টেনশন On Way To Success

Sep 12, 2009

সকালে পুবদিকে সুযোর্দয় হয় সন্ধ্যায় পশ্চিমে অস্ত যায় একথা চীনের মানুষ বিশ্বাস করে তারা নাকি নিজের কফিন নিজের হাতে তৈরী করে তারপর অপেক্ষা করে সেটা ব্যবহারের তার ওপর বসে চা খায়, গল্প গুজব করে অপেক্ষা করতে করতে একসময় সেটা নষ্ট হয়, ভেঙে যায় তখন আরেকটা তৈরী করে তারপর আরেকটা কোন কোন ব্যক্তির চার-পাচবার কফিন তৈরীর ঘটনার কথাও জানা যায় তারপর কোন এক সময় সেটা কাজে লাগে যত দেরীই হোক, সে জানে একদিন সেটা কাজে লাগবে

চীনারা বেশিদিন বাচে বিশ্বের শতবর্ষী যত মানুষ বর্তমান তাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চীনে নিজের কফির তৈরী করে অপেক্ষা করা আর বেশিদিন বাঁচা এই দুইয়ের মধ্যে কোন সম্পর্ক আছে কিনা বিশ্লেষক হয়ত বের করার চেষ্টা করতে পারেন তবে ধারনা করা যায় সম্পর্ক থাকা অস্বাভাবিক না অন্তত ডাক্তাররা যখন টেনশন নামক বস্তুর সাথে স্বাস্থের ভালমন্দর সম্পর্ক আবিস্কার করেছেন তখন তো কোনমতেই না

পদার্থবিদ্যায় টেনশন বিষয়টি খুব কাজের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পদার্থ এরই কারনে ভাঙার হাত থেকে রক্ষা পায় যার টেনশন কম সে কাচের মত ভেঙে যায়, যার টেনশন বেশি সে টিকে থাকে ট্যাপ খেয়ে গেলে, বেঁকেটেরে গেলেও ভাঙে না তেমনই টেনশনে মানুষ ট্যাপ খেয়ে যায়, বেঁকেটেরে যায় তারপরও টিকে থাকে

আইটি সেক্টরের উন্নতি ঘটিয়ে দশ বছরে দেশের মানুষের আয় দ্বিগুন হওয়া সম্ভব, বলা হয়েছিল দশ বছর আগে যিনি বলেছিলেন তিনি এখনও বর্তমান এবং তার আয় দ্বিগুন হয়নি শুধু, বহুগুন হয়েছে তিনি যদি সেকথাই বুঝিয়ে থাকেন তাহলে শতভাগ সত্য বলেছেন তবে বলার সময় যে সাধারন মানুষ উল্লেখ করেছেন সেই সাধারন মানুষ তিনি নিজে নন যারা সাধারন মানুষ তারা সাধারন মানুষই থেকে গেছে আগের সরকার যেভাবে দেশের সর্বনাশ করে, জনগনের অভাব বাড়ায়, ছিন্নমুলের সংখ্যা বাড়ায় সেই ঐতিহ্য ঠিক রেখে আগের সরকারগুলি কাজ করে গেছে এরশাদ সরকার, হাসিনা সরকার, খালেদা সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, জরুরী সরকার, সকলেই মানুষের টেনশন বাড়িয়ে গেছে মানুষ বেঁকে যায়, নেতিয়ে যায়, ভাঙে না সোজা হয়ে দাড়ায় না লতার মত কোন অবলম্বন আকড়ে ঝুলে থাকে একসময় সেটাই সম্বল হয়ে দাড়ায় যারা খুটি হিসেবে থাকার তাদের অবস্থান আরো পাকাপোক্ত হয় অন্যদের অবলম্বন পাকাপোক্ত করে গার্মেন্টস সেক্টর বহু লক্ষ মানুষের অবলম্বন কাজেই সেখানে কিছু করা যাবে না। রাজপথ-ফুটপাত বহু মানুষের কর্মসংস্থানের যায়গা সেখানে হিছু করা যাবে না, লক্ষ লক্ষ মানুষ রিক্সা চালিয়ে জীবনযাপন করছে, তার বিপল্প খোজা যাবে না। এগুলি খুটি।

আইটি সেক্টরের উন্নতি, অন্তত দুদশক ধরে হচ্ছে মিলিয়ন, বিলিয়ন ডলার উচ্চারন করা হচ্ছে এই খাতে বরাদ্দ কত তাও সগৌরবে প্রচার করা হচ্ছে তারপর সেই বরাদ্দ কার পাতে যায়, ফল কি হয় সে প্রশ্ন কেউ করে না একাই ডজনখানেক হার্ডওয়ারের ডিলার হলে দেশের আইটি খাতের উন্নতিতে ভুমিকা রাখা হয় বৈকি নইলে মানুষ কম্পিউটার কি চোখেই দেখত না স্কুল খুলেও আইটি খাতের উন্নতি করা যায় ওয়াইম্যাক্স কিভাবে ব্যবহার করতে হবে শেখানোর স্কুল চালু হয়, আর মানুষ টাকা খরচ করতে সেদিকে দৌড় দেয় ওয়াইম্যাক্স চালু হলে ডাউনলোড তো করতে হবে

বলছিলাম টেনশনের কথা টেনশন সবার মধ্যেই বিদ্যমান সিডি-ডিভিডি কপি করে আইটি সেক্টরে টিকে আছে যারা তাদের মধ্যে যেমন, কোটি কোটি সিডি-ডিভিডি আমদামী যারা করছে তাদের মধ্যেও তেমন, আইটি সেক্টরের উন্নতির জন্য যাদেরকে নতুন নতুন তথ্য খোজ করতে হচ্ছে তাদের মধ্যেও তেমন, সস্তায় মানুষের হাতে কম্পিউটার তুলে দিচ্ছে যারা তাদের মধ্যে তেমন, যে অভিভাবক সন্তানের হাতে কম্পিউটার আর গেমের সিডি তুলে দিচ্ছেন তার মধ্যেও তেমন, আবার সেই কম্পিউটারে যে ব্যবহার করছে তার মধ্যেও তেমন টেনশনের কমতি নেই

টেনশন অন্তত ভাঙার হাত থেকে রক্ষা করছে সবাইকে

যুক্তি-তক্কো-গপ্পো free the speech

Sep 9, 2009

সমরেশ মজুমদার তার গল্পে বাংলাদেশে ভারতীয় সন্ত্রাসীদের ঘাটির কথা উল্লেখ করেছেন সেই কারনে তাকে বাংলাদেশে ভিসা দেয়া হয়নি বলে দুঃখ করেছেন। দুঃখ পাবারই কথা। তিনি লিখলেন গল্প আর সরকার ধরে নিল তিনি সরকারের ভাবমুর্তি নষ্ট করছেন। সরকার এদেরকে প্রশ্রয় দিচ্ছে একথা প্রচার করছেন।

বিষয়টি কতটুকু অস্বাভাবিক এদেশে ? বিজেপি নেতা জিন্নাহর কথা লিখে দলের শত্রুতে পরিনত হলেন। এটেনবরো যখন গান্ধী ছবির জন্য পুরস্কার পেলেন তখন কথা উঠেছিল পাকিস্তানে। তিনি জিন্নাহকে ছোট করে দেখিয়েছেন। আবারো প্রশ্নটা করতে হচ্ছে। বিষয়টা কতটুকু অস্বাভাবিক এই উপমহাদেশে ?

এদেশ আমেরিকা না। এখানে কেউ এ্যাবসলিউট পাওয়ারের মত উপন্যাস লিখতে যাচ্ছে না। ক্লিন্ট ইষ্টউডের মত কেউ সেটা নিয়ে ছবি বানাতে যাচ্ছে না। জানে এইডসে নিশ্চিত মৃত্যু নাও হতে পারে, এর পরিনাম নিশ্চিত মৃত্যু। আমেরিকার সমালোচনায় সারা বিশ্ব (এই উপমহাদেশসহ) যত সোচ্চারই হোক, তাদের পক্ষে সম্ভব ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা বুশ সরকার এবং সিআইএর সাজানো একথা টিভিতে প্রচার করা। যুক্তি-প্রমান দিয়ে দেখানো সেখানে আদৌ বিমান হামলা হয়নি, যা হামলা করেছে তা হচ্ছে মিসাইল। রাসায়নিক কারন দেখিয়ে বলা হচ্ছে, যে কারনে টুইন টাওয়ার ওভাবে ধ্বসে পরেছে তা সম্ভব কন্ট্রোলড এক্সপ্লোশনের ফলে। এমনকি এত হৈচৈ করে যে চন্দ্র অভিযানের কথা নতুনভাবে প্রচার করা হল তার বিপক্ষে যুক্তি দেখানো এখনও শেষ হয়নি। এর শ্যুটিং হয়েছে এরিয়া ফিফটি ওয়ানে, তথ্য গোপন করার জন্য কয়েকজন নভোচারীকে মেরে ফেলা হয়েছে, তাকে দুর্ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে এসব কথা তারা দর্শকদের দেখিয়েই চলেছে।

এর পরও তাদের বিরুদ্ধে দেশের, সরকারের, গোয়েন্দা বিভাগের কিংবা অন্য কারো মর্য্যাদাহানির অভিযোগ আনা হয়নি। তারা তাদের মত প্রকাশ করবেন, প্রয়োজনে সরকার তার যুক্তি দেখাবে, বিষয়টি সীমাবদ্ধ এর মধ্যেই। সাধারন মানুষ কোন যুক্তি গ্রহন করবে সেটা তাদের বিষয়। সাংবাদিকের কাজ সংবাদ পরিবেশন করা। বিশ্লেষকের কাজ বিশ্লেষন করা। সমালোচকের কাজ সমালোচনা করা।

এই উপমহাদেশে মানুষ এত বোকা না। তারা জানে কোন গাছে কোন ফল ধরে। যে দেবতা যে ফুলে তুষ্ট তারজন্য তো সেটাই। আগেই যখন উদাহরন দেখানো হয়েছে তখন নতুনভাবে সেকাজ না করেও বলা যায়, ফল কি ফলবে সেটা জেনেই ঠিক করা হয় কি লেখা হবে, কি লেখা হবে না। কি বলা যাবে, কি বলা যাবে না। বললে কি হবে, না বললে কি হবে।

একজন সাংবাদিক সেজন্যই তক্কে তক্কে থাকেন, অমুক কথা বললে সরকার ব্যাজার হবে, পিছনে পুলিশ লাগবে। তমুক কথা লিখলে নেতার মান যাবে, তার সাঙ্গপাঙ্গ ঠ্যাং ভেংঙে দেবে। সমুক কথা লিখলে কোম্পানীর বদনাম হবে, তারা বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেবে।

কি প্রয়োজন এত ঝামেলায়। তারচেয়ে যদি বলা যায়, স্যার অমুক খবরটা আমরা প্রচার করছি না। আপনার দিক আমরা দেখছি, আমার দিকটা দেখবেন।

কিংবা যদি বলা যায়, অমুক খবরটা রেডি। তাড়াতাড়ি কন্ট্যাক্ট করেন, নইলে দিমু ছাপায়া।

লাভ দুদিকেই।

ভুয়া পুলিশ, ভুয়া মিলিটারী হয়ত অনেক দেশে পাওয়া যাবে। ইউনিফর্ম থাকলে সুবিধে পাওয়া যায় কাজেই ভুয়া হতে ক্ষতি কি ?

ভুয়া সাংবাদিকের দেখা অন্য সমাজে পাওয়া সত্যিই কঠিন।

ক্রিয়া, প্রতিক্রিয়া এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - Rule of everything

Sep 8, 2009

প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান এবং বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে গতিবিদ্যায় নিউটনের সুত্র এই সুত্র মেনেই নাকি রকেট মহাকাশে যায়

রকেট কিভাবে যায় দেখার অভিজ্ঞতা খুব কম মানুষেরই থাকে তবে নৌকা দেখার অভিজ্ঞতা কমবেশি সবার আছে ধরে নেয়া যায় মাঝি নৌকা যেদিকে নিতে চায় তার বিপরীত দিকে লগি দিয়ে খোচা দেয় ভুলেও কখনো যেদিকে যাবে সেদিকে খোচা দেয় না সেই খোচায় নৌকা চলে আরো নির্দিষ্ট করে বললে নৌকা ক্রিয়ায় চলে না, চলে প্রতিক্রিয়ায়

প্রতিক্রিয়াশীল, শব্দটা একসময় সমাজতন্ত্রীদের খুব প্রিয় ছিল শব্দটার ব্যাখ্যা তারাই ভাল দিতে পারবেন অনুমান করা যায় কোন ক্রিয়ার ফলে যারা প্রতিক্রিয়া দেখান তারাই প্রতিক্রিয়াশীল যতদুর মনে পড়ে প্রতিক্রিয়াশীলদের ক্ষতিকর কিছু বলেই মনে করা হত বলা হত এরাই নাকি পরিবর্তনে বাধা সৃষ্টি করে যে বিপ্লব তারা করতে যাচ্ছেন তাতে বাধা সৃষ্টি করে তাদের এত ভাল ভাল কথার বিপরীত যুক্তি তুলে ধরে। বিপরীত দলে যোগ দেয়। পাবলিক বুঝতেই চায় না পাবলিক কি জিনিষ। এই প্রতিক্রিয়াশীলদের কারনে বিপ্লব সম্ভব হয় না।

যদিও নৌকার উদাহরন তাদের যুক্তি সমর্থন করে না এমনকি নিউটনের সুত্র যদি ঠিক হয় (এখন পর্যন্ত কেউ বেঠিক দাবী করেনি) তাহলে ক্রিয়া থাকলে একেবারে সমান সমান বিপরীত প্রতিক্রিয়া তৈরী হবে এটাই সত্য যারা প্রতিক্রিয়াশীল তাদের প্রতিক্রিয়াশীলই হওয়ার কথা। সবকিছু পদার্থবিদ্যার এবং বাস্তবতার নিয়ম মেনেই চলছে। ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া এই নিয়েই সবকিছু চলছে ঠিকমতই। তবে-

আরেকটি শব্দের কথা সম্ভবত নিউটন ভুলে উল্লেখ করেননি। ডাক্তাররা শব্দটি ব্যবহার করেন। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। অমুক ওষুধ খেলে আপনার অসুখ ভাল হবে তবে বিনিময়ে আপনি তমুক রোগ লাভ করবেন, একে বলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। কিংবা অন্যভাবে বললে, অমুক রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করবেন বিনিময়ে বিষয় আশয়, স্থাবর-অস্থাবর যাকিছু আছে হারাবেন এটাই বলতে পারেন। অবশ্য এটা একেবারেই ডাক্তারী মতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এটাই। যদি বলা হয় আপনি মামলায় জিতবেন, জমির মালিকত্ব পাবেন কিন্তু মামলার খরচ মেটাতে জমি বিক্রি করতে হবে এটা মামলার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তাহলে তাকে ডাক্তারী মতে বলা যায় না। কিংবা আপনি নেতা হলেন, সীমাহিন অর্থ এবং ক্ষমতার মালিক হলেন, আপনার পেছনে হাজার সমর্থক তৈরী হল এবং এই ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া হিসেবে হাজার বিরোধী তৈরী হল তখনও আপনি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ামুক্ত নন। হঠাৎই দেখলেন আপনার মুখ থেকে বেরিয়ে গেল, ব্যাটা কয় টাকা কামায় ? খোজ ল-তো। আমার মুখের ওপর কথা কয়।

এটা অর্থের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া।

কিংবা বলে ফেললেন, দুচারটা খুন করলে কিছু যায় আসে না। দেখ তো ব্যাটায় কেডা ?

এটা ক্ষমতার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া।

ক্রিয়া, প্রতিক্রিয়া এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এই নিয়েই চলছে সমাজ। প্রয়োজন নতুন সুত্রের যেখানে এই তিনের সমম্বয় করা যায়।

করতে হবে – গড়তে হবে Question never asked

Sep 5, 2009

একথা শুনে আমরা সবাই অভ্যস্থ। যার বয়স যত বেশি তার অভিজ্ঞতাও তত বেশি। করতে হবে গড়তে হবে। সোনার বাংলা গড়তে হবে। সুখি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে হবে। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হবে। দারিদ্র বিমোচন করতে হবে। উন্নয়ন করতে হবে। মৌলিক চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে।

নেতা বলেন আমরা শুনি। কখনো কখনো প্রতিধ্বনি করি, করতে হবে গড়তে হবে।

এই প্রতিধ্বনি করা লাভজনক। নেতার কাছাকাছি যাওয়া যায়। নেতাকে আস্বস্ত করা যায়। ফলস্বরুপ দক্ষিনা পাওয়া যায়। সেটাই পাওয়া। এজগতে পাওয়ার চেয়ে বড় কি আছে।

একসময় বামপন্থীরা বলতেন, এ সমাজ জীর্ন সমাজ, এ সমাজ ভাঙতে হবে। যারা সমবেত হতেন তারাও প্রতিধ্বনি করতেন, ভাঙতে হবে। হাত তুলে শুণ্যে ঘুসি মারতেন। নিশ্চয়ই সেই ঘুসি খেয়ে শুন্য থেকে কেউ নেমে এসে ভাঙার কাজ করে দেবে। তারা নিজেরা যখন ভাঙার জন্য হাত লাগাতেন না তখন সেটাই একমাত্র ভরসা।

তারপর ঘুসাঘুসি শেষ করে একসময় যারযার ঘরে ফিরতেন।

তাদের সেই ভরসায় চিড় ধরেছে। দেখা গেছে ওসব শুন্যে ঘুসাঘুসিতে কাজ হয়নি। এক নেতার বক্তৃতা নিজ কাণে শোনা, 'শিক্ষা বাচাও - জাতি বাচাও' একথা বলিলেই কি শিক্ষা বাচিবে ? একথা বলিলেই কি জাতি বাচিবে ?

তিনি নিশ্চয়ই এখন আর ওকথা বলেন না। বুঝেছেন তাতে লাভ নেই। বরং যারা অন্যপথে চলেছে, অন্যকথা বলেছে তারাই ভাল আছে। কাজেই তাদের পথ অনুসরন করাই ভাল। অমুকের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে একথা বলে যদি রাজপথে গাড়িতে আগুন দেয়া যায় তাতে ফল ফলে। একসময় সে বিদায় হয়। তখন সুযোগ বুঝে একটা অবস্থান বেছে নেয়া যায়।

কাজেই, জীর্ন সমাজ, ঘুনে ধরা সমাজ এসব কথায় কিছু নেই। যা আছে তা আছে। বরং কি করতে হবে, কি গড়তে হবে সেকথায় যাই।

ছোটবেলায় দেখা এক ব্যক্তি কথা মনে পড়ছে। তাকে দেখলেই ছোটরা দৌড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করত, কোথায় যান ?

তার উত্তর, দেশ গড়তে।

কি দিয়ে ?

কাদা দিয়ে।

তখন সেই বয়সে তার বক্তব্য নিতান্ত রসিকতা বলেই মনে হত। কিংবা হয়ত আসলেই তাই। এর পেছনে তার কোন বিশেষ চিন্তা কাজ করেনি। তবে একটা কথা তা থেকে স্পষ্ট, কিছু গড়তে হলে উপকরন প্রয়োজন। কাদা হোক আর যাই হোক। কাজ করার আগেই কি কাজ সেটা নির্দিষ্ট করা প্রয়োজন। কিভাবে কতদিনে করা হবে সেটা জানা প্রয়োজন। তারপর কাজে হাত লাগানো প্রয়োজন।

যারা দেশ গড়ার মহান দায়িত্ব কাধে নিয়েছেন, তাদের কাছে আমার বক্তব্য তেমনই সরল। কর্ম ছাড়া কর্মফল পাওয়া যায় না। আপনার বলছেন করতে হবে, গড়তে হবে। সেকাজে আপনার ভুমিকা কি সেটা জানান। আমার ভুমিকা কি সেটা বলে দিন। কাদার মুর্তি গড়ার সময় যেমন উপকরন থেকে শুরু করে নকসা দিয়ে বলে দিতে হয় কোন সময়ে কোন কাজ কতটুকু করতে হবে, সেভাবেই নকসা করে দিন।

সেই নকসা অনুযায়ী আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করে দেখান। আমার দায়িত্ব আমি অবশ্যই পালন করব।

তাকে জাগানো যায় না Those Forbidden Words

Sep 3, 2009

বাংলাদেশের পুলিশ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে। জনগনের জান এবং মাল রক্ষা করে। কোনরকম হুমকির সম্ভাবনা দেখলে তাতে বাধা দেয়। সেজন্য কখনো কখনো মৃদু লাঠিচার্জও করতে হয়। তাতে কোন কোন হামলাকারী সন্ত্রাসী আহত হয়। ফাকা গুলি ছুড়লে ক্রশফায়ারে দুচারজন মারাও যায়।

তবে তাদের দায়িত্বপালন নিয়ে, কর্তব্যপরায়নতা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। তারা কতটা অনুগত সে বিষয়েও প্রশ্ন নেই। অন্য যে কোন দেশের চেয়ে বেশি। তারা খুব দ্রুত বুঝে যায় মনিব কে, মনিব কি চায়। সাথেসাথে তার প্রতিক্রিয়া দেখায়। যদি কোন কারনে মনিব বদল হয় তারা বদল হয় তারচেয়েও দ্রুত। বুঝে যায় রক্ষা করতে হবে মনিবকে। তবেই না মনিব তাদের পক্ষে দাড়াবে। একে অন্যকে রক্ষা করবে।

লোকে বলে বিশ্বে সবচেয়ে উপকারী পুলিশ হচ্ছে ববি। তাদের কাছে সাহায্যের জন্য গেলে প্রয়োজনে নিজের পকেটের পয়সাও খরচ করে। নিজের জীবনের ঝুকিও নেয়। তারপরও, কখনো সখনো ব্যতিক্রমি ঘটনা ঘটে। একবার একজন অভিযোগ করল তাদেরই একজন তারসাথে খারাপ ভাষায় কথা বলেছে। ব্যাখ্যা দিতে হল পুলিশ প্রধানকেও (তিনি নাকি প্রধানমন্ত্রীরও সমালোচনা করতে ছাড়েন না)। তিনি বললেন তাদের আচার ব্যবহারে উন্নতি করার প্রয়োজন রয়েছে।

এসব আসলে অবান্তর কথা। বাংলাদেশে খাটে না। বাংলাদেশের পুলিশ কখনো দুর্ব্যাবহার করে না। যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুতুই করে। করতে বাধ্য হয়। শোনা কথা, পুলিশ একাডেমিতে অন্য সবকিছু শেখানোর পাশাপাশি তাদেরকে নাকি গাছের সামনে দাড়িয়ে গালাগালির অনুশীলন করতে হয়। সেই পরীক্ষায় পাশ করতে হয়।

আবারও বলছি শোনা কথা। কারন সারদায় কি হয় নিজের চোখে দেখিনি। আর পথেঘাটে পুলিশ যে ভাষা ব্যবহার করে তা প্রতিনিয়ত শুনি।

কাজেই এই দায়িত্বশীল পুলিশ দায়িত্ব পালন করতে এতে অবাক হওয়ার কি আছে। প্রতিপক্ষ নেতারা যখন কোমড় ভেংঙে পরে রয়েছে, রাজপথে দাড়ানোর সামর্থ্য নেই তখন পেশিগুলো তো ঠিক রাখতে হবে। আড়াই বছর ধরে দেশে হরতাল নেই এটা কি মেনে নেয়া যায়। অভ্যাস একেবারে বদভ্যাসে পরিনত হবে যে!

কাজেই-

রাজপথে যাকে পাওয়া যায় তাকেই প্রতিপক্ষ ধরে নেয়া। এবং আচরন ঠিক রাখা। অনুশীলন করা।

কেউ কেউ বলে প্রফেসর আনু মুহাম্মদ নাকি দেশের সবচেয়ে প্রতিভাবান অর্থনীতিবিদ। ধুরো-, এত প্রতিভা থাকলে এতদিনে মন্ত্রী হত না! অন্তত মন্ত্রীর আসেপাশে তো চেহারা দেখা যেত। কোটিপতি হত না! দেশবিদেশে ঘুরত না! টিভির সামনে চকচকে চেহারা দেখা যেত না!

কিছুই তো হয়নি। পথে নেমে চিল্লাচিল্লি করছে। যার যোগ্যতা আছে সে এসব করে না। কই তার কথা কোন সংবাদ মাধ্যম তো প্রচার করেনি। দেশের গ্যাস নাকি পুরোটাই বিক্রি করে দিচ্ছে। কজন সেখবর পেয়েছে জিজ্ঞেস করুন তো ? কাগজে ছেপে নাকি বিলিও করেছে। কজন পড়েছে খোজ নিন তো! বড়জোর বিনে পয়সায় একটুকরো কাগজ পেয়ে ইয়ে পরিস্কার করেছে। এসব কথায় কাম কি ? এতকিছু বোঝেন আর এইডা বোঝেন না, ব্যাংকে গ্যাস রাখা যায় না। ট্যাকা রাখতে হয়। যত পারেন কামায়া ব্যাংকে জমা করেন। ট্যাকার চেয়ে বড় শক্তি নাই।

আর সংবাদ মাধ্যমের কথা কন ? এসব ফালতু বিষয় নিয়া কথা কওয়ার সময় আছে টিভির ? দেখানোর মত কতকিছু জমা পরছে। বিটিভিতে ঈদের নাটক জমা পরছে ৯৮। অন্য চ্যানেলেও ওই অবস্থা। এইসব বাদ দিয়ে ফালতু কথা কইলে লোকে শুনবো ? ঘরে বইসা আয়েস কইরা একটু টিভি দেখব সেইখানেও প্যাচাল -

আসলে লোকটা একেবারে গাধা। জানে এসব করে টাকাপয়সা পাবে না, সামনের ইলেকশনে ভোট পাবে না, তারপরও পথে নেমেছে। দেশের পনের কোটি মানুষের ভবিষ্যত নাকি তিনি টের পেয়েছেন। তারা অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে দেখে নিজেকে ঘরে আটকে রাখতে পারেননি। ভেবেছেন পথে নামলেই লোকে তার পক্ষ নেবে। পাচ বছর পর, দশ বছর পর দেশ কিভাবে চলবে তা নিয়ে মাথা ঘামাবে।

লোকটা বোঝেনি যে জেগে ঘুমায় তাকে জাগানো যায় না।

আমি ঠিক - সব ঠিক I’m OK, You’re OK

Sep 2, 2009

এক বনে লম্বোদর এব দীর্ঘকর্ণ নামে দুই শেয়াল বাস করত। তাদের মধ্যে খুব মিল। কখনো ঝগড়াঝাটি, মারামারি, গালাগালি, খোচাখুচি, গুতোগুতি নেই। একেবারে বৈচিত্রহীন বিরক্তিকর জীবন। একদিন লম্বোদরকে বাধ্য হয়ে দীর্ঘকর্ণকে বলতে হল, ভাই ধীর্ঘকর্ণ। মানুষের সমাজে মানুষ অবিরাম একে অন্যের সাথে গুতোগুতি করে, ল্যাং মারে, গালাগালি করে, মারামারি-খুনাখুনি পর্যন্ত করে। আমরা কখনো তার স্বাদ পেলাম না। এসো দুজনে ঝগড়া করি।

দীর্ঘকর্ণ বলল, ঠিক আছে।

লম্বোদর বলল, চল তাহলে খুজে বের করি কি নিয়ে ঝগড়া করা যায়।

দুজনে হাটতে হাটতে একটা পাথরের কাছে উপস্থিত হল। লম্বোদর বলল, আমরা এই পাথর নিয়ে ঝগড়া করব। আমি বলব এই পাথর আমার, তুমি বলবে তোমার। বেশ ঝগড়া হবে।

দীর্ঘকর্ণ বলল, ঠিক আছে।

লম্বোদর গলার স্বর উচু করে বলল, এই পাথর আমার।

দীর্ঘকর্ণ বলল, ঠিক আছে।

লম্বোদর বলল, ভাই তোমার সাথে ঝগড়া করার সাধ্য কারো নেই।

একেবারে সহজ সরল উপদেশ। যে যা বলে উত্তরে বলবেন ঠিক আছে। আপনার সাথে ঝগড়া করবে কে ? সাধ্য কার ? মোহনদাস গান্ধী কখনো কাউকে আঘাত করেননি। সর্বতোভাবে বাধা দিয়েছেন। একটা বাড়ি দিলে আরো পিঠ পেতে দিয়েছে আরো বাড়ি দেবার সুযোগ করে দিতে। তবে তিনি নিজের দাবি আদায়ে ঠিক ছিলেন। আমাকে মেরে ফেললে ফেলতে পারো, আমি আমার দাবী ছাড়ব না। সেকারনেই মারামারি, খুনাখুনি দেখতে হয়েছে তাকে। আপনি সেটাও করবেন না। দীর্ঘকর্ণের মত শুধুই বলবেন, ঠিক আছে। ব্যস, সব সমস্যা সমাধান।

অন্য কিছু করবেন না। অন্য কিছু ভাববেন না। যদি ভাবতে শুরু করেন অমুকে গালাগালি করেছে সে খারাপ তাহলে আপনি আদর্শচ্যুত হলেন। তমুকে ঠকিয়েছে কাজেই সে খারাপ একথা ভাবলে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকে অবজ্ঞা করা হয়। সকলকে একই ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন। কখনো ভুলেও কাউকে অবজ্ঞা করবেন না। সবকিছু ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখবেন।

যিশু উত্তর দিলেন, তাকে ক্ষমা করে দিন। প্রশ্ন করা হল, যদি আবারও অপরাধ করে তাহলে। যিশু বললেন, আবারও ক্ষমা করবেন। প্রশ্ন করা হল, কতবার ক্ষমা করা হবে ? যিশুর উত্তর যতবার প্রয়োজন ততবার।

কাজেই ক্ষমা করতে শিখুন। কারো ওপর রাগ করা, বিরক্ত হওয়া নিজের অক্ষমতা। ক্ষমা করতে না শেখা। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন মানসিক রোগ। নিজে ঠিক থাকুন, দেখবেন জগত ঠিক আছে। নইলে চারিদেকে সবকিছু অসহ্য মনে হবে। নরক মনে হবে। বোঝার সুযোগ পাবেন না এজন্য আপনিই দায়ী। আপনি কার্ণেগির কথা মানছেন না। হ্যারিসের কথা মানছেন না। তারা আই অ্যাম ওকে, ইউ আর ওকে, একথা বলে কোটি কোটি ডলার আয় করেছেন। কোটি কোটি মানুষ জীবনে শান্তি পেয়েছে তাদের দেখানো পথে চলে।

এসব বড় গোছের মানুষের কথা বিশ্বাস না হয় নাসিরুদ্দিন হোজ্জার কথা নিশ্চয়ই বিশ্বাস করবেন। একদিন রাতের বেলা রাস্তায় দুজন মানুষের ঝগড়া শুনে তিনি বাইরে বের হলেন। একটু পরই ফিরে এলেন। তার স্ত্রী জিজ্ঞেস করল, কি হল ?

তিনি বললেন, ঝগড়া থামিয়ে এলাম।

স্ত্রী জিজ্ঞেস করল, তোমার গায়ের চাদরটা কোথায় গেল ?

তিনি বললেন, ওরা ওটা নিয়েই ঝগড়া করছিল। আমি যেতেই ওটা টান দিয়ে নিয়ে দুজনে মিলেমিশে চলে গেল।

ছিনতাইকারী মোবাইল ফোন চেয়েছে, মানিব্যাগ চেয়েছে। দিয়ে দিন। জিজ্ঞেস করুন, প্যান্টটা কি খুলে দেব ? যদি আপনার কাজে লাগে।

দেখবেন কি জাদুকরী ফল। ছিনতাইকারী পর্যন্ত খুশী হয়ে আপনার মাথায় হাত বুলিয়ে যাবে।

 

Browse