটে পুরে রোগিকে পছন্দের ক্লিনিকে ট্রান্সফার করতে পারেন। কিংবা শিক্ষক। সেখানেই একই কথা খাটে।
কিন্তু এরা সংখ্যায় কজনইবা। এদের বাইরে মানুষের সংখ্যাই বেশি। তাদেরই প্রয়োজন বহু নৌকা। ধরে নিচ্ছি আপনিও এদেরই দলে।
ধরুন চাকরী খুজছেন। ডিজিটাল দেশে আপনি ডিজিটাল পথেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। কেউ বলল ডাটাবেজ শিখুন, ভাল চাকরী পাবেন। জানেন না, একসময় সব ডিজিটাল হবে। ডিজিটাল মানেই ডাটাবেজ। ক্যারিয়ারের জন্য এরচেয়ে ভাল কিছু হয় না।
কাজেই আপনি লেগে গেলেন। সেইসাথে খোজ করতেও শুরু করলেন কোন অফিসে ডাটাবেজ প্রোগ্রাম দরকার। তার টিকির দেখাও পেলেন না। এরই মধ্যে আরেকজন এসে জানিয়ে গেল, আরে এনিমেশন শেখেন। টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখেন না! এক বিজ্ঞাপন তৈরী করলে কোটি টাকা। আপনি নয় দশ লাখে করবেন। তাতেও না পেলে পাচ লাখে, নয়ত এক লাখে। সেটাই বা কম কি ?
আপনি খোজ করে তাতেও যোগ দিলেন। একটা সম্ভাবনা বাড়ল। সেইসাথে কাজের খোজেও চোখ রাখলেন। কিন্তু হায়, এদিকেও নো ভ্যাকেন্সি। যারা যায়গা দখল করেছেন তারা একচুলও সরতে রাজী না। আপনে কেডা ? ভাগ বসাইতে আইছেন। আমাগো এনিমেশন দরকার হয় না। আকাশে তারকা-নক্ষত্র আছে আছে না! না চিনলে খররের কাগজ দেখেন। প্রতিদিন কয়েকজনের কইরা সাক্ষাতকার ছাপা হয়। কে কি খাইছে, কি স্বপ্ন দ্যাখছে, কার মন খারাপ। তানুষ তো তাগোই চায়..
আপনি খুববেশি মনখারাপ করার সময় ফেলেন না কারন ততক্ষনে আরেক নৌকার সন্ধান পেয়েছেন। অটোক্যাড। খবরের কাগজ, টেলিভিশন সব যায়গায় খালি বাড়ি আর হাউজিং আর এপার্টমেন্ট। হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ। ওরা তো অটোক্যাডেই কাজ করে। একবার শিখে নিন সাথেসাথে লুফে নেবে।
এভাবেই আপনি বিভিন্ন নৌকায় উঠতে থাকলেন। একে একে ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, মাল্টিমিডিয়া, ডিজে, আউটসোর্সিং, ওয়েব ডিজাইন ...
ডিজিটালে না গিয়ে যদি এনালগে যেতে চান তাহলেও একই কথা। সেখানেই বহু নদী, বহু নৌকা। উদাহরন প্রয়োজন নেই।
সব নৌকায় চড়তে শিখে আপনি এখন বহু নৌকার মাঝি। যখন যেদিকে প্রয়োজন তখন সেদিকে যাবার জন্যই রেডি। আপনি অমুক কাজ পারেন না একথা বলার মত কেউ নেই।
এজন্যই বলা, বহু নৌকায় বহু পা। অনেকগুলি পা তৈরী করুন যেন কোন নৌকা হাতছাড়া না হয়।
নৌকার দেখা যে কোথায়, কিভাবে পাবেন সেটা আমার জানা নেই।
 

Browse