মোটাতাজা

Nov 29, 2009

মোটাতাজা বিষয়টি সকলের পছন্দ। যত মোটাতাজা তত দাম বেশি। সে ফলমুল-শাকসব্জি হোক, হাসমুরগি-গরুছাগল হোক আর মানুষই হোক। এমনকি নির্জীব পকেটই হোক আর ব্যাংকের খাতাই হোক। যত বেশি ঢুকাবেন তত ফুলবে। কাজেই মোটাতাজাকরন প্রযুক্তি সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি এতে সন্দেহ নেই। সবচেয়ে বড় আবিস্কার। সবচেয়ে বেশি মেধা প্রয়োজন এখানেই। সমস্যা একটাই, অন্য সব প্রযুক্তির মত এখানেও পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাতে হয়। সরাসরি ব্যবহার করা যায় না। গরু মোটাতাজাকরনের পদ্ধতি নিজের ওপর প্রয়োগ করে একজন নাকি প্রাণ হারিয়েছে। খবরের কাগজে ছাপা হয়েছে। কাজেই এখানেও গবেষনা প্রয়োজন। আশা করা যায় অচিরেই নিরাপদ মোটাতাজাকরন পদ্ধতির সন্ধান পাওয়া যাবে।
এজন্য যথেষ্ট পরিমান গবেষক নিশ্চয়ই আছেন। সারা দেশের মানুষ হাহাকার করছে ফরমালিন দেয়া খাবার নিয়ে, ওষুধ দিয়ে পাকানো ফল নিয়ে। একজন ফল বিক্রেতা রসায়ন পড়ে বলে মনে হয় না, একজন গোয়ালা কিংবা মেছুয়া কেমিষ্ট্রির মিষ্ট্রি বোঝে না। তারপরও তারা জানে কি পরিমান ফরমালিন কোথায় ব্যবহার করলে কি হবে। এর পেছনে রীতিমত মেধাবী ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন তাতে সন্দেহ নেই। ফরমালিন জিনিষটা পাওয়াও যায় পানির মতই। ওয়াসার পানির স্বল্পতা হলেও হতে পারে, ফরমালিনের স্বল্পতা নেই। যারা তৈরী করেন তাদের ব্যবসা রমরমা।
খোদ আমেরিকায় নাকি লোকজন বলাবলি করছে খাদ্যের মান নিয়ে। একটা মুরগি জীবনে কখনো আলোর মুখ দেখে না এটা নাকি অমানবিক। এত দ্রুত বড় হয় যে নিজের ওজন নিয়ে নিজের পায়ে দাড়াতে পারে না। দরীদ্র দেশের হিসেব অবশ্য আলাদা। মানুষকে নিজের পায়ে দাড় করানোর স্বার্থে যদি মুরগি নিজের পায়ে না দাড়ায় ক্ষতি নেই। আমেরিকানদের হিসেব অন্যরকম। বড়লোকের খেয়ালখুশি আরকি। তারা নাকি গবেষনা করে বের করেছে এইসব নিজের পায়ে না দাড়ানো মুরগি খেয়ে মানুষও এখন নিজের পায়ে দাড়ানোর ক্ষমতা হারাচ্ছে। বিবর্তনের শুরু থেকে মানুষের ওজন নাকি ক্রমেই বেড়ে চলেছে। আর বর্তমানে সেটা সবচেয়ে গতিপ্রাপ্ত হয়েছে। আমেরিকা হাচি দিলে নাকি সারা বিশ্বের সর্দি লাগে। এই বিষয়টাই বা সেখানে থেমে থাকবে কেন ? ছোয়াচে রোগের মত, সোয়াইন ফ্লু-বার্ড ফ্লুর চেয়েও দ্রুত ছড়িয়েছে বাকি দুনিয়ায়। এখন সকলেরই প্রয়োজন মোটাতাজা খাবার। বিশ্বে নাকি পুষ্টিহীন মানুষের চেয়ে স্থুলরোগির সংখ্যা বেশি। সমাজ যত উন্নত হচ্ছে মানুষ নাকি তত বেশি করে হাসপাতালে যাচ্ছে।
মোটাতাজা গরু খেলে নাকি লিভার-কিডনি পচবে। দেশে অর্ধেক মানুস ক্যান্সারের ঝুকিতে। কতদিনে ?

দশ বছর বিশ বছর পর।

দশ বছর বিশ বছর পর কি হবে সে ভেবে এখন ফায়দা কোথায় ? মোটাতাজা না হলে কেউ পাত্তা দেয় না সেটা জানেন না ? একনজর দেখেই সবাই জেনে যায় কারসাথে লাগা যাবে, কারসাথে যাবে না। আর ওসব খাবারের টেষ্ট কি অন্যতে পাওয়া যায় ? একেবারে ঘরে বসে আমেরিকান খাবার।

নিজের সামান্য অভিজ্ঞতার কথাই বলি। এক বৃদ্ধাকে দেখলাম দুপাশ থেকে দুজন ধরাধরি করে কেফসিতে নিয়ে যাচ্ছে।

হজের সময়। মৃত্যুর আগে এই সামান্য হজটুকু পালন করা উচিত।

পুনশ্চ : আরেকটা উদাহরন দিতে হচ্ছে। টেম্পো নামের বাহনে একটামাত্র সিট খালি। মোটাতাজা এক ভদ্রলোক এগিয়ে এলেন উঠবেন বলে। টেম্পোর হেলপার বলল, উইঠেন না। আপনার সাইজ ঠিক নাই।

পুনশ্চ ২ : একে বিপরীত উদাহরন কিংবা উপদেশ বলতে পারেন। ধাক্কাধাক্কির কারনে যদি ভিড়ের মধ্যে ঢুকতে ব্যর্থ হন তাহলে কাজে লাগাবেন। একপাশে দাড়িয়ে অপেক্ষা করবেন। যখন দেখবেন মোটাতাজা একজন ঢুকছে সাথেসাথে তার ঠিক পেছনে গিয়ে দাড়াবেন। ব্যস, পথ ক্লিয়ার।

অভাব এবং স্বভাব

Nov 25, 2009

অভাবে নাকি স্বভাব নষ্ট হয়। প্রচলিত কথা। এধরনের প্রচলিত কথার ওপর অগাধ বিশ্বাস থাকার পরও বলতে হচ্ছে, অন্তত এই কথার সাথে একমত নই। বিপরীত যুক্তিতে যদি বিচার করেন, অভাবে স্বভাব নষ্ট হলে ধনসম্পদ লাভের সাথে স্বভাব ভাল হওয়া উচিত ছিল। সেটা হয়না তার সবচেয়ে বড় প্রমান বাংলাদেশ। শতকোটি-হাজারকোটি টাকার মালিক হওয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে স্বভাব খারাপ হতে থাকে। চুরি-বাটপারির যোগ্যতা লাভ হয়েছিল অভাবের সময়, অর্থপ্রাপ্তির সাথে প্রাত্তি ঘটেছে দিনেডাকাতি-খুন করার অধিকারের। খুন শব্দটা আপত্তিকর মনে হতে পারে, কিন্তু সত্য এটাই। শতকোটির টাকার মালিক হবেন অথচ দুচারটা খুনের সাথে জড়াবেন না তা হয়না। অন্তত বাংলাদেশে। তারপরও এর প্রচারের পেছনে কারন অনেক।

প্রধান কারন, ওরা অভাবী। ওদের জন্য কিছু করা প্রয়োজন। আমি সেটাই করছি। ছাত্রজীবনে এক কম্যুনিষ্ট ভাবাদর্শী বলেছিল নিজে ভাল না থাকলে অন্যের ভাল করব কিভাবে ? ভাল থাকার জন্য দুটাকার (তখনকার দিনে) সিগারেট খেতে হয়। অন্যভাবে বললে, পরের ভাল করার জন্য সবচেয়ে দামী সিগারেট থেকে হয়। কোটিপতি হওয়ার বিষয়টিও তেমনই। কোটিপতি যদি না হবেন তাহলে অভাবীকে সাহায্য করবেন কি দিয়ে ? আগে আমাকে কোটিপতি বানান, তারপর দেখুন আমি গরীবের জন্য কতকিছু করি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যারা শতশত কোটি টাকা দিয়ে হাসপাতাল বানিয়েছেন তাদেরও দায়িত্ব গরীবদের সেবা দেয়া। শুধু টাকা কামালেই চলবে না, সপ্তাহে অন্তত একদিন বিনামুল্যে সেবা দিন। দরীদ্র দেশের জনস্বাস্থ্যের দায়িত্ব সরকারী হাসপাতালের না বেসরকারী হাসপাতালের সেপ্রশ্ন তুলবেন না, দেশের প্রসাসনিক প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কর্তব্য কি সেকথা বলবেন না। দায়িত্বপালনের চেয়ে উপদেশে এদেশে বেশি বিক্রি হয়। প্রতিদিনই বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন বিষয়ের আদেশ, নির্দেশ, গুরুত্বআরোপ, প্রয়োজনীয়তা সকলের সামনে তুলে ধরা এসব করা হচ্ছে। আপনারা কাজ করে যান।

গ্রামের একজন শিক্ষক হবেন গ্রামের তথ্যভান্ডার, সকলে পরামর্শের জন্য তারকাছে যাবে। অথচ দেখুন, মুদি দোকানী তার কাছে টাকা পাবে। সে মাথা নিচু করে চলে। একথা বলেছিলেন চেখভ, বিপ্লবের আগের রাশিয়া সম্পর্কে। একশ বছরে রাশিয়ায় কি হয়েছে সবারই জানা। বাংলাদেশ শুধু যে সেই পথে গেছে একথা বলাও যথেষ্ট না। প্রতিদিনই দ্রুতগতিতে যাচ্ছে। প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকের বেতন কয়েকবছর ধরে বকেয়া এটা পুরনো খবর। ঘুষ না দিয়ে সেটা পাওয়ার আশা নেই। আর যে শিক্ষক ঘুষ নিয়ে নিজের বেতন উঠান তিনি মাথা সোজা করবেন কিসের জোরে ? নৈতিকতা শেখাবেন কাকে ?

কাজেই অভাবে স্বভাব নষ্ট হয়। শিক্ষা দেয়ার মানসিকতা নিয়ে যার জন্ম তাকে নিরাপদ পেশা খুজতে হয়। যার সেটা জোটেনা সে নেতা ধরে স্কুলে-কলেজে চাকরী জুটিয়ে নেয়। তারপরও অন্য আয়ের পথ খুজতে হয়। জীবন ধারনের জন্য স্বভাব নষ্ট করতে হয়। কারো কারো জন্য সেটা ছাত্রধরা দালালী ব্যবসার মত।

জীবনধারনের মত কারন ছাড়াও স্বভাব নষ্ট হয়। একেবারে টাটকা উদাহরন দেয়াই উত্তম। হকার খবরের কাগজ দিয়ে গেছে দরজার তলা দিয়ে। ৯০ ভাগ ভেতরে, ১০ ভাগ বাইরে। সেটা ধরে টান দিয়ে কেউ নিয়ে গেছে। কে নিয়েছে সেটাও জানা। নিশ্চিতভাবেই ওপরতলার বাসিন্দা।

এখানে জীবনধারনের বিষয় নেই। অভাবের বিষয়ও নেই। পুরোটাই স্বভাব। একজন দুঃখ করে বলেছিলেন, কোন বাঙালী সুযোগ পেলে চুরি করবে একথা বিশ্বাস করি না। কথাটা বাতিল না করে ভেবে দেখা প্রয়োজন কতদুর দেখার পর কেউ এমন মন্তব্য করতে পারেন, নিজে সেই দলে থেকে।

আসলে অভাবের ব্যাখ্যাটাই করা হয় ভুলভাবে। যার অর্থ নেই সে অভাবী এটা ভুল ব্যাখ্যা। ভাবের অভাব হলে তাকেই অভাব বলা উচিত। অর্থপ্রাপ্তির সাথে ভাবের উন্নতি হয় না, বরং অবনতি হয়। সেকারনে বিত্তশালী হওয়ার পর নষ্ট স্বভাব আরো নষ্ট হয়। আর অর্থের অপ্রাপ্যতা থাকলে ভাবের অনুশীলণ করা সহজ। কবি বলেছেন, হে দারীদ্র তুমি মোরে করেছ মহান।

কাজেই আগের কথা ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে। অভাবে স্বভাব নষ্ট কথাটাই ঠিক। ব্যাখ্যাটা ভুল।

ভবিষ্যতবানী

Nov 23, 2009

ভবিষ্যত জানার আগ্রহ সবারই কমবেশি থাকে। রীতিমত পয়সা খরচ করে জিজ্ঞেস করতে হয়, বলুন তো বিদেশ যেতে পারব কিনা, বিয়ে কতদিনে হবে, মামলায় কি জিতব, অসুখ কি সারবে না খরচ বন্ধ করে দেব এইসব। অন্যের এধরনের ব্যক্তিগত ভবিষ্যতবানী নিয়ে মাথা না ঘামানোই ভাল। কখনো পরনিন্দা-পরচর্চ্চা করতে নেই, এটাই উপদেশ। বরং আরো বড় ভবিষ্যতবানী নিয়ে কথা বলা যায়। পকেটের টাকা যখন খরচ করতে হচ্ছে না তখন ছোট বিষয় নিয়ে মাথা ঘামিয়ে নিজেকে ছোট করে লাভ কি।

জিন ডিকসন বলেছিলেন ১৯৮০ সালে বিপর্যয় হবে। বিশ্বযুদ্ধ লাগবে কিংবা ওইজাতিয় কিছু হবে। সেসময় পার হয়ে গেছে। কাজেই তার কথা ভুল ছিল। বরং নষ্ট্রাডামুসের কথা বিবেচনায় আনা যায়। ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বর নাকি বিশ্ব ধ্বংশ হবে। তার কথা একেবারে ফেলে দেয়া যায় না কারন আগের অনেক বিষয়ের সাথেই তার কথা মিলে গেছে। অন্তত তার কথায় যারা বিশ্বাসী তারা সেটাই দাবী করেন। ফরাসী বিপ্লব থেকে ইরাক যুদ্ধ সবই নাকি তিনি বলে গেছেন। তার কথা অনুযায়ী দখলদারদের ইরাক থেকে পরাজয় মেনে ফেরত যাবার কথা। এটাও পরখ করে দেখা যেতে পারে।

সত্যিকারের চিন্তার বিষয় আসলে বিশ্ব ধ্বংশ হবার খবর। বিজ্ঞানীরাও বলছেন এর ব্যাখ্যা আছে। ওই নির্দিষ্ট তারিখে পৃথিবী এই গ্যালাক্সির ঠিক মাঝখানে পৌছুবে। তার কোন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ঘটলে ঘটতেও পারে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং, সুনামী, আমেরিকায় হ্যারিকেন এসবের বর্ননাও নাকি মিলে যায় তার কথার সাথে। আবার প্রাচীন সভ্যতাগুলিও একই সময়ের উল্লেখ করে গেছে। ভারতীয়, চীনা, মিশরীয়, মায়া, এজটেক, ইনকা সকলেই। মায়া ক্যালেন্ডার শেষ হয়ে গেছে ওই ২১ তারিখেই। তারপর আরকিছু নেই।

সবাই অবশ্য এসব ভয়ংকর ভবিষ্যতবানী করেন না। আশার বানীও শোনান। যেমন ধরুন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে ২০২০ সালে বাংলাদেশ দারিদ্র এবং ক্ষুধামুক্ত হবে। সময় ১০ বছর এগিয়ে আনা হয়েছে কারন বিশ্বখ্যাতিসম্পন্ন এই বক্তা মিলেনিয়াম গোলের সময় বলেছিলেন ২০৩০ এর কথা। কিভাবে সম্ভব ? বিবিসি প্রশ্ন করায় চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। ২০১৫ সালে যদি অর্ধেক দারিদ্র কমানো যায় তাহলে বাকী ১৫ বছরে বাকি অর্ধেক। এমন সহজ হিসেব বুঝলেন না। অর্থনীতি পড়েছেন ?

এবারের ভবিষ্যতবানী আরো চিন্তিত। প্রশ্ন করার সুযোগ নেই। ২০২০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারপর যদি দেখেন দেশে কোন দরীদ্র নেই, কারো খিদে পায় না তাহলে জানবেন ভবিষ্যতবানীর জোরেই সেটা হয়েছে। হে-হে-হে। সময়মত ওকথা না বললে কি হত!

আর যদি না হয় ?

সে-তো বক্তব্য দেয়ার সময়ই বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা ভুলে গেলেন ? সেটা নেয়া হয়নি।

অরণ্যে রোদন

Nov 22, 2009

ইংরেজিতে বলে ফার-ক্রাই অন্যদের অগোচরে কাঁদা বাংলায় একেবারে কাব্যিক নির্দিষ্ট করে বলে দেয়া, বনবাসী হয়ে কাঁদবেন বক্তব্য অবশ্য একটাই, তাতে কোন লাভ নেই যার কারনে আপনার দুঃখ-কষ্ট তাকে যদি না শোনান তাহলে কাঁদায় কোন ফল ফলবে না বনের পশুপাখি-গাছপালা আপনার কান্নার গুরুত্ব বুঝবে না

যদি সেকথাও মানতে চান, মনের দুঃখে বনে যেতে চান তাহলে-

বলতেই হচ্ছে বন বলে কিছু নেই সুন্দরবন চোর-ডাকাতের আড্ডা সরকার আইন করে দিয়েছে সেটা সংরক্ষিত এলাকা যাওয়া নিষেধ চোর-ডাকাত না হয়ে সেখানে গেলে জেলে যেতে হবে আর অন্যকোথাও বন বলে কিছু নেই যার অর্থ আপনার অরন্যে রোদনের সুযোগ নেই আপনার এলাকায় আপনি বন্দি

তাহলে বন্দির পথ অবলম্বন করা যাক ঘরের মধ্যে থেকে বাইরের মানুষকে কান্না শোনানোর ব্যবস্থা করা যাক ডিজিটাল বাংলাদেশে, ফেসবুক-গুগল-ওয়ার্ডপ্রেসের কল্যানে সেটা সম্ভব আপনার কান্না পৌছে দেবেন সারা বিশ্বের মানুষের কাছে অরন্যে রোদনের চেয়ে তাতে বেশি ফল ফলবে সারা বিশ্ব সেটাই বলে ইরানে নির্বাচনের ইন্টারনেট প্রতিবাদ নাকি ইন্টারনেট জগতের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন ১০ ঘটনার একটা কাজেই-

একটু থামুন

আপনি বনে কাঁদলে পশুপাখি কৌতুহলী হয়ে উকি দেবে সন্দেহ নেই ইন্টারনেটে আপনার কাঁদায় আগ্রহ দেখাবে এটা ধরে নিচ্ছেন কেন ? কার শখ হয়েছে নিজের টাকা খরচ করে আপনার কাঁদা শোনার ইন্টারনেটের জগত বিশাল আনেন্দর খোরাক সেখানে কমতি নেই সেগুলি রেখে আপনার কান্না শুনতে যাবে কে ?

কথাটা বকারামকে বলতে হচ্ছে অভিজ্ঞতা থেকে বকারামের আশা ছিল ইন্টারনেটের অরন্যে রোদনের কিছু কাকপক্ষি নিশ্চয়ই উকি মারবে মারেও রীতিমত নিজের সময় ব্যয় করে আধঘন্টা-একঘন্টা পর্যন্ত সময় কাটায় তারপরই, সংখ্যায় তাদের চেয়ে অনেক বেশি, একবার চোখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে রওনা দেয় কোন শব্দ শুনে তাদের আগ্রহ হয়েছিল সেটাও একধরনের পরিচিতি বহন করে বৈকি রীতিমত বাংলায় কুত্তার বাচ্চা লিখে সার্চ করে যদিও বকারাম নিশ্চিত করে বলতে পারে এই শব্দটি সে ব্যবহার করে না বরং এই প্রানীটিকে রীতিমত স্রদ্ধার চোখে দেখে মানুষে এতটাই বিশ্বস্ত বন্ধু যে দ্বিতীয়বার চিন্তা না করে বন্ধুর জন্য জীবন দিতে পারে বিশ্বাসভঙ্গের কোন উদাহরন নেই ছোটবেলায় কিছু ভুল ধারনা ছিল গোর্কির লেখায় মিখাইলের গান, মিখাইল যদি হত এক ছোট কুকুরের ছানা শুনে অবাক হওয়ার বিষয় ছিল এখন সেটা নেই

সার্চ করার বিষয় আরো আছে আমি সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চের কথায় যাচ্ছি না সেটা সারা বিশ্বের সব যায়গার মানুষই করে ইন্টারনেটের মুল ব্যবহারই নাকি সেখানে বরং অন্য কিছু বিষয় অবাক করা যেমন খাসি কিংবা গরু কিংবা আমার বউ ইত্যাদি ইত্যাদি

সত্যিকার অরন্য নেই আগেই বলেছি যদি ইন্টারনেট অরন্যে কাঁদতে চান তাহলেও ভেবে দেখুন

সৌজন্য

Nov 20, 2009

শব্দটির সাথে আমরা ভালভাবেই পরিচিত। টিভিতে নাটক দেখানো হয় এক বা একাধিক কোম্পানী সৌজন্যে। যার অর্থ সেটা দেখানোর টাকা দেবে সেই কোম্পানী। আপনাকে নাটক দেখতে পকেটের টাকা খরচ করতে হবে না। এই টাকার ভাগ যাবে টিভি কোম্পানীর পকেটে, যিনি নাটক লিখেছেন, যারা বানিয়েছেন, যারা অভিনয় করেছেন তাদের সকলের পকেটে। বিনিময়ে তাদের বিজ্ঞাপন দেখতে হবে দর্শককে। সৌজন্যের সাথে বিনিময়ের বিষয়টিও তাই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একজন নেতা যখন আরেকজনের সাথে সৌজন্যসাক্ষাত করেন তার বিনিময়টা অবশ্য ততটা স্পষ্ট না। তবে ধরে নেয়া যায় কিছু হিসেব নিকেশের ব্যাপার-স্যাপার আছে। অন্তত আইনের হিসেবে পলাতক নেতা যখন জামিন পাওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন।

সৌজন্যতা বিষয়টির হিসেবও কিছুটা গোলমেলে। সাধারনভাবে জনমনে বিশ্বাস করানো হয় অন্যকে খুশি রাখার বোধশক্তি যার থাকে তার সৌজন্যবোধ থাকে। অর্থাৎ সৌজন্যবোধ হচ্ছে অপরকে মনকষ্ট না দেয়া। অকারনে শত্রু তৈরী না করা। কখন কে কোন কাজে লেগে যায় আগাম বলা তো যায় না। দেখা হলেই সালাম দিয়ে বললেন, কেমন আছেন ? যদি গালাগালি দেয়ার কারন থাকে সেটা মনে মনে দেবেন।

এথেকে সৌজন্যতার আরেকটা পরিচয় স্পষ্ট। এটা প্রকাশ করতে হয়। যা অপ্রকাশ্য তা ঢেকে রাখবেন আর সৌজন্য প্রকাশ করবেন। নিজের চেহারা ঢেকে রেখে ওপরের মুখোসটা দেখানোর মত। অবশ্য এই নিয়মে মুখে রং লাগানো, বাহারী অলংকার-পোষাক এগুলোও সৌজন্যের পর্যায়েই পড়ে। কাজেই সামাজিকতার স্বার্থে এগুলি প্রনিধানযোগ্য। এর দুর্বলতা একটাই, কার সৌজন্যে- এই কথা প্রকাশ করার ব্যবস্থা সাধারনত থাকে না। সাধারনত বলতে হচ্ছে এই কারনে যে যার সামর্থ্য আছে সে এখানেও সৌজন্য দেখানোর পথ করে নেয়। অমুক বিখ্যাত কোম্পানীর সার্ট-প্যান্ট একথা প্রচার করতে অনেকেই গর্ববোধ করেন। একসময় কোম্পানীর লেবেল পোষাকের নিচের দিকে থাকত, এখন থাকে ওপরদিকে। এখানে ওখানে কোম্পানীর নাম লেখা থাকে বড় করে। ফুটপাতে দুটাকায় যে প্লাষ্টিকের মগ কিনতে পাওয়া যায় তাতেও গ্রামীন-বাংলালিংকের নাম-ছবি থাকে। যদিও এতে সরাসরি তাদের কোন হাত নেই। সবাই বড়র সাথে সম্পর্ক রাখতে চায় তারই প্রকাশ মাত্র।

নিজের টাকায় সৌজন্য প্রকাশের সাথে নিজের নাম লেখার প্রচলনের সবচেয়ে বড় উদাহরন নিশ্চয়ই রাজনীতি। অন্তত বর্তমান রাজনীতি এই সৌজন্য ছাড়া অচল। পথেঘাটে-দেয়ালে-আকাশে যত ব্যানার-পোষ্টার-দেয়াল লিখন দেখুন না কেন, সেখানে সৌজন্য শব্দটির দেখা পাবেনই। শ্লোগানের পরই লেখা থাকে প্রচারে অমুক, সৌজন্যে অমুক-তমুক-সমুক। বর্তমান রাজনীতির কথা উল্লেখ করতে হচ্ছে এই কারনে যে বর্তমানে এই সৌজন্যের সংখ্যা অন্য সবকিছুর চেয়ে বেশি। মুল বক্তব্য কয়েক দশকের পুরনো, যিনি প্রচার করেছেন তার নামটিও জানা। এরপরই একঝাক নাম যাদের সৌজন্যে প্রচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে। এভাবে দেখতে দেখতে একসময় এ নামগুলিও মগজে গেথে যায়। এলাকার লোক জেনে যায় অমুক নামে এলাকার এক ভাই রয়েছেন। তিনি অমুক পার্টির কাজ করেন। একসময় সেই নাম সৌজন্য থেকে প্রচারের ধাপে উঠে আসে। তারপর একসময় মুল শ্লোগানে।

কাজেই- সৌজন্য বিশ্লেষনের ফল যা দাড়াচ্ছে তা হল এটা অগ্রগতির প্রাথমিক ধাপ। প্রচারেই প্রসার এই নিয়মে এরও প্রসার ঘটে। ব্যক্তিগত, কোম্পানীগত, দলগত, সমাজগত সব ধরনের সৌজন্য ব্যক্তি-কোম্পানী-দল-সমাজকে আরো এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। এক সমাজের সাথে আরেক সমাজের পার্থক্য সম্ভবত এটুকুই, সব সমাজ একে সমাজ পর্যায় পর্যন্ত নেয় না। কখনও ব্যক্তি কিংবা কোম্পানী পর্যায়ে, কখনো দল পর্যায়েই গতি থেকে যায়।

নখদর্পন

Nov 18, 2009

সবসময় গাড়িচড়ার সৌভাগ্য যাদের নেই তারা অন্তত এটা বিষয়ে এগিয়ে। নানারকম অভিজ্ঞতালাভ হয়। নিজের এবং পরের। পরেরটাই শুনুন।

রাস্তায় রিক্সা-গাড়ি থমকে রয়েছে। এটা সাধারন ঘটনা। এখানে ওখানে পুলিশ রয়েছে। এটাও সাধারন ঘটনা। সাথে অতিরিক্ত যোগ হয়েছে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা রায়ের জন্য শতর্কতামুলক নিরাপত্তা। রীতিমত জোরদার করা হয়েছে। যদিও খবরের কাগজ আর টিভির বাইরে এনিয়ে একজনের কাছেও কোন মন্তব্য শুনিনি। আমার ধারনা অধিকাংশ (হ্যা, অধিকাংশ) মানুষ জানেই না বিষয়টি কি। তারপরও, সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে। কাজেই-

রিক্সায় বসে এক ভদ্রলোক। শুধু পোষাকে না, চেহারা, মুখভঙ্গি দেখে ভদ্রলোক ছাড়া অন্যকিছু বলার উপায় নেই। পায়ের কাছে ট্রাভেল ব্যাগ রাখা। উদাসভাবে সামনের দিকে চেয়ে অপেক্ষা করছেন কখন জট নড়বে। হঠাৎ শুনতে পেলেন, ব্যাগ দেখি ?

তাকেই কথাটা বলেছে পাশে দাড়ানো পুলিশ। ঠিক কি বলেছে তিনি বুঝে উঠতে পারেননি তখনো। তখনই শোনা গেল পরবর্তী বাক্য, ওই ##৳!!##%#, ব্যাগ খোল।

তার বুঝতে সময় লাগল না বিষয়টি কি। তিনি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিচ্ছেন নাকি এটম বোমা নিচ্ছেন সেটা দেখাতে হবে। তিনি ব্যাগের চেন খুললেন। আর তার লাল হয়ে যাওয়া মুখ দেখে আমার অভিজ্ঞতা, এই দেশে জন্মগ্রহন করিয়া আমি ধন্য একথা ভুলে গেলে চিরদিনের জন্য।

পুলিশকে দোষারোপ করা উচিত না। তারা সামান্য বেতনে কাজ করে। রীতিমত জীবনের ঝুকি নিয়ে, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের সমালোচনা করা কি উচিত ?

কদিন আগে একজন নাকি রীতিমত মামলা করেছিল পুলিশ তারসাথে খারাপ ভাষা ব্যবহার করেছে। রীতিমত তোলপাড়। সরকার থেকে ক্ষমা চেয়ে বলা হল, পুলিশের আচার-ব্যবহার আরো উন্নত করা উচিত।

আগে বলতে ভুলে গেছি, এটা বৃটেনের কথা।

যাকগে সেসব। ঢাকার কথা বলি। সিডি-ডিভিডি পাইরেসিতে দেশ বিশ্বসেরা খেতাব পেয়েছে এরই মধ্যে। এর পেছনের কারিগরদের কথা হয়ত জানা নেই অনেকেরই। যারা মাঝখানে থেকে কাজ করেন তাদের কথাই বলি। এদের কাজ হল বিশাল ব্যাগে করে সিডি-ডিভিডি নিয়ে দোকানে দোকানে সাপ্লাই দেয়া। একবার পরিচিত একজনের ব্যাগ উচু করতে চেষ্টা করেছিলাম। মনে হয়েছে তার ওজন আমার চেয়েও বেশি।

এমনই ভার বওয়া একজনকে থামাল দুজন পুলিশ।

এই, ব্যাগে কি ?

সিডি-ডিভিডি।

দেহি।

তারপর চলল দেখার পালা। সফটওয়্যার-গেম এসবের সিডি-ডিভিডির বান্ডিল বেরতে শুরু করল। একসময় বিরক্ত হয়ে গেল পুলিশ,

দুই নম্বর জিনিষ আছে ?

না।

ঠিক কইরা ক-

ঠাস করে একটা চড় পড়ল তার গালে। নিশ্চিত হওয়া কঠিন চড়ের কারন কি। সেই বস্তু নাথাকা নাকি সে দুনম্বরি ব্যবসা করে সেটা।

এদেশে পুলিশ সত। শান্তি প্রতিষ্ঠা করা তাদের আদর্শ। তাদের শ্লোগান সেকথাই বলে। তাদের যোগ্যতা দেখেই চাকরী দেয়া হয়। শুধু দলের সার্টিফিকেট দিলেই হয়না, পড়াশোনার সার্টিফিকেটও দিতে হয়। তারপর সারদায় ট্রেনিং নিতে হয়। তারপর আরো ব্যাপার-স্যাপার আছে। এক এসআই মারা গেল চাকরীতে যোগ দেবার কয়েক মাসের মধ্যে। তার সহকর্মীদের মন্তব্য, ছয় লাখ দিয়া চাকরী নিছিল। ট্যাকাডা উঠাইতে পারল না।

এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকি ছদ্মবেশে মাদকের দোকানে গিয়েছিলেন নিজের চোখে দেখার জন্য। সবগুলি খবরের কাগজে ছাপা হয়েছিল। এযুগের খলিফা ওমর আরকি। তবে সবাই তার মত নন। নিজের ঘরে বসেই তারা দিব্যদৃষ্টিতে দেখেন সবকিছু। সারাদেশ, সারাবিশ্ব, মহাবিশ্ব। কোথায় কি ঘটছে দেখার জন্য নখদর্পন ব্যবহার করাই যথেষ্ট।

আপনার নখ যদি দর্পনের কাজ না করে তাহলে দেখার পথ একটাই। গাড়ি ছাড়া চলাফেরা করা।

 

Browse