পুরনো গল্প

Apr 8, 2010
আসলে সব গল্পই পুরনো গল্প গল্প কখনো নতুন হয়না জীবন যেমন নতুন হয়না, ঠিক তেমনিই একবার এদিক থেকে দেখা, আরেকবার অন্যদিক থেকে কাজেই পুরনো গল্প বললে ক্ষতি নেই
এক ব্যক্তির খুব বদনাম ছিল এলাকায় কখনো কোন ভাল কাজ করেনি বাপের টাকাপয়সা যাছিল তা উল্লেখ করার মত একটা কাজেই ব্যবহার হত, মদ খাওয়া সন্ধ্যে হলে তো কথাই নেই, দিনের বেলাতেও মদে চুর হয়ে থাকত
সে যখন মারা গেল তখন নিতান্ত ভদ্রতার খাতিরে হলেও এলাকার লোকজন এল পরিবারকে শান্তনা দিতে একজন তার ছেলেকে বলল, দেখ বাবা তোমার বাবা তো ভালকাজ কিছু করেনি ইচ্ছে করলেও প্রশংসা করার মত খুজে পাওয়া ভার তুমি এমন কিছু কর যেন তার সম্পর্কে দুচারজন ভাল কথা বলে
সে কথা রাখল কদিন যেতেই দেখল সে বাপের পথ ধরেছে দিনে-রাতে সমানে মদ খায় সেই অবস্থায় রাস্তায় এসে যাকে দেখে তাকে উচ্চস্বরে গালাগালি করে
সেই ব্যক্তি থাকতে না পেরে একদিন ধমক দিয়ে বললেন, এটা কি আচরন ? তোমার বাপ তো তোমার চেয়ে ভাল ছিল অন্তত গালাগালি করত না
সে সাথেসাথেই উত্তর দিল, আপনিই তো বলেছিলেন এমন কিছু করতে যেন তাকে সবাই ভাল বলে
বাংলাদেশের মানুষের এই ভাল দেখার সুযোগ হয়েছে অনেকবার উদাহরন হিসেবে অন্তত নিকট অতীতকালের কথা উল্লেখ করা যায়, তাতে বিপদের ঝুকি কম
৯ বছর আন্দোলন করে এরশাদ সাহেবকে সরানো হয়েছে জনগনের বিজয় হয়েছে গনতন্ত্র মুক্তি পেয়েছে লাখো মানুষ পথে নেমে দ্বিতীয়বারের মত স্বাধিনতা উযাপন করেছে
তারপর প্রধান দুই দলের পালাক্রমে দেশ শাসন তারপর জোট-মহাজোটের পালা সংসদীয় গনতন্ত্রের বহর দেখে নাভিশ্বাস উঠেছে জনগনের বাপরে! আগের সরকার তো এরচেয়ে ভাল ছিল
কোন আগের সরকার ?
মহাজোটের চেয়ে চারদলীয় জোট লোড সেডিং অন্তত দুঘন্টা ছিল না লোডসেডিং থাকলেও ফ্যান-বাত্তি-টিভি-ফ্রিজ নষ্ট হত না পানিতে মরার অবস্থা ছিল না। চালের দাম ৩৫ টাকা ছিল না ২০ টাকার নিচেই ছিল
চারদলীয় জোট সরকারের চেয়ে ভাল ছিল তার আগের সরকার চালের দাম আরো কম ছিল তার আগের সরকারে আরো কম আর এরশাদ সাব, গালাগালি করলে হইব কি ব্যাটায় জানত ক্যামনে দ্যাশ চালাইতে হয় অনেক কিছু করছে যেকথা কইছে সেইডা কামে করছে ওই মাইয়া মানুষের বিষয়ডা বাদ দিলে ----- লোকটা খারাপ আছিল না নাইলে কি আর যারা ৯ বছর আন্দোলন করল তারা তারে নিয়া টানাটানি করে!
বলার আর কি থাকতে পারে বাংলা প্রবাদ, যায় দিন ভাল, আসে দিন মন্দ মন্দের জন্যই অপেক্ষা করি .....

অভিযান

Apr 7, 2010
একসময় অভিযান নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি ছিল না। শতশত বই লেখা হয়েছে অভিযান নিয়ে। আফ্রিকার দুর্গম অঞ্চলে অভিযান থেকে শুরু করে উত্তর মেরুর তুষার অভিযান পর্যন্ত প্রতিটি বর্ননা মানুষ খুটিয়ে খুটিয়ে পড়ত। অন্তত কিশোর বয়সীরা তো বটেই। তারপর, জয় করলে যেমন আগ্রহ হারিয়ে যায় তেমনভাবেই আগ্রহ মিইয়ে গেছে। এখন আর জয় করার মত নতুন কিছু নেই। চাদ পর্যন্ত দেখা হয়ে গেছে। আর বাকি কি ?
কাজেই ওসব অভিযান-টভিযান বাদ। একেবারে বইয়ের পাতা থেকেও। এমনকি টিভি-সিনেমার পর্দা থেকেও। তারচেয়ে বরং জীবন নিয়ে ভাবা যাক। জীবন মানেই প্রেম। প্রেমই জীবন। গল্প-উপন্যাস-গান-নাটক-সিনেমা এসব তো তাই নিয়েই হবে। সাক্ষাকারে যখন টিভি নাট্যকর্মী বলেন নাটকে আমরা প্রেমঘটিত সমস্যার সমাধান দেই তখন সত্যকথাই বলেন। সব ধরনের শিল্পকর্ম-চিন্তাভাবনা-বক্তব্য-বিবৃতি এসব তো নিখুত প্রেম শেখানোর জন্যই।
কিন্তু কম্বলকে ছাড়লেও কম্বল ছাড়েনা। অভিযান নামে একটা শব্দ যখন তৈরী হয়েই গেছে তখন তাকে কি ভুলে যাওয়া যায় ?
এখানে সেখানে ব্যবহার করতেই হয়। প্রয়োজনে সেই ক্লাসিক অভিযানের বাইরেই অন্য কাজের নামকরন করা যায়। নামকরন বিষয়টি খুবই গুরুত্বপুর্ন। ওটাই সম্বল। একজন শিশু ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর একটা নামের মালিক হয়। একদিন প্রাকৃতিক নিয়মে সে বিদায় হয় কিন্তু নাম থেকে যায়। ওটা পৃথিবীর বস্তু, পৃথিবীতেই থেকে যায়। ভাল কারনেই হোক আর অন্য কারনেই হোক।
কাজেই নামকরনের বিষয়টি গুরুত্বে সাথে দেখতে হয়। যেমন একসময় জেহাদ নামটা ব্যবহার করা হত নানা কাজে। অশিক্ষার বিরুদ্ধে জেহাদ, দারিদ্রের বিরুদ্ধে জেহাদ ইত্যাদি। কিন্তু তাতে অনেকেরই আপত্তি। বিশেষ করে ওই আমেরিকার। ওতে ধর্মের গন্ধ পাওয়া যায়। সন্ত্রাসের গন্ধ পাওয়া যায়। সাথেসাথে ক্রুসেড নামটা চলে আসে। তখন পাল্টাপাল্টি। আর আমেরিকার সাথে পাল্টাপাল্টিতে যাবে কে ? সেটা পাল্টাপাল্টি না হয়ে শুধু পাল্টা হয়ে থেমে থাকে। সেদিক থেকে অভিযান অনেক ভাল নাম। কেউ বাধা দিতে আসছে না।
কাজেই মশক নিধন অভিযান, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান, বিলবোর্ড-সাইনবোর্ড ভাঙ্গা অভিযান, ভেজাল বিরোধী অভিযান, ফুটপাত মুক্ত অভিযান, নদী দুখলমুক্ত অভিযান।
তালিকা অনেক লম্বা। প্রতিদিন আরো লম্বা হচ্ছে। আর হবে না-ই বা কেন ? পক্ষ যে অনেক। কেউ দখল করছে, কেউ সহায়তা করছে, কেউ সমর্থন যোগাচ্ছে, কেউ মধ্যস্থতা করছে, কেউ বিরোধীতা করছে, কেউ মামলা করছে, কেউ মামলার গুনে দুপয়সা কামাচ্ছে, কেউ পরিবেশ রক্ষা করছে, কেউ মানবতা রক্ষা করছে, কেউ নির্দেশ দিচ্ছে, কেউ নির্দেশ মানছে। সকলেরই আয়। গড়লেও টাকা-ভাঙলেও টাকা। কাজেই ভাঙাগড়ার খেলা চলবে এতে আর অবাক হওয়ার কি আছে। এইতো, শুরু হল বিলবোর্ড ভাঙা। একদিন এই এলাকায় আরেকদিন আরেক এলাকায়। সাথেসাথে কিছু মানুষের আয় বেড়ে গেল। ভাঙার জন্য লোক প্রয়োজন, কিছু মানুষের কর্মসংস্থান। ভাঙার পর সেগুলি কি কাঝে লাগানো হবে, কে পাবে, এতে কিছু মানুষের কর্মসংস্থান। কে এসব তদারকি করবে তাতেও কর্মসংস্থান। কাজ কতটুকু ঠিক হল বলাও কর্মসংস্থান, ঠিক হল না বলাও কর্মসংস্থান।
ভাঙার পর আবার গড়ার পালা। নতুন ডিজাইন, নতুন প্লান, নতুন বোর্ড-ইট-কঠি-লোহা-সিমেন্ট, নতুন কর্মী। আরো বহু মানুষের কর্মসংস্থান। আবারো নতুন করে শুরু।
আর ফুটপাত মুক্ত করার অভিযান!
সে আরো সহজ। ফুটপাত অনেক লম্বা। পুলিশের গাড়ি এসে আগের দিন জানিয়ে যায়, কাইলকা আমুনে। কয়দিন চুপচাপ থাক।
তা না জানিয়ে উপায় কি ? দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক খরচ তো ওরাই দেয়। বেতনের টাকায় সিগারেটের পয়সাও হয় না। কৃতজ্ঞতা বলে একটা কথা আছে। ধর্মেও কইছে তোমরা---
কাজেই অভিযান চলতেই থাকে। আজ এখানে, কাল ওখানে, পরশু সেখানে। চলছেই-চলবেই
প্রাচীনকালের মানুষ আসলেই বোকা ছিল। খামোখাই বনে-জঙ্গলে-মরুতে-মেরুতে প্রান দিতে গেছে। ঘটে বুদ্ধি থাকলে দিব্বি এই সমাজেই অভিযান চালিয়ে জীবন কাটাতে পারত।

সুইসাইড না হোমিসাইড

Apr 4, 2010
বখাটে তরুনের উপাত সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে কিশোরী, এধরনের খবর ছোট করেই ছাপা হয়। খবরের কাগজে যায়গার অনেক দাম। বিজ্ঞাপন ছাপলে ইঞ্চি হিসেবে টাকা পাওয়া যায়। কারো পক্ষে-বিপক্ষে লিখলে রীতিমত অক্ষর গুনে। খবর লিখে যায়গা ভর্তি করে লাভ আছে! তাছাড়া এতে নতুনত্বই বা কি ? কদিন আগেই তো একই খবর ছাপা হয়েছিল। তারো কদিন আগে আরো একটা। এমন তো ঘটেই। এনিয়ে হাউকাউ করার কি আছে ?
কদিন আগে এক পশ্চিমা ভদ্রলোক বলেছিলেন সরকারী দলের লোক ধর্ষন করেছে জানার পরও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, এটা দুঃখজনক। তারা দুঃখ প্রকাশ করতেই পারেন। তাতে তো পয়সা লাগে না। ক্ষমতায় থাকলে মানুষ একটু আধটু অমন করেই। আর আজকাল এসব সেকেলে বিষয় নিয়ে মাথা ঘামায় কে ? সমাজ-সভ্যতা উন্নত হয়েছে। ফ্রি সোসাইটিতে ছেলেমেয়ে একসাথে চলবে এটাই তো স্বাভাবিক। টিভি দেখেন না ? ডিভিডি দেখেন না ? ইন্টারনেট দেখেন না ?
আসলে দোষটা ওই মেয়েরই। একটু মানিয়ে নিলে কি ক্ষতি ছিল। বন্ধুত্ব করলেই সব মিটে যেত। খবরের কাগজে যায়গা দখল করত না। আর কিছু লোক বসেই আছে সরকারের ভাবমুর্তি, দেশের ভাবমুর্তি নষ্ট করতে। দেশকে হেয় করতে একপায়ে খাড়া।
প্রশ্ন করবেন ? কাকে ? যারা দেশ চালাচ্ছে, সমাজ চালাচ্ছে তাদের ?
তাদের মুখে তৃপ্তির হাসি লেগেই রয়েছে। সাফল্যের বর্ননায় কথার ফুলঝুড়ি ছুটে চলেছে। ওইসব ছোটখাট ব্যাপার ছাইড়া বড় বিষয়ের দিকে দৃষ্টি দ্যান। জানেন দ্যাশ কত উন্নত হইছে। কয়দিন পর মধ্যম আয়ের দ্যাশে পরিনত হইব। সবাই কইতাছে।
কি কন! হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ নিরবে চাকরী হারাইতাছে ? কারখানা মালিক-ব্যবসায়ী চক্ষে অন্ধকার দ্যাখতাছে ? গ্যাস-বিদ্যুত-পানির অভাবে মানুষের নাভিস্বাস উঠতাছে ?
ওইসব বাজে কথা। খারাপ ছাইড়া ভালর দিকে চান। ওইযে ডাষ্টবিনের পাশের ন্যাংটা পোলাডারে দ্যাখেন জাতিয় পতাকা হাতে পাইয়া কেমুন হাসতাছে। মাথায় লাল-সবুজ টুপি লাগাইছে। এইডারে কয় স্বর্গিয় সুখ। এইজন্যই তো স্বাধিনতা। এইজন্যই তো চল্লিশ বছর আগে দ্যাশ স্বাধিন করছি। স্বাধীনতার মুল্য বোঝেন। আর সেইসময় যারা রাজাকারী করছে তাগো বিচার করতাছি। এইসময় এইসব ফালতু কথা কইয়া ডিসটার্ব কইরেন না।
কিছুই বলার নেই।
যদি বিবেক বলে কোনকিছুর অস্তিত্ব থেকে থাকে তাহলে নিজেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, একটা সমাজ কতটা অসভ্য হলে একজন মেয়ে বখাটের অত্যাচারে বিরক্ত হয়ে আত্মহননের পথে যেতে পারে। পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সমাজ, প্রশাসন, রাষ্ট্র কেউ তাকে এই অত্যাচার থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনা, সামান্যতম নিশ্চয়তা দিতে পারেনা। যার সামনে একটাই পথ, জীবন দেয়া। মাথা নত না করা। সমাজ নিজেই যখন মেরুদন্ড হারিয়ে মাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছে তখন তার পাশে দাড়াবে কে ?
রবীন্দ্রনাথের নায়িকা জীবন দিয়ে প্রমান করেছিল সে মরেনি। তাকে জীবন দিয়ে প্রমান করতে হল সমাজ কতটা মেরুদন্ডহীন। কতটা বিকৃত।
এটা আত্মহত্যা না, খুন। বিকৃত সমাজ তাকে হত্যা করেছে।

একেবারে পানির দামে

Apr 3, 2010
একসময় লোকে বলত পানির দাম। তারমানে এর দাম এতই কম যা প্রায় পানির মত বিনামুল্যে পাওয়া যায়। বঙ্গবাসি, বিশেষ করে ঢাকাবাসি খুব ভাল করেই জানেন পানির মুল্য কতটা। মাস মাস টাকা দেবেন, পানি পাবেন সে নিশ্চয়তা কেউ দেয়নি। যা পাবেন তাতে কেচোর মত জীবন্ত প্রোটিন থাকতে পারে। কোন আপত্তি করবেন না। আর যদি পছন্দ না হয়,
পত্রিকায় কফিনের ছবি দিয়ে কার্টুন ছাপা হয়েছে, মরিয়া বাচিলাম। পানি-বিদ্যুত-গ্যাস সঙ্কট হইতে-
আর যাই হোক অন্তত পানির সাথে তুলনা একেবারেই বেমানান। তাই বলে বিনামুল্যের কিছু নেই এটাও একেবারে বাড়িয়ে বলা। কথার বাড়াবাড়ি। কপিরাইট আইনে বলেছে আপনি যাই সৃষ্টি করুন না কেন তার কপিরাইট আপনার। অনুমতি ছাড়া ব্যবহারে জেল-জরিমানা হইতে পারে। কোন লেখা থেকে দুলাইন টুকলি করবেন, সাথেসাথে মামলা। বিনামুল্যে ব্যবহারের কোন সুযোগ নেই।
বিনামুল্যে একটা কাজ নিশ্চয়ই করতে পারেন। উপদেশ বিতরন। কারো লেখা থেকে উপদেশ নিয়ে যদি ইচ্ছেমত বিতরন করেন সেই অপরাধে লেখক-প্রকাশক তেড়ে আসবেন না। বরং খুশিই হবেন। বক্তব্যের সুচনাও সেকারনেই।
আমরা উপদেশ পছন্দ করি। বলতে এবং শুনতে। আজকাল ঈশপ-বিশপের যুগ নেই। এমনকি বিদ্যাসাগর যে মনে করেছিলেন শিক্ষার শুরুতে হিতোপদেশ শিখাতে হয় সে চলও নেই। ওসব সেকেলে ধ্যানধারনা দিয়ে ডিজিটাল রাষ্ট্র চলে না। ডিজিটাল রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজন ডিজিটাল উপদেশ। এবং সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সে দায়িত্ব পালন করবেন বইকি!
তিনি বলেছেন আপনারা বিদ্যুত ব্যবহারে মিতব্যয়ী হোন। বিদ্যুত সাশ্রয় করুন। সরকার দুঘন্টা করে লোড সেডিংএর ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে, আপনারা বাকি দুঘন্টা নিশ্চিত করুন। ধৈর্য্য ধারন করুন। ধৈর্য্য মহত গুন। আপনারা মহত্বের পরিচয় দিন। দেশকে এগিয়ে নিন। চীনদেশে নাকি প্রতি ৩ দিনে একটা করে নতুন বিদ্যুতকেন্দ্র চালু করা হয়। আমরাও করছি। এইতো, সিলেটে বেসরকারীভাবে ভাড়া করা বিদ্যুতকেন্দ্র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এটা শুরু। এরপর হবে শতশত, হাজার হাজার, লাখে লাখে। ঘরেঘরে বিদ্যুতকেন্দ্র-
বিদ্যুত-পানি-গ্যাস ছাড়াও মানুষের প্রয়োজন অনেক। তারমধ্যে খবরের কাগজ একটি। সকলেই যে বিদ্যুতের অভাবে হাতপাখা বানানোর জন্য মোটা দেখে কাগজ কেনেন এমন তো-না। বরং সেটা যা খেয়ে মোটা হয়েছে সেখানেও দরকারী তথ্য থাকে। বাড়িভাড়া, মাসিক কিস্তিতে বাড়ি, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি, পাত্রি চাই, গ্রীষ্মকালীন অফার সবই ছাপা হয়। কাজেই এর মাধ্যমে বহু মানুষের কাছে পৌছানো যায় সহজেই। জনপ্রিয় সংবাদপত্রের সম্পাদকসাহেব বাকি দায়িত্বটুকু পালন করলেন সম্পাদকীয় লিখে।
সরকার সম্ভাব্য সবকিছু করছে। জনগনের উচিত ধৈর্য্য ধারন করা। সরকার সময় চেয়েছে এরচেয়ে যুক্তিসঙ্গত বক্তব্য হতেই পারে না। আর চারদলীয় সরকার দেশের বিদ্যুত-গ্যাস-পানি ধ্বংশ করে গেছে এরচেয়ে সত্য আর কি হতে পারে। আপনারা ধৈর্য্য ধারন করুন। অকারনে গোলযোগ করবেন না।
উপদেশের চেয়ে রায়ের সাথে মিল বেশি মনে হতে পারে। তথ্য-উপাত্ত-সাক্ষী-প্রমান বিশ্লেষন করে রায় ঘোষনা করা হইল,
কিন্তু সেটা ভুল। আসলে এটা উপদেশই। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পরামর্শও বলতে পারেন। কিংবা দেশের মংগলের জন্য আহ্বানও বলতে পারেন। সবাই সচেতন হোন। নিজেকে বদলান, সমাজ বদলান, দেশ বদলান।
খটকা একটুখানি। উপদেশ বিনামুল্যের এই যুক্তি বোধহয় পুরোপুরি টেকে না।

নিজের মান নিজে বাচান

Apr 2, 2010
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম খেতাব ছিল তলাবিহীন ঝুড়ি। সেই ঝুড়িতে তলা লাগানো হয়েছে কিনা বোঝা যায় যখন অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতা দেন। কোন দেশ কত সাহায্যের (!) প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কথাটা মাটিতে পড়ামাত্র মুহুর্মুহু টেবিল চাপড়ানি। এরচেয়ে বড় আয় আর হয় না। এরচেয়ে সহজে আয় হয় না। কোন ঝক্কি নেই। কোন ঝামেলা নেই। কেবল হাত পেতে নেয়া।
অন্যভাবে অর্থ নেয়ার ঝামেলা সেতুলনায় অনেক বেশি। জনগন অসন্তোষ প্রকাশ করে। জনসমর্থন হাতছাড়া হয়। আবার সরাসরি দলের বিপক্ষেও যায়।
ওই তো, শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলের মুখে যে লোড সেডিং, সেই লোড সেডিং ব্যবস্থায় সিষ্টেম লস কমানো যায়না। কারন তো একটাই। যার ঘরে ঘরে এসি তারকাছে বিদ্যুত বিল নেয়া যায় না। যারা বিল মওকুফ করার দায়িত্ব পালন করেন তাদেরও কিছু বলা যায় না। সকলেই নিজের দলের। অন্তত সমর্থক। খুটি না থাকলে ঘর টেকে কিভাবে ?
প্রাক্তন প্রয়াত অর্থমন্ত্রী ভ্যাট চালু করে কি সমালোচনার মুখেই না পড়েছিলেন। দেয়ালে দেয়ালে পোষ্টার ছাপা হল। সেখানে ভিক্ষুকের ছবি। এই ব্যবস্থায় তাকেও ট্যাক্স দিতে হয়। এখন অবশ্য সেদিন গত হয়েছে। বোঝা গেছে এই ব্যবস্থা আসলে টাকা ঘরে আসে। বরং যদি এর আওতা বাড়ানো যায় তাতেই মংগল।
তারপরও ভবিষ্যতের কথা মাথায় রাখতে হয়। পিপড়েও নাকি নিজের ঘরে খাবার ষ্টক করে। আর মানুষ ব্যাংকে ষ্টক করবে না কেন ?
ষ্টক করতে লাগে টাকা। আর আয়ের সবচেয়ে বড় পথ হচ্ছে জনগন। ১৬ কোটি মানুষ ১ টাকা করে দিলেও ১৬ কোটি টাকা। বাপরে! ১০০ টাকা করে দিলে !! হাজার করে দিলে !!!
অর্থমন্ত্রী বলেছেন তিনি দেশের সকল নাগরিককে করের আওতায় আনতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। অর্থের বড়ই প্রয়োজন। অর্থের অভাবে বিদ্যুত দেয়া যাচ্ছে না, গ্যাস দেয়া যাচ্ছে না, পানি দেয়া যাচ্ছে না, বৃষ্টি হচ্ছে না, গরম কমছে না ...
কাজেই, কথাটা আগেই শুনে রাখুন। একটু একটু করে অভ্যস্থ হোন। আমরা হঠা করে কিছু চাপিয়ে দিতে চাই না। জনগন দেশের চালিকা শক্তি। আপনারা ভোট দেন বলেই কেউ না কেউ ক্ষমতায় যায়, আপনার সমর্থন দেন বলেই ক্ষমতায় টিকে থাকে, আপনারা অর্থ যোগান দেন বলেই এক মন্ত্রী আধা ডজন গাড়ি ব্যবহার করে।
শোনেন নি, আমেরিকায় একবার দেশের মানুষ নিজে থেকে কর বাড়িয়েছিল। হল বিশ্বের ১ নম্বর দেশ। আমাদের দায়িত্ব তাদের অনুসরন করা। আপনারাও কর বাড়ান। দেশ সচল করুন।
কি বললেন ? ওরা সরকারী টাকাকে বলে জনগনের ট্যাক্সের টাকা ? টাকা জনগনের জন্য খরচ করে ? শিক্ষা, চিকিসা, কর্মসংস্থান, যাতায়াত সামাজিক সেবা এইসব ? আয় না থাকলে ভাতা দেয় ?
ওসব আমরাও করি। বরং আরো দক্ষতার সাথে করি। জানেন না সরকারী সেবার চেয়ে বেসরকারী সেবার মান ভাল। প্রতিযোগিতামুলক। সেজন্যই তো স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি-হাসপাতাল-ক্লিনিক সব বেসরকারী খাতে দেয়া হয়েছে। চাইলে বেসরকারী পুলিশও পাবেন। ওদের কাছে যান, ওরা খুব ভাল সেবা দেয়।
আপনাদের হাতে সুযোগ রয়েছে সেই তলাবিহীন ঝুড়িতে তলা লাগানোর। দলেদলে এগিয়ে আসুন। ঝুড়িতে তলা লাগান। এভাবে বারবার অণ্যের কাছে হাত পাতলে ওরা বিরক্ত হয়, দেশের মান থাকে না। আপনাদেরও মান থাকে না।
নিজের মান নিজে বাচান। বেশি করে ট্যাক্স দিন।

রাজনীতির উপহার

Apr 1, 2010
পত্রিবার খবর, এই দুটি শব্দই মুখ ঘুরিয়ে নেয়ার জন্য যথেষ্ট। বলে দেয়া প্রয়োজন নেই সেখানে কি থাকতে পারে। খুন, চাদাবাজি, দখলদারী আর সরকারী বক্তব্য, বিরোধীদলের বিবৃতি। দুভাগে ভাগ করলে একদিকে মানুষের দুর্ভোগ আরেকদিকে কৃতিত্বের বর্ননা। দুইই বাড়ছে সমানতালে।
কথা বলবে কে ? আর বললে শুনবে কে ? সৃষ্টিকর্তা কান দিয়েছেন দুটি, চোখ দিয়েছেন দুটি, আর মুখ দিয়েছেন একটি। হয়ত ইঙ্গিতে বলেছেন তোমরা বেশি দেখ, বেশি শোন, কম কথা বল। ফল হয়েছে উল্টো। চোখ-কান মুলত বন্ধই থাকে। অন্যভাবে বললে আমরা তাকাই, দেখিনা। বাংলায় শোনার বিষয়ে এমন অর্থবোধক শব্দ আমার জানা নেই। ইংরেজিতে আছে জানি। যার অর্থ দাড়ায় শব্দ কানে প্রবেশ করে, অর্থ বুঝি না।
যাক সেকথা। বরং মুখের ব্যবহার নিয়ে কথা বলা যায়। পক্ষে-বিপক্ষে, দুপক্ষে, কোনপক্ষ না নিয়ে কথা বলতে কোন আপত্তি নেই। যা মুখে আসে বলে যান। সকালে এক বিকেলে আরেক, তাতেও কিছু যায় আসে না। সবই ছাপা হবে খবরের কাগজে। শুধু বিজ্ঞাপন ছাপলে পত্রিকা বলা যায় না। কাজেই খবর ছাপতে হয়। সেকারনেই, কে কি বলেছে সেটা সংগ্রহ করতে হয়। তারপর যাচাই-বাছাই, বহুরকম হিসেব-কিতেব, তারপর ছাপা। কোন কথা ছাপলে আবার কে বিরাগভাজন হয় তারতো ঠিক নেই। রাজনৈতিক মামলা হতে পারে, মানহানির মামলা হতে পারে, বিজ্ঞাপন বাদ পরতে পারে, এমনকি রাস্তাঘাটে গনপিটুনিও জুটতে পারে। হিসেব করে ছাপাই ভাল।
ফল, একই খবর দুকাগজে দুরকম। এক খবরে মনে হবে অমুক পক্ষকে ভেজাবেড়াল পেয়ে তমুক পক্ষ যাচ্ছেতাই করেছে। আরেক কাগজে পাবেন তমুকপক্ষের কুকীর্তি থামাতে অমুক পক্ষ সমাজ রক্ষার দায়িত্ব পালন করেছে। ঘটনা এক, দৃষ্টি দুই। হায়রে, দুই চোখের এটাই বিপদ।
যারা মধ্যপন্থি কিংবা সর্বপন্থি তারা দুখবরই রাখেন, দুটোই বিশ্বাস করেন, দুপক্ষেই সায় দেন। পুলিশ ধরে দায়িত্বপালন করেছে, ছেড়ে দিয়ে আরো বড় দায়িত্ব পালন করেছে। দুটোই ঠিক। মাঝখানে লাভ একটাই, পুলিশ নামের নির্জিব বস্তুকে ভয় পাবার কিছু নেই। নিতান্তই কিছু টাকাপয়সা কিংবা মানী দুচারজনের সাথে যোগাযোগ রাখাই যথেষ্ট। যাদের নাম শুনলে পুলিশের পা কাপে। আদালত নামের বিল্ডিংকেও ভয় পাবার কারন নেই। কেউ কেউ বলে ওখানকার দেয়ালের ইটগুলোও ঘুষের জন্য হাত পেতে থাকে।
কাজেই, ফরচুন ফেভারস দ্য ব্রেভ। সাহসী হও। ভাগ্য তোমার সাথে। জোর যার সবই তার। শুধু টাকাপয়সা, টেন্ডার, জমি, বাড়ি, খালবিল এসব নির্জিব বস্তু কেন, অমুক মেয়েকে আমার পছন্দ, তাকেও আমার চাই। বাধা দেবে কোন বাপের ব্যাটা। খুন কইরা ফালামু না।
যদি ভেবে থাকেন এবিষয়ে পুরুষ সমাজ কিংবা ছেলেরা এগিয়ে তাহলে ভুল করবেন। কুরুচিপুর্ন প্রেম সম্পর্কে শতর্ক করা ছাত্রীর হাতে শিক্ষক খুন, এমনটাও ঘটে। পত্রিকা বলছে।
একসময় এসব খবরের জন্য মানুষ হুমড়ি খেয়ে কাগজ কিনত। আজকাল এসব খবরে কেউ অবাক হয় না। পত্রিকা কাটতি বাড়ে না। এমনকি ধারাবাহিকভাবে লিখলেও নিতান্তই মফস্বলের গেয়ো লোকেরাই কিছুটা আগ্রহ দেখায়। বরং এরচেয়ে তারা আগ্রহ দেখায় এমন কিছু লেখা ভাল। খবরের কাগজের সাথে ফাও হিসেবে রঙিন মিনি পত্রিকা। কোন সময়ে কোন ফ্যাসন, নিজেকে আকর্ষনীয় করে তুলে ধরার পদ্ধতি, নতুন প্রেমিক প্রেমিকার টিপস, মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেট চ্যাটিং এর কলাকৌশল, দেশেই বিদেশী ক্যারিয়ান গঠন, ... 
হঠাত করে একদিনে বটগাছ গজায়নি। দিনেদিনে একটু একটু করেই গজিয়েছে। প্রতিদিনই তারা দেখে এসেছে, শুনে এসেছে, পড়ে এসেছে সব ধরনের সাফল্যের কথা। কম সময়ে কোটিপতি হওয়ার কথা। অর্থপ্রাপ্তিই বড় কথা। আনন্দলাভই জীবন। অপরাধ করে, দুনীতি করে কোটিপতি হয়ে কেউ শাস্তি পেয়েছে একথা একবারও শোনা যায়নি। ধরা পরেছে এমন কথাও না। কাজেই আমি করলে দোষ কোথায়। আমাকে ধরবে কে ? হলিউডের ছবি দেখি না! হিটম্যান গেম খেলি না!
বাংলাদেশের পুলিশ, ওরা তো ফুটপাতের দোকান থেকে ৫ টাকা করে চাদা উঠায়।
এটাই মুল কথা। সারাদেশে এত অপরাধ হচ্ছে আর আমি একটাকিছু করতে পারব না। শিক্ষাপ্রতিস্ঠান নাকি ছাত্রী পাঠায় নেতাকে খুশী করতে। তাও আবার দেশসেরা শিক্ষাপ্রতিস্ঠান। আমি কম কিসে ? আমার কি অধিকার নেই ?
সমাজের জন্য আমাদের রাজনীতির সবচেয়ে বড় উপহার এটাই। নিয়মকানুন-আইন-পুলিশ মানার প্রয়োজন নেই। ক্ষমতা লাভ কর। ক্ষমতা ব্যবহার কর। এটাই জীবন। জীবন উপভোগ কর।
 

Browse