কি করিলে কি হইত
Feb 23, 2011মাতব্বরি করবেন না
Nov 13, 2009মাতব্বরি জিনিষটা কি হাড়ে হাড়ে টের পেলেন ডিডো। বাংলাদেশ দলের ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কোচ। মনে করেছিলেন মাতব্বরি করে নিজের পছন্দমত খেলোয়ারদের নিয়ে দল বানাবেন। ভুলেও বোঝেননি আসল মাতব্বর কে। তার আগে যারা বিদায় নিয়েছে, অটো ফিস্টার, কার্শিযানি, সামির সাকির কাউকে দেখে শেখেননি। এমনকি ক্রিকেটের গর্ডন গ্রীনিচকে দেখেও না। এখন বোঝ ঠেলা। এক কথায় চাকরী নট। ব্রাজিয়াল কোচের অবস্থা দেখে আর্জেন্টিনার ট্রেনার পর্যন্ত আগেই চাকরী ছেড়ে ছুট মেরেছে। মাতব্বরের ওপর মাতব্বরী করা দরকার নেই বাবা!
এখানে ফুটবল বোঝে না কে ? খেতের মজুর আর রিক্সাচালক থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যন্ত, সকলেই জানেন কিভাবে ফুটবল খেলতে হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেটে টেষ্ট ষ্ট্যাটাস পাওয়ার পর পত্রিকায় মন্তব্য ছাপা হল, বুলবুল একাই দুগোল করেছে। এখানে ফুটবল শেখাতে চান ?
আমরা না খেলতে পারি, অন্যেরা যখন বিশ্বকাপে খেলে আমরা রাত জেগে দেখি। সারা দেশ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকায় ছেয়ে যায়। যখন বাছাই পর্বের খেলা চলে বছর ধরে তাতেও আমাদের মনোযোগ কম নেই। গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার ছাপা হয় পত্রিকায়। ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা কি খেলার সুযোগ পাবে ? হেরে যাওয়ায় আপনার অনুভুতি কি ?
বাংলাদেশ নিয়ে মাথা ঘামানোর কি আছে ? বাছাই পর্বের বাছাই পর্ব কখনো পেরতে পারেনি! তাতে কি। আমরা ফুটবল নিয়ে মাথা ঘামাই না। ঘামালে আমাদের সাথে কেউ পেরে উঠত না। আমাদের খেলা ক্রিকেট। ভদ্রলোকের খেলা। জানেন পৃথিবীর কয়টা দেশ টেষ্ট ক্রিকেট খেলার সুযোগ পায়? কদিন পর বিশ্বকাপ হবে ঢাকায়। আমাদের ফুটবলে দরকার কি। স্কুলে হুজুর বলেছেন ওটা হল শয়তানের মাথায় লাথি মারা। হাঙ্গামার খেলা। আর রাজনীতি তো আছেই। আবাহনী আওয়ামী লিগের তো মোহামেডান বিএনপির। তারপর বাকি দলগুলোর জন্য আর রাজনৈতিক দল পাওয়া যায় না। তারচেয়ে ক্রিকেটই ভাল। ফুটবল অন্যদের জন্য থাকুক। ইরাকে যুদ্ধ চলছে এরইমধ্যে এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন। এটুকু সুযোগ না দিলে ওরা করবে কি ? আমাদের সাফ আছে। ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলংকা-নেপালের মত শক্তিশালী দলের সাথে অবশ্যই আমরা ভাল ফল করব। শোনেননি বসুন্ধরা ফুটবল ফেডারেশনকে দুখানা খেলার মাঠ দিয়েছে। ফুটবল টিকে থাকবেই।
কোন মানের ফুটবল হবে জিজ্ঞেস করছেন ? একসময়ের কীর্তিমানরা যেভাবে দেশের ফুটবলের সন্মান আকাশে তুলে রেখেছিলেন, এখন কর্মকর্তা হিসেবে রাখছেন, সেভাবেই রাখবেন। এখন যারা খেলছেন তারাও আগামীতে কর্মকর্তা হবেন, তারাও টিকিয়ে রাখবেন। শুধূ মাঠেই বা কেন, মাঠের বাইরেও কীর্তিমানরা কম যান না। একসময়ের যুগান্তকারী এক ফুটবলার পেট্রোল পাম্পের লাইন না মেনেই তেল নেবেন। লাইনের একজন প্রতিবাদ করার পিস্তল বের করলেন, তাকে হাসপাতালে পাঠালেন। সাংবাদিক প্রশ্ন করায় গর্ব করে বললেন, আমরা- বিখ্যাত ব্যাক্তিরা এসব সুযোগ নিয়ে চলি। কথা বাগাবেন না।
ব্যস, সেখানেই শেষ। অন্য দেশ খেলোয়ারদের সন্মান দিতে জানে না। দক্ষিন আফ্রিকার গিবসকে হাজতে রাত কাটাতে হল। সে নাকি মদ খেয়ে গাড়ি চালিয়েছে। একসিডেন্ট করেনি তাতে কি, করতে তো পারত। হুহ, ওটা একটা দেশ হল! সারা পৃথিবীতে মদ সাপ্লাই দেয় আর মদ খেয়ে নিজের গাড়ি চালাতে পারবে না।
আমরা জানি কিভাবে খেলোয়ারদের সন্মান করতে হয়। সিনিয়রদের মান রাখতে হয়। আমরা জানি কিভাবে ফিফার তালিকায় তরতর করে ওপরদিকে উঠতে হয়। বাংলাদেশের নাম কখনো নিচে নামে না, সবসময় ওপরদিকেই থাকে। আগেও কখনো ছিলনা, এখনও নেই। তাহলে ভবিষ্যতে থাকবে কেন ? এক, দুই, দশ, পনের, বিশ ওসবে আমাদের মন ভরবে না। আমাদের প্রাপ্য একশবিশ, একশত্রিশ এসব।
আমরা সেটাই করে যাচ্ছি। যা হচ্ছে দেখে যান। মাতব্বরি করবেন না।
বড় কথা বড় কাজ
Jun 9, 2009বড় কথা শোনার অভিজ্ঞতা আমার ছোটবেলা থেকে। স্কুলে খেলাধুলার পর যখন পুরস্কার দেয়ার সময় হত, যখন কেউ বক্তৃতা দেবার জন্য মঞ্চে উঠতেন তখন আগে থেকেই নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতাম উনি বড় কথা বলবেন। হতও তাই। আমাদের নিরাশ না করে উনি বলতেন পুরস্কার পাওয়া বড় কথা না প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহনই বড় কথা। আমরাও চেস্টা করতাম তার কথামত পুরস্কার পাওয়ার মত বড় কথায় না গিয়ে অংশগ্রহনের মত বড় কথা শুনতে। কেউ কেউ পরীক্ষায় পাশ করার মত ছোট কথায় বিশ্বাস না করে অংশগ্রহনের মত বড় কথায় বিশ্বাস করত। তবে তাদের সংখ্যা নেহাতই কম। তাদের পিতা-মাতা এত বড় কথা বুঝতেন না। মার্কসীট লুকিয়ে রেখেও লাভ হত না। কিভাবে না কিভাবে জানাজানি হয়ে যেত। তারা একেবারে আদিম পন্থা অবলম্বন করতেন। আর সেভাবেই বড় কাজে বাধা সৃষ্টি করতেন। বড় কাজে বাধা সৃষ্টির এই প্রবণতা এখনও থামেনি। বরং বেড়েই চলেছে। বিস্তার লাভ করেছে সবখানে। গ্রামে-মফস্বলে-শহরে-রাজধানীতে ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। এখন কেউ বলে না অংশগ্রহন করেছ তাতেই খুশি, জেতার দরকার কি। বরং উল্টো কথা বলে। যদি জিততেই না পার তাহলে দল নিয়ে বাইরে যাওয়ার দরকার কি ? এটা আশরাফুলের দল সম্পর্কে বলা।
কেউ বলে, এই ছোকরা শ্রীলংকায় শতরান দিয়ে শুরু করল, ইংল্যান্ডে একশ রান করে অষ্ট্রেলিয়াকে হারাল তারপরও মাঝেমাঝেই ডুব মারে। বিষয়টা কি ? আটটা-দশটা ম্যাচ চোখ বন্ধ করে খেলে। তারপর যখন দেখে আর দলে টেকা যায় না, দেশে বিদেশে সবাই তারদিকে আঙুল দেখাচ্ছে তখনই আবার দেখিয়ে দেয়া তার প্রতিভা। সেই ধাক্কায় চলে আরো দশ-বারো ম্যাচ। এইই চলছে দিনের পর দিন। বছরের পর বছর।
কেউ বলে, এত টাকা পেয়েছে যে খেলার দিকে মন নেই। অত টাকা পাওয়া উচিত হয়নি। তার ওপর আইপিএল আবার দিল কত টাকা। এত টাকায় কি মাথা ঠিক থাকে ? টাকার গরজ থাকলে ঠিকই রান করত। যদি দিত রান গুনে গুনে টাকা তখন দেখা যেত কে কত টাকা কামাতে পারে।
অন্য মত নিয়ে আরেকদলও তৈরী। আমেরিকার এক রাষ্ট্রদুত কয়েক বছর বাংলাদেশে কাটিয়ে যাওয়ার সময় বলে গেলেন এদেশের মানুষ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব খুব বেশি বিশ্বাস করে। এরা সেই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের দলে। তাদের মত, ওরা নিশ্চয়ই টাকা খেয়েছে। জিতলে যা পাবে হারলে তারচেয়ে বেশি। জানেন না কতজন এসব করেছে। ক্রনিয়ে, আজহার, জাদেজা আর কত বলব। এরাও তাই করছে। তদন্ত করলেই বেরিয়ে পড়বে কার ভেতরে কি।
মত আরো আছে। যারা একসময় ক্রিকেট খেলতেন তাদের চেয়ে ভাল ক্রিকেট বোঝে কে ? তাদের ইচ্ছেয় ঠিক হয় অধিনায়ক, খেলোয়ার। ব্যাটিংএ ভাল করছেন না কাজেই অধিনায়ক থেকে হাবিবুল বাদ। ব্যাটিং-এ ভাল করছেন না কাজেই খালেদ মাসুদ বাদ। একবারও মনে করা হয়নি অধিনায়ক হিসেবে হাবিবুল কোন দোষ করেননি। সেরা খেলোয়ার সবসময় সেরা অধিনায়ক হন না। তেন্ডুলকার, লারা থেকে শুরু করে পিটারসেন পর্যন্ত এটা প্রমান করে গেছেন। এবং খারাপ সময় সব ব্যাটসম্যানেরই যায়। আর পাইলট ব্যাটসম্যান ছিলেন না, ছিলেন দেশের সেরা উইকেট কিপার। প্রয়োজনে দলের হয়ে অনেক ভাল ইনিংস তিনি খেলেছেন।
বেচারারা সুযোগ না পেয়ে দল ছাড়লেন, দেশ ছাড়লেন, দেশদ্রোহি হলেন। হাবিবুল, আফতাব, অলোক। আবার মাফ চেয়ে ফিরে এলেন। যাদের কারনে গোস্সা তাদের কাছেই মাথা নিচু করতে হল। একই দোষ করেও শেন বন্ড দেশদ্রোহি হননি। তার সম্পর্কে বলা হয়েছে তিনি নাকি নিয়ম না জেনে খেলতে গেছেন। কেউ তাকে নিয়ম জানাননি।
সে যাকগে। বলছিলাম বড় কথা। বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরেছে এতে দুঃখ করার কি আছে। খেলায় অংশগ্রহনই বড় কথা। বড় কাজ তো করা হয়েছে।
একই কথা হওয়া উচিত ফুটবল দল নিয়েও। হকি, ভলিবল, বাস্কেটবল, গলফ, টেনিস, সাতার, দৌড়, মটোরেসিং, সাইক্লিং, এসব নিয়েও। আরো দল পাঠালে বড় কথা আরো বাড়ত।
সমালোচকরা একটা মুল কথা ভুলে গেছেন। তা হচ্ছে বড় কথা, বড় কাজ। প্রতিযোগিতায় জেতা বড় কথা না, অংশ নেয়াই বড় কথা। বড় কাজ না করে জেতার মত ছোট কাজ করতে বলেন কেন ?