রক্ষা করতে হবে জীবন

Jul 10, 2010
লেখে যত তার দ্বিগুন ঘুমায়, খায় তার দশগুন।
এটা বাড়িয়ে বলা তাতে কোন সন্দেহ নেই। ৮০ বছরের জীবনে একজন ব্যক্তি মোটামুটি ৩০ থেকে ৪০ বছর ঘুমিয়ে কাটায়। কাজেই কথাটা ঘুরিয়ে বললে, যদি ঘুমের বিষয়টি ৩০ বছরও ধরা হয়, তিনি ১৫ বছর লিখেছেন। সেই লেখার পরিমান রবীন্দ্রনাথকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা।
সেটা যেহেতু হয়নি সেহেতু এটা বাড়িয়ে বলাই।
আর এরসাথে যদি খাবার বিষয়টি মেলানো হয়। আমি জানি না কিভাবে সেটা সম্ভব। লেখা এবং ঘুম দুটিকেই সময় দিয়ে বিচার করা সম্ভব (যদিও খুব গ্রহনযোগ্য বলে মনে হয় না), কিন্তু খাওয়াকে ? আমরা কি বলি ওই ভদ্রলোক দিনে চার ঘন্টা খান!
কবি নন্দলালকে হেয় করার জন্য যা মুখে এসেছে (কলমে) তাই লিখে গেছেন। রীতিমত হেনস্তা করেছেন তাকে। আসলে তাকে বীর বলে উল্লেখ করাই সংগত ছিল।
যেমন ধরুন তার মুল দর্শন। রাখিবেই সে জীবন। সবাইকে জীবন রক্ষার জন্য যাকিছু করা প্রয়োজন করতে হয়। ধর্মেও বলেছে জীবন রক্ষা করা ফরজ। ফরজ কাজে তিনি দোষ দেখছেন কেন ?
আর দেশের স্বার্থে যদি হয় তাহলে এরচেয়ে মহত আর কি হতে পারে। যাকিছু করছেন সবই দেশের স্বার্থে। লেখা, খাওয়া, ঘুম, আড্ডা, গলাবাজি সবই।
যারা নন্দলাল নন তারা অতশত দেশের কথা ভাবেন না। তবে জীবন রক্ষা করেন প্রত্যেকেই। মানে ফরজ আদায় করেন। এমনকি জীবনের জন্য হুমকি হতে পারে এমন কাজ থেকেও দুরে থাকেন। আপনি প্রশ্ন করছেন, ওই কাজটা কতদুর হয়েছে। উত্তর, প্রচন্ড গরম দেখে বাইরে যাইনি। ঘরে বসে আছি। একে ফরজ না বলুন অন্তত সুন্নত কিংবা নফল তো বলবেন!
আসলে লেখক-কবি থেকে শুরু করে অনেকেই অনেক অকথা-কুকথা প্রচার করেন। নন্দলাল একবারমাত্র কাগজে এক সাহেবকে গালি দিয়েছিল। সাহেব এসে গলা টিপে ধরায় সাথেসাথে বুঝেছে ওইকাজ করার চেয়ে জীবন রক্ষা বেশি জরুরী। অন্যরা তারথেকেও বুদ্ধিমান। বিপদে পড়ে, অভিজ্ঞতা থেকে অভিজ্ঞতা লাভ প্রয়োজন হয়না। প্রাকৃতিক নিয়মে বুঝে যান কি কর্তব্য, কি নাকর্তব্য।
যেমন প্রাকৃতিক কারনেই বুঝে যান কাউকে বিশ্বাস করতে নেই, বিশ্বাস করলে ঠকতে হবে, কারন তিনি নিজেই সেটা করেন। কারোকাছে উপকার আশা করতে নেই কারন তিনি নিজে সেকাজ কখনো করেননা। কাউকে কাজের দায়িত্ব দিলে সেটা হবে না কারন তার নিজের ক্ষেত্রে বিষয়টা তারচেয়েও বাস্তব। কাউকে ধার দিলে সেটা ফেরত পাওয়ার আশা নেই কারন নিজেই সকলের আগে ভুলে যান ধার শোধ করার কথা। কাজের কথা থাকলে সেটা এড়িয়ে যেতে হয় কারন তিনি নিজে সেটাই করেন।
মুল কারন একটাই। যার তরেই হোক, রক্ষা করতে হবে জীবন।

কোন নিয়মে চলে

Jul 8, 2010
কেউ যদি ধানমন্ডি এলাকায় ঠিকানা খুজতে যান তিনি একদিনেই বুঝে যান আসলে দেশ কোন নিয়মে চলে
ধরুন আপনি খোজ করছেন ১৪ নম্বর
বেশ রিক্সা উঠলেন একে-ওকে জিজ্ঞেস করে ঘন্টাদুয়েক ঘুরলেন আপনার রিক্সাভাড়া যখন পকেট ছাড়িয়ে গেছে তখন হাটা শুরু করলেন আরো কয়েকঘন্টা কাটিয়ে অবশেষে একসময় বুঝলেন
যা বুঝলেন তা হচ্ছে, একসময় ১৪ নান্বার বলে একটা সড়ক ছিল সেটার নাম্বার পাল্টে হয়ে গেছে ৭/এ বিষয়টা এখানেই শেষ না, আপনি যদি সাত মসজিদ রোডের এপারে দাড়ান তাহলে সেটা ৭/এ, রাস্তা পার হলেও সেই পুরনো নাম্বার ১৪ যেমন ১৫ কখনো ৮/এ হয়নি ৩২ কখনো ১১ হয়নি।
কাজেই যা ১৪ ছিল তার অর্ধেক ৭/এ কিংবা পুরনো ১৪, বাকি অর্ধেক এখনো পুরনো ১৪।
শেষ এখানেই না সত্যিকারের ১৪ যদি খুজতে চান তাহলে সেটা আরেক যায়গায় দুরত্ব লেক ঘুরে-টুরে মাইলদুয়েক তো বটেই তার আবার পুরনো নাম্বার আছে, ২৯ না কিযেন। আবার নতুন ১৪ আর পুরনো ১৪ এই দুইয়ের মাঝামাঝি রয়েছে আরেকজন, ১৪/এ কাজেই ১৪ বলতে আপনি কি বুঝিয়েছেন, যাকে বুঝিয়েছেন সে কি বুঝেছে সেটা সকলের আগে জানুন। এটাই প্রচলিত গোলকধাধা
অনেকে বলেন নতুন করে আরেকবার নাম্বারিং করলে কেমন হয় একেবারে নিখুতভাবে। একেবারে উন্নতদেশের মত। এমন নাম্বার হবে যেন যেকেউ চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারে কে কোথায় বাস করে। রি-রি নাম্বারিং যেভাবে করা হচ্ছে মোবাইল ফোনের রি-রি-রেজিষ্ট্রেশন
সেটা জানার সৌভাগ্য সব বাংলাদেশীরই হয়েছে। যারা কয়েকবছর ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন তাদের নতুনভাবে নাম-ধাম-পরিচয়পত্র দিয়ে নতুনভাবে ব্যবহারকারী হিসেবে নাম লেখাতে হবে। যারা ফুটপাত থেকে কিনেছেন তাদের অত মাথা না ঘামালেও চলবে। এটাই হল রি-রেজিষ্ট্রেশন।
ফল হল সেই ধানমন্ডির নতুন-পুরাতন নাম্বারের মত। প্রয়োজন দেখা দিল নতুন নাম্বারিং এর। কাজেই, আরেকবার রি-রি-রেজিষ্ট্রেশন। এবার আর কোন ছাড় নেই। বয়স ১৮ না হলে হাতে মোবাইল নেই, এনআইডি না থাকলে মোবাইল নেই (বয়স ১৮ না হয়েও কারো কারো এনআইডি থাকতে পারে তাহলে!)। অফলাইন-অনলাইন ভেরিফিকেশন। আপনি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে দুর্নীতি করবেন, টেন্ডারবাজি করবেন, ঘুস নেবেন, ছিনতাই করবেন, বিদেশে টাকা পাচার করবেন এসব সহ্য করা হবে না। সব অপরাধের মুল ওই ওইখানেই। মোবাইল ফোন। একবার বন্ধ করি, তারপর দেখি অপরাধ কিভাবে হয়।
জানেন না ইউরোপ-আমেরিকা কি করছে। হলিউডি ছবিতে দেখা যায়। যে ফোন করছে সে কোথায় কোন মোড়ে দাড়িয়ে আছে, কোনদিকে যাচ্ছে সব কম্পিউটার স্ক্রিনে দেখা যায়। আমরাও দেখব। তারপর ক্যাক করে ধরে ফেলব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন ওসব সন্ত্রস-তন্ত্রাস বন্ধ রাখার নির্দেশ তো দিয়েছেনই। তারপরও না শুনলে তিনি কি করবেন ? কিছু একটা করতে তো হবে। ডিজিটাল দেশে এবার ডিজিটাল পদ্ধতিতে সব সমস্যার সমাধান করা হবে।
আমার দুশ্চিন্তা আসলে অন্যখানে। সেই যে, খায়-দায় চান মিয়া, মোটা হয় গফুর। খবরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছাত্রলীগের সন্ত্রাস-হাঙ্গামা, জেলভর্তি জামাত-শিবির কর্মী। কে জানে, আপনারও সেটা হতে পারে সেকারনে আগেই জানিয়ে রাখি।
হয়ত অনেক কষ্ট করে টাকা জমিয়ে শখ পুরন করে ক্যামেরা-ভিডিও-ইন্টারনেট সহ একটা ফোন কিনলেন। কোনমতে এনআইডি-র ব্যবস্থা করে সেটা নিজের নামে রি-রি-রেজিষ্ট্রেশনও করলেন। তারপর পথে বের হতেই একজন গলায় একহাত লম্বা ছুরি ধরে সেটা নিয়ে গেল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেহেতু সেটা বন্ধ করছেন না।
পুলিশের কাছে নালিশ করার মত এত বোকা আপনি নন। কোনমতে বন্ধুদের কাছে হা-হুতাস করে মনের দুঃখ মনে রেখে বাড়ি ফিরলেন। তারপরই,
রাতের বেলা পুলিশ এসে আপনাকেই ক্যাক করে ধরে নিয়ে গেল। মোবাইল ফোনে চাদাবাড়ি করস। মলমবাজি করস। টেন্ডারবাজি করস। সন্ত্রাস করস। চল থানায়।
কোর্টে বিচারক মশায় বললেন, এতো হাতেনাতে প্রমান। তার মোবাইল ফোনে সব তথ্য পাওয়া গেছে। কল রেকর্ড, রেজিষ্ট্রেশন, ঠিকানা, ছবি, এনআইডি, কোন গড়মিল নেই। ফরেনসিক এভিডেন্স। কোন জাড়িজুড়ি নেই। চার দিনের রিমান্ড।
এর পরের বর্ননা খুব বেশি প্রয়োজন নেই। জরুরী আইনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজের নেতাদের উপদেশ দিয়েছিলেন, আপনাদের রিমান্ডে নিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হবে, ইলেকট্রিক শক দেয়া হবে। ওসব এড়িয়ে চলবেন। যা শুনতে চায় তাই বলে আসবেন। তার দলেন নেতা না হয়েও আপনি সেই উপদেশ মানতে পারেন। প্রশ্ন করার আগেই বলতে শুরু করবেন, হ, আমি ছিনতাই করি, চুরি করি, ডাকাতি করি, টেন্ডারবাজি করি, ৭১ সালে রাজাকার আছিলাম, ওইখানে অস্ত্র লুকাইয়া রাখছি। আর যাই করেন ইলেকট্রিক শক দিয়েন না।
ঘটনা ঘটার আগেই জেনে রাখুন দেশ কোন নিয়মে চলে।

বিবর্তনে আবর্তন

Jul 6, 2010
সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গালাগালি করা হয়েছে কাকে, ডারউইন না মার্কস, সেবিষয়ে একমত হওয়া কঠিন হয়ত বৃটিশ ভদ্রলোকই এগিয়ে থাকবেন তিনি বলে বসলেন বিশ্ব এক সপ্তাহে তৈরী হয়নি প্রথম মানুষ হিসেবে এডাম-ইভ কিংবা আদম-হাওয়া তৈরী হয়নি কাজেই তার শত্রু বেশি হওয়াই স্বাভাবিক এমনকি এতদিন পরও সেই গালাগালি থামেনি
তবু রক্ষা গালিগালিকারকরা তার অরিজিন অব স্পেসিস নিয়েই ব্যস্ত থেকেছেন অনেকের মতে এরচেয়েও জোরালো বক্তব্য নিয়ে লেখা তার আরেক গ্রন্থ ডিসেন্ট অব ম্যান পড়ে দেখার সময় পাননি সেখানে তিনি নাকি ব্যাখ্যা করেছেন মানুষ কিভাবে মানুষ হল নিতান্ত নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি হলে অন্যভাবে বলতে পারেন মানুষ কিভাবে অমানুষ হল
এক কার্টুনিষ্ট এক ছবি একেছিলেন একদিকে আধুনিক মানুষ তাদের রয়েছে মিসাইল থেকে শুরু করে পারমানবিক অস্ত্রের পাহাড়, অন্যদিকে আদিম মানুষ হাতে লাঠি, পাশে পাথর অন্যদের দিকে হাত তুলে বলছে, দেখ ওরা বলে আমরা অসভ্য
যুগ যুগ ধরে আমরা সভ্য হয়েছি সভ্যতা নামের কিছু একটা হয়েছি তো বটেই বিশ্বকাপে ব্রাজিল হারল কেন, চল রাস্তায় কয়টা গাড়ি ভাঙি একে সভ্যতা না বলে উপায় কি
মানুষের মানুষ হওয়া নিয়ে প্রচলিত গল্পেরও অভাব নেই। এই গল্পটার কথাই ধরুন না কেন।
ভদ্রলোক গাড়ি থামালেন পেট্রোল পাম্পে। সাথেসাথে তিনজন এগিয়ে এসে সালাম দিল, কাজে হাত লাগাল। তিনি তেলের কথা বলে অফিসে ঢুকলেন। ফিরে এসে দেখলেন তার গাড়ি চকচক করছে। খুশি হয়ে তিনজনকে বখশিশ দিয়ে বিদায় নিলেন।
একটুপরই আবারও গাড়ি থামাতে হল আগের যায়গায়। আবারও সেই তিনজন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কে কি করেছ ?
একে অন্যকে থামিয়ে তারা বলতে শুরু করল কে কাচ পরিস্কার করেছে, কে চাকায় পানি দিয়েছে কে পুরো গাড়ি চকচকে করেছে।
তিনি তাদের থামিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, গাড়িতে তেল ঢুকিয়েছে কে ?
তিনজন একে অন্যের দিকে তাকাতে থাকল।
এই গল্প বহু পুরনো কাজেই ধরে নেয়া যায় অন্যদেশ থেকে আমদানী করা। অন্তত একযুগ আগেও যখন এধরনের গাড়ির দৌরাত্ব ছিল না।
আমদানী হয়েছে নিশ্চয়ই পশ্চিমা দেশ থেকে। তারমানে এই ব্যবস্থা প্রচলিত পশ্চিমা দেশেও। তারমানে সারা বিশ্বে।
সেটাই তো স্বাভাবিক। সব যায়গাতেই তো মানুষ।
তাহলে বরং একেবারে দেশি গল্পটাই শুনুন।
ছেলে কিছুতেই ওষুধ খাবে না। মা কোনভাবে না পেরে অভিনব বুদ্ধি বের করলেন। এটা বৃথা যেতে পারে না। একটা রসগোল্লার মধ্যে ট্যাবলেট ঢুকিয়ে খেতে দিলেন। রসগোল্লার সাথেসাথে ট্যাবলেটটাও পেটে যাবে।
কিছুক্ষন পর জিজ্ঞেস করলেন, মিষ্টিটা খেয়েছ বাবা ?
ছেলে বলল, হ্যা-মা। বিচিটা ফেলে খেয়েছি।
সেই ডারউইনোর কথাতেই ফিরতে হচ্ছে। ভদ্রলোক অনেককিছুর ব্যাখ্যা করেছেন কিন্তু কখনো বলেননি মানুষের মধ্যে একটা সেন্সর কাজ করে। যা তাকে বলে দেয় কোনটা করতে হবে, কোনটা করা যাবে না। মানবকুলের জন্য একেবারে প্রজন্মগত সেই ফিল্টার ব্যবস্থা। বিবর্তনে যা পরিবর্তন হয় না।
আর গল্পের বক্তব্য যদি লক্ষ্য করেন তাহলে নিশ্চয়ই বুঝেছেন ফিল্টারে কি বাদ যায়।

ব্যাকরন মানি না

Jul 4, 2010
হাস ছিল সজারু,  ব্যাকরন মানি না .. লিখে গেছেন সুকুমার রায়
তিনি ভাষা নিয়ে কাজ করেছেন কাজেই ব্যাকরন মানা নিয়ে তার মাথাব্যথা না থাকলেও চলে সাহিত্যে আর ব্যাকরনের প্রয়োজন কি! সাইফুরস তো বিজ্ঞাপন দিচ্ছে ইংরেজিতে গ্রামার বলে কিছু নেই।
প্রয়োজন আসলে অন্যখানে
লোকে বলে ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র, বিশ্ব, গ্রহ নক্ষত্র নিয়ে মহাবিশ্ব সবই নাকি ব্যাকরনের নিয়মে চলে একটু বাড়িয়ে বলা থাকতেই পারে, কিন্তু একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না অন্তত সকলেরই যখন বয়স বাড়ে কোনমতেই কমতির দিকে নেয়া যায় না
এই ব্যাকরন দেখতে কেমন ? তৈরী করল কে ?
লোকে আরো বলে ব্যাকরনের নিয়মেই নাকি প্রতিদিনই একদিন করে বয়স কমে বয়স মানে আয়ু আর কি একদিন করে মৃত্যুর দিন ঘনিয়ে আসে শেষদিনে জিবরাইল এসে হাজির হলে বড়জোর বলতে পারে, কই কোন চিঠিপত্তর তো দেননি এভাবে বিনানোটিসে ভাড়াটেকে পর্যন্ত উঠানো যায়না আর আপনি এসেছেন পৃথিবী থেকে উঠিয়ে দিতে জানেন আমার আরো কত কাজ বাকি এখনো বাড়ি করা হয়নি, ছেলেমেয়ে স্কুলে যাচ্ছে, ব্যবসা মাত্র লাভের দিকে ...
জিবরাইল ওসব কথায় কান না দিয়ে নিজের কর্তব্যের কথাই মনে করিয়ে দেন নোটিস তো দিয়েছি ওই যে চুল সাদা হয়েছে, কালি দিয়ে কুচকুচে বানিয়ে রেখেছেন ওইযে দাত পড়ে গেছে, ডেন্টিষ্টকে টাকা দিয়ে ফলস লাগিয়েছেন আপনি যদি নোটিস লুকিয়ে রাখেন তাহলে আমি কি করতে পারি ওসব ধানাই পানাই চলবে না ডাক এসেছে যেতে হবে।
কাজেই আপনাকে অন্যযুক্তি খুজতে হয় তারসাথে হাতাহাতি করে যখন লাভ নেই, তাকে ঘুস দেয়া যায় না, ক্রশফায়ারে ফেলা যায় না তখন সেটাই একমাত্র পথ নিজে তার সঙ্গি হয়ে ভবিষ্যত বংশধরদের মধ্যে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা
কতদিন ?
যতদিন ততদিন
আপনার সন্তান নিশ্চয়ই আপনাকে টিকিয়ে রাখবে তাদের সার্টিফিকেটে আপনার নাম লিখতে হয় আচ্ছা, এমন নিয়ম করলে হয়না, বংশানুক্রমে সার্টিফিকেটে নাম লেখা বাধ্যতামুলক হবে অমুকের পুত্র অমুকের পুত্র অমুকের পুত্র অমুক .... তাহলে অনেকদিন নিজের নাম টিকিয়ে রাখা যায়
এটাও হয় না যারা দেশ চালায়, আইন বানায় তাদের মাথায় যদি একটু ঘিলু থাকত
তাদের কি ব্যাংকে টাকার পাহাড় বানিয়ে রেখেছে মাসে দুবার করে হাসপাতালে সাক্ষাত দিতে হয় এখনো দুহাতে টাকা কামানো থামেনি সন্তান, তস্য সন্তান, তস্য তস্য সন্তান যদি পঙ্গুও হয়, যদি তাদের ওঠবস করাতেও টাকা দিয়ে মানুষ রাখতে হয় তাহলেও তারা আরামে থাকবে কখনোই অর্থসংকট হবে না আর কার কৃতিত্বে সেটা হয়েছে সেকথা জপ করবে দিনে অন্তত পাচবার
আচ্ছা, ব্যাকরন নতুন করে লিখলে কেমন হয় ওই যে বিদ্যাসাগর তো কতকিছু লিখে গেছেন নতুন একজন বিদ্যাসাগর যদি নতুন করে ব্যাকরন লেখে তাহলে ডারউইন ব্যাটা তো এটাসেটা বলে পটল তুলেছে, যদি সে একটা ব্যাকরন তৈরী করত কিভাবে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যায় নতুন ধরনের বিবর্তন
নাহ সে নিজের জীবন পর্যন্ত বাচাতে পারেনি তাকে দিয়ে ওসব হবে না আজকাল কেউ আবার কথাও শোনে না নিজের লাভ ছাড়া একপা ফেলে না মুখ থেকে টু শব্দ পর্যন্ত বের করে না দিন-সপ্তাহ-মাস-বছর-যুগ ধরে গল্প করে যাবে কিন্তু কাজের কথা একটাও বলবে না সামনে হ্যা-স্যার, জ্বি-স্যার বলেই যাচ্ছে মনে কি আছে খুব ভাল করেই জানি ব্যাটা সুযোগ পেলেই ল্যাঙ মারবে বিশ্বকাপ দেখে বিশ্বমানের ল্যাঙমারা লপ্ত করেছে টিভি রিপ্লে ছাড়া ধরা যায় না
আজকাল রেফারিও ব্যাকরন মানে না খুব ভাল করেই জানে তার ওপর মাথা নেই বাশিতে ফু দিলেই কাজ
ব্যাকরনের মুল সুত্র আসলে সেখানেই। মাথার ওপর কেউ আছে কি-না। যে ওপরে বাস করে ব্যাকরনের কারন নির্ধারনের দায়িত্ব তারই। পরের ধাপে যিনি অবস্থান করেন তার দায়িত্ব তার নিচের সবাইকে ব্যাকরন মানানো। ব্যাকরনের আকার আসলে পিরামিডের মত এর।
সত্যিকারের ব্যাকরন মিশরীয়রাই তৈরী করে গেছে।

আবিস্কার

Jul 3, 2010
নিউটন মাধ্যাকর্ষন সুত্র আবিস্কার করেছিলেন।
আপনি নিশ্চয়ই এত বোকা নন যে সেটা জানেন না। কিংবা সেই ইতিহাসের ছাত্রের মত আরেকটু বাড়িয়ে বলবেন, শের শাহ ঘোড়ার ডাক প্রচলন করেন, তাহার আগে ঘোড়া ডাকিত না।
মাধ্যাকর্ষন শক্তি নিউটনের আবিস্কারের আগেও ছিল। এখন যতটা আছে ঠিক ততটাই। নিউটন শুধুমাত্র তাকে কথার জালে আটকেছেন। এটাই তার কৃতিত্ব। বিজ্ঞানীর নাম করলে তার আবিস্কারকে বাদ দেবার উপায় নেই।
কাজেই প্রমানিত হইল, আবিস্কারের জন্য নতুন কিছু উদ্ভাবন প্রয়োজন নাই। বর্তমান বিষয়কে কথার সাহায্যে উপন্থাপন করিয়া আবিস্কারের কৃতিত্বলাভ করা যায়।
যদি এটাই হয় তাহলে আপনার আবিস্কার করতে বাধা কোথায় ? অনায়াসে ডজন ডজন আবিস্কার করে ফেলতে পারেন। অনেকেই করছে।
পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করবে এটাই বহু বছর ধরে প্রচলিত। সেই ডেকে আনতে বললে বেধে আনার যুগ থেকে শুরু। এজন্যই পুলিশ আবিস্কার করা হয়েছে। এই আবিস্কারকে আরো সহজ করার জন্য নানারকম ধারাও আবিস্কার করা হয়েছে।
৫৪ নম্বর ধারার কথা জানেনা কে ? সন্দেহজনক গতিবিধি। তাকে আচরন, পোষাক, চেহারা, স্বাস্থ্য দেখে তাকে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। কাজেই তাকে গ্রেপ্তার করা হল। সে নিশ্চয়ই সমাজের জন্য ক্ষতিকর কিছু করতে যাচ্ছিল। অন্তত মনে মনে ফন্দি আটছিল। সন্দেহ হয়েছে বলেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আপনি এটাও জানেন কোন কোন সমাজে চোরে-পুলিশে দোস্তি হয় খুব সহজে। আর পুলিশে-সরকারে দোস্তির কোন তুলনাই হয় না। পুলিশ কখনো কোন ধরনের বাড়াবাড়ি করে না। জনগনের স্বার্থ রক্ষার্থে, জানমাল রক্ষার্থে দায়িত্বপালন করে। ঠিক যতটুকু শক্তি প্রয়োগ করা প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই করে। ব্যাখ্যা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের, কাজ করার দায়িত্ব পুলিশের।
একই অস্ত্র বারবার ব্যবহার করলে নাকি ধার কমে যায়। দেখেননি যারা দাড়ি কাটে তারা কিছুক্ষন পরপর সেটা ঘসে ধার বাড়িয়ে নেয়। এটাই কারন। কাজেই ওই ৫০+৪ নম্বর অনবরত ব্যবহার করলে ধার কমবে এটাই তো স্বাভাবিক। কিযেন একটা নিয়ম আছে কত সময়ের মধ্যে কোর্টে নিতে হয়। না নিয়ে, জানাজানি হলে নানাজনে নানারকম কথা বলে। কেমন হয় যদি নতুন কিছু আবিস্কার করা হয়।
যেমন ধরুন পুলিশের কর্তব্যে বাধা দেয়া। এটা সরাসরি অপরাধ, সন্দেহ করার বিষয় নেই।
পুলিশ আপনাকে গ্রেপ্তার করতে গেছে আর আপনি তাতে বাধা দিয়েছেন। প্রশ্ন করেছেন কেন গ্রেপ্তার করছে, অভিযোগ কি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কোথায়। পুলিশ আইনের প্রতিনিধি, তার কর্তব্যে আপনি এভাবে বাধা দিতে পারেন না। কাজেই আপনাকে গ্রেপ্তার করা হল।
এরপরও, সেই বিচারালয়ের বিষয়টি একসময় আসেই। অন্তত ক্রশফায়ার, এনকাউন্টার, গুপ্তহত্যার বিষয়টি যদি না থাকে। আর বিচারক মশায় কয়েকবার চোখ মিটমিট করে বলেন, বেশতো। কথাটার যুক্তি আছে। পুলিশের কর্তব্যপালনে বাধা দেয়া অবশ্যই অপরাধ। আটক করা যেতেই পারে। রিমান্ডে নেয়া যেতেই পারে। নম্বর-টম্বরও নেই যে কেউ বইখুলে দেখে নেবে সেখানে কি লেখা আছে। আবিস্কারটা মন্দ না। আবেদন মঞ্জুর।
কাজেই, বংগসন্তানগন, মনোযোগ দিয়া শুনুন। পুলিশ যদি গ্রেপ্তার করতে আছে কোনরকম প্রশ্ন করে তাদের কর্তব্যপালনে বাধাসৃষ্টি করবেন না। অপরাধ করে অপরাধী হিসেবে গ্রেপ্তার হবেন না। বরং গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করুন। নিরপরাধী হিসেবে গ্রেপ্তার হোন।

কারন থাকা চাই

Jul 1, 2010
ছোটবেলা খুব প্রিয় বই ছিল দিলুর গল্প। ক্লাশে শিক্ষক রচনা লিখতে বললেন, এক লক্ষ টাকা পাইলে কি করিব। সকলে মহা উসাহে লিখতে শুরু করল কিভাবে মনের সাধ পুরন করবে। শিক্ষক লক্ষ্য করলেন দিলু কি যেন লিখেই খাতা রেখে দিল। খাতা দেখার সময় জানলেন তার বক্তব্য, অল্প টাকা হইলে ভাবি-চিন্তিয়া খরচ করিতাম। লক্ষ টাকা পাইলে মনের আনন্দে বসিয়া বসিয়া খাইব।
লেখক রাহাত খান সত্যিকারের বাঙালীর পরিচয় তুলে ধরেছিলেন দিলুর মাধ্যমে। বাঙালীর প্রধান চিন্তা তো ওটাই, অনেক টাকা চাই। আর অনেক টাকা যদি থাকে তাহলে আর কাজের চিন্তা করে কে। বসে বসেই খাওয়া যায়। ঘুর্নিঝড় দুর্গতদের একজন রীতিমত ক্ষোভের স্বরে বললেন, যা টাকা দেয়া হয়েছে সেটা ঠিকমত দিলে বসে খাওয়া যেত।
কাজেই, কাজ তিনিই করবেন যার খাদ্য সংকট রয়েছে। গল্পের চিংড়ি মামার খবর শুনলে অবশ্য একটু খটকা লাগতে পারে। তার বক্তব্য ছিল বাংলাদেশে যারা খেতে পায় তারা কাজ করে না আর যারা কাজ করে তারা খেতে পায় না।
কথার অর্ধেক আগের বক্তব্যের মতই, বিপত্তি বাকি অর্ধেকে। কাজ করবেন আর খেতে পাবেন না।
বিয়ষকে আরো সহজ করে দেখা যাক। আপনি চাকরী খুজবেন, ব্যবসা খুজবেন, ধান্দাপানি করবেন, কারন থাকা চাই।
কারন হচ্ছে আপনার খাদ্য প্রয়োজন।
যদি খিদে না থাকে তাহলে!
খিদে না থাকলে নিশ্চয়ই ডালভাত কেউ খায় না। বড়জোর বাদাম-ফুচকা-চানাচুর-আইসক্রিম-কাবাব এসব খায়। কাজেই খিদে না থাকলেও খেতে হয়। সেকারনে কিছু করতেও হয়।
আবারও বলতে হচ্ছে, খিদে না থাকলে যেমন কেউ ডালভাত খায় না তেমনি খিদে না থাকলে চাকরীর খোজে জুতা ক্ষয় করে না। বরং সেই বাদাম-ফুচকার মত সরল পদ্ধতিতে যাওয়া যায়। পরিশ্রম করা প্রয়োজন নেই, মাথা ঘামানো প্রয়োজন নেই, দায়িত্ব নেয়া প্রয়োজন নেই। ফাকে-ফুকে যেটুকু কামানো যায়। লটারীর টিকিটে ভরসা নেই শেয়ার বাজারে কিছুটা হলেও আছে। ব্যাংকে আছে। আর ধান্দাবাজিতে আছে। টাকা লাগালেই টাকা আসে।
নিতান্তই যার খিদে সহজে যায় না সে কাজ খোজে। কিছু একটা করতে হবে একথা মাথা থেকে যায় না। কারো কারো সেটা অভ্যেসে দাড়িয়ে যায়। টাকার কথা ভুলে কাজের কথাই ভাবে।
একটা ভুল কথা ভুলই থেকে যায়। ওই বসে খাওয়ার ব্যাপারটা। একমাত্র ফুটপাতের দোকানেই মানুষ বসার যায়গা না পেয়ে দাড়িয়ে খায়। অন্যরা দাড়িয়ে খায় না, বসেই খায়।
ইসলাম ধর্মে দাড়িয়ে খাওয়া নিষেধ। কাজেই সবসময় বসে খাবেন। এক মাদুর বিক্রেতা ক্রেতাদের বলছিল, লইয়া যান। মাত্র পচিশ টাকা। সারা জীবন বইয়া বইয়া খাইতে পারবেন।
এক মাদুর কিনে যদি সারাজীবন বসে খাওয়া যায় তাহলে কিনবেন না কেন ?
 

Browse