অরণ্যে রোদন

Nov 22, 2009

ইংরেজিতে বলে ফার-ক্রাই অন্যদের অগোচরে কাঁদা বাংলায় একেবারে কাব্যিক নির্দিষ্ট করে বলে দেয়া, বনবাসী হয়ে কাঁদবেন বক্তব্য অবশ্য একটাই, তাতে কোন লাভ নেই যার কারনে আপনার দুঃখ-কষ্ট তাকে যদি না শোনান তাহলে কাঁদায় কোন ফল ফলবে না বনের পশুপাখি-গাছপালা আপনার কান্নার গুরুত্ব বুঝবে না

যদি সেকথাও মানতে চান, মনের দুঃখে বনে যেতে চান তাহলে-

বলতেই হচ্ছে বন বলে কিছু নেই সুন্দরবন চোর-ডাকাতের আড্ডা সরকার আইন করে দিয়েছে সেটা সংরক্ষিত এলাকা যাওয়া নিষেধ চোর-ডাকাত না হয়ে সেখানে গেলে জেলে যেতে হবে আর অন্যকোথাও বন বলে কিছু নেই যার অর্থ আপনার অরন্যে রোদনের সুযোগ নেই আপনার এলাকায় আপনি বন্দি

তাহলে বন্দির পথ অবলম্বন করা যাক ঘরের মধ্যে থেকে বাইরের মানুষকে কান্না শোনানোর ব্যবস্থা করা যাক ডিজিটাল বাংলাদেশে, ফেসবুক-গুগল-ওয়ার্ডপ্রেসের কল্যানে সেটা সম্ভব আপনার কান্না পৌছে দেবেন সারা বিশ্বের মানুষের কাছে অরন্যে রোদনের চেয়ে তাতে বেশি ফল ফলবে সারা বিশ্ব সেটাই বলে ইরানে নির্বাচনের ইন্টারনেট প্রতিবাদ নাকি ইন্টারনেট জগতের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন ১০ ঘটনার একটা কাজেই-

একটু থামুন

আপনি বনে কাঁদলে পশুপাখি কৌতুহলী হয়ে উকি দেবে সন্দেহ নেই ইন্টারনেটে আপনার কাঁদায় আগ্রহ দেখাবে এটা ধরে নিচ্ছেন কেন ? কার শখ হয়েছে নিজের টাকা খরচ করে আপনার কাঁদা শোনার ইন্টারনেটের জগত বিশাল আনেন্দর খোরাক সেখানে কমতি নেই সেগুলি রেখে আপনার কান্না শুনতে যাবে কে ?

কথাটা বকারামকে বলতে হচ্ছে অভিজ্ঞতা থেকে বকারামের আশা ছিল ইন্টারনেটের অরন্যে রোদনের কিছু কাকপক্ষি নিশ্চয়ই উকি মারবে মারেও রীতিমত নিজের সময় ব্যয় করে আধঘন্টা-একঘন্টা পর্যন্ত সময় কাটায় তারপরই, সংখ্যায় তাদের চেয়ে অনেক বেশি, একবার চোখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে রওনা দেয় কোন শব্দ শুনে তাদের আগ্রহ হয়েছিল সেটাও একধরনের পরিচিতি বহন করে বৈকি রীতিমত বাংলায় কুত্তার বাচ্চা লিখে সার্চ করে যদিও বকারাম নিশ্চিত করে বলতে পারে এই শব্দটি সে ব্যবহার করে না বরং এই প্রানীটিকে রীতিমত স্রদ্ধার চোখে দেখে মানুষে এতটাই বিশ্বস্ত বন্ধু যে দ্বিতীয়বার চিন্তা না করে বন্ধুর জন্য জীবন দিতে পারে বিশ্বাসভঙ্গের কোন উদাহরন নেই ছোটবেলায় কিছু ভুল ধারনা ছিল গোর্কির লেখায় মিখাইলের গান, মিখাইল যদি হত এক ছোট কুকুরের ছানা শুনে অবাক হওয়ার বিষয় ছিল এখন সেটা নেই

সার্চ করার বিষয় আরো আছে আমি সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চের কথায় যাচ্ছি না সেটা সারা বিশ্বের সব যায়গার মানুষই করে ইন্টারনেটের মুল ব্যবহারই নাকি সেখানে বরং অন্য কিছু বিষয় অবাক করা যেমন খাসি কিংবা গরু কিংবা আমার বউ ইত্যাদি ইত্যাদি

সত্যিকার অরন্য নেই আগেই বলেছি যদি ইন্টারনেট অরন্যে কাঁদতে চান তাহলেও ভেবে দেখুন

সৌজন্য

Nov 20, 2009

শব্দটির সাথে আমরা ভালভাবেই পরিচিত। টিভিতে নাটক দেখানো হয় এক বা একাধিক কোম্পানী সৌজন্যে। যার অর্থ সেটা দেখানোর টাকা দেবে সেই কোম্পানী। আপনাকে নাটক দেখতে পকেটের টাকা খরচ করতে হবে না। এই টাকার ভাগ যাবে টিভি কোম্পানীর পকেটে, যিনি নাটক লিখেছেন, যারা বানিয়েছেন, যারা অভিনয় করেছেন তাদের সকলের পকেটে। বিনিময়ে তাদের বিজ্ঞাপন দেখতে হবে দর্শককে। সৌজন্যের সাথে বিনিময়ের বিষয়টিও তাই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একজন নেতা যখন আরেকজনের সাথে সৌজন্যসাক্ষাত করেন তার বিনিময়টা অবশ্য ততটা স্পষ্ট না। তবে ধরে নেয়া যায় কিছু হিসেব নিকেশের ব্যাপার-স্যাপার আছে। অন্তত আইনের হিসেবে পলাতক নেতা যখন জামিন পাওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন।

সৌজন্যতা বিষয়টির হিসেবও কিছুটা গোলমেলে। সাধারনভাবে জনমনে বিশ্বাস করানো হয় অন্যকে খুশি রাখার বোধশক্তি যার থাকে তার সৌজন্যবোধ থাকে। অর্থাৎ সৌজন্যবোধ হচ্ছে অপরকে মনকষ্ট না দেয়া। অকারনে শত্রু তৈরী না করা। কখন কে কোন কাজে লেগে যায় আগাম বলা তো যায় না। দেখা হলেই সালাম দিয়ে বললেন, কেমন আছেন ? যদি গালাগালি দেয়ার কারন থাকে সেটা মনে মনে দেবেন।

এথেকে সৌজন্যতার আরেকটা পরিচয় স্পষ্ট। এটা প্রকাশ করতে হয়। যা অপ্রকাশ্য তা ঢেকে রাখবেন আর সৌজন্য প্রকাশ করবেন। নিজের চেহারা ঢেকে রেখে ওপরের মুখোসটা দেখানোর মত। অবশ্য এই নিয়মে মুখে রং লাগানো, বাহারী অলংকার-পোষাক এগুলোও সৌজন্যের পর্যায়েই পড়ে। কাজেই সামাজিকতার স্বার্থে এগুলি প্রনিধানযোগ্য। এর দুর্বলতা একটাই, কার সৌজন্যে- এই কথা প্রকাশ করার ব্যবস্থা সাধারনত থাকে না। সাধারনত বলতে হচ্ছে এই কারনে যে যার সামর্থ্য আছে সে এখানেও সৌজন্য দেখানোর পথ করে নেয়। অমুক বিখ্যাত কোম্পানীর সার্ট-প্যান্ট একথা প্রচার করতে অনেকেই গর্ববোধ করেন। একসময় কোম্পানীর লেবেল পোষাকের নিচের দিকে থাকত, এখন থাকে ওপরদিকে। এখানে ওখানে কোম্পানীর নাম লেখা থাকে বড় করে। ফুটপাতে দুটাকায় যে প্লাষ্টিকের মগ কিনতে পাওয়া যায় তাতেও গ্রামীন-বাংলালিংকের নাম-ছবি থাকে। যদিও এতে সরাসরি তাদের কোন হাত নেই। সবাই বড়র সাথে সম্পর্ক রাখতে চায় তারই প্রকাশ মাত্র।

নিজের টাকায় সৌজন্য প্রকাশের সাথে নিজের নাম লেখার প্রচলনের সবচেয়ে বড় উদাহরন নিশ্চয়ই রাজনীতি। অন্তত বর্তমান রাজনীতি এই সৌজন্য ছাড়া অচল। পথেঘাটে-দেয়ালে-আকাশে যত ব্যানার-পোষ্টার-দেয়াল লিখন দেখুন না কেন, সেখানে সৌজন্য শব্দটির দেখা পাবেনই। শ্লোগানের পরই লেখা থাকে প্রচারে অমুক, সৌজন্যে অমুক-তমুক-সমুক। বর্তমান রাজনীতির কথা উল্লেখ করতে হচ্ছে এই কারনে যে বর্তমানে এই সৌজন্যের সংখ্যা অন্য সবকিছুর চেয়ে বেশি। মুল বক্তব্য কয়েক দশকের পুরনো, যিনি প্রচার করেছেন তার নামটিও জানা। এরপরই একঝাক নাম যাদের সৌজন্যে প্রচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে। এভাবে দেখতে দেখতে একসময় এ নামগুলিও মগজে গেথে যায়। এলাকার লোক জেনে যায় অমুক নামে এলাকার এক ভাই রয়েছেন। তিনি অমুক পার্টির কাজ করেন। একসময় সেই নাম সৌজন্য থেকে প্রচারের ধাপে উঠে আসে। তারপর একসময় মুল শ্লোগানে।

কাজেই- সৌজন্য বিশ্লেষনের ফল যা দাড়াচ্ছে তা হল এটা অগ্রগতির প্রাথমিক ধাপ। প্রচারেই প্রসার এই নিয়মে এরও প্রসার ঘটে। ব্যক্তিগত, কোম্পানীগত, দলগত, সমাজগত সব ধরনের সৌজন্য ব্যক্তি-কোম্পানী-দল-সমাজকে আরো এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। এক সমাজের সাথে আরেক সমাজের পার্থক্য সম্ভবত এটুকুই, সব সমাজ একে সমাজ পর্যায় পর্যন্ত নেয় না। কখনও ব্যক্তি কিংবা কোম্পানী পর্যায়ে, কখনো দল পর্যায়েই গতি থেকে যায়।

নখদর্পন

Nov 18, 2009

সবসময় গাড়িচড়ার সৌভাগ্য যাদের নেই তারা অন্তত এটা বিষয়ে এগিয়ে। নানারকম অভিজ্ঞতালাভ হয়। নিজের এবং পরের। পরেরটাই শুনুন।

রাস্তায় রিক্সা-গাড়ি থমকে রয়েছে। এটা সাধারন ঘটনা। এখানে ওখানে পুলিশ রয়েছে। এটাও সাধারন ঘটনা। সাথে অতিরিক্ত যোগ হয়েছে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা রায়ের জন্য শতর্কতামুলক নিরাপত্তা। রীতিমত জোরদার করা হয়েছে। যদিও খবরের কাগজ আর টিভির বাইরে এনিয়ে একজনের কাছেও কোন মন্তব্য শুনিনি। আমার ধারনা অধিকাংশ (হ্যা, অধিকাংশ) মানুষ জানেই না বিষয়টি কি। তারপরও, সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে। কাজেই-

রিক্সায় বসে এক ভদ্রলোক। শুধু পোষাকে না, চেহারা, মুখভঙ্গি দেখে ভদ্রলোক ছাড়া অন্যকিছু বলার উপায় নেই। পায়ের কাছে ট্রাভেল ব্যাগ রাখা। উদাসভাবে সামনের দিকে চেয়ে অপেক্ষা করছেন কখন জট নড়বে। হঠাৎ শুনতে পেলেন, ব্যাগ দেখি ?

তাকেই কথাটা বলেছে পাশে দাড়ানো পুলিশ। ঠিক কি বলেছে তিনি বুঝে উঠতে পারেননি তখনো। তখনই শোনা গেল পরবর্তী বাক্য, ওই ##৳!!##%#, ব্যাগ খোল।

তার বুঝতে সময় লাগল না বিষয়টি কি। তিনি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিচ্ছেন নাকি এটম বোমা নিচ্ছেন সেটা দেখাতে হবে। তিনি ব্যাগের চেন খুললেন। আর তার লাল হয়ে যাওয়া মুখ দেখে আমার অভিজ্ঞতা, এই দেশে জন্মগ্রহন করিয়া আমি ধন্য একথা ভুলে গেলে চিরদিনের জন্য।

পুলিশকে দোষারোপ করা উচিত না। তারা সামান্য বেতনে কাজ করে। রীতিমত জীবনের ঝুকি নিয়ে, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের সমালোচনা করা কি উচিত ?

কদিন আগে একজন নাকি রীতিমত মামলা করেছিল পুলিশ তারসাথে খারাপ ভাষা ব্যবহার করেছে। রীতিমত তোলপাড়। সরকার থেকে ক্ষমা চেয়ে বলা হল, পুলিশের আচার-ব্যবহার আরো উন্নত করা উচিত।

আগে বলতে ভুলে গেছি, এটা বৃটেনের কথা।

যাকগে সেসব। ঢাকার কথা বলি। সিডি-ডিভিডি পাইরেসিতে দেশ বিশ্বসেরা খেতাব পেয়েছে এরই মধ্যে। এর পেছনের কারিগরদের কথা হয়ত জানা নেই অনেকেরই। যারা মাঝখানে থেকে কাজ করেন তাদের কথাই বলি। এদের কাজ হল বিশাল ব্যাগে করে সিডি-ডিভিডি নিয়ে দোকানে দোকানে সাপ্লাই দেয়া। একবার পরিচিত একজনের ব্যাগ উচু করতে চেষ্টা করেছিলাম। মনে হয়েছে তার ওজন আমার চেয়েও বেশি।

এমনই ভার বওয়া একজনকে থামাল দুজন পুলিশ।

এই, ব্যাগে কি ?

সিডি-ডিভিডি।

দেহি।

তারপর চলল দেখার পালা। সফটওয়্যার-গেম এসবের সিডি-ডিভিডির বান্ডিল বেরতে শুরু করল। একসময় বিরক্ত হয়ে গেল পুলিশ,

দুই নম্বর জিনিষ আছে ?

না।

ঠিক কইরা ক-

ঠাস করে একটা চড় পড়ল তার গালে। নিশ্চিত হওয়া কঠিন চড়ের কারন কি। সেই বস্তু নাথাকা নাকি সে দুনম্বরি ব্যবসা করে সেটা।

এদেশে পুলিশ সত। শান্তি প্রতিষ্ঠা করা তাদের আদর্শ। তাদের শ্লোগান সেকথাই বলে। তাদের যোগ্যতা দেখেই চাকরী দেয়া হয়। শুধু দলের সার্টিফিকেট দিলেই হয়না, পড়াশোনার সার্টিফিকেটও দিতে হয়। তারপর সারদায় ট্রেনিং নিতে হয়। তারপর আরো ব্যাপার-স্যাপার আছে। এক এসআই মারা গেল চাকরীতে যোগ দেবার কয়েক মাসের মধ্যে। তার সহকর্মীদের মন্তব্য, ছয় লাখ দিয়া চাকরী নিছিল। ট্যাকাডা উঠাইতে পারল না।

এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকি ছদ্মবেশে মাদকের দোকানে গিয়েছিলেন নিজের চোখে দেখার জন্য। সবগুলি খবরের কাগজে ছাপা হয়েছিল। এযুগের খলিফা ওমর আরকি। তবে সবাই তার মত নন। নিজের ঘরে বসেই তারা দিব্যদৃষ্টিতে দেখেন সবকিছু। সারাদেশ, সারাবিশ্ব, মহাবিশ্ব। কোথায় কি ঘটছে দেখার জন্য নখদর্পন ব্যবহার করাই যথেষ্ট।

আপনার নখ যদি দর্পনের কাজ না করে তাহলে দেখার পথ একটাই। গাড়ি ছাড়া চলাফেরা করা।

একেই কি বলে সভ্যতা

Nov 17, 2009

মধুসুদন দত্ত তার সময়ে এই প্রশ্ন করেছিলেন। তার সময়ে সভ্যতার মাপকাঠি ছিল শিক্ষায়। জ্ঞানীগুনি ব্যক্তিরা সমাজ নিয়ে কথা বলতেন। রাজনৈতিক দলের পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলতেন না। এমনকি বৃটিশদের সম্পর্কে কথা বলার সময়ও যাকিছু দোষ তা তুলে ধরতেন। ভাল কাজের প্রশংসা করতেন। নিজে নেতা বনে যেতেন না। ধরে নেয়া হত রাজনৈতিক নেতা আলাদা আর সমাজ সংস্কারক আলাদা। যে যার কাজ করে যাবেন। তারপরও তাকে প্রশ্ন করতে হয়েছিল, একেই কি বলে সভ্যতা ?

তারপর বহুদিন গত হয়েছে। সভ্যতা অনেকদুর এগিয়েছে। আমরা সভ্যতার স্বর্নযুগে বাস করছি। এখন নিশ্চয়ই এপ্রশ্ন করা যায় না। লেখাপড়া করে যে গাড়িঘোড়া চড়ে সে, এর মধ্যে সভ্যতা থেমে নেই। আরো অনেকের কাছে গাড়িঘোড়া পৌছে গেছে। একসময় গোয়ালভরা গরু যাদের থাকত তাদের প্যারেজভরা গাড়ি। সাংসদরা দেশের সেবা করবেন, দ্রুতগতিতে চলাফেরা করবেন এজন্য বিনাশুল্কে গাড়ি আনার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। গাড়ি তারা এনেছেন। যার যতগুলি খুশি। শুধু নিজেরাই দ্রুতগতিতে চলবেন তাতো হয় না, তারা জনগনের প্রতিনিধি। জনগনের জন্য তাদের কিছু করার থাকে।

গাড়ি কেনার নিয়ম পাল্টানো হয়েছে। বর্তমান নিয়মে সরকারী টাকায় গাড়ি কিনে দেয়া হবে। ২৫ লক্ষ টাকার গাড়ি। কিন্তু তাদের প্রবল আপত্তি। এত সস্তা গাড়িতে চললে সাংসদের মান থাকে না। চাল ব্যবসায়ী চিনি ব্যবসায়ী যখন কোটি টাকার গাড়ি হাকায় তখন তাদের মান থাকেই বা কিভাবে ? দেশে বিএমডব্লিউ-লিমোজিন সবার শোরুম রয়েছে। কিনতে আপত্তি কোথায় ? বাইরে থেকে আনলেই বা সমস্যা কোথায় ? ফরেন কারেন্সির রিজার্ভ যখন আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে তখন সেগুলো জমা রেখে কাজ কি ? সেটা অর্থনীতির জন্য ভাল না। শহরের মর্যাদা বলেও কথা আছে। রাজপথে দামী গাড়ি না থাকলে কি রাজধানী মানায় ? যারা রাজত্ব করবেন তারা দামী গাড়ি চালাবেন নাতো চালাবে কে ?

আর গাড়িগুলোর মেয়াদও ৫ বছরেরই। একেবারে সংসদের মেয়াদের সাথে মিল রেখে। নতুন সরকার আসার সাথেসাথে নতুন করে গাড়ি কিনতে হয়। আগেরগুলো হাওয়া হয়ে যায়।

গাড়ি চড়ার যোগ্য মানুষ কি কম ? এক এলাকায় একাধিক জন। পার্টি অমুককে নেতা বানিয়েছে তাতে কি, আমার কি সমর্থক কম আছে ? দেখবেন ডাকলে কতজন আসে ? আমার এলাকার নেতা আমিই। কথা বাড়ালে শক্তি পরীক্ষা দিতে হবে।

লোকে বলে সুর্য যখন মাথার ওপর থাকে তখন তার সামনে একটাই পথ, নিচের দিকে নামা। আমাদের সে ভয় নেই। উঠতে হবে উচুতে। আরো উচুতে। এই উচ্চতার শেষ নেই। আমেরিকায় নাকি প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে মেডিকেল সার্টিফিকেট, আগের সব রেকর্ড জমা দিতে হয়। আমাদের মৃত্যুও মৃত্যুভয়ও নেই। অর্ধমৃত অবস্থায় হাসপাতালে থাকতে হয়েছে তাতে কি, এখন তো ফিরে এসেছি। ক্ষমতা আমার চাই। আমি না থাকলে আমার ছেলেমেয়ে-ভাগ্নে-ভাতিজা তো আছে। দেখেন না তাদেরকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটিতে রাখার জন্য এলাকার মানুষ বাধ্য করেছে। করকারখানার মালিক হিসেবে দেখার জন্য আন্দোলন করছে।

আলোর উল্টোদিকে নাকি অন্ধকার থাকে। এই সভ্যতার উল্টোদিকে অন্ধকার সামান্যই। উল্লেখ না করলেও চলে।

সততা এবং নীতিবোধ নিয়ে যারা চলেন তাদের মাথা নিচু করে থাকতে হয়।

রাম! রক্ষা করো

Nov 16, 2009

বাংলাদেশ ভারত থেকে বিদ্যুত কিনতে যাচ্ছে। চুক্তি তৈরী, শুধু সই করার অপেক্ষা। কারন ?

নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছেন। বিদ্যুত একঘন্টা থাকে আরেকঘন্টা থাকে না। কলকারখানা অচল, জনজীবনে দুর্ভোগ। সরকার সব বিষয়ে সচেতন। জনগনের কষ্ট কোনমতেই হতে দেয়া হবে না। কাজেই জনগনের স্বার্থে, দেশের কল্যানে বিদ্যুত আমদানী করা হবে। এবং ভারত থেকেই।

শুধু আমদানীই না, রপ্তানীও করা হবে। যখন বাড়তি থাকে তখন। যেমন ধরুন শীতকালে এবং সকালে।

নভেম্বরের অর্ধেক পেরিয়ে গেলে তাকে শীতকালই বলা উচিত। আর সকাল প্রতিদিনই হয়। ঘুম ভেঙে যখন দেখা যায় কম্পিউটার চালু করার অবস্থা নেই তখন আরেকদফা শীতের ঘুম উপভোগ করা যায়।

তাহলে শীতের সকালে রপ্তানী হচ্ছে কিভাবে। যতদুর জানা যায় বাংলাদেশের শীতের সকাল ভারতেরও শীতের সকাল। তারাও শীতের সকালে ঘুমায় বৈকি! প্রাকৃতিক আধঘন্টার পার্থক্য ডিজিটালে এক ঘন্টা হয়েও আমাদের শীত তাদের গ্রীষ্ম হয়নি, কিংবা আমাদের সকাল তাদের দুপুর হয়নি। অবশ্য আরো ৫ ঘন্টা ঘড়ির কাটা ঘুরালে সেটা সম্ভব। কিন্তু সেকথা থাক-

অনেকদিন ধরেই মানুষ লোডসেডিং এর কথা ভুলে গিয়েছিল। দিনে একবার বিদ্যুত যাওয়াকে লোড সেডিং বলে না। তারপর হঠাৎ করে সেটা শুরু হল কেন। ভারতীয় কর্তারা দেশে আশার পর, দেশের কর্তা বিদেশে যাবার মুহুর্তে ? অন্যসময় গ্রীড বিপর্যয় জাতিয় কথাবার্তা শোনা যেত। খবরের কাগজেও তেমন কিছু চোখে পড়ছে না।

ও। সেজন্যই তো আমদানী। আমদানীর কথা আগে বলেছি কি-না ? জানেন না পশ্চিমের দেশগুলি কিভাবে একে অন্যের বিদ্যুত ব্যবহার করে ?

পশ্চিমের দেশগুলি যেভাবে বিদ্যুত ব্যবহার করে তারচেয়ে দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলির বিদ্যুত বিতরন ব্যবস্থা উন্নত করা বেশি জরুরী। এখানে মানুষের প্রয়োজন অনেক বেশি। কিন্তু তিন দশকের সার্ক কি ফল এনেছে ? লোকে বলে দাদাগীরি সার্কের কোন সিদ্ধান্ত কাজে আসতে দেয়নি। আপনি ভারত থেকে আমদানী করবেন, উদারভাবে করুন। ভারতে রপ্তানী করবেন ? বর্ডারে নমুনা পরীক্ষার সার্টিফিকেট দেখিয়ে আনুন। নমুনা পরীক্ষা করবেন কোথায় ? সেটা ১০০ মাইল ভেতরে। সেখানে কিভাবে পৌছাবেন সে দায়িত্ব আপনার। আমরা মাশুল ধরছি না। তবে অন্যভাবে সেটা উসুল করব না সেটা ধরে নিচ্ছেন কেন ?

পশ্চিমের দেশের মত এই অঞ্চলে সমঝোতার ভিত্তিতে বিদ্যুত-পানি-বানিজ্য-শ্রমের আদানপ্রদান হওয়ার কোন বাধা ছিল না। আর ভারতের মত দেশ যে সরাসরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছে, প্রায় ১ কোটি মানুষকে বিপদের সময় আশ্রয় দিয়েছে, অন্যদেশের মাটিতে এসে যে দেশের সেনারা জীবন দিয়েছে তারসাথে বন্ধুত্বের বিষয়টি প্রশ্নাতিত হওয়ার কথা ছিল। অথচ-

বাস্তবতা জানার জন্য ভারতীয় পত্র-পত্রিকা একনজর দেখাই যথেষ্ট। বাংলাদেশ মৌলবাদী রাষ্ট্র। এখানে সরকারীভাবে পাকিস্তানী এবং ভারতীয় সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়া হয়, এদেশে হিন্দু ধর্মের মানুষ টিকতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনা পারেন এই অবস্থার পবির্তন করতে।

আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার খবর কখনই শোনা যায়নি। দুর অতীতে না, বর্তমানেও না। আর ভুলে যাওয়া হয়ত ঠিক হবে না আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষন। বিশেষ করে বিবিসি যখন যথেষ্ট জনপ্রিয় দুপারেই। ইসরাইল-প্যালেষ্টাইন যুদ্ধে যতজন মারা গেছে তারচেয়ে কয়েকগুন বেশি মারা গেছে ভারতে দাঙ্গায়। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অনাহারী মানুষ বাস করে ভারতে।

সে যাকগে। ভারত বিশ্ব নেতৃত্বে যাচ্ছে। বেঙ্গালুরু-চেন্নাই-মুম্বাই আন্তর্জাতিক শহর। সেখানে সব মানুষের জন্য বিমানে চলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আসাম-ত্রিপুরার মত যায়গা নিয়ে ভাবার কিছু নেই, বেঙ্গালুরু-চেন্নাই থাকলেই চলবে। কদিন পরই তারা আমেরিকাকে পেছনে ফেলবে। তাদের ছাড়া কি চলবে ?

রাম। রক্ষা করো।

গোলকধাধা

Nov 14, 2009

গোলকধাধা খুব জটিল জিওমেট্রি।এর প্রতিটি বাক যার জানা তারকাছে সেটা জিওমেট্রি। আর যার জানা নেই তারকাছে গোলকধাধা। রীতিমত মাথা ঘুলিয়ে যায়। তারপরও উপভোগ করে সকলেই। মোগল বাদশারা নাকি গোলকধাধা তৈরী করেছিল বেগমদের সাথে লুকোচুরি খেলার জন্য। ভুলভুলাইয়া নামের সেই গোলকধাধা সারা বিশ্বের মানুষ দেখতে যায় ভারতে। তারমানে মোগলদের কাছে যেমন প্রিয় ছিল কয়েকশ বছর আগে বর্তমানের মানুষের কাছেও বিষয়টা ততটাই প্রিয়। উল্লেখ করা হয়ত প্রয়োজন হয় না, একজন শিশুর সবচেয়ে প্রিয় খেলা লুকোচুরি।

একেবারে সংসারী মানুষ আবার এসব এড়িয়েই চলে। আর কাউকে কাউকে সংসারী হতেই হয়। দাম যাই হোক বাজার থেকে খাবার কিনতে হয়। ভাড়া যাই হোক বাসে-রিক্সায় চলাফেরা করতে হয়। কথায় বলে বাবা মারা গেলে তখনও খেতে হয়।

তার ওপর যদি গোলকধাধা সামলাতে হয়, সমাধান খুজতে হয়, সেটা তারজন্য রীতিমত কঠিনই। অথচ সেটাই করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সরকার বলছেন পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রনে, সবকিছু স্বাভাবিক, দেশ ক্রমেই উন্নতির দিকে যাচ্ছে, কদিন পর এদেকে আর কেউ অবহেলা করার সাহস পাবে না। একই সাথে ছবি ছাপা হচ্ছে, খবর বেরচ্ছে বাজারের অবস্থা, যানজটের চিত্র, চাদাবাজি-ছিনতাই-খুন। আর জঙ্গি। জঙ্গি বিষয়টা সংবাদ মাধ্যমের খুব প্রিয়। খবর বেরুল কোথায় কোন মাদ্রাসায় বিপুল পরিমান অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। আসলে পুলিশ অভিযানের আগেই সেখানে সাংবাদিক পৌছে গেছে। টিভিতে দেখানো হয়েছে। অন্তত ঘড়ির কাটা সেকথাই বলে। পাকিস্তাণি জঙ্গি ধরা পড়েছে, পাশপোর্টের নাম্বার ছাপা হয়েছে। কোন গোজামিল নেই। কোন ভুল নেই। দেশের মানুষ জানুক, বিদেশের মানুষ জানুক। অন্তত আমেরিকা জানুক সরকার কত তৎপর। আমেরিকান এমবাসিতে হামলার পরিকল্পনা করেছে এটা কোনমতেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে পথেপথে কামান বসানো হবে। একবার বসানো হলোও। বিদেশী স্কুল, অফিসের সামনে রীতিমত বালুর বস্তা ফেলে মেসিনগান নিয়ে সকলে তৈরী। জঙ্গি দেখামাত্র আক্রমন করা হবে। দেশে-বিদেশে ছবি ছাপা হল।

আর গোলকধাধাটা সেখানেই। দেশের সবকিছু যদি স্বাভাবিক থাকে তাহলে রাস্তায় মেসিনগান কেন ? প্রধানমন্ত্রীকে মাথার ওপর হেলিকপ্টার নিয়ে চলতে হয় কেন ? যে মাদ্রাসার অস্ত্র নিয়ে দেশে বিদেশে এত তোলপাড় সেখবর কদিন পর মিইয়ে গেল কেন ? পাকিস্তানী জঙ্গির পাশপোর্টের নাম্বার জানা গেছে, তারা অমুক নামের জঙ্গি দলের সদস্য তা জানা গেল কিভাবে? রিমান্ডের ভয়ে তারা ফাস করে দিয়েছে ? ধরা পরার সাথেসাথেই এখবর সারাবিশ্বে প্রচার করা হল কেন ? কদিন পর কি সবকিছু মিইয়ে গেলে কি জানা যাবে তারা সাধারন নাগরিক! ভারত যখন সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িত সন্দেহে ধরার পর কখনও কোনমতেই প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি তারা কোন সংগঠনের। এখানে তারা নিজে থেকে এসব কথা আগেভাগে ফাস করল কেন ?

এসব খবর প্রচারমাধ্যমে তখনই আসা সম্ভব যখন সরকার চায় এগুলি প্রচার পাক। ক্যামেরার সামনে এনে পোজ দেয়া হয়, যাকিছু নমুনা দেখানো প্রয়োজন সেগুলো দেখানো হয়। তারপর সব হারিয়ে যায়। তারচেয়ে চমকপ্রদ খবর হাজির হয় ততদিনে।

শংকার কারন সেখানেই। পাকিস্তান এদের সাথে রীতিমত যুদ্ধ করছে। তারপরও প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। পাকিস্তান সরকার ইচ্ছে করে এড়িয়ে যাচ্ছে একথা যত জোর দিয়েই বলুন না কেন, নিজের স্ত্রী কিভাবে খুন হয়েছেন সেটা অন্তত জারদারী ভোলেননি। যদি আমাদের সেই অবস্থা দেখতে হয় তাহলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক নেই। বিষয়টি আরো অনেক গভীরে চলে গেছে। যে দেশে সরকার পরিবর্তনের সাথেসাথে আগের মন্ত্রী-পুলিশ-গোয়েন্দাদের জেলে যেতে হয় তাদের দক্ষতা এবং নৈতিকতা প্রশ্নাতীত না।

নিত্যদিনের গোলকধাধা নিয়ে আমরা নাজেহাল। সেখানে নতুন গোলকধাধা আমাদের প্রয়োজন নেই। জঙ্গিবাদ যদি হামলার পর্যায়েই যায় সেটা সংবাদমাধ্যমে ফলাও না করে যা ব্যবস্থা নেয়ার সেটাই নিন।
 

Browse